11/06/2026
কুরআনের ৬টা "শিফা" আয়াত — অসুস্থতায় যা পড়ে পানিতে ফুঁ দিতেন বুজুর্গরা
রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যান। ওষুধ খান। চিকিৎসা নেন। এটা সুন্নাত। নবীজি ﷺ নিজে বলেছেন — "হে আল্লাহর বান্দারা, চিকিৎসা করো।" (তিরমিযী: ২০৩৮)
কিন্তু একটা প্রশ্ন — ওষুধ কি নিজে সুস্থ করে?
না। ওষুধ মাধ্যম। সুস্থ করেন আল্লাহ। ডাক্তার উপায়। শিফা দেন আল্লাহ।
আর সেই আল্লাহ নিজেই বলেছেন — কুরআনে শিফা আছে।
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ওয়া নুনাযযিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউওঁ ওয়া রাহমাতুল লিলমুমিনীন
"আমি কুরআনে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।"
(সূরা ইসরা: ৮২)
"শিফাউওঁ ওয়া রাহমাহ" — শিফাও, রহমতও। শুধু রোগ সারায় না — রহমতও নিয়ে আসে।
পূর্ববর্তী আলেমগণ কুরআনের ৬টা আয়াত চিহ্নিত করেছেন যেগুলোতে "শিফা" শব্দটা সরাসরি আছে। এই ৬টা আয়াতকে তাঁরা "আয়াতে শিফা" বলতেন। অসুস্থতায় পড়তেন। পানিতে ফুঁ দিতেন। আল্লাহর কাছে শিফা চাইতেন। (তাফসীরে রুহুল মাআনি, ইমাম আলুসি)
আজকের পোস্টে সেই ৬টা আয়াত — ৬টা শিফার ঢাল।
আয়াত ১: সূরা তাওবা — অন্তরের রোগের শিফা
শরীরের রোগ দেখা যায়। কিন্তু অন্তরের রোগ? সন্দেহ, হিংসা, কপটতা, দুনিয়ার মোহ — এগুলো ভেতরে ভেতরে খেয়ে ফেলে।
وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াশফি সুদুরা কাওমিম মুমিনীন
"আর তিনি মুমিন সম্প্রদায়ের অন্তরসমূহকে শিফা দেবেন।"
(সূরা তাওবা: ১৪)
"সুদুর" — বুকের ভেতরটা। অন্তর। মন। আল্লাহ বলছেন — মুমিনদের বুকের ভেতরটাও তিনি সারিয়ে দেন।
কখন পড়বেন? যখন মনে অশান্তি। যখন হিংসা, রাগ, ঘৃণা কাটছে না। যখন মনের ভেতরটা ভারী লাগে কিন্তু কারণ বোঝা যায় না।
আয়াত ২: সূরা ইউনুস — বুকের ভেতরের রোগের উপদেশ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহান নাসু কাদ জাআতকুম মাওইযাতুম মির রাব্বিকুম ওয়া শিফাউল লিমা ফিস সুদুরি ওয়া হুদাওঁ ওয়া রাহমাতুল লিলমুমিনীন
"হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে, আর যা বুকের মধ্যে আছে তার শিফা, আর হেদায়াত ও রহমত মুমিনদের জন্য।"
(সূরা ইউনুস: ৫৭)
চারটা জিনিস একসাথে — উপদেশ, শিফা, হেদায়াত, রহমত। এই একটা আয়াতে আল্লাহ চারটা উপহার দিয়েছেন।
কখন পড়বেন? যখন ঈমানে দুর্বলতা লাগে। যখন দ্বীন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। যখন মনের ভেতর শূন্যতা।
আয়াত ৩: সূরা নাহল — মধুর শিফা, কুরআনের শিফা
يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ
উচ্চারণ: ইয়াখরুজু মিম বুতুনিহা শারাবুম মুখতালিফুন আলওয়ানুহু ফীহি শিফাউল লিন্নাস
"তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় বের হয়, যাতে মানুষের জন্য শিফা রয়েছে।"
(সূরা নাহল: ৬৯)
