09/03/2026
কুরআন পড়লে কিছু কিছু শব্দের কন্ট্রাস্ট বারবার চোখে পড়ে-
-বিশ্বাসী ভার্সেস অবিশ্বাসী
-মাইন্ডফুল ভার্সেস গাফেল
-ধৈর্যশীল ভার্সেস অস্থিরমনা
-বিনয়ী ভার্সেস অহংকারী
তবে সব থেকে অদ্ভুত যেই কন্ট্রাস্টটা চোখে পড়ে তা হলো
"শুকুর ভার্সেস কাফের"
অর্থাৎ "গ্রেটফুল ভার্সেস অবিশ্বাসী" এর কন্ট্রাস্টটি
"গ্রেটফুল ভার্সেস আনগ্রেটফুল" না, "গ্রেটফুল ভার্সেস কাফের" এর কন্ট্রাস্ট!
বিষয়টা প্রথমে চোখে পড়ে গ্রেটফুলের ফেমাস আয়াতটিতে
"আর তুমি যদি গ্রেটফুল হও, তাহলে আমি বাড়িয়ে দিবো"
আর যদি তুমি কাফের হও তাহলে আমার শাস্তি সিভিয়ার!"
[কুরআন ১৪:৭]
সো শুকুরের অপোজিট হচ্ছে কুফুর
প্রশ্ন আসে না কেন?
বুঝতে হলে রুটে যেতে হবে!
কুফুর শব্দটা এসেছে ক-ফ-র রুট থেকে
যার অর্থ হচ্ছে "ঢেকে দেওয়া"
ক্লাসিক্যাল এরাবিকে একজন চাষিকে কাফির ডাকা হয়
কারণ সে বীজ বপন করে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়!
অর্থাৎ নিয়ামতগুলো দেখে যখন আমরা একনলেজ করি সেটা হচ্ছে শুকুর
আর যখন তা জেনেও না জানার ভান করে সত্যকে ঢেকে দেই তা হচ্ছে কুফুর!
"গিফট এনজয় করলেন ঠিকই কিন্তু সেটা ঠিক ভাবে এপ্রিশিয়েট করলেন না"- এটা হচ্ছে কুফুর!
খেয়াল করে দেখুন
এই কুফুর কিন্তু আমরা রেগুলারলি করছি-
-সাকসেস পেলাম, কিন্তু তাকে ক্রেডিট না দিয়ে বললাম, এটা আমার হার্ড ওয়ার্ক
-বিপদ থেকে উদ্ধার পেলাম, এগেইন, তাকে ক্রেডিট না দিয়ে বলে দিলাম, এটা তো আমার গুড লাক
-খুব ভালো আছি তা সত্ত্বেও জাস্ট একটা প্রব্লেম আসতেই কমপ্লেইন জুড়ে দিলাম, আমাকে এত আনলাকি বানালে কেন তুমি!
এই না-শুকরিয়া করাটা মনে হয় আমাদের মজ্জাগত একটা বিষয়
তাই তো বোধহয় তিনি ঘোষণা দেন
"তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ গুলো গুনে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অতি মাত্রায় যালিম আর কাফির অর্থাৎ আনগ্রেটফুল "
[কোরান ১৪:৩৪]
তাইতো হাদিস শরীফে এসেছে শুধু মাত্র এই না-শুকরি আর কমপ্লেইন করার কারণে কিছু মুমিন জাহান্নামী হবে!
অর্থাৎ আপনি নামাজী হতে পারেন, রোজাদাড় হতে পারেন, বিশ্বাসি হতে পারেন
কিন্তু আপনার এটিচুডে যদি শুধু কমপ্লেইনিং আর শুকুরহীনতা হয় তাহলে কোন লাভ নাই!
অন্তরভরা কমপ্লেইন নিয়ে সারাদিন আলহামদুলিল্লাহ জপলে কোন লাভ নাই!
