13/03/2026
ঘড়িতে তখন রাত তিনটা। সৌদি আরবের রিয়াদের একটি ঘরে একজন মহিলা হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠলেন। পরিবারের সবাই ছুটে এল। তিনি বিছানায় ছটফট করছেন, তার চোখ উল্টে গেছে, গলার স্বর পুরুষের মতো হয়ে গেছে, এবং সেই কণ্ঠে এমন একটি ভাষায় কথা বলছে যেটা পরিবারের কেউ চেনে না। পরদিন সকালে রাক্বি এলেন এবং প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ শেষ করে তিনি সূরা বাক্বারা তেলাওয়াত শুরু করলেন। এরপর মহিলার শরীর আরো বেশি ছটফট করতে লাগল। একসময় সেই পুরুষ কণ্ঠ বলে উঠল, "আমি যাব না। আমি এখানে ৩০ বছর ধরে আছি।"
২০০৯ সাল। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের একটি ছোট শহর।
একটি মেয়ে তিন বছর ধরে কথা বলছে না। ডাক্তার বলেছেন neurological কোনো সমস্যা নেই। Psychiatrist বলেছেন mental illness এর কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু মেয়েটি কথা বলছে না, খাচ্ছে না, শুধু তাকিয়ে আছে দেয়ালের দিকে। মেয়েটির পরিবার শেষ পর্যন্ত একজন রাক্বির কাছে গেল। রাক্বি এসে মেয়েটির পাশে বসলেন। একইভাবে তিনি treatment শুরু করলেন। প্রথম কয়েক মিনিটেই মেয়েটি চিৎকার করে উঠল আরবিতে একটি পুরুষের কণ্ঠে। সেই কণ্ঠ বলে উঠল, "এই ঘর আমার। তুমি চলে যাও।"
রাক্বি থামলেন না।
তার দুই ঘণ্টা পরে মেয়েটি জ্ঞান হারাল। এবং যখন উঠল, দেখা গেলো তিন বছর পরে সে প্রথমবারের মতো নিজের মায়ের নাম ধরে ডাকল।
এই ঘটনা একটি দুটি না। পাকিস্তান, মিশর, মরক্কো, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া। প্রতিটি দেশে প্রতিটি সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটছে। এবং প্রতিটি ঘটনায় এমন একজন মানুষ থাকেন যিনি সেই অন্ধকারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তার নাম রাক্বি।
কিন্তু একজন রাক্বি ঠিক কী করেন? কোন হাতিয়ার দিয়ে লড়েন? এই যুদ্ধে নিজে কীভাবে আহত হন? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা, আপনি কীভাবে এমন একটা জীবন তৈরি করবেন যেখানে কামাখ্যার সমস্ত তান্ত্রিক একসাথে মিলেও আপনার দিকে তাকাতে পারবে না?
