Broken Heart

Broken Heart I m depressed & want to be alone with my sorrows...r u depressed like me...?

23/05/2026

পড়াশোনায় ক্ষতি হবে বলে প্রেম করি নাই জীবনে....
এখন আম নাই সালাও নাই....

 #ঘুমপাড়ানি_মা পর্ব ০৮ (শেষ পর্ব)The Story Havenসেই পুরনো সিন্দুকটা খোলার সময় একটা ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হলো, যেন বহু বছরের ...
23/05/2026

#ঘুমপাড়ানি_মা
পর্ব ০৮ (শেষ পর্ব)
The Story Haven

সেই পুরনো সিন্দুকটা খোলার সময় একটা ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হলো, যেন বহু বছরের চাপা পড়া কোনো দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। আরিশের হাত কাঁপছিল। ভেতরে রাখা এক স্তূপ পুরনো কাপড় আর কাগজের মাঝখানে পড়ে ছিল একটা বাঁধানো ফ্রেম।
আরিশ ধীর হাতে ফ্রেমটা ওপরে তুলল। ধুলোর আস্তরণ মুছতেই বেরিয়ে এলো একটি ছবি—একজোড়া তরুণ দম্পতি। শাড়ি পরা হাস্যোজ্জ্বল এক নারী, যার চোখের চাউনি ঠিক মরিয়ম বিবির মতো; আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষটির চেহারা হুবহু আরিশের প্রতিচ্ছবি। ছবির নিচে ছোট করে লেখা ‘মরিয়ম ও সালেহ—১৯ জুন ২০০৮’।
সিন্দুকের নিচে আরও পাওয়া গেল মরিয়ম বিবির কিছু ডায়েরি এবং স্কুলের সেই শিক্ষিকার পরিচয়পত্র। আরিশ বড় বড় চোখে তার মা-বাবার অস্তিত্বের প্রমাণগুলো দেখছিল। এই সেই মা, যে আমাকে ফুটপাতে আগলে রেখে ছিলো। এই সেই বাবা, যার র**ক্তের উত্তরাধিকার আরিশের ধমনিতে বইছে।

আরিশ হঠাৎ শান্ত হয়ে গেল। সে সিন্দুক থেকে শুধু তার বাবা-মায়ের সেই বিয়ের ছবিটা বের করে নিল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে খুব ঠান্ডা গলায় বলল, “বাবা, একটা দেশলাই হবে?”

আমি অবাক হয়ে দেশলাইটা এগিয়ে দিলাম। আরিশ সিন্দুকের বাকি সব কাগজ, কাপড় আর ডায়েরিগুলো উঠোনের মাঝখানে জড়ো করল। তারপর আগুন জ্বালিয়ে দিল। মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল মরিয়মের ফেলে আসা সংসারের শেষ স্মৃতিটুকু।
নীলা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল। আগুনের আলোয় আরিশের মুখটা তখন এক অন্যরকম দ্যুতি ছড়াচ্ছিল। সে বিড়বিড় করে বলল, “স্মৃতি পুড়ুক, কিন্তু পরিচয় যেন বেঁচে থাকে। আকাশকে আমি এই ছাইয়ের সাথেই বিসর্জন দিয়ে দিলাম।” আমি আরিশ আমি আরিশ-ই থাকবো।

আগুন নেভার পর আরিশ সেই ছবিটা বুকে চেপে নীলার দিকে তাকাল। নীলা তখন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ঠায় কাঁদছে। আরিশের সেই স্থির চাউনি দেখে নীলা ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। সে হয়তো ভাবছিল আরিশ এখনই তাকে ছেড়ে এই গ্রামে চিরতরে থেকে যাবে।
কিন্তু আরিশ সবাইকে অবাক করে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে নীলাকে জড়িয়ে ধরল। সে নীলার কাঁধে মাথা রেখে শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে উঠল।
“মা! আমাকে মাফ করে দাও মা! আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। সত্যটা জানার পর আমি পাগ*ল হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু মা, আমি তো তোমার কোলেই বড় হয়েছি। ওই পাগ*লি মা আমাকে জন্ম দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তুমি আমাকে প্রতিদিন তিলে তিলে পুনর্জন্ম দিয়েছ। আমাকে ছেড়ে দিও না মা, আমি তোমার আরিশ হয়েই থাকতে চাই!”

নীলা আরিশকে দুহাতে জাপটে ধরল। মা-ছেলের সেই বুক ফাটা কান্নায় সেই ছোট্ট গ্রামের আকাশ-বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠল। নীলা আরিশের কপালে চুমু খেয়ে বলল, “আমি তোকে কোথাও যেতে দেব না বাবা। আমি জানতাম তুই আমার কাছেই ফিরবি। তুই ছাড়া যে আমার আর কেউ নেই!”

আমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। এক মা আরিশকে বাঁচাতে গিয়ে হারিয়ে গেছেন, আরেক মা আরিশকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়েছেন।

আজ মরিয়ম বিবির আ*ত্মা হয়তো ওপর থেকে শান্তিতে হাসছে। কারণ তার ‘বাজান’ এখন আর কোনো চো*র বা অপরা*ধীর আশ্রয়ে নেই, সে আছে এমন এক মায়ের আঁচলে যে তাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।

আমরা গ্রাম থেকে ফিরে আসলাম। আরিশ এখন আর সেই মাটির খেলনা বা পুরনো স্মৃতি নিয়ে বসে থাকে না। তার পড়ার টেবিলে এখন তার আসল বাবা-মায়ের ছবিটা শোভা পায়, আর তার হৃদয়ে থাকে নীলার জন্য অগাধ শ্রদ্ধা।
আমরা সমাজের চোখে এখনো অপ*রাধী হতে পারি, কিন্তু আরিশের ভালোবাসার কাছে আমরা আজ দায়মুক্ত। মায়া সত্যিই চু*রি করা যায় না, আর সেই মায়াই আমাদের এই অদ্ভুত বিচ্ছিন্ন পরিবারটিকে আবার এক করে দিল।

সমাপ্ত
সংগ্রহীত

22/05/2026

আজ মাথায় উকুন নেই বলে কেউ এভাবে ট্রু লাভ করে না

22/05/2026

 #ঘুমপাড়ানি_মা পর্ব ০৭The Story Havenহাসপাতালের সেই করিডোরে সাদা কাপড়ে ঢাকা মরিয়ম বিবির নিথর দেহটা পড়ে রইলো। আরিশ স্থির ...
22/05/2026

#ঘুমপাড়ানি_মা
পর্ব ০৭
The Story Haven

হাসপাতালের সেই করিডোরে সাদা কাপড়ে ঢাকা মরিয়ম বিবির নিথর দেহটা পড়ে রইলো। আরিশ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে, সেখানে এখন এক অদ্ভুত ধীরতা। তার হাতে সেই মলিন বার্থ সার্টিফিকেট।
নীলা আরিশকে জড়িয়ে ধরতে গেল, কিন্তু আরিশ আলতো করে নিজেকে সরিয়ে নিল। এই প্রথম নীলার স্পর্শে আরিশের শরীরে কোনো সাড়া নেই। নীলা আর্তনাদ করে উঠলো, “আরিশ, আমি তোর মা! ওই পাগ*লিটা তোকে চু*রি করে পালতে চেয়েছিল।, আমি তোকে আমি আমার জীবনের থেকেও ভালোবাসি বাবা। আমি এগুলো সহ্য করতে পারতেছি না বাবা।

আরিশ শান্ত গলায় বললো, মা বাবা ওনাকে ক*বর দেওয়ার ব্যবস্থা করো। আমাদের আজকেই যেতে হবে ওই ঠিকানায়।