কারণ শুকুর জাস্ট জিহ্বা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলা না
শুকুর হচ্ছে হৃদয় দিয়ে নিয়ামত গুলো ফিল করা।
শুকুর কোনো টু ডু লিস্ট না যে চেক চেক দিয়ে চলে গেলেন
শুকুর হচ্ছে একটা টু ফিল লিস্ট।
জীবনের প্রতিটা দিকের নিয়ামত গুলোকে একনলেজ করা হচ্ছে শুকুর, যেমন
-আপনার সন্তান আপনার না; এটা আল্লাহর গিফট—বিষয়টা বোঝা হচ্ছে শুকুর
-আপনার চাকরি আপনি পাননি, তিনি ব্যবস্থা করেছেন, এই একনলেজমেন্টটা হচ্ছে শুকুর
-মানুষ আপনাকে ভালোবাসে, রেস্পেক্ট করে, এই অ্যারেঞ্জমেন্টটা আপনার না- তার, বিষয়টা রিয়ালাইজ করা হচ্ছে শুকুর
-আপনার বাবা-মা আপনি চুজ করেননি, আপনাকে তাদের সান্নিধ্য দেয়া হয়েছে, এই ডিপ ফিলোসফিটা বোঝা হচ্ছে শুকুর
-আপনার সুস্থতা আপনার হাতে না, এই বোধটা হচ্ছে শুকুর
-আপনার ঈমান, আপনি নিজে পাননি, তিনি হাতে ধরে আপনাকে পথ দেখিয়েছেন —এই ডিপ আন্ডারস্টেন্ডিংটা হচ্ছে শুকুর
নিজের মধ্যে যদি শুকুরের এই বোধটা জাগাতে পারেন তাহলে কি হবে জানেন?
আপনার আমলগুলো তার ইচ্ছের সাথে এলাইনড হতে থাকবে
-যেই চোখ আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে আপনি খারাপ কিছু দেখবেন না
-যেই মন আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে খারাপ কিছু ভাববেন না
-যেই মাইন্ড আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে খারাপ কিছু চিন্তা করবেন না
-যেই সৌল আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা আর পচতে দিবেন না
-কষ্টে ধৈর্য ধরবেন, প্রাচুর্যে বিনয় হবেন আর ক্ষমতায় জাস্ট হবেন!
খেয়াল করে দেখুন
উপর আমলগুলোর মধ্যে কিন্তু একটা কমন থ্রেড আছে
থ্রেডটা হলো চয়েজ!
আমাদের প্রতিটা অ্যাকশনের পিছে একটা চয়েজ আছে
"দেখবো কি দেখবো না", "শুনবো কি শুনবো না", "করবো কি করবো না"
এই চয়েজ, শুকুর আর কুফুরকে তিনি এক সূত্রে বেঁধে বলেন
"আমি তাকে গাইড করেছি, এখন হয় সে শুকুর করবে, নয়তো সে কুফুর করবে।
[কোরান ৭৬:৩]
অর্থাৎ গাইডেন্স আমাদেরকে একটা চয়েজ দেবে
আমরা বুঝতে পারব কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল
এবং বুঝে হয় তা একনলেজ করবো নয়তো সেই ফিলিংসটা দাবিয়ে রাখবো।
হৃদয় হয়ত বলবে এটা উপর থেকেই আসছে
কিন্তু ইগো সেটাকে অন্য একটা লেবেল লাগিয়ে ঢেকে ফেলবে!
এই জন্যই কুফুর এত ডেঞ্জারাস
সে আমাদের হার্টকে ব্লক করে ফেলে।
অথচ এই ডেঞ্জারাস গেইমে আমরা মোটামুটি সবাই আসক্ত
তাই তো তিনি আবারো ঘোষণা দেন
"আমার সার্ভেন্টদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই আছে যারা গ্রেটফুল!"
[কোরান ৩৪:১৩]
খুব কম সংখ্যকই বিশ্বাসী কিন্তু বলেননি, বলেছেন খুব কম সংখ্যকই গ্রেটফুল
কারণ বিশ্বাস হচ্ছে "ইভেন্ট" আর শুকুর হচ্ছে একটা "লাইফস্টাইল"
তাহলে প্রশ্ন আসে না, আমরা বেশির ভাগ মানুষ কেন এত আনগ্রেটফুল?