আজকের পর্বে সেই সম্পূর্ণ গল্পটা বলব।
প্রথমে শত্রুকে চিনতে হবে,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস অনুসারে জিন তিন প্রকার। এক প্রকার উড়ে বেড়ায়, এক প্রকার সাপ ও কুকুরের রূপ নেয়, এবং এক প্রকার মানুষের সাথে বাস করে। ইমাম তাবারানি এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শক্তির দিক থেকে জিনের পাঁচটি স্তর আছে এবং প্রতিটি স্তরে লড়াইয়ের পদ্ধতি আলাদা।
১/ সবচেয়ে দুর্বল স্তরে আছে যাদের বলা হয় হিন্ন বা জান। এরা ছোট, অস্থির, বড় ক্ষতি করতে পারে না। কোনো জায়গায় অদ্ভুত অনুভূতি, রাতে কিছু দেখার মনে হওয়া, এগুলো সাধারণত এদের কাজ। সাধারণ আমলেই এরা চলে যায়।
২/এর উপরে আছে সাধারণ জিন যারা মানুষের পাশে বাস করে এবং মাঝারি শক্তিতে প্রভাবিত করে।
৩/ তৃতীয় স্তরে আছে শয়তান শ্রেণির জিন। এরা ইবলিসের সরাসরি অনুগত এবং সক্রিয়ভাবে মানুষকে গুমরাহ করার মিশনে আছে। তান্ত্রিকরা যখন জিনকে বশ করার চেষ্টা করে, এই শ্রেণিকেই বশ করতে চায়। কারণ এরা বুদ্ধিমান, মানুষের দুর্বলতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ।
৪/ চতুর্থ স্তরে আছে ইফরিত। কুরআনে সূরা নামলের ৩৯ নম্বর আয়াতে এদের উল্লেখ আছে। সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে একজন ইফরিত বলেছিল, আনা আতিকা বিহি কাবলা আন তাকুমা মিন মাকামিক, অর্থাৎ আপনি আপনার আসন থেকে ওঠার আগেই আমি বিলকিসের সিংহাসন নিয়ে আসব। এই একটি বাক্যে ইফরিতের শক্তির পরিমাপ বোঝা যায়। এরা অত্যন্ত দ্রুত এবং শক্তিশালী। এদের বিরুদ্ধে রুকইয়াহ কাজ করে কিন্তু অনেক সময় নেয়।
৫/ সবচেয়ে উপরে আছে মারিদ। এরা সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে শক্তিশালী। পানির সাথে এদের বিশেষ সম্পর্ক আছে। মারিদ যখন কারো মধ্যে প্রবেশ করে, রোগীর কণ্ঠস্বর সম্পূর্ণ বদলে যায়, অস্বাভাবিক শারীরিক শক্তি দেখা যায়, এবং রুকইয়াহ শুনলে প্রচণ্ড হিংস্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। কামাখ্যার তান্ত্রিকরা যে জিনদের বশ করার চেষ্টা করে তাদের মধ্যে অনেক সময় এই মারিদ শ্রেণি থাকে।
এই পাঁচটি স্তর ছাড়াও ধর্মীয় পার্থক্য আছে। মুসলিম জিন, কাফির জিন এবং মুশরিক জিন। যারা তান্ত্রিকদের সাথে কাজ করে তারা অবশ্যই কাফির বা মুশরিক এবং ইবলিসের অনুগত।
এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া দরকার। রুকইয়াহর সময় অভিজ্ঞ রাক্বিরা বারবার রিপোর্ট করেছেন জিনরা নিজেদের পরিচয় দেয়। কামাখ্যার জাদুতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে জিন হিন্দি, সংস্কৃত বা অসমিয়া ভাষায় কথা বলে, যে ভাষা রোগী জীবনে কখনো শেখেননি। এই একটি ঘটনা বিজ্ঞানের কোনো framework এ ব্যাখ্যা করার পথ নেই।
একটা ভুল ধারণা আছে যে, অনেকে ভাবেন রাক্বি মানে এক ধরনের জাদুকর বা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী কেউ। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
একজন রাক্বি আসলে একজন সাধারণ মুসলিম যার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ঈমান, তার আমল এবং কুরআনের সাথে তার সম্পর্ক। আধুনিক রুকইয়াহ শাস্ত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী স্কলার ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালি, যার কিতাব আলওয়িকায়াহ মিনাল জিন ওয়াস সিহর চল্লিশটির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, তিনি স্পষ্ট বলেছেন, একজন রাক্বির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার শুধু কুরআন নয়, তার আমল ও তাকওয়াপূর্ণ হাতও।