আমি আর না বলতে পারলাম না। মৃ*ত মরিয়ম বিবি কে সমাজকর্মীদের সাথে নিয়ে মাটি দিয়ে আসলাম। তারপার আমরা সেই গভীর রাতেই রওনা হলাম কাগজের নিচে লেখা ঠিকানায়। ঠিকানাটা ঢাকার অদূরে সাভারের এক অজপাড়াগাঁয়ের।
গাড়িতে কেউ কোনো কথা বলছে না। নীলা জানালার বাইরে তাকিয়ে নীরবে কাঁদছে। সে হয়তো বুঝতে পারছে, আরিশের ওপর তার একচ্ছত্র অধিকারটা আজ রাতের অন্ধকারের মতোই হারিয়ে যাচ্ছে।
ভোর হওয়ার ঠিক আগে আমরা সেই গ্রামে পৌঁছালাম। আঁকাবাঁকা মাটির পথ পেরিয়ে আমরা একটা ছোট জরাজীর্ণ টিনের ঘরের সামনে দাঁড়ালাম। ঘরটা তালাবদ্ধ, উঠোনে ঘাস জমেছে। দেখে মনে হচ্ছে এখানে অনেক বছর কেউ থাকে না।
আশেপাশের প্রতিবেশীরা আমাদের দেখে বেরিয়ে এলো। একজন বয়স্ক লোক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “কাদের খুঁজছেন আপনারা?”
আমি আরিশের হাতের সেই কাগজটা দেখালাম। লোকটা কাগজটা দেখেই চমকে উঠলেন। তার চোখ ভিজে এলো। তিনি বললেন, “ওরে বাবা! এটা তো মরিয়ম আর তার ছোট ছেলের কাগজ। আপনারা কোত্থেকে আসলেন?”
আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, “আমরা শহর থেকে আসছি। মরিয়ম বিবি মা**রা গেছেন।”
পুরো উঠোনে এক নিস্তব্ধতা নেমে এলো। বৃদ্ধ লোকটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “বেচারি! প্রায় ১৫ বছর আগে তার সাজানো সংসারটা এক রাতে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এই গ্রামে জমি নিয়ে মা*রামা*রি হয়েছিল। মরিয়মের স্বামীকে গ্রামের মাতব্বররা কু*পিয়ে মে**রে ফেলেছিল। মরিয়ম তার তিন মাসের দুধের শিশুকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল শহরে। আমরা ভেবেছিলাম সেও ম*রে গেছে।”
আমার আর নীলার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল। তার মানে মরিয়ম কোনো জন্মগত পাগলি ছিল না! সে তার স্বামীর সোকে পাগ*ল হয়ে গেছিলো। সে ছিল এক নিগৃহীত মা, যে তার স্বামীর খু**নিদের হাত থেকে সন্তানকে বাঁচাতে শহরে পালিয়ে গিয়েছিল। আর আমরা সেই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তার কোল খালি করেছিলাম।
বৃদ্ধ লোকটা আবার বললেন, “মরিয়ম কিন্তু পাগ*ল ছিল না সাহেব। সে ছিল গ্রামের স্কুলের শিক্ষিকা। স্বামী হারানোর শোক আর মাথার আ*ঘাত তাকে ওরকম করে দিয়েছিল। তবে যাওয়ার আগে সে একটা কথা সবাইকে বলে গিয়েছিল— 'আমার বাজানরে কেউ না কেউ ঠিকই পালবে, আমি তারে একদিন খুঁইজা পামুই'।”
আরিশ ধীর পায়ে সেই বন্ধ ঘরের দরজার সামনে গিয়ে বসলো। সে মাটির দিকে তাকিয়ে হাসলো—একটা বুক ফাটা হাসা। সে বললো, “শুনেছো মা? সে চো*র ছিল না। সে আমাকে বাঁচাতে পালিয়েছিল। আর তার পর আমি তোমাদের কাছে ছিলাম।

নীলা চিৎকার করে উঠলো, “আমরা তোমাকে ভালো রেখেছি আরিশ! আমরা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছি, বড় করেছি তুমি আমার সন্তান। আমি তোমাকে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি। তোমার জন্য আমি জীবন দিতেও দ্বিতীয় বার দ্বিধা বোধ করবো না আরিশ!”
নীলা বুক ফাটা কান্না করতে করতে বললো।

