Be the first to know and let us send you an email when Red Dragon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
আমাদের পরিচিতি: আমরা একটি ড্রাগন ফলের খামার যার উদ্দশ্য হচ্ছে পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু ফল হিসেবে ড্রাগন ফলের বাজারজাত করা । আমরা Cuttings, গাছ এবং ড্রাগন ফল বিক্রি করি। আমাদের গ্রাহকদের শুধুমাত্র ভাল মানের পণ্য না কিন্তু ছোট আকার ড্রাগন ফলের চাষের জন্য সঠিক তথ্য পাবেন।
ড্রাগন ফলের আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রচুর আছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা ড্রাগন ফল দ্বারা প্রচুর পরিমাণে উপকৃত হতে পারে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া ড্রাগন গাছের জন্য খুবই উপযোগী। ঢাকার মতো মেট্রোপলিটন শহরগুলিতে প্রচুর ছাদ এলাকা রয়েছে যা কখনও ব্যবহার করা হয় না। তাই আমরা আমাদের ছাদে ড্রাগন গাছ লাগালে আমরা তা থেকে ফল পাবার সাথে সাথে আমাদের বাড়ির তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে পারি।
আমাদের দেশে ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাহিদা আছে। সুপারমার্কেট প্রতি কেজি 600 টাকা বিক্রি করে। এটা বোঝা যায় যে ড্রাগন ফল শীঘ্রই আগ্রহী গার্ডেনারদের জন্য একটি ছোট আয়ের উৎস হতে পারে।
আমরা আমাদের বন্ধুদের বিভিন্ন ড্রাগন ফল সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য অনুরোধ জানাই। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
ড্রাগন ফল সম্পর্কে বিস্তারিত (সংগৃহীত)
ড্রাগন ফলের ইতিহাস: ড্রাগন ফল একধরনের ক্যাকটাস গাছের ফল। এ ফলের অন্য নাম পিটাইয়া। ড্রাগন ফলের জন্ম মধ্য আমেরিকায়। দক্ষিণ এশিয়ার মালয়েশিয়ায় ফলটি প্রবর্তিত হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে। বর্তমানে ভিয়েতনামে ফলটি বেশি চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনাম ছাড়াও তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়াতেও চাষ হচ্ছে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ড্রাগন ফলের গাছ নিয়ে আসা হয়। যারা মিষ্টি এবং নরম ফল খেতে পসন্দ করেন তারা ড্রাগন ফলের প্রেমে পরে যান।
গাছের বর্ণনা : ড্রাগন ফলের গাছ এক রকমের ক্যাকটাস। গাছ লতানো। গাছে কোনো পাতা নেই। গাছ ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার লম্বা হয়। সবুজ রঙের এই গাছে খুব সুন্দর সাদা ও সবুজাভ সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফুল দেখতে অনেকটা ‘নাইট কুইন’-এর মতো। ফুল সুগìধযুক্ত ও স্বপরাগায়িত। ফুল বেশ বড়। ফুল রাতে ফুটতে দেখা যায়। ফুল থেকে ডিম্বাকার ফল গঠিত হয়। ফলের খোসা নরম। একটি ফলের ওজন ১৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম। কখনো কখনো ফলের ওজন এক কেজি পর্যন্ত হয়। পাকা ফলের শাঁস বেশ নরম, কালোজিরার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো রঙের অসংখ্য বীজযুক্ত, হালকা মিষ্টি, ক্যালরি খুব কম।
পুষ্টিমূল্য : ড্রাগন ফলের ১০০ গ্রামের মধ্যে ৫৫ গ্রাম থাকে ভক্ষণযোগ্য। প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে থাকে পানি ৮০ থেকে ৯০ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৯ থেকে ১৪ গ্রাম, প্রোটিন ০.১৫ থেকে ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ থেকে ০.৬ গ্রাম, আঁশ ০.৩ থেকে ০.৯ গ্রাম, অ্যাশ ০.৪ থেকে ০.৭ গ্রাম ও ক্যালরি ৩৫ থেকে ৫০। এ ছাড়া খনিজ ও ভিটামিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যালসিয়াম ৬-১০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৩-০.৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৬-৩৬ মিলিগ্রাম, নায়াসিন ০.২-০.৪৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪-২৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ও রিবোফ্লাভিন থাকে খুব অল্প। লাল শাঁসের ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি থাকে বেশি। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাতের পরিবর্তে এ ফল উত্তম। তাইওয়ানের ডাক্তাররা ডায়াবেটিক রোগীদের ভাতের বদলে এ ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এমনকি এ ফল রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ফলের শাঁস পিচ্ছিল হওয়ায় তা কেষ্ঠ্যকাঠিন্যও দূর করে। শরীরের ওজন কমানোর জন্য অল্প ক্যালোরির ফল হিসেবে ড্রাগন ফল খুবই কার্যকর। আমরা আমাদের স্বাস্থ এবং স্বাদ এর কথা বিবেচনা করে অবশই ড্রাগন ফল খেয়ে দেখতে পারি ।
ফলের ব্যবহার : ফ্রিজ এ রেখে ঠাণ্ডা করে খেলে এই ফল বেশি ভালো লাগে। জুস করেও অনেকে খেতে পসন্দ করেন । এর ফুলও খাওয়া হয়। খাওয়ার জন্য ফলকে চাকু দিয়ে লম্বালম্বিভাবে দুই ফালি করে ফেলা হয়। তারপর চামচ দিয়ে কুরে কুরে নরম শাঁস তুলে খাওয়া যায়। এ ছাড়া খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে কাঁটাচামচ দিয়ে খাওয়া যায়। বীজসহ শাঁস খাওয়া হয়। পরিমাণে খুব বেশি খেলে কারো কারো হজমে সমস্যা হতে পারে ।
জাত : ড্রাগন ফল সাধারণত তিন প্রকারের দেখা যায় । ১)সাদা ড্রাগন: লাল চামড়া, সাদা মাংস এবং কালো বীজ, ২)লাল ড্রাগন: লাল চামড়া, লাল মাংস এবং কালো বীজ ৩)হলুদ ড্রাগন: হলুদ ত্বক, সাদা মাংস এবং কালো বীজ ।
জলবায়ু ও মাটি : ড্রাগন ফলের জন্য শুষ্ক জলবায়ু দরকার। মাঝারি বৃষ্টিপাত ভালো। তবে অধিক বৃষ্টি হলে ফুল ঝরে যায় ও ফলে পচন দেখা যায়। পানি জমে না এমন উঁচু যেকোনো মাটিতে ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। রোদ, খোলামেলা জায়গা ও প্রচুর জৈবসারে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।
চারা তৈরি : ড্রাগন ফলের চারা তৈরি খুব সহজ। বীজ দিয়ে চারা তৈরি করা যায়। তবে সেসব চারায় ফল ধরতে অনেক সময় লেগে যায়। তাই কাটিং করে শাখা কলম করে চারা তৈরি করা উত্তম। বয়স্ক ও শক্ত শাখা এক থেকে দেড় ফুট লম্বা ও তেরছা করে কেটে বালি বা বেলে দো-আঁশ মাটিতে প্রায় 4 ইঞ্চি গভীরতা বসিয়ে দিলে ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা থেকে শিকড় গজায়। দুই মাসের মধ্যে আপনি উপরে নতুন বৃদ্ধি আসছে পাবেন। তবে কাটিং রাখার জায়গায় শেড বা ছায়ার ব্যবস্খা করতে হবে। মাটিতেও রস থাকতে হবে। কাটিং সাধারণত মরে না। কাটিংয়ের গাছে তাড়াতাড়ি ফল ধরে। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই ফল ধরতে শুরু করে। উদ্ভিদ বহন করতে সক্ষম একটি শক্তিশালী খুঁটি ব্যবহার করলে আরো ভালো হয়।
জমি তৈরি ও রোপণ : জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে সমান করে তিন মিটার পরপর সব দিকে সারি করে চারা লাগানো যেতে পারে। চারা রোপণের মাসখানেক আগে গর্ত তৈরি করে তা সারমাটি দিয়ে ভরে রেখে দিতে হবে। যদি কেউ রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে চায়, প্রতি গর্তে ৪০ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম করে টিএসপি ও এমওপি সার, ১০ গ্রাম করে জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট ও বোরাক্স সার দেয়া যেতে পারে। বছরের যেকোনো সময় চারা লাগানো যেতে পারে। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাগালে ভালো হয়। প্রতি গর্তে চার থেকে পাঁচটি চারা লাগাতে হবে। সিমেন্ট বা বাঁশের খুঁটির সাথে গাছ লতিয়ে দিতে হবে। পাটের তৈরি দড়ি ভাল হবে। ড্রাম এর মধ্যে তিনটি ড্রাগন ফল গাছ লাগানো সম্ভব। বড় পাত্রের মধ্যে আমরা 2 গাছ লাগাতে পারি এবং মধ্যম আকারের পাত্রের মধ্যে আমরা এক টি গাছ লাগাতে পারি ।ড্রামের নিচে পর্যাপ্ত গর্ত আছে যাতে আমাদের পানি ভিতরে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
ছাঁটাই : ড্রাগন ফলগাছ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে। একটি এক বছর বয়সী গাছ ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরি করতে পারে। চার বছর বয়সী গাছ ১৩০টি শাখা তৈরি করে। এ দেশে রোপণের ১২ থেকে ১৮ মাস পর ফল ধরতে শুরু করে। ফল তোলা শেষে প্রতিটি গাছের ৪০ থেকে ৫০টি শাখার প্রত্যেকটিতে ১ থেকে ২টি প্রশাখা রেখে বাকিগুলো ছেঁটে দিতে হবে। ছেঁটে দেয়ার পর ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যায়।
