06/02/2024
সিনেমাহলে যাদের ছবি দেখে বড় হয়েছি তাদের মধ্যে মান্নাকে সবচেয়ে মিস করি। মান্নাকে মিস করার কারণ যে তার স্টারডম তাও নয় কারণটা হচ্ছে বর্তমান সময়ের সাথে মান্নার সময়ের যে বিশাল তফাত তার জন্য।
ভেঙেই বলি..
মান্না যে ধরনের ছবিতে দর্শকের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল সেইসব ছবি এখন একদমই হয় না। দু'একটা যাও বা হয় জমে না, হয় অভিনয় জমে না নতুবা পরিচালনা। কাজী হায়াতের সাথে মান্নার যে কোলাবোরেশন তার যে একটা প্রভাব পড়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে সেইসব ছবি প্রচণ্ডভাবে মিস করি। 'আম্মাজান, দেশদ্রোহী, ত্রাস, দাঙ্গা, যন্ত্রণা, লুটতরাজ, তেজী, ধর, মিনিস্টার' এসব ছবির পলেটিক্যাল বা সোশ্যাল যে মেসেজ দর্শক সানন্দে গ্রহণ করেছিল মান্নার দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে। সেই 'যন্ত্রণা' ছবি মুক্তির পর কাজী হায়াতকে যখন এক পরিচালক বলেছিলেন-'মান্না তো বেশ ম্যাচিউর অভিনয় করে, মান্নাকে দিয়ে এরকম ছবি আরো বানাও'। সেই উৎসাহ থেকেই পরবর্তী ছবিগুলো কাজী হায়াত করেন এবং ইতিহাস তৈরি হয় তাদের কোলাবোরেশনে। মান্নার অভিনয় এ ছবিগুলোতে যে নায়কোচিত ইমেজকে তুলে ধরে সেটা আনপ্যারালাল। দর্শক এ ধরনের ছবিতে প্রতিবাদী সেই ইমেজে মান্নার বিকল্পে মান্নাকেই চেয়েছে এবং এটাই তার লিগ্যাসি।
এখন আজকের ডিজিটাল সময়ে মান্নাকে আমি সবচেয়ে বেশি কেন মিস করছি!
উত্তরটাও সহজ, মান্না নেই এবং সেইসব ছবিও আজ আর নেই। সর্বাত্মকভাবেই রোমান্টিক ছবির আধিপত্যই এই সময়ে বেশি। দু'তিনটি অ্যাকশন ছবি যা হয় সেগুলো পলেটিক্যাল বা সোশ্যাল মেসেজ নিয়ে অতটা হয়ও না। তাছাড়া মান্নার সময়ের সেন্সর বোর্ড এবং এখনকার সময়ের সেন্সর বোর্ডেরও তফাত আছে। স্ট্রং কোনো মেসেজ থাকলে তা কেটে দেয়ার ঘটনাই বেশি ঘটে। যার জন্য ইচ্ছা থাকলেও সেসব ছবি আজকের পরিচালকরা বানাতে পারছেন না মনের মতো করে।
এই বাস্তবতায় একজন মান্না-র অভাব সবচেয়ে বেশি ফিল করি এবং সিনেমাহলের পর্দায় তাঁকেই সবচেয়ে মিস করি।
©রহমান মতি