আরিশ মাথা তুলে নীলার দিকে তাকালো। তার চোখে এখন আর ক্রোধ নেই, আছে শুধু এক বিশাল শূন্যতা। সে বললো, “ভালো রেখেছো মা, কিন্তু মিথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে। আজ থেকে আমি আর আরিশ নই। এই কাগজে আমার নাম লেখা আছে— 'আকাশ'।”
ঠিক তখনই ঘরের এক কোণ থেকে এক বৃদ্ধা মহিলা লাঠি ভর দিয়ে বেরিয়ে আসলেন। তিনি মরিয়মের বড় বোন। তিনি আরিশের মুখের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে রইলেন। তারপর ফিসফিস করে বললেন, “ঠিক যেন তার বাবার মতো দেখতে হয়েছে ছেলেটা!”
তিনি ঘরের চাবিটা এগিয়ে দিলেন আরিশের দিকে। বললেন, “তোর মা বলছিল তুই একদিন ফিরবি। ঘরের ভেতরে তোর জন্য একটা জিনিস রাখা আছে।”
আরিশ কাঁপা হাতে তালাটা খুললো। ঘরের ভেতরে ভ্যাপসা গন্ধ। এক কোণায় একটা পুরনো কাঠের সিন্দুক। আরিশ সিন্দুকটা খুলতেই আমরা যা দেখলাম, তাতে আমাদের সবার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলো।

চলবে...
সংগ্রহীত



খুব শীঘ্রই ৮ম পর্ব পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে ৮ম পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

21/05/2026

Kamonda lage bolen

21/05/2026

Unexpected.....

21/05/2026

My life , my rules

 #ঘুমপাড়ানি_মা পর্ব ০৬The Story Havenহাসপাতাল থেকে আসা সেই ফোন কলটি আমাদের সাজানো ড্রয়িংরুমের শান্ত আবহাওয়াকে এক মুহূর্ত...
21/05/2026

#ঘুমপাড়ানি_মা
পর্ব ০৬
The Story Haven

হাসপাতাল থেকে আসা সেই ফোন কলটি আমাদের সাজানো ড্রয়িংরুমের শান্ত আবহাওয়াকে এক মুহূর্তেই তছনছ করে দিল। আমি আর নীলা একে অপরের দিকে তাকালাম। নীলার চোখের কোণে ভয়ের ছায়া, যেন সে দেখতে পাচ্ছে তার এত বছরের সাধনা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।
আমি আরিশের ঘরের দিকে তাকালাম। আরিশ কি শুনেছে? সে কি বুঝে ফেলেছে ওপাশে কে আছে?
নীলা আমার হাত শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বললো, “যাবে না। আমরা যাবো না। ও কোনোদিন আমাদের ভালো চায়নি। ম*রার সময় সে আমাদের ছেলেকে কেড়ে নিতে চায়। তুমি ফোনটা কেটে দাও।”
আমি নীলার দিকে তাকালাম। তার কথাগুলো যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু আমার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত দহন শুরু হয়েছে। আমি আরিশকে ভালোবাসি, কিন্তু সেই ভালোবাসা কি এতটাই স্বার্থপর যে একজন মুমূর্ষু মায়ের শেষ ইচ্ছাটাকেও গলা টিপে মা*রবে?

ঠিক তখনই আরিশ ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। তার হাতে সেই মাটির ঘোড়াটা। সে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। তার চোখে কোনো জল নেই, বরং এক আশ্চর্য স্থিরতা। সে ধীর গলায় বললো, “চলো বাবা। দেরি হয়ে যাচ্ছে।”

আমি আর নীলা দুজনেই চমকে উঠলাম।
“কোথায় যাবি আরিশ?” নীলার কণ্ঠস্বর কাঁপছে।
আরিশ ম্লান হাসলো। “যেখানে যাওয়ার জন্য গত ১৫ বছর ধরে আমার ভেতরটা ছটফট করছে। তোমরা ভেবেছিলে আমি কিছুই বুঝি না? ওই যে গানটা তোমরা গাইতে না, কিন্তু আমার কানে বাজতো—সেটা তো আর কারো না, সেটা আমার ওই ‘পাগ*লি মা’-র।”

নীলা আর্তনাদ করে মেঝেতে বসে পড়লো। আরিশ আমাদের কোনো কথা না শুনেই গ্যারেজের দিকে পা বাড়ালো। বাধ্য হয়ে আমি আর নীলাও গাড়িতে উঠলাম। সারাটা পথ আরিশ জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। ঢাকা শহরের নিয়ন আলো তার কিশোর মুখে অদ্ভুত এক মায়া তৈরি করেছে।
হাসপাতালে পৌঁছে দেখি এক কোণায় জরাজীর্ণ বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি। আট বছর আগের সেই তেজি দৃষ্টি এখন ঘোলাটে হয়ে গেছে। শরীরের হাড়গুলো বের হয়ে এসেছে। আমাদের দেখে সেখানে থাকা সমাজকর্মী এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন, “ইনি গত তিনদিন ধরে শুধু আরিশ নামটা বলছেন। ওনার কাছে আর বেশি সময় নেই।”
আরিশ ধীর পায়ে বিছানার পাশে গিয়ে বসলো। সে ময়লা হাতটা নিজের হাতের ভেতর নিল। অবাক করার বিষয় হলো, আরিশের চোখে কোনো ঘৃণা ছিল না। সে যেন তার জীবনের হারিয়ে যাওয়া কোনো অংশ ফিরে পেয়েছে।

মহিলাটি চোখ খুললেন। আরিশকে দেখে তার ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা হাসিটা আবার ফুটে উঠলো। তিনি অস্পষ্ট স্বরে বললেন, “বাজান... আইছস? আমি জানতাম তুই আইবি। মায়ায় টানে রে বাজান... মায়ায় টানে।”
আরিশের চোখ দিয়ে এবার টপটপ করে জল পড়তে শুরু করলো। সে বুড়ির বুকে মাথা রেখে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। নীলা দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে মুখ চেপে কাঁদছে। সে হয়তো দেখছে, তার এত বছরের শাসন আর ভালোবাসা এক মুহূর্তেই ফিকে হয়ে গেছে র*ক্তের টানের কাছে।

মহিলাটি কাঁপতে কাঁপতে তার বালিশের নিচ থেকে একটা পুরনো, মলিন হয়ে যাওয়া কাগজ বের করে আরিশের হাতে দিলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে খুব ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন,, আপনেরে দোষ দেই না। আপনারা তারে রাজপুত্র বানাইছেন। এই কাগজটা রাইখেন। আমার বাজানরে দেইখেন।”
কথাটা শেষ হতেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। ডাক্তাররা ছুটে এলেন, আমাদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। করিডোরে দাঁড়িয়ে আমরা তিনজন তিনটি আলাদা দ্বীপের মতো হয়ে রইলাম। আরিশের হাতে সেই মলিন কাগজ।
আমি আরিশের হাত থেকে কাগজটা নিলাম। খুলতেই আমার কলিজা শুকিয়ে গেল। এটা কোনো সাধারণ কাগজ নয়, এটা একটা বার্থ সার্টিফিকেট—যেখানে আরিশের আসল নাম এবং তার বাবার নামের জায়গাটা ফাঁকা থাকলেও মায়ের নামের জায়গায় লেখা ছিল— 'মরিয়ম'।
কিন্তু সবচেয়ে বড় চমকটা ছিল কাগজের নিচে। সেখানে একটা ঠিকানা লেখা ছিল, যা আমাদের চেনা সেই বাজারের মোড় নয়।
ঠিক তখনই ডাক্তার বেরিয়ে এসে মাথা নিচু করলেন। সব শেষ।
আরিশ সেই কাগজটা কেড়ে নিয়ে আমার দিকে তাকালো। তার চোখে এখন আর জল নেই, আছে এক কঠিন প্রশ্ন। সে বললো, “এই ঠিকানায় কী আছে বাবা? আমাকে নিয়ে যাবে?”
আমি বুঝতে পারলাম, ভয়ংকর সত্যের শুরু হতে যাচ্ছে।

চলবে...
সংগ্রহীত


খুব শীঘ্রই ৭ম পর্ব পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে ৭ম পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

20/05/2026

Aunty rocked beta shocked...

20/05/2026

Nothing to say

Address

Bangladesh
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Broken Heart posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category