সেচ : ড্রাগন ফলের গাছে তেমন সেচ লাগে না। তবে শুষ্ক মৌসুমে মাটি শুকিয়ে গেলে অবশ্যই সেচ দিতে হবে। দুই সারির মাঝে পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অবশ্যই নালা রাখতে হবে। এসব নালার মুখ আটকে মাঝে মধ্যে পানি ভরে রেখে দিলে সেখান থেকে গাছের শিকড় পানি পায়। তবে লক্ষ রাখতে হবে, এ গাছ অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। তাই জমিতে যেন পানি জমে না থাকে।
ফলন : ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের একটি গাছে ৫ থেকে ২০টি ফল পাওয়া যায়। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক একটি গাছে ২৫ থেকে ১০০টি ফল পাওয়া যায়। প্রতি একর আপনি পাঁচ টন ড্রাগন ফল পেতে পারেন।
ফল সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা: পুরোপুরি পাকা ফল পেতে চাইলে যখন ফল পারবেন তখন লক্ষ রাখবেন উজজোল লাল রং যেন ফলের সর্বত্র সমান ভাবে থাকে। আপনি আপনার আঙুল দিয়ে ত্বককে ধীরে ধীরে চাপিয়ে একটি ভালো ড্রাগন ফল চিহ্নিত করতে পারেন। এটা একটু নরম হওয়া উচিত।পাকা ফলগুলি বাছাই করার পরে আপনি এক সপ্তাহের জন্য আপনার ঘরের একটি ঠান্ডা জায়গায় রাখতে পারেন। তারপরে আপনাকে অবশ্যই ফ্রীজারে ফল রাখতে হবে। ফল খাবার পূর্বে ফ্রীজে এ রাখলে ফলের মিষ্টি ভাব বেড়ে যায় । প্লাষ্টিক ব্যাগ এর মুখ বন্ধ করে ফ্রিজ এ সংরক্ষণ করে রাখলে এক সপ্তাহ সংরক্ষণ করা যায় . এভাবে মোট ২ সপ্তাহ ড্রাগন ফল সহজেই সংরক্ষণ করা যায়।
ড্রাগন ফল বিক্রি: ফল উত্পাদকরা তাদের ফল বড় বড় পাইকারী বিক্রেতাকে বিক্রি করতে পারে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ফল, আপনাকে আপনার আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশীদের ফলগুলি পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। মানুষ একবারের ফলের স্বাদ ও হেল্থ বেনিফিট বুঝতে পারলে, ফল কিনতে আগ্রহী হবে। শত ভাগ অর্গানিক ড্রাগন ফল উৎপাদনকারীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন । আমরা আপনাদের উৎপাদিত ফল নগদ মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করে দিবো।
দৈনিক পরিচর্যা: আমরা প্রতি একদিন অন্তর অন্তর আমাদের কাছের পরিচর্চা করে থাকি । এক জন লোক ঘন্টায় প্রায় তিনশো গাছের পরিচর্যা করতে পারেন । ড্রাগন চারাকে পোস্ট এর সাথে সঠিক ভাবে বেঁধে দেয়াটাই পরিচর্যার মূল কাজ । এছাড়া প্রায়জন মতো পানি, সার এবং অবাঞ্চিত ডাল সমূহ কেটে দেয়াও পরিচর্যার অংশ। ঝড় এর মৌসুমে গাছকে খুব ভালো ভাবে খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হয় ।
বালাই ব্যবস্খাপনা : নতুন আসা এ ফলের গাছে তেমন কোনো রোগ ও পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যয়নি। তবে কখনো কখনো শিকড় পচা, কাণ্ড ও গোড়া পচা রোগে গাছ আক্রান্ত হয়।
মূল পচা : গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমে গেলে মূল পচন দেখা দেয়। গাছকে টান দিলে মূল ছাড়া উঠে আসে। এজন্য উঁচু জমিতে চাষ করতে হবে। যেখানে গোড়ায় পানি জমে না।
কান্ড ও গোড়া পচা রোগ : ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয় এ রোগ হলে কা- প্রথমে হলুদ রঙ পরে কালো রঙ ধারণ করে। পরে ওই অংশে পচন শুরু এবং পচার পরিমাণ বাড়তে পারে। এ রোগ দমনের জন্য ছত্রাকনাশক যেমন- বেভিস্টিন, রিকোমিল, থিওভিট ইত্যাদির যে কোনো একটি ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
পোকা মাকড় : ড্রাগন ফলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খুব একটা চোখে না পড়লেও মাঝে মধ্যে এফিড ও মিলি বাগের আক্রমণ দেখা যায়। এরা গাছের কচি শাখা ও পাতার রস চুষে খায়, ফলে রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায় ও গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এ পোকা দেখা দিলে সুমিথিয়ন বা ডেসিস বা ম্যালাথিয়ন প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মি.লি. ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। গাছে অল্প সংখক পিঁপড়া খুব একটা ক্ষতি করেনএ কিন্তু পিঁপড়ার উপদ্রপ হলে ব্যবস্থা নিতে হয়।