25/04/2026
“মোর মায়ের কাহিনি”
কলমে: মোছাঃ রিপন বেগম
মোর ছোট বেলায়ই মায়ের ভাগ্য ভাঙে,
বিয়া ভাঙি গেইল, সুখ গেইল গাঙে।
বাপের বাড়িতেই থাইকা জীবন কাটায়,
নিজের ঘাম ঝরাইয়া সংসারটারে বাঁচায়।
নিজের পেট কাটে আর হামাক খাওয়ায়,
আবার নিজের বাপের বাড়িতেও হাত বাড়ায়।
তবুও সেই বাড়িত শান্তি পায় নাই,
কখন যে বাইর কইরা দিব—সারাক্ষণ এই ভয়টাই
একদিন ছোট্ট ঘর নিয়া আশ্রয় নিলো মায়,
সেলাই, টিউশনি কইরা জীবন চালায়
পরে একটা চাকরি পাইলো আল্লাহর রহমতে,
তখন একটু সুখ আসলো মোর মায়ের কপালে।
কিন্তু শান্তি কি আর কপালে থাকে?
জমি-জমা নিয়া আবার ঝামেলা লাগে।
নানি-খালারা মিলে করল ফন্দি,
মোর মায়ের হকটারে কইরা দিল বন্ধি।
বাইরে আছিলাম, এই সুযোগে তারা,
মোর মায়ের অধিকার খাইতে চায় সারা।
ভালবাসা গেইল, আসিল ঘৃণা,
আপনের মানুষই দিল বিষের দানা।
মারে মারে কথা, অপমানের ঢেউ,
মোর মায়ের বুক ফাটে, কেউ বোঝে না সেই কেও।
একদিন ঘরডাও ভাঙি দিল জোরে,
বাইর কইরা দিব—এই ছিল তাদের অন্তরে।
তবুও মোর মা হার মানে নাই,
কান্দতে কান্দতে আবার থাইকা যায়।
নানির বাড়ির এক কোনায়, দয়ার ভিক্ষায়,
জীবনডা কাটায় কষ্টের শিক্ষায়।
দিনে দিনে বাড়ে কটূ কথা আর জ্বালা,
মানসিক যন্ত্রণায় বুক হয় ফানা ফানা
জমিডাও তারা দখল কইরা নেয়,
হক চাইতে গেলে আরো আগুন দেয়।
ভাগ-বাটোয়ারা শুধু কথার মাঝেই রইল,
কাগজে ফাঁকি দিয়া মোর মাকে ঠকাল।
যেন কিছুই না পায়, এই ছিল চাল,
নিজের মানুষই করে এত বড় জাল।
এতেই শেষ নাই, অপবাদ ছড়ায়,
সমাজের মাঝে মোর মারে ছোট বানায়।
মোর নাম লইয়া কয় বিষের বাণ,
জমি বেদখলের লাগি করে অপমান!
এই সব জুলুম সহ্য করি চুপচাপ,
আল্লাহ ছাড়া নাই তো আর কেও হামার আপন সাথ।
শেষে হাত তুলি আকাশ পানে—
“হে আল্লাহ, বিচার তুমিই করবা একদিন সকলে তা জানে।”
জালিমের বিচার হইবই একদিন,
এই আশাতেই বাঁচে মোর মায়ের দিন…