27/04/2024
জুমার পর মসজিদ থেকে বের হচ্ছি। একজন বয়স্ক মানুষ এগিয়ে এলেন। দেখতে-শুনতে সম্ভ্রান্ত আর শিক্ষিত মনে হল। আন্তরিকভাবে মুসাফা করলেন। সশ্রদ্ধ ভঙ্গিতে বললেন: আগ্রহের সাথে আপনার বয়ান ও খুতবা শুনেছি’। তারপর একটু ইতস্তত করে বললেন,
-হুজুর, আমার একটা মেয়ে আছে।
-আচ্ছা, মা শা আল্লাহ।
-মেয়েটা খুবই ভালো।
-(দুষ্টমন লাফিয়ে উঠল) আচ্ছা, তাই নাকি? আলহামদুলিল্লাহ।
-ছোটবেলা থেকেই আমার মেয়েটা পড়াশোনা, আদবলেহাজে সবার চেয়ে এগিয়ে।
-(মনে মনে- আল্লাহু আকবার, দুষ্টমন বেতরঙ্গি মাছের মতো খলবল করে উঠল) গুণবতী মেয়ে। আপনি ভাগ্যবান পিতা।
-শুধু তাই নয়, মেয়েটা মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছে। এত শিক্ষিত হয়েও মেয়েটার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। ঘরের কাজকর্মেও নিপুণ। নিজের আগ্রহেই হিজাব পরা শুরু করেছে। নামাজ তো আগে থেকেই পড়ত।
-(আল্লাহ রে! আসল কথা বলুন কেন এতদিকে ঘোরাঘুরি করছেন?) আপনি তো একটা রত্ন পেয়েছেন।
-মেয়েটা রূপে-গুণে অতুলনীয়। হুজুর, একটা রিকোয়েস্ট ছিল।
-(আলহামদুলিল্লাহ, এতক্ষণে লাইনে এসেছেন) জি, বলুন।
-আপনি যদি আমার মেয়েটাকে......!!!!
-(ও আল্লাহ রে! আজ কার মুখ দেখে দিন শুরু করেছিলাম?) জি জি, অবশ্যই, অবশ্যই।
-আপনি যদি আমার মেয়েটাকে একটু পানি পড়া দিতেন খুবই ভালো হত। মেয়েটা সরকারি ব্যাংকে চাকরি করে। প্রমোশনটা যেন দ্রুত হয়, সেজন্যও মেহেরবানি করে দোয়া করবেন। নাতি আর জামাইয়ের জন্যও কাইন্ডলি দোয়া করবেন।
আতিক উল্লাহ