কেন বাংলা কৃষি?
মানুষ, প্রানী ও তার খাদ্য ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে। আমাদের পরিবেশ ও পরবর্তী প্রজন্মও এতে আক্রান্ত । মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের এই মহাসড়কে বাংলা নামক এই দেশটির যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই কিছু বিবেক বিক্রিত, চরম স্বার্থপর মানুষের হাত ধরে। ধ্বংসের পথে সেই যাত্রা আজও অব্যহত ঝড়ের গতিতে। একে থামাতে হবে, এখনই। এমনিতেই অনেক দেরী হয়ে গেছে। বিষাক্রান্ত আমার আদরের ছোট্ট শিশুটির কষ্টক্লান্ত
মুখোচ্ছবি যদি আমি দেখতে না চাই, তাহলে ঘুরে দাড়াতে হবে এখনি।
প্রযুক্তির নামে, উচ্চ ফলনের নামে, খাদ্য সংকটের আশংকা তৈরী করে, কীটনাশক ও হাইব্রিড/জিএমও বীজের মাধ্যমে আমাদের হাজার বছরের সম্পদ মাটি, পানি ও স্বয়ংসম্পুর্ন খাদ্যব্যবস্থাকে বিদেশী কোম্পানী ও তাদের এদেশীয় বরকন্দাজদের করায়ত্তের যে সুদুরপ্রসারী চক্রান্তের সুচনা হয়েছে তাকে রুখতে হবে, নয়তো সেদিন বেশি দূরে নয় যখন আমাদের সন্তানেরাও আফ্রিকার অভুক্ত মানুষগুলোর মত খাদ্যের জন্য বিদেশিদের গাড়ী ও হেলিকপ্টারের পেছনে লাইন দিতে বাধ্য হবে।
ইবনে বতুতার মত যুগে যুগে যে শত শত পর্যটক এদেশে এসেছে তারা সকলেই বলেছে সম্পদে পরিপুর্ন এক দেশ, সোনার বাংলাদেশ। আজও ড্যান মজীনা(মার্কিন রাষ্ট্রদুত) বলছেন, এদেশে যে কী সম্পদ আছে তা এদেশের মানুষই জানেনা।
কী সেই সম্পদ? আমরা কি কখনও ভেবেছি?
আমাদের তো কখনও সোনা বা হীরকের খনি ছিল না। আমাদের দেশ তো কখনও তৈল বা গ্যাসের উপরও ভাসছিলনা, তাহলে আমাদের সম্পদ টা কী?
সেটি হল আমাদের মাটি, পানি ও পরিবেশ তথা স্বয়ংসম্পুর্ন খাদ্যব্যবস্থা। আমাদের জলবায়ূ অংকুরোদ্গম জলবায়ু। যে জলবায়ু তৈরী করতে পশ্চিমাদের হেলিকপ্টারে মাটি এনে, লাইট, ফ্যান ও এসি দিয়ে লাখো-কোটি ডলার খরচ করতে হয়। বাংলাদেশ হতে পারে পৃথিবীর বীজতলা। মানুষের ইমার্জেন্সি প্রয়োজন খাদ্যের জন্য সবাইকে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
আমাদের এই সম্ভবনাকে লালন ও চেতনাকে জাগ্রত করতেই আমাদের এই সম্পদকে হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা ও সংহত করতেই ‘বাংলা কৃষি’র উদ্ভব। ‘বাংলা কৃষি’ বাংলাদেশের একটি ব্রান্ডের নাম, অসম্ভব দৃঢ়চেতা কিছু মানুষের পৃথিবী পরিবর্তনকামী একটি সিদ্ধান্তের নাম। ‘বাংলা কৃষি’ অতি বাস্তব একটি দিবা স্বপ্নের নাম।
ইউরোপে যে স্ট্রবেরী গ্রিনহাউজের মধ্যে জন্মাতে খরচ পড়ে ১.৫/২ হাজার টাকা কেজি তা আমরা অনায়াসে বেগুনের মত ২০/৩০ টাকা কেজি বিক্রি করতে পারি। আমাদের বড় শহরগুলোর রাস্তার আইল্যান্ডগুলোতে যে আঙ্গুর, কমলা ও ডালিম জন্মাতে পারে তাই দিয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজন মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব।
আমাদের বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, এমন একটি সম্ভবনাময় দেশ আর কতদিন অন্যের গোলাম হয়ে থাকবে?
কী করবে বাংলা কৃষি ?
কীটনশকের বিষাক্ত ছোবলে জাতির নারী-পুরুষ ও শিশুরা যখন বিকৃতির মহাসড়কে প্রচন্ড গতিতে ধাবমান এবং হাইব্রিড/জিএমও’র নামে বহুজাতিক বীজ কোম্পানিগুলো আমাদের ধ্বংসের কফিনে শেষ পেরেকটি (বিটি বেগুন) ঠোকার জন্য উদ্যত ঠিক এমনি এক ক্রান্তিকালে কোন ঢাল তলোয়ার ছাড়া শুধুই মনোবল নিয়ে বাংলা কৃষি’র যাত্রা।
এমন কোন ফলমুল বা সবজি নেই যাতে কীটনাশক/ফরমালিন নেই। আমরা আমদের জেনারেশনকে কীটনাশক/ফরমালিন নামক হেমলক তথা স্লো-পয়জনের হাত থেকে বাচাতে চাই। খাদ্য সংকটের ভয় ও অধিক উতপাদনের মূলা দেখিয়ে পশ্চিমা কোম্পানীরা আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে এক মারাত্নক বিষ। যা খেয়ে আমরা আমাদের প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছি আর অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে নিঃসন্তান পিতা-মাতার সংখ্যা ফলশ্রুতিতে তারা তাদের কোটি কোটি ডলারের ইনফার্টিলিটি ক্লিনিকের ব্যবসার বাজার খুলে বসেছে। আমাদের কিডনী, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন মরণঘাতী রোগ বেড়েছে কোন যৌক্তিক র্যাশিও ছাড়াই ফলে ব্যবসা জমেছে তাদের হসপিটালগুলোর। এ যেন কম্পিউটার ভাইরাস তৈরী করে এন্টিভাইরাস বিক্রির রমরমা বানিজ্য।
তাদের এই খবরদারি ও আমাদের মৃত্যু প্রতিযোগিতাকে চিরস্থায়ী করতেই জিএম বা জেনেটিক্যালি মডিফাইড বীজ/খাদ্যের আবির্ভাব যা নিজেই একটি বিষ।
এই অবস্থা চলতে পারে না। এ থেকে নিজেরা বাচতে এবং জাতি ও পৃথিবীকে বাচাতে ‘বাংলা কৃষি’র এই ‘ন্যাচারাল খাদ্য ও জ্বালানী’ আন্দোলনের সুচনা।কোন কেমিক্যাল/কীটনাশক/ফরমালিন ছাড়াই আমরা আমদের শিশুদের হাতে খাবার তুলে দিতে চাই। নয় হাজার বছরেও বেশী এদেশীয় কৃষি টিকে ছিল কোন সার/কীটনাশক ছাড়াই। মাত্র ৫০/৬০ বছরের এই বিকৃতি থেকে এখুনি আমদের বেরিয়ে আসা সম্ভব।