এই আয়াত মধু সম্পর্কে। আল্লাহ মৌমাছির পেট থেকে এমন জিনিস বের করেছেন যেটা শিফা। কিন্তু আলেমগণ বলেন — এই আয়াত নিজেও শিফা। কারণ এতে "শিফা" শব্দ আছে, আর কুরআনের প্রতিটা শব্দই বরকতময়।
কখন পড়বেন? শারীরিক রোগে। বিশেষ করে পেটের সমস্যা, সংক্রমণ, দুর্বলতায়। আয়াতটা পড়ে পানিতে ফুঁ দিন, আর মধু মিশিয়ে খান — দুটো শিফা একসাথে।
আয়াত ৪: সূরা ইসরা — কুরআন নিজেই শিফা
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ওয়া নুনাযযিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউওঁ ওয়া রাহমাতুল লিলমুমিনীন
"আমি কুরআনে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।"
(সূরা ইসরা: ৮২)
এই আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন — কুরআন শিফা। পুরো কুরআন। প্রতিটা সূরা। প্রতিটা আয়াত।
কিন্তু লক্ষ্য করুন — "লিলমুমিনীন" — মুমিনদের জন্য। শিফা পেতে ঈমান লাগে। বিশ্বাস লাগে — আল্লাহ সুস্থ করবেন। যে বিশ্বাস করে না, তার জন্য একই কুরআন — কিন্তু শিফা আসে না।
কখন পড়বেন? যেকোনো অসুস্থতায়। শারীরিক হোক বা মানসিক। এটা সবচেয়ে ব্যাপক শিফার আয়াত।
আয়াত ৫: সূরা শুআরা — ইবরাহীম (আ.)-র ঘোষণা
ইবরাহীম (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন — তোমরা যাদের পূজা করো, তারা আমার কিছুই করতে পারে না। আমার রবই আমাকে সবকিছু দেন।
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
উচ্চারণ: ওয়া ইযা মারিদতু ফাহুয়া ইয়াশফীন
"আর যখন আমি অসুস্থ হই, তিনিই আমাকে সুস্থ করেন।"
(সূরা শুআরা: ৮০)
খেয়াল করুন — ইবরাহীম (আ.) বলেছেন "যখন আমি অসুস্থ হই" — রোগটা নিজের দিকে নিয়েছেন। কিন্তু "তিনি সুস্থ করেন" — শিফাটা আল্লাহর দিকে দিয়েছেন। আদবের শিক্ষা। রোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা, কিন্তু একজন নবী আদবের কারণে সেটা নিজের দিকে নিলেন।
কখন পড়বেন? যখন রোগ দীর্ঘ হচ্ছে। যখন ওষুধে কাজ হচ্ছে না। যখন মনে হচ্ছে — আর কোনো আশা নেই। তখন ইবরাহীম (আ.)-র এই কথাটা বলুন — "ফাহুয়া ইয়াশফীন" — তিনিই সুস্থ করবেন।
আয়াত ৬: সূরা ফুসসিলাত — কুরআন বিশ্বাসীদের জন্য শিফা ও হেদায়াত
قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ
উচ্চারণ: কুল হুয়া লিল্লাযীনা আমানু হুদাওঁ ওয়া শিফা
"বলুন, এটা যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য হেদায়াত ও শিফা।"
(সূরা ফুসসিলাত: ৪৪)
আবারও — হেদায়াত আর শিফা একসাথে। আল্লাহ বারবার দুটো একসাথে বলছেন। কারণ রোগ শুধু শরীরের না — অন্তরেরও। কুরআন দুটোই সারায়।
কিন্তু একটা শর্ত — "লিল্লাযীনা আমানু" — যারা ঈমান এনেছে। ঈমান ছাড়া এই শিফা কাজ করে না। আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া এই আয়াত পড়লে শব্দ পড়া হবে, শিফা আসবে না।
কখন পড়বেন? যেকোনো রোগে। বিশেষ করে যখন ঈমানের সাথে শিফা চান — মানে বিশ্বাস করেন আল্লাহই সুস্থ করবেন।
৬টা আয়াতে শিফা — এক নজরে
সূরা তাওবা (১৪) — অন্তরের রোগের শিফা।
সূরা ইউনুস (৫৭) — বুকের ভেতরের শিফা, হেদায়াত ও রহমত।
সূরা নাহল (৬৯) — মানুষের জন্য শিফা।
সূরা ইসরা (৮২) — কুরআন নিজেই শিফা ও রহমত।
সূরা শুআরা (৮০) — "তিনিই সুস্থ করেন।"
সূরা ফুসসিলাত (৪৪) — ঈমানদারদের জন্য হেদায়াত ও শিফা।
৬টা আয়াত। ৬ বার "শিফা" শব্দ। আল্লাহ নিজে ৬ বার বলেছেন — কুরআনে শিফা আছে।
আর একটা কথা — এই ৬টা আয়াত শুধু পড়লেই শেষ না। কীভাবে আমল করবেন, কখন পড়বেন, কতবার পড়বেন, পানিতে ফুঁ দেওয়ার নিয়ম কী, ঝাড়ফুঁকের সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি কী — এসব গুছিয়ে জানতে চাইলে "আয়াতে শিফা" বইটি আপনার উপকারে আসতে পারে। সেখানে শুধু এই ৬ আয়াত না, শরীরের রোগ, মনের রোগ, নজর, জাদু — প্রতিটা সমস্যার কুরআনি সমাধান গুছিয়ে সাজানো আছে।
—সংগ্রহ করতে WhatsApp করুন 01984-563362 নম্বরে, লিখুন "শিফার বই চাই"
আর যারা শুধু শিফা না, বরং সূরা, দোয়া, রিজিক, সন্তান, আল্লাহর নাম — সবকিছু একসাথে গুছিয়ে রাখতে চান, তাদের জন্য আমরা সাজিয়েছি "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো" — ৬টি বই একসাথে, পুরো পরিবারের আমল-লাইফের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।
✔️ কুরআনের সূরার আমল ও ফজিলত
✔️ রিজিকে বরকতের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ কুরআনের বরকতময় দোয়া
✔️ সন্তান যেন নেক ও সালেহ হয়
✔️ আল্লাহর ৯৯ নামের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ আয়াতে শিফা: রোগ ও চিকিৎসার আমল
সংগ্রহ করতে—
📩 Inbox বা WhatsApp: 01984563362
📝 মেসেজ দিন: "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো চাই"
অথবা বইগুলোর রিভিউ ও বিস্তারিত পড়ে অর্ডার করতে চাইলে
🔗 কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন।
মনে রাখবেন!
ওষুধ খাবেন — এটা সুন্নাত। ডাক্তার দেখাবেন — এটাও সুন্নাত। কিন্তু শিফা চাইবেন আল্লাহর কাছে — এটা ঈমান।
আল্লাহ ৬ বার বলেছেন — কুরআনে শিফা আছে। ৬ বার। আর আমরা অসুস্থ হলে কুরআন খুলি কতবার?
ওষুধের সাথে এই ৬টা আয়াত যোগ করুন। ডাক্তারের চিকিৎসার সাথে আল্লাহর শিফা যোগ করুন। দুটো একসাথে — মাধ্যমও নিলেন, মালিকের কাছেও চাইলেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সব রোগ থেকে শিফা দিন। শরীরের রোগও, মনের রোগও। আমাদের এই আয়াতগুলো পড়ার তাওফিক দিন। আমাদের ঈমানকে মজবুত রাখুন। আমিন।
আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ কি এখন অসুস্থ? আজ রাতে এই ৬টা আয়াত পড়ে পানিতে ফুঁ দিন আর আল্লাহর কাছে শিফা চান।
কমেন্টে লিখুন — "আল্লাহুম্মা ইশফি" — হে আল্লাহ, সুস্থ করুন।
রেফারেন্স:
— সূরা তাওবা: ১৪
— সূরা ইউনুস: ৫৭
— সূরা নাহল: ৬৯
— সূরা ইসরা: ৮২
— সূরা শুআরা: ৮০
— সূরা ফুসসিলাত: ৪৪
— তিরমিযী: ২০৩৮
— তাফসীরে রুহুল মাআনি, ইমাম আলুসি
/EKRAMHOSSAIN