08/10/2025
আপনি কি জানেন, অনেক সময় বাবা-মায়ের তাড়াহুড়োর কারণেই বাচ্চারা চুপ হয়ে যায়? কম কথা বা দেরিতে কথা বলে?
ছোট্ট সোনামণির সঙ্গে কথা বলার সময় ধৈর্য হলো সবচেয়ে বড় গুণ। বেশিরভাগ মানুষই এমন কি বাবা মা রা ২-৩ বছরের শিশুদের সঙ্গে কথা বলার সময় অস্থির হয়ে যায়, তাড়াহুড়ো দেখায়। তারা শিশুর প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য যথেষ্ট সময় দেয় না। প্রায়ই দেখা যায়, "কেমন আছো? তোমার নাম কী? দুপরে খেয়েছ? কি দিয়ে খেয়েছো"—এই ধরনের প্রশ্নগুলো দ্রুত একের পর এক করে যায়। শিশুটি একটি প্রশ্নের উত্তর মনে করতে করতে আরেকটি প্রশ্ন তার সামনে হাজির হয়।
আপনাকে যদি জাপানিজ ভাষার বই দেওয়া হয়? যখন সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাষা আপনার সামনে আসে, তখন একটি শব্দ বুঝতেও কতটা সময় লেগেছিল? শিশুদের ব্রেইনও নতুন কথাগুলো প্রসেস করতে একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। একটি শব্দ বা বাক্য তাদের মস্তিষ্কে পৌঁছানোর পর সেটি বুঝতে এবং তার উত্তর তৈরি করতে তাদের কিছুটা সময় লাগে। যখন আপনি দ্রুত প্রশ্ন করতে থাকেন, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের উদ্বেগ (anxiety) কাজ করে। তারা নার্ভাস হয়ে যায় এবং কী উত্তর দেবে তা বুঝে উঠতে পারে না। এর ফলে, তারা হয়তো একেবারেই চুপ করে থাকে, যা অনেক সময় বাবা-মা বা অন্যদের হতাশার কারণ হয়।
বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার কিছু সহজ কৌশল রয়েছে, যা তাদের ভেতর আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করে এবং তাদের কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
চোখে চোখ রাখুন, হাসিমুখে কথা বলুন: প্রশ্ন করার আগে শিশুর চোখের দিকে তাকান। একটি মিষ্টি হাসি দিন। এতে শিশুটি আপনার সঙ্গে নিরাপদ বোধ করবে এবং আপনার কথায় আগ্রহী হবে। জোর করে তাকে কাছে ডাকবেন না, কারণ এতে তারা ভয় পেয়ে যেতে পারে।
একটু বিরতি দিন, ১০ -১৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন: প্রশ্ন করার পর অন্তত ১০ -১৫ সেকেন্ড সময় দিন। এই সময়টুকু তাদের মস্তিষ্কে আপনার কথা প্রক্রিয়া করার জন্য খুবই জরুরি। যদি তারা উত্তর না দেয়, তাতে কোনো চাপ দেবেন না। অনেক বাচ্চার নতুন মানুষ বা পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে।
উত্তর দেওয়া শেখান, জোর করবেন না: অনেক সময় অভিভাবকরা হতাশ হয়ে বলেন, "বলো, তোমার নাম কী?" এতে শিশু আরও নার্ভাস হয়ে পড়ে। আপনি বরং একটি সহজ কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, "বলো, আমার নাম...?" এরপর আপনি নিজে উত্তরটি বলে দিন। এভাবে বলতে বলতে শিশুটি নিজেই একদিন উত্তর দিতে শিখবে। আমার এক বন্ধুর ছেলের কথা বলা শুরু করতে একটু দেরি হয়েছিল। এই কৌশলটি ব্যবহার করে তিনি তার ছেলেকে কথা বলতে শিখিয়েছিলেন। এখন তার ছেলে এতটাই কথা বলে যে তাকে থামানোই যায় না!
সহজ ও পরিচিত শব্দ ব্যবহার করুন: অপ্রয়োজনীয় কঠিন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করবেন না। আপনার সন্তান যে শব্দগুলো তার আশেপাশে নিয়মিত শোনে, সে শব্দগুলো ব্যবহার করুন।
যেসব পেরেন্টস ভাবেন—“বাচ্চার সাথে কী নিয়ে কথা বলবো?”—তাদের জন্যই আছে আমাদের লার্নিং ডিভাইস। এখনে আপনি শুধু শিশুর সাথে কথা বলার টেকনিক জানবেন না—২২৪ বাংলা + ২২৪ ইংরেজি শব্দ শিখবে যা তাদের Early Learning ও প্রি-স্কুলের প্রস্তুতিও করাতে পারবেন।। ওয়ার্ড এর সাথে আপনি বাচ্চাকে মুখে মুখে শিখাতে পারবেন সঠিক উচ্চারন। আপনি কি আপনার বাচ্চার সাথে “১০ সেকেন্ড রুল” ট্রাই করেছেন? অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।