কথাটার গভীরতা বুঝেন। কুরআনের আয়াত তখনই সর্বোচ্চ শক্তিতে কাজ করে যখন যিনি পড়ছেন তার ভেতরে গুনাহের অন্ধকার নাই। জিন এই জিনিসটা বোঝে। রাক্বির মধ্যে যদি বড় গুনাহ থাকে, রাক্বি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়েন, তাহলে জিন তাকে দেখে উপহাস করে, ভয় পায় না। একজন দুর্বল সৈনিকের হাতে শক্তিশালী অস্ত্র দিলেও সে ঠিকমতো চালাতে পারে না। রাক্বির বিষয়টাও এরকম।
তাই একজন রাক্বিকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট আমল করতেই হয়। ফজরের পরে আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস তিনবার করে। সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দুআগুলো। এবং সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকার চেষ্টা। রাক্বির মানসিক অবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। Quantum physics এ একটি ধারণা আছে যাকে বলা হয় Observer Effect, পর্যবেক্ষকের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের ফলাফলকে প্রভাবিত করে। আধ্যাত্মিক জগতে এই প্রভাব আরো বেশি প্রত্যক্ষ। জিন মানুষের ভয় অনুভব করতে পারে। রাক্বির মনে যদি একটুও ভয় থাকে, জিন সেটা টের পেয়ে সুযোগ নেয়। তাই রাক্বিকে এমন একটা অবস্থায় থাকতে হয় যেখানে ভয় শুধু আল্লাহকে এবং ভরসা শুধু আল্লাহর উপর।
প্রতিটি রুকইয়াহ সেশনের আগে রাক্বি অজু করেন, দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন, তারপর পড়েন,
আউযু বিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজিম। ইংরেজিতে, তারপর তিনি তার কাজ শুরু করেন।
রুকইয়াহ মানে শুধু মুখে কুরআনের আয়াত পড়া না। এটা একটা সম্পূর্ণ চিকিৎসাপদ্ধতি যার বিভিন্ন স্তর আছে এবং বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার হয়।
সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো পানির রুকইয়াহ। একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি নেওয়া হয়। রাক্বি পানির দিকে মুখ করে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং চার কুল পড়েন এবং প্রতিটির পরে পানিতে ফুঁ দেন। এই পানি তিনভাবে ব্যবহার হয়। রোগী পান করে, রোগীকে গোসল করানো হয়, এবং বাড়ির প্রতিটি কোণে ছিটিয়ে দেওয়া হয়।
এখানে বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। আমাদের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি। পানির অণু তার রাসায়নিক গঠনের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল। Biophysics দেখিয়েছে নির্দিষ্ট sound frequency পানির molecular structure কে প্রভাবিত করতে পারে। কুরআনের তেলাওয়াতের acoustic frequency, বিশেষত আরবি হরফের মাখরাজ থেকে নির্গত কম্পন, পানির উপর একটি নির্দিষ্ট প্রভাব ফেলে। কিন্তু এটা শুধু physics না, এই কালামের সাথে আল্লাহর অনুমতি যুক্ত। আরবিতে এই পানিকে বলা হয়, Maa ur-Ruqyah।
আবার তেলের রুকইয়াহও আছে। এটা একটু বেশি উন্নত পদ্ধতি। জলপাই তেলে একইভাবে কুরআন পড়ে ফুঁ দেওয়া হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।কুলুয যাইতা ওয়াদ্দাহিনু বিহি ফাইন্নাহু মিন শাজারাতিম মুবারাকাহ। অর্থ, জলপাই খাও এবং এটা দিয়ে মালিশ করো কারণ এটা বরকতপূর্ণ গাছ থেকে আসে। এই তেল রোগীর মাথায়, বুকে, পিঠে এবং ব্যথার জায়গায় মালিশ করা হয়।
