09/06/2022
অদ্ভুত এক ঔষধের নাম কালো জাম !!!
কালো রঙের ছোট ফলটির সঙ্গে আমাদের সবারই পরিচয় রয়েছে। জাম বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ব্ল্যাক প্লাম, জাম্বুল, জাম্বোলান‚ জাম্বাস মালাবার, প্লাম কালা জামুন, নাভাল জামালি‚ জাভা প্লাম ইত্যাদি নামে এটি পরিচিত। এই ফল জুন আর জুলাই মাসে পাওয়া যায়।
অন্য সব মৌসুমি ফলের তুলনায় জামের স্থায়ীত্বকাল খুব কম। গ্রীষ্মকালীন ফলটি স্বাদে টক-মিষ্টি তবে এর পুষ্টিগুণ অনেক। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয় জাম। চুল ওঠার সমস্যা, পেটের সমস্যা বয়স্কদের মধ্যে কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথার সমস্যা বেশি থাকে। তাই এসব সমস্যার সমাধানের জন্য অদ্ভুত এক ওষুধের নাম হলো কালো জাম। এই ফলটির মধ্যে রয়েছে বহু পুষ্টিকর উপাদান। জাম সাধারণত তাজা ফল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এ থেকে রস, স্কোয়াশ ও অন্যান্য সংরক্ষিত খাদ্য তৈরি করা যায়। রক্ত পরিস্কার, দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে কাল জাম অতুলনীয়।
'ঝড়ের দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের শাখায় উঠি
রঙিন করি মুখ'
উপকারিতাঃ-
১. রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। জামে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। আর আয়রন থাকার ফলে রক্তে হেমোগ্লোবিন বেড়ে যায় ফলে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। যারা রক্তল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য জাম খুবই ভালো।
২. চোখ ও ত্বকের জন্য ভালো। এতে ভিটামিন ‘এ’ আর ‘সি’ আছে। এছাড়াও এতে থাকে বিভিন্ন মিনারেল যা আমাদের চোখ এবং ত্বকের জন্য খুব উপকারী।
৩. হজমে সাহায্য করে। জাম খেলে পেট ঠান্ডা হয় ফলে দ্রুত হজম হয়। তাই যাদের অম্বলের সমস্যা আছে তারা বেশি করে জাম খেলে উপকার পাবেন।
৪. ত্বক ফ্রেশ রাখে। অ্যাসট্রিনজেন্ট প্রপার্টি থাকার ফলে জাম ত্বক অয়েল ফ্রি রাখে। এছাড়াও অ্যাকনে আর কালো ছোপ দূর হয়।
৫. ইনফেকশনের হাত থেকেও রক্ষা করে। জামে উপস্থিত অক্সিলিক অ্যাসিড‚ গ্যালিক অ্যাসিড‚ ম্যালিক অ্যাসিড‚ ট্যানিন‚ বেটুলিক অ্যাসিড ইনফেকশন দূরে রাখে। এছাড়াও জাম অ্যান্টি ম্যালেরিয়াল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়ালও।
৬. দাঁত এবং মাড়ি সুস্থ রাখে। এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি আছে‚ এর সাহায্যে দাঁত এবং মাড়ি ভালো থাকে। এছাড়াও মুখের দুর্গন্ধ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।
৭. সিজনল ডিজিজ থেকে রক্ষা করে। জামে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি থাকে ফলে শরীর ইমিউনিটি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরকে কমন সিজানাল ডিজিজ এর হাত থেকে রক্ষা করে।
৮. হার্ট ভালো রাখে। জামের মধ্যে উপস্থিত পটাসিয়াম হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্ত চাপ কমায় ফলে কার্ডিও ভাসকুলার ডিজিজ দূরে রাখে।
৯. রক্তে চিনির মাত্র নিয়ন্ত্রণ করে। যাদের ডায়বেটিস হয়েছে তাদের জন্য জাম খুব ভালো। এতে অ্যান্টি ডায়েবেটিক প্রপার্টি আছে যা রক্তে চিনির মাত্রা কমায়। এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ার ফলে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া বা বারবার মূত্রত্যাগ যা ডায়বেটিসের লক্ষণ এগুলো ও নিয়ন্ত্রণে রাখে। শুধু ফল নয়‚ এই গাছের পাতা‚ ডাল‚ ফলের বিচি সব কিছু দিয়েই ডায়েবেটিসের ট্রিটমেন্ট করা হয়।
১০.জাম ফলটি ক্যালসিয়াম, লোহা, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পুষ্টি রয়েছে যা সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। জামে থাকা প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও লৌহ হাড়ের শক্তি বৃদ্ধির জন্য চমৎকারভাবে কাজ করে। তাই হাড় ক্ষয়ে যাওয়া রোগীদের এবং বয়স্ক মানুষদের খাবার তালিকায় এই সুস্বাদু ফলটি রাখা উচিত।
পাকা জাম এমনিতেই খাওয়া যায় তবে সুস্বাদু ভর্তা বানিয়েও খাওয়া যায়।
জাম পরিস্কার করে ধুয়ে লবণ, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ কিংবা গুঁড়ামরিচ এসব উপকরণ একসঙ্গে ঢাকনিসহ কৌটায় নিয়ে ভালো করে ঝাঁকালেই হয়ে যাবে জামের ভর্তা।
সতর্কতাঃ আধাপাকা (ডাঁসা) জাম খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে জাম খাবেন না এবং জাম খাওয়া পর দুধ ও আঁচার খাওয়া যাবেনা।
( সূত্র-পুষ্টিবিজ্ঞান ওয়েবসাইট )