15/04/2026
ভুল চিকিৎসায় নিভে যাচ্ছে প্রদীপ: হাসপাতালের বারান্দায় সন্তানের মৃ*ত্যুর প্রহর গুনছেন এক মা😥
রাজধানীর একটি হাসপাতালের বারান্দায় স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন এক নারী। কোলে সাড়ে তিন বছরের নিথরপ্রায় সন্তান, আব্দুর রহমান। মা হয়েও সন্তানের মুখের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছেন না তিনি। কারণ, তিনি জানেন—আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা; তারপরই চিরতরে হারিয়ে যাবে তার কলিজার টুকরো। কুকুরের কামড় থেকে সৃষ্ট মরণব্যাধি জলাতঙ্ক (Rabies) কেড়ে নিচ্ছে একটি ফুটফুটে প্রাণ।
খেলার মাঠ থেকে মৃ*ত্যুর দুয়ারে
রমজান মাসের এক বিকেলে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসার সামনে খেলছিল শিশু আব্দুর রহমান। মুহূর্তের অসতর্কতায় একটি কুকুরের আক্রমণের শিকার হয় সে। কামড়টি লেগেছিল সরাসরি তার গালে—মস্তিষ্কের ঠিক কাছেই। ঘটনার মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যে স্বজনেরা তাকে নিয়ে ছুটে এসেছিলেন দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস আর চিকিৎসকদের ‘ভুল ব্যবস্থাপনায়’ জীবন আজ সংকটাপন্ন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা অভিযোগ করেন—
আমি তো আমার বাচ্চার চিকিৎসার জন্য কোনো ত্রুটি করি নাই। দেড় ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দিছি। সেই ভ্যাকসিন কেন আজ কাজ করে না? কেন ওর ক্ষতস্থানে ইনজেকশন দেওয়া হলো না?"
চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, কুকুরের কামড় যদি মুখমণ্ডল বা মাথার কাছাকাছি হয়, তবে ইনজেকশন সরাসরি ক্ষতের ভেতরে ও চারপাশে পুশ করতে হয় (RIG—Rabies Immunoglobulin)। কিন্তু মায়ের দাবি, কর্তব্যরতরা ইনজেকশনটি শরীরের অন্য স্থানে দিয়েছিলেন। ফলে বিষাক্ত ভাইরাস নিরাময়ের বদলে সরাসরি পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে। এখন শিশুটির ভেতরে স্বাভাবিক আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের অভিমত
রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক, ডা. এ এফ আসমা খান, জানান—কুকুরের কামড় মাথার যত কাছে হবে, ঝুঁকি তত বেশি। ভাইরাসটি দ্রুততম সময়ে স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এক্ষেত্রে এক ঘণ্টার মধ্যে সঠিক স্থানে সঠিক চিকিৎসা না পেলে ভ্যাকসিনেও আর কাজ হয় না। আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও হয়তো সেটিই ঘটেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা দায়ী কেউ এই পরিণতির দায় নিচ্ছে না। বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত মা এখন মানুষের ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলেছেন। শূন্য দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন—
আমি আপনাদের কাছে কোনো বিচার চাই না। যে আল্লাহ আমার সন্তানরে সৃষ্টি করছে, আমি সেই আল্লাহর কাছেই বিচার দিলাম।"
সাড়ে তিন বছরের আব্দুর রহমান এখন এক নিশ্চিত মৃত্যুর যাত্রী। তার এই করুণ পরিণতি আবারও দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে যাচ্ছে।