আবার, কালোজিরার তেল এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আলাইকুম বিহাযিহিল হাব্বাতিস সাওদা ফাইন্না ফিহা শিফাআম মিন কুল্লি দা-ইন ইল্লাস সাম। অর্থ, তোমরা এই কালো বস্তু ব্যবহার করো কারণ এতে মৃত্যু ছাড়া প্রতিটি রোগের শিফা আছে। বুখারি ও মুসলিম উভয়তেই আছে এই হাদিস। কালোজিরার তেলে রুকইয়াহ পড়ে রোগীকে খাওয়ানো এবং মালিশ করা বিশেষভাবে কার্যকর যখন জিন শরীরে ঢুকে গেছে এবং তার শারীরিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
সিদর বা কুলপাতার রুকইয়াহ হলো সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতিগুলোর একটি, বিশেষত যখন জাদুর বস্তু খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সাতটি কুলপাতা নিন এবং পাথরে বা মর্টারে গুঁড়া করুন। পরিমাণমতো পানিতে মিশান। রাক্বি সেই পানিতে নির্দিষ্ট আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দেন। রোগী এই পানি পান করেন এবং গোসল করেন। ওয়াহিদ বালি তার কিতাবে এই পদ্ধতির অনেক সফল কেস ডকুমেন্ট করেছেন।
সরাসরি তেলাওয়াতের পদ্ধতি হলো সবচেয়ে মৌলিক। রাক্বি রোগীর মাথায় ডান হাত রাখেন বা কাছে বসেন এবং সরাসরি কুরআন পড়তে থাকেন, মাঝে মাঝে রোগীর উপর ফুঁ দেন। এই সময় তিনি গভীরভাবে রোগীর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। রোগী কাঁদলে এটা সাধারণত ভালো লক্ষণ, হৃদয় নরম হচ্ছে। ঘুমিয়ে পড়লে শিফার লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু রোগী চিৎকার করলে, শরীর কাঁপলে, কণ্ঠস্বর বদলে গেলে বুঝতে হবে জিন আছে এবং বের হতে চাইছে না।
একজন রাক্বি শুধু আয়াতই পড়েন না। তিনি জিনের সাথে কথা বলেন। এটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা বাস্তব এবং ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ নিজেই এটা করেছেন এবং তার নিজের লেখায় উল্লেখ করেছেন।
রুকইয়াহ চলাকালে যখন জিন সক্রিয় হয়, অর্থাৎ রোগী অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, তখন রাক্বি কথা বলা শুরু করেন। প্রথম প্রশ্ন হয় তার নাম কী। নাম জানলে জিন সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া যায়। দ্বিতীয় প্রশ্ন হয় সে মুসলিম না কাফির। মুসলিম জিন হলে তাকে ইসলামের দোহাই দিয়ে বের হয়ে যেতে বলা হয়। কাফির জিন হলে আল্লাহর আজাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চলে যেতে বলা হয়। তৃতীয় প্রশ্ন হয় সে শরীরের কোথায় আছে। চতুর্থ প্রশ্ন হয় সে কীভাবে এসেছে, জাদুর মাধ্যমে না নিজে থেকে। পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, জাদুর বস্তু কোথায় আছে।
কিন্তু এখানে একটা বিশাল সতর্কতা আছে। জিন মিথ্যাবাদী। তারা রাক্বিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তারা বলে চলে গেছি কিন্তু আসলে যায় না। নাম ভুল বলে। বলে তাবিজ অমুক জায়গায় আছে, কিন্তু সেটা আসলে ভিন্ন জায়গায় থাকে। তাই ওয়াহিদ বালি বলেছেন জিনের তিনটি দাবি কখনো বিশ্বাস করবেন না। এক, সে চলে গেছে। দুই, সে রোগীকে ভালোবাসে। তিন, সে রোগীকে রক্ষা করছে। এই তিনটি দাবি করে জিন রোগীকে মানসিকভাবে নিজের উপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করে। একজন দক্ষ রাক্বি কখনো শুধু জিনের কথার উপর নির্ভর করেন না।
