14/06/2024
লক্ষ্য করুন, মনোযোগ দিন!
আল্লাহ ব্যবসাকে করেছেন হালাল, আর সুদকে করেছেন হারাম। সুদের বিরুদ্ধে সয়ং আল্লাহ যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। অতএব সুদ ধ্বংশ হবেই। যারা সুদ খায়, সুদ দেয়, সুদের হিসাব লিখে এবং সুদের সাক্ষ্য দেয়- হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের ওপর লানত (অভিশাপ) করেছেন এবং তারা অপরাধের ক্ষেত্রে সবাই সমান। সুদ সর্ব নিকৃষ্ট পাপ, যার তুলনা নিজের আপন মায়ের সাথে জেনা করার সমান।
প্রশ্ন আসে, হঠাৎ উপরে এত বয়ান কেন দিলাম? ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় দীর্ঘ লট ডাউনের পর পর। আমার পূর্ব পরিচিত এক ভাই হঠাৎ ফোন করলেন। খুব আকুতি করে বললেন, উনাকে যেভাবেই হোক দশটি হাজার টাকা যেন ধার দেই। উনি ছাগল বিক্রি করে টাকাটা পরিশোধ করবেন। আমি জিগেস করলাম, আমার হঠাৎ এত টাকা কেন দরকার আর কি এমন জরুরী যে এত আকুতি অনুনয়? উনি বললেন, মাইক্রো ফিনান্স এনজিওর কিস্তি দিতে হবে।
আহ, সুদ! এই সুদ আর কিস্তির কারণে কত পরিবারের শান্তি যে বিনষ্ট! ২০০০০ টাকার লোন উনাকে পরিশোধ করতে হবে প্রতি সপ্তাহে ৩৮৫৫ টাকা! সাত সপ্তাহে টাকাটা পরিশোধ করলে, আবার ৫০০০০ টাকার ঋন পাবেন, সাথে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা করে সঞ্চয় রাখতে হবে বাধ্যতামূলক। হিসেব করে দেখলাম, প্রায় ৭০০০ টাকা পরিশোধ করতে হয় “সুদ।” ভাবাযায়? চড়া সুদ.... নিঃস্ব করেছ.. প্রান্তিক জনগোষ্টির সহজ সরল মানুষদের।
আমি কিছুক্ষন ভাবলাম, তারপর উনাকে বললাম.. ছাগল কততে বিক্রি করা যাবে? ওজন কতটুকু হবে? উনি জানালেন.. এগার কেজির কিছু বেশি, আর ছয় সাত হাজার বিক্রি করা যাবে। উনি দুটা ছাগল বিক্রি করবেন, কিন্তু হাটতো বুধবার.... রবিবার সমিতি/এনজিওর কিস্তি যেভাবেই হোক দিতেই হবে। গত সপ্তাহের কিস্তি না দিতে পারায়, এনজিও কর্মি দৈনিক দুই বার তিনবার আসতেছে।
আমি বল্লাম, ছাগল বিক্রির দরকার নাই। আর এনজিওর মোট কতটাকা? উনি ইতিমধ্যে দুই কিস্তি দিয়েছেন, এই দুই কিস্তি দিলে চার কিস্তি দেয়া হবে আর তিন কিস্তি দিলে পরিশোধ। আমি উনাকে প্রস্তাব দিলাম, সব টাকা আমি এখনই পরিশোধ করে দিব আর ছাগল বিক্রির দরকার নাই। ছাগল পালতে হবে, বড় করতে হবে। তবে বড় হলে, বিক্রির লাভের অংশ উনি আমি দুজনে ৫০/৫০। উনি রাজি হলেন। কিন্তু আমার কাছেও তেমন টাকা নাই। দারস্ত হলাম বন্ধু শুভনধ্যায়ী Khairul Bappy র কাছে। ওর কাছ থেকে আট হাজার টাকা ধার নিলাম। অনাদিকাল পর্যন্ত বকেয়া মানে বাপ্পি পাওনা থাকবে, আমার মন চাইলে দিমু, মন না চাইলে দিমু না। 😉 বাকিটা আমি দিলাম। শুরু হলো গৃহস্থবাড়ি.কম এর পথচলা। তারপর, এইভাবে উনার মাধ্যমে ছাগল গরু ভেড়া.. গৃহস্থবাড়িতে রেখেই পালিত হতে থাকলো গত দুই তিন বছর। গতবছর ৪৩ টি ছাগল বিক্রি করে ৬৩ হাজার টাকা লাভ হলো। আমি ঐ টাকা মাত্র ২০% রেখে বাকিটুকু ছাগল পালককে দিয়েছি। যদিও আমার রেসিও ছিল ৫০%। সংগত প্রশ্ন কেন আমি কম নিলাম, প্রথমত আমি অল্পতে তুষ্ট এবং আমার লড়াইটা সুদের বিরুদ্ধে। এ বছর কোরবানি উপলক্ষে ছাগল ভেড়ার পাশাপাশি গরুও এনেছি.. প্রাথমিক অবস্থায়... কিছু গরু হাটে না নিয়ে অল্প লাভে বিক্রি করি। এতে অতিরিক্ত হাশিলটা দিতে হয়নি। যেহেতু গৃহস্থবাড়িতে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিপালিত গরুগুলি বেশি বড় হয়নি.. এম্নিতেও দেশী গুরূ বেশি বড়ও হয় না।
এইবার আসি মূল কথায়, ৯৮ সর্বাগ্রে এবং আমার এই প্রয়াশটি কিছুটা লাভজনক কিন্তু সমাজসেবা টাইপ! তাই খুব কম দামে শুধুমাত্র খরচের হিসেব করে প্রান্তিক জনগোষ্টিকে কিছু লাভ দিতে পারলে তারা অনুপ্রাণিত হবে, এবং পুনরায় সুদের মতো জঘন্য পাপের সাথে নিজেদের সমপৃক্ত করবে না।
আমার সংগ্রহে ১৯ টি ছোট-মাঝারি যার মূল্য ৯৮০০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার পর্যন্ত। আমার টার্গেট, লাভের দরকার নাই। প্রান্তিক জনগোষ্টি যেন কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে আসার কথা হলো ইতিমধ্যেই প্রথম দুই স্লটে আমরা লাভের মুখ দেখেছি! এখন যেগুলি আছে সেইগুলি শুধু মাত্র ন্যায্য খরচটা উঠিয়ে আনা আমার মূল লক্ষ্য। এমতবস্থায় তোমাদের কাছে অনুরোধ থাকলো, যারা ছোট-মাঝারি এবং অল্প বাজেটে দেড় মন থেকে ৪ মন ২৬ কেজি (মূল মাপের সাইনটিফিক ক্যালকুলেশন এর ৬০%) সলিড গোস্ত পাওয়া যাবে। (যদিও কোরবানীর পশু কেউ গোস্তের হিসেবে কিনে না। আনুমানিক ধারনা দেয়ার জন্য বলা আরকি 😉
তোমরা যারা যাদের বাজেট কম কিংবা কমদামে ভাল জিনিস নিতে চাও.. আমার গৃহস্থবাড়ির স্টলে ঘুরে দেখার অনুরোধ রইলো।
ইতিমধ্যে, বন্ধুরাসহ ও আরো অনেকেই আমার কাছ থেকে কোরবানীর পশু সংগ্রহ করেছে।
আগামীকালকের বিশেষ অফার খরচের মূল্য একটু বেশি হলেও আমি ৯৮০০০ টাকায় আরেকটি গরু রেখেছি! আগে আসলে আগে পাবা ভিত্তিতে ৯৮ কোন এক ব্যাচমেট বন্ধুকেই দেয়া হবে।
আগামীকাল দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল পাচটা পর্যন্ত এবং রাত নটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত আমি হাটেই থাকবো। ঠিকানা: উত্তরা-১৮, দিয়াবাড়ী বউবাজার, হাসিল কাউন্টার নাম্বার ০৬!
মোবাইল: 01612477441, 01912-477441