28/08/2023
অনুর শাড়ি পরার তেমন অভ্যাস নেই। মাঝে মধ্যে বাসার ভিতর শখ করে শাড়ি পরা হয় কিন্তু শাড়ি পরে কখনো বাসার বাহিরে যাওয়া হয় নি। আজ হঠাৎ অনু শাড়ি পরে অফিসে এসেছে। অফিসে আসার পর থেকে অনুর খুব অস্বস্তি লাগছে। চলাফেরার সময় বারবার অনুর মনে হচ্ছে শাড়ি খুলে যাচ্ছে। ফাইলটা হাতে নিয়ে অনু যখন বসের রুম থেকে আসছিলো তখন তার কলিগ পিয়াস অনুকে আলাদা ভাবে ডেকে বললো,
--আপনার মা বেঁচে নেই তাই না?
অনু অবাক হয়ে বললো,
- আমার মা বেঁচে নেই এটা আমি অফিসের কাউকে বলি নি। কিন্তু আপনি জানলেন কিভাবে?
পিয়াস মুচকি হেসে বললো,
-- আপনার মা বেঁচে থাকলে আপনার শাড়ি পরার ক্ষেত্রে এমন ভুল হতো না। আপনার শাড়ির কুচিগুলো একদম ঠিক হয় নি। আন্টি বেঁচে থাকলে ঠিকিই নিজ হাতে কুচিগুলো ঠিক করে দিতো। যায় হোক, আমি আপনায় হেল্প করছি আপনি কুচি গুলো ঠিক করে নেন। খুব খারাপ দেখা যাচ্ছে আপনায়। মনে হচ্ছে শাড়ি না ধুতি পরেছেন আপনি.
পিয়াসের কথা শুনে অনু হেসে দিলো।অনু নিজ হাতে শাড়ির কুচিগুলো ঠিক করছিলো আর আড় চোখে পিয়াসকে দেখছিলো। পিয়াস তখন শাড়িটা নিচের দিকে টেনে ধরে রেখেছিলো...
পরদিন অনু সকাল বেলা অফিসে এসে দেখে ওর টেবিলের উপর একটা নীল চিরকুট রাখা আর তাতে লেখা, " আমি শুধু শুধু এতদিন গ্যা/স্টি/কের ঔষধ খেয়ে গেছি। আসলে আমার বুকের চিনচিন ব্যাথার কারণটা হলে তুমি"
চিরকুটটা পড়ে অনু মুচকি হাসলো। অনু জানে এটা পিয়াসের কাজ। অফিসের প্রথম দিন থেকেই অনু দেখে আসছে পিয়াস ওর পিছনে লেগে আছে....
---
------
অফিস শেষে যখন বাসায় ফিরবো তখন খেয়াল করি অনু রিকশার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি পিছন থেকে অনুকে বললাম,
-- আমি ভার্সিটিতে পড়ার সময় একবার বাইকে করে বাংলাদেশের ৬৪টা জেলা ট্যুর করেছিলাম
অনু পিছন ফিরে আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললো,
-"মানে!"
আমি মুচকি হেসে অনুকে বললাম,
-- মানে হলো, আমি একজন ভালো বাইকার। আপনি চাইলে আমার বাইকের পিছনের সিটে বসতে পারেন। আমি নিরাপদেই আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিবো
অনু মিষ্টি হেসে বললো,
-" নো থ্যাংকস। আমি রিকশা করেই যেতে পারবো"
অনুর কথা শুনে আমি একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,
-- একজন রিকশাওয়ালাকে ভরসা করা যায় অথচ আমার মত ৬৪ জেলা ট্যুর করা বাইকারকে ভরসা করা যায় না। আগে জানলে রিকশাওয়ালাই হতাম
অনু আমার কথা শুনে আর কিছু না বলে আমার বাইকে উঠে বসলো...
বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর অনু আমায় বললো,
-"থ্যাংকস, আমায় নিরাপদে বাসায় পৌঁছে