এরই মধ্যে রয়েছে কামাখ্যার দলবদ্ধ জিন, আর এটাই সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ। কখনো কখনো একটি জিনের জায়গায় দলবদ্ধ জিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়, এখানে একটি পুরো দল কাজ করে, এখানেই যুদ্ধের প্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।
ওয়াহিদ বালি তার কিতাবে লিখেছেন কিছু ক্ষেত্রে তিনি একজন রোগীর মধ্যে বারো থেকে পনেরোটি জিন পেয়েছেন। একটি বের হওয়ার পরে আরেকটি সামনে আসে। এটা একটি সংগঠিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ঠিক যেভাবে একটি সামরিক দল স্তরে স্তরে প্রতিরক্ষা সাজায়, এই জিনরাও তেমনি সংগঠিত।
এই ধরনের কেসে একক রাক্বি দিয়ে কাজ হয় না। দুই বা তিনজন রাক্বির দল একসাথে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। একজন তেলাওয়াত করেন, একজন রোগীকে সামলান, একজন একটানা দুআ করতে থাকেন। এই ধরনের সেশন এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি হয়। এখানে একটি সেশনে কাজ শেষ হয় না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস চলতে পারে।
কামাখ্যার জাদুর বিশেষত্ব হলো সেখানে যে জিনরা কাজ করে তারা দীর্ঘদিনের শিরকি ritual এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত। পঞ্চমকার সাধনা, মৎস্য, মাংস, মদিরা, মুদ্রা এবং মৈথুন ব্যবহার করে যে শক্তি অর্জন করা হয়, সেটা সরাসরি ইবলিসের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি পদ্ধতি। ইসলামি দৃষ্টিতে এটা স্পষ্ট শিরক এবং এই পথে যে শক্তি আসে সেটা শয়তানি শক্তি।
কিন্তু এই শক্তির একটি দুর্বলতা আছে। এবং এই দুর্বলতাই একজন সত্যিকারের মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেটা কী সেটা একটু পরে বিস্তারিত বলব। আগে জানেন রাক্বিরা কীভাবে আহত হয়।
সৌদি আরবের একজন বিখ্যাত রাক্বি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন একবার একটি অত্যন্ত কঠিন কেস সামলানোর পরে বাড়ি ফেরার পথে তিনি হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা অনুভব করলেন। পরের কয়েক রাত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলেন। তিনি বুঝতে পারলেন জিন তার উপর পালটা আঘাত করেছে।
জিনরা রাক্বিকে কয়েকটি উপায়ে আক্রমণ করে। প্রথম পদ্ধতি হলো মানসিক আক্রমণ। রুকইয়াহ সেশনে রাক্বি যখন তেলাওয়াত করছেন তখন জিনরা তার মনে ওয়াসওয়াসা তৈরি করে। রাক্বীদের হঠাৎ মনে হয় আমি কি ঠিকমতো পড়ছি? এই কেসে কাজ হবে তো? এই সংশয় জিনের তৈরি করা ফাঁদ। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো শারীরিক আক্রমণ। রোগীর শরীরে থাকা জিন রোগীর হাত বা পা ব্যবহার করে রাক্বিকে আঘাত করে। এটা রোগীর ইচ্ছায় হয় না, জিন রোগীর শরীরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
তৃতীয় পদ্ধতি সবচেয়ে বিপজ্জনক। জিন রাক্বিকে অনুসরণ করে তার বাড়িতে ফিরে যায়। বিশেষত যখন রাক্বি সেশনের পরে সঠিক আমল করে না। তখন রাক্বির পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হতে পারে।
রাক্বি নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন? প্রতিটি সেশনের আগে তিনবার পড়তে হবে, আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন্ শাররি মা খলাক্ব। অর্থ, আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের আশ্রয় চাইছি তাঁর সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে। এবং সেশনের পরে অজু করতে হবে এবং চার কুল পড়তে হবে।
তান্ত্রিক শক্তির দুর্বলতা এবং মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ,
