17/05/2024
দাসানুদাস হবার মাধ্যমে মহৎ হওয়া যায়
ভক্তরা যাই করে, এই চিন্তাসহ করে যে আমি আমার গুরুমহারাজের মাধ্যমে সেবা করছি এবং গুরুমহারাজ তাঁর গুরুমহারাজের সেবা করছেন। এভাবে তা পরম্পরাক্রমে প্রকৃত গুরু শ্রীকৃষ্ণের কাছে পৌঁছায়। এটাই হচ্ছে গুরু-শিষ্য পরম্পরা। কেউ বলতে পারে, সরাসরি ভগবানের সেবা করার মতো শুদ্ধতা আমার নেই। কিন্তু আমি গুরুদেবের সান্নিধ্যে যেতে পারি। আমার গুরুদেব, তাঁর গুরুদেবের কাছে, তিনি আবার তাঁর গুরুদেবের কাছে, এভাবে ঠিক বৈদ্যুতিক শৃংখলের মতো কৃষ্ণের কাছে পৌঁছানো যায়। একেই বলা হয় দাসানুদাস পন্থা। আমরা সরাসরি ভগবানের দাস হতে পারি না।
পাশ্চাত্যদেশীয় ভক্তদের কাছে এটা এক অভিনব ব্যাপার, কারণ সেখানে কেউ দাস হতে চায় না। সকলেই চায় গুরু হতে, কীভাবে সে Number-1 হতে পারবে? কিন্তু পারমার্থিক জীবনে ভগবানের দাস বা দাসানুদাস হওয়াই চরম সার্থকতা। যেহেতু ভগবান অসমোর্জ তত্ত্ব, তাই কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। এজন্য সবচেয়ে ভালো, তাঁর দাস হওয়া। এটাই সর্বোচ্চ স্তর। ভগবানের ঐকান্তিক সেবকদের দাস হওয়াও একই গতিপ্রদ।
ব্যবহারিক জীবনে আমাদের এই পরিচিতি তখনই সার্থক হবে যখন আমরা পরমেশ্বর ভগবানের শুদ্ধ সেবক হতে পারব। যত শুদ্ধভাবে আমরা ভগবানের সেবকদের মাধ্যমে ভগবানের সেবা করতে পারব, তত দ্রুত আমরা ভগবানের সাথে আমাদের সরাসরি সম্পর্ক উপলব্ধি করতে পারব। কারণ এখানে গুরু- পরম্পরার মাধ্যমে কৃষ্ণের সাথে সরাসরি সংযোগ হয়। তাই যদিও কেউ গুরুদেবের সেবা করছে, প্রকৃতপক্ষে সে কৃষ্ণেরই সেবা করছে। এটা খুব সহজেই বোঝা যেতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞতা ছাড়া এটা উপলব্ধি করা কঠিন।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