আমার মনে হয় বেশিরভাগ মানুষ আমরা আনগ্রেটফুল কারণ
আমরা হলাম ইগোইস্টিক!
আমরা কনফিডেন্সের নামে দিনদিন অ্যারোগেন্ট হয়ে উঠছি!
আর অ্যারোগেন্স কি করে জানেন?
অ্যারোগেন্স আমাদের হার্টকে সত্য থেকে ব্লক করে রাখে!
এটা কোনো ফিলোসফি না, ডিরেক্ট রাসূলের কাছ থেকে পাওয়া!
জানা যায় উনার বিখ্যাত হাদিস থেকে-
"কারো অন্তরে যদি বিন্দু পরিমাণ অ্যারোগেন্স বা অহংকার থাকে
তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না"
"কোন ধরণের অ্যারোগেন্স"?
এর উত্তরে তিনি বলেন
সেই ধরণের "অ্যারোগেন্স" যা
"সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে" আর "মানুষকে তুচ্ছ মনে করে"
[সহি মুসলিম ৯১এ]
তাহলে প্রশ্ন আসে না কীভাবে আমরা এই অ্যারোগেন্স থেকে দূরে থাকবো?
উত্তর: হিউমিলিটি দিয়ে বা বিনয় দিয়ে!
কারণ একটা বিনয়ী হার্ট
-সত্যকে রেকগনাইজ করে
-ব্লেসিংকে একনলেজ করে আর
-গাইডেন্সকে একসেপ্ট করে
তাইতো আমাদের দ্বীনের ওয়ান অফ দা ফান্ডামেন্টাল টিচিংসই হলো:
"বিনয়ী হওয়া"
কারণ বিনয়ী হার্ট গাইডেন্সের জন্য রেডি থাকে।
তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে
কিভাবে এই হার্টকে আমরা বিনয়ী করে তুলবো?
উত্তর: "মানুষকে তুচ্ছ না করে"
তবে সেটা তো আর হুট্ হাট করে হয় না
ডেইলি ছোট ছোট প্র্যাকটিসের মাধ্যমে বিল্ড আপ করতে হয়।
কিছু ডেইলি প্র্যাকটিসের এক্সাম্পলের হবে অনেকটা এরকম-
-কাউকে ছোট না করে সম্মান দিয়ে কথা বলুন
-তার পদ অনুযায়ী জাজ না করে এফোর্ট অনুযায়ী রেসপেক্ট করুন
-তার ভুল হলে, সেই ভুলে না হেসে, তাকে শিখতে সাহায্য করুন
-সে কথা বলতে থাকলে, আগে তার কথা শেষ করতে দিন, নিজের পয়েন্ট জাহির না করে তাকে ইন্টারাপ্ট না করে, আগে মন দিয়ে শুনুন
-"আপনি সব জানেন" এটা শো অফ না করে, "আপনি যা জানেন না" সে বিষয়ে কিউরিয়াস হয়ে উঠুন, প্রশ্ন করুন
-"আপনিই ঠিক" এটা প্রমাণ না করে, কোনটা "আসলেই ঠিক" সেই সত্যটা বের করার অভ্যাস গড়ুন
আর যদি তাতেও বেহেভিয়ারে চেঞ্জ আসছে না, তাহলে একবার অন্তত ভাবুন
"আপনি তার থেকে বেটার" এর অর্থ কি জানেন?
এর অর্থ হলো "আপনার উপর অর্পিত নিয়ামত তার থেকে বেশি"
এর অর্থ হলো "আপনার হিসাবও তার থেকে বেশি"
সো রোজ হাশরে আপনাকে যখন নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে
একটু ভাবে দেখুন তো
ঠিকঠাক ভাবে উত্তর গুলো দিতে পারবেন তো!!