22/09/2024
একটি খোলা চিঠি। 💌
প্রিয় আদিবাসী মা-বাপ ও ভাই বোন সকলকে স্তর বিশেষে আমার প্রণাম ও স্নেহ জানাচ্ছি। লেখাটি একটু অগোছালো হলেও পর্যাপ্ত মূল্যায়ন করার নিবেদন থাকলো। আদিবাসীদের মধ্যে নানান ভাষার মানুষ রয়েছেন বলে আমি বাংলা ভাষায় লিখছি।
প্রিয় দুঃখী জুম্ম সাধারণ,
আমি মনে করি আমার মতন আপনারাও কেউ ভালো নেই। দুঃখ যেন পাহাড়ি মানুষের চিরসঙ্গী। ছাত্র সমাজের আন্দোলন, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সেটেলার বাঙালিