09/12/2025
⚠️⚠️কালেক্ট ⚠️⚠️
⚠️সবাই সাবধানে থাকুন ও সতর্ক থাকুন⚠️
আঁতকে ওঠার মতো তথ্য পাওয়া গেছে। মায়ের দেহে ৩০টি এবং মেয়ের দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ।
যেখানে আপনজনই বিশ্বাসঘাতকতা করে, সেখানে গৃহকর্মীকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা কতটা নিরাপদ? মাত্র ০৪ দিন আগে কাজের খোঁজে এসেছিল সে, চার দিনের মধ্যেই ঘটে গেল এমন ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে মা লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ-কে নৃশংসভাবে কু*পিয়ে হ*ত্যার নেপথ্যের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে তাদের সুরতহাল প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।
আফরোজার বাম গালে ৩টি, থুতনিতে ৪টি, গলার নিচে বাম পাশে ৫টি, বাম হাতে ৩টি, বাম হাতের কব্জিতে ১টি, ডান হাতের কব্জিতে ২টি, বুকের বাম পাশে ৯টি, পেটের বাম পাশে ২টি ও তলপেটের নিচে ১টি মোট ৩০টি জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
অপরদিকে নাফিসার বুকে দুই পাশে ৪টি গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারালো ছুরিকাঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই দুজনের মৃত্যু হয়।
এমন ভয়ংকর সুরতহাল সাম্প্রতিক সময়ে দেখিনি। হত্যার ধরন ও নৃশংসতা দেখে ঘাতককে প্রশিক্ষিত বলে ধারণা করছি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৭টার দিকে নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে গৃহকর্মী আয়েশা বাসায় প্রবেশ করেন। সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে নাফিসার স্কুল ড্রেস ও মাস্ক পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাকে হত্যার বিষয়টি বুঝতে পেরে নাফিসা ডাইনিং রুমে রাখা ইন্টারকম থেকে কাউকে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হলে সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাত করে খুনি। ধস্তাধস্তির সময় ইন্টারকমের লাইন খুলে যায়।
বাসা তল্লাশি করে বাথরুম থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ফল কাটার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ছুরি দুটি দিয়েই মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী বাসার বাথরুমে ফ্রেশ হয়েছে, এমন আলামতও রয়েছে।
এই ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, চার দিন আগে বোরকা পরা একটি মেয়ে কাজের সন্ধানে আসে। দারোয়ান খালেক তাকে বাসায় পাঠায়। এরপর স্ত্রী ও মেয়ে কথা বলে তাকে কাজে রাখে।
হত্যার আগে ও পরে গৃহকর্মীর উপস্থিতি, কাজকর্ম এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এমনকি এর সাথে আর কেউ সংশ্লিষ্ট আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই নৃশংস ঘটনা আমাদের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। গৃহকর্মী বা কোনো অপরিচিত কাউকে কাজে নেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই, এনআইডির কপি, থানায় অবহিতকরণ ও সিসিটিভি সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা উচিত। অচেনা কাউকে কখনোই ঘরে একা রেখে বের হবেন না প্লিজ! কাউকে অন্ধবিশ্বাস করবেননা।
-এস এম আকবর