এখন সেই কথায় আসি। ধরেন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্যুৎকেন্দ্র। হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কিন্তু সেই কেন্দ্রের একটাই নিয়ম। সে শুধু সেই ঘরে আলো জ্বালাতে পারে যে ঘরের সুইচ কেউ ON করে দিয়েছে। সুইচ বন্ধ থাকলে? সেই কেন্দ্র কিছুই করতে পারে না।
তান্ত্রিক শক্তি ঠিক এইরকম।
কামাখ্যার সবচেয়ে শক্তিশালী তান্ত্রিক, বছরের পর বছর সাধনা করা সিদ্ধ পুরুষ, তার বশে থাকা ইফরিত বা মারিদ শ্রেণির জিন, এই সবকিছু মিলেও একটি কাজ করতে পারে না। সে নিজে থেকে একজন মানুষের ভেতরে ঢুকতে পারে না। তাকে অপেক্ষা করতে হয়। কোনো একটা দরজা খোলার জন্য।
আর এটাই আমাদের সেই দুর্বলতা। আমরাই সেই দরজা খুলে রাখি।
আল্লাহ সূরা ইসরার ৬৫ নম্বর আয়াতে বললেন, ইন্না ইবাদি লাইসা লাকা আলাইহিম সুলতান। অর্থ, আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই।
এই আয়াতটা শুধু একটা সান্ত্বনার বাক্য না। এটা একটা cosmic law। মহাবিশ্বের নিয়ম। যে নিয়ম ইবলিস নিজে জানে এবং মানতে বাধ্য। আর কিয়ামতের দিন শয়তান নিজে দাঁড়িয়ে স্বীকার করবে। সূরা ইব্রাহিমের ২২ নম্বর আয়াতে আছে সে বলবে, ওয়ামা কানা লিয়া আলাইকুম মিন সুলতানিন ইল্লা আন দাআওতুকুম ফাসতাজাবতুম লি। অর্থ, তোমাদের উপর আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না। আমি শুধু ডেকেছিলাম। তোমরা সাড়া দিয়েছ।
শুনেন এটা। শয়তান নিজে বলছে তার কোনো ক্ষমতা নেই, সে শুধু invitation পাঠায়। কিন্তু মানুষ নিজে তার দরজা না খুললে সে ঢুকতে পারে না।
তাহলে দরজাগুলো কী? গুনাহ। আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকা। হারাম খাওয়া। অপবিত্রতায় থাকা। নামাজ ছেড়ে দেওয়া। এই প্রতিটি জিনিস একটি করে দরজা খুলে দেয়। এবং তান্ত্রিক সেই দরজা দিয়ে জিনকে পাঠায়।
বিপরীতে, যে মানুষ তার সমস্ত দরজা বন্ধ রেখেছে, অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, সকাল-সন্ধ্যার আমল করে, কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখে, হারাম থেকে দূরে থাকে, সে মানুষের দিকে পৃথিবীর সমস্ত তান্ত্রিক তাদের সমস্ত জিন পাঠালেও তারা বাইরে দাঁড়িয়ে ঘুরতে থাকবে। ভেতরে ঢোকার পথ তারা পাবে না। আবারো স্মরণ করিয়ে দেই সেই আয়াত, আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই। এটাই সেই দুর্বলতা যেটা মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। তারা শুধু তখনই ক্ষতি করতে পারে যখন আমরা নিজের্ দরজা খুলে দেন।
এবার আলোচনা করি শক্তিশালী সেলফ রুকইয়াহ নিয়ে, এই প্রতিটি আমল কামাখ্যার সামনেও অজেয়!
আয়াতুল কুরসি,
এই একটি আয়াত আল্লাহর সর্বোচ্চ গুণাবলির বর্ণনা। আল্লাহর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিন ঘিরে আছে। এই আয়াত পড়লে পাঠকের চারদিকে একটি আধ্যাত্মিক বলয় তৈরি হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো একটি শত্রু নিজে এই কথা বলেছে। বুখারিতে আছে শয়তান নিজে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছে, যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমায় সকাল পর্যন্ত তার পাশে আল্লাহর একজন রক্ষক থাকে এবং শয়তান তার কাছে ঘেঁষতে পারে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথাকে সত্য বললেন, যদিও সেই শয়তান ছিল মিথ্যাবাদী।
একটা শত্রু নিজে স্বীকার করছে কোন অস্ত্র তাকে আটকায়। এর চেয়ে বড় প্রমাণ কী হতে পারে?
বাংলা উচ্চারণে আয়াতুল কুরসিটা লিখে দিলাম। এটা মুখস্ত করে পরবর্তীতে ইউটিউব বা কোনো আলেমের কাছ থেকে শুদ্ধ উচ্চারণসহ শিখে নিবেন, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুম, লা তা'খুযুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম, লাহু মা—ফিস সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ, মান্ যাল্লাযি ইয়াশফা'উ ইন্দাহু ইল্লা বি-ইযনিহ, ইয়া'লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম, ওয়ালা ইউহিতু—না বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ, ওয়াসি'আ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়াউ-দুহু হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আযিম।
এটা তিনবার পড়েন। তারপর দুই হাতে ফুঁ দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে হাত বুলান।
সূরা ফালাক এবং নাস, এই দুইটা সূরা দুইটা আলাদা কাজ করে।
সূরা ফালাক বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে, রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে, গাঁটে ফুঁ দেওয়া জাদু থেকে, হিংসুকের চোখ থেকে। লক্ষ্য করুন,গাঁটে ফুঁ দেওয়া। জাদুর এই একটি সরাসরি পদ্ধতির কথা আল্লাহ নিজে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আশ্রয় নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। সূরা নাস ভেতরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ওয়াসওয়াসা থেকে, মনের মধ্যে ঢুকে পড়া সংশয় এবং ভয় থেকে। জিন যখন শরীরে ঢুকে তখন প্রথম কাজই করে মনকে দুর্বল করা। সূরা নাস সেই পথ বন্ধ করে।
দুটো সূরা মিলিয়ে বাইরের ঢাল এবং ভেতরের ঢাল। একসাথে তিনবার পড়লে এবং হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলালে একটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন রাসূল ﷺ নিজে রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরাগুলো পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করতেন এবং মাথা থেকে শুরু করতেন।
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতের সবচেয়ে বড় ঢাল!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে এটা তার জন্য কাফি হয়ে যাবে। বুখারি ও মুসলিম উভয়তে আছে। কাফি মানে সমস্ত আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় যথেষ্ট, সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষায় যথেষ্ট। এই একটা শব্দের মধ্যে একটা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি আছে।
সূরা বক্বারার শেষ দুই আয়াত, আমানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মিররাব্বিহি ওয়াল মু'মিনুন, কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ, লা নুফার্রিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া কালু সামিনা ওয়া আতানা, গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা, লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাক্তাসাবাত, রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসিনা আও আখতা'না, রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযিনা মিন কাবলিনা, রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহ, ওয়া'ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা, আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায় যেখানে সূরা বাকারা পড়া হয়। সহিহ মুসলিম। ঘরের প্রতিটি কোণ এই তেলাওয়াতে পরিপূর্ণ হলে সেই ঘর একটি দুর্গে পরিণত হয়। কামাখ্যার তান্ত্রিক বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলে পারে, ভেতরে ঢোকার পথ পাবে না, ইনশাআল্লাহ।
বাথরুমের দুআ,
হাদিসে আছে বাথরুম এবং অন্যান্য নোংরা জায়গায় জিনরা বেশি থাকে। প্রতিদিন আমরা যতবার বাথরুমে যাই সুরক্ষা ছাড়া গেলে ততবারই একটি অরক্ষিত মুহূর্ত তৈরি হয়। একটি সুরক্ষিত দুর্গের দেয়ালে একটি ছোট ফাটল থাকলে সেই ফাটল দিয়েই শত্রু ঢোকার পথ খোঁজে।
বাথরুমের দু'আ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস। অর্থ, হে আল্লাহ আমি পুরুষ ও মহিলা উভয় শয়তান থেকেই আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি।
খাবারে বিসমিল্লাহ,
বাংলাদেশে জাদুর সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো খাবারের মাধ্যমে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে খাবারে বিসমিল্লাহ বলা হয় না সেই খাবারে শয়তান অংশ নেয়। এর উল্টো মানে হলো বিসমিল্লাহ বলে খেলে শয়তান সেই খাবারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কেউ যদি জাদুমিশ্রিত খাবার আপনাকে দেয় এবং আপনি বিসমিল্লাহ বলে খান, সেই জাদু কাজ করার সম্ভাবনা আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক কমে যায়।
এখন সব কিছু একসাথে দেখেন। সকালের আমল থেকে শুরু করে রাতের ঘুম পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে দরজা বন্ধ হচ্ছে। ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত যদি এই রুটিন মেনে চলা হয়, তাহলে কোনো দরজা খোলা থাকে না। এবং দরজা বন্ধ থাকলে তান্ত্রিকসহ তার জিন বাইরেই দাঁড়িয়ে থাককে পারবে বড়জোর।
এটাই সেই জিনদের সেই দুর্বলতা যেটা মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আপনি যদি এই সম্পদ আগলে রাখতে জানেন তাহলে কামাখ্যার সমস্ত শক্তিও আপনার কাছে অসহায়।
সেলফ রুকইয়াহর মূল পয়েন্ট সমূহ,
ফজরের পর প্রতিদিন করুন, আয়াতুল কুরসি তিনবার, সূরা ইখলাস তিনবার, সূরা ফালাক তিনবার, সূরা নাস তিনবার, প্রতিটির পরে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করুন।
সারাদিন করণীয়, বাথরুমে ঢোকার আগে বাথরুমের দুআ, প্রতিটি খাবারে বিসমিল্লাহ, ঘরে ঢোকার সময় সালাম ও বিসমিল্লাহ।
রাতে ঘুমানোর আগে, আয়াতুল কুরসি একবার, চার কুল তিনবার করে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়ুন, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।
সাপ্তাহিক করণীয়, সূরা বাকারা একবার সম্পূর্ণ পড়েন বা অডিও তেলাওয়াত চালু রাখেন। (প্রতিদিন করলে তবে অন্তত সপ্তাহে একদিন মাস্ট বি ডান)
সর্বদা বজায় রাখবেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, হালাল জীবিকা, ছোট বড় গুনাহগুলো থেকে দূরে থাকা।
এই হলো সেই সুরক্ষা যেটার কথা শুরুতেই বলছিলাম। এখানে জটিল কিছু নেই। কোনো খরচ নেই। কোনো পির মুরশিদের কাছে যাওয়ার ব্যাপার নেই। শুধু আল্লাহর দেওয়া পথে নিজেকে রাখা। ব্যাস, এটুকু করলে পৃথিবীর কোনো তান্ত্রিক, কোনো জিন, কোনো অন্ধকার শক্তি আপনার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
আবারো সেই আয়াত মনে করিয়ে দিচ্ছি, ইন্না ঈবাদি লাইসা লাকা আলাইহিম সুলতান। আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই।
এটা কোনো মানুষের কথা না। এটা আল্লাহর কথা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই বান্দাদের দলে রাখুন যাদের উপর শয়তানের কোনো কর্তৃত্ব নেই। আমিন।
(১/এখানে সকলের বুঝার সুবিধার্থে কুরআনের অনেক আয়াত বাংলায় লিখেছি যা পরিপূর্ণ শুদ্ধভাবে লেখা যায় নি। তাই যারা শিখবেন তারা অবশ্যই আরবিতে শুদ্ধভাবে শিখবেন।
২/ আমি নিজে রাক্বী বা আলেম না। তথ্যগুলো বিভিন্ন রাক্বী ও রাক্বীদের প্রকাশনা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি অলরেডি কেউ গুরুতরভাবে কালো জাদুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, আমার সাজেশন হলো দ্রুত একজন বিশ্বস্ত রাক্বীর শরণাপন্ন হন। তবে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নিবেন। )
—