23/06/2025
পুরান ঢাকার কালো যাদুঘর নারী!
পুরান ঢাকার এক গলির ভেতরে এক রহস্যময় বাড়ি ছিল। বাইরে থেকে দেখলে সেটা ছিল সাধারণ—জরাজীর্ণ দেয়াল, মরচে ধরা গেট। কিন্তু স্থানীয়রা জানত, এই বাড়ির ভেতরে স্বাভাবিক কিছু নেই। রাত হলে আশেপাশের বাড়িগুলোতে অদ্ভুত শব্দ ভেসে আসত—হাসির মতো কিংবা দূরের কোনো নারীর কান্না শুনা যেত।
এক রাতে স্থানীয় পুলিশ সেই বাড়িতে অভিযান চালাল। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্সপেক্টর খালিদ। দরজা ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই এক ভয়াবহ দুর্গন্ধে সবাই হাঁসফাঁস করে উঠল। ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল—মেঝে জুড়ে ছড়ানো আছে মৃত প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কালো মোমবাতি, রক্তে লিখা অজানা চিহ্ন, আর ভাঙা আয়নাগুলোয় কারো মুখ বি'কৃতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বাড়ির মালিক ছিল এক বৃদ্ধা, যার নাম নাজমা। লোকমুখে শোনা যেত, সে জিনদের সাহায্যে মানুষের ক্ষতি করে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করল এবং বাড়ি তল্লাশি শুরু করল। খালিদের দল আবিষ্কার করল এক অদ্ভুত জিনিস—একই নারীর নাম ও ছবি অসংখ্য কাগজ, বোতল আর মাটির পুতুলে লেখা।
খালিদ নাজমাকে জিজ্ঞেস করল, "এতবার তুমি একই নারীর ক্ষতি করার চেষ্টা করেছ? কেন?"
নাজমার চোখে জ্বলজ্বল করে উঠল। সে কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আমি এই মেয়েটার উপর সবচেয়ে ভয়ানক জাদু প্রয়োগ করেছি! কিন্তু কোনো কিছুই কাজ করেনি। আমার জিনেরা ফিরে এসে বলেছে, 'ওই বাড়িতে আমরা কাউকে দেখতে পাই না! যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল আমাদের ঠেকিয়ে রাখে!'"
খালিদ অবাক হয়ে ভাবল, কে এই নারী, যাকে জাদু স্পর্শই করতে পারেনি? তিনি ফোন করলেন সেই নারী—আমিনা নামের এক শিক্ষিকা—কে।
আমিনা সব শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। খালিদ জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি কোনো অদ্ভুত ঘটনা টের পেয়েছিলেন?"
আমিনা একটু ভেবে বললেন, "কিছু রাতে জানালায় প্রচণ্ড আঘাত শুনতে পেতাম, যেন কেউ বাইরে থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। আবার মাঝেমধ্যে ঘরের লাইটগুলো নিজে নিজে জ্বলে আর নিভে যেত। আমরা ভেবেছিলাম, বিদ্যুৎ সমস্যা। কিন্তু..." তার কণ্ঠে ভয় মিশে ছিল।
খালিদ কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলেন, "আপনি কোনো বিশেষ আমল করেন? কোনো দুয়া বা জিকির?"
আমিনা হাসলেন। "আমি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, নাস আর ইখলাস পড়ি। কখনোই মিস করি না। আর... রাতে শোয়ার আগে সূরা ইয়াসিনের নবম আয়াত তিলাওয়াত করি।"
খালিদের মনে পড়ল, এই আয়াতটির বিশেষ ফজিলত আছে—এটা তিলাওয়াত করলে শয়তান অদৃশ্য হয়ে যায়।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়।
পুলিশ যখন নাজমাকে নিয়ে যাচ্ছিল, সে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, "ওকে সাবধান! আমিনা, তুমি নিরাপদ নও! আমার জিনেরা ফিরে আসবে—তারা ক্ষমা করবে না!"
সেই রাতেই আমিনার বাড়িতে আবার অদ্ভুত ঘটনা শুরু হলো। জানালায় আঘাত, দরজায় খোঁচা... কিন্তু এবার আমিনা ভয় পেলেন না। তিনি আয়াতুল কুরসি পড়লেন, আর ঘরের চার কোণে লবণ ছিটিয়ে দিলেন—যেমনটা নবী (সা.) এর সুন্নত।
হঠাৎ এক ভয়ানক চিৎকার শোনা গেল, যেন কেউ পুড়ে যাচ্ছে! তারপর... নিস্তব্ধতা।
পরদিন সকালে আমিনার দরজায় কালো পায়ের ছাপ দেখা গেল—যেন কেউ পিছু হটে গেছে। নাজমা জেলে আ'ত্মহ'/ত্যা করল, আর তার শেষ কথাগুলো ছিল— "ওরা হার মানেনি... ওরা আসছে..."
কিন্তু আমিনা জানতেন, আল্লাহর নামেই সবচেয়ে বড় হিফাজত।
ঘটনা টি পুরান ঢাকার
গল্প: পুরান ঢাকার কালু যাদুঘর
লেখক: ভূতের গল্প লেখক সান
দ্রষ্টব্য: গল্পের লেখায় ছোটখাটো ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যদি সম্ভব হয়, মেসেজের মাধ্যমে জানাবেন। সবশেষে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না, আজকের গল্পটি আপনার কেমন লেগেছে।
Note: This AI-generated image portrays a fictional scenario designed for creative and storytelling purposes. It may include elements that could be unsettling to some viewers. Please exercise discretion when viewing. The content aims to delve into themes of suspense and mystery and does not endorse or encourage any form of violence.
#ভূতেরগল্প #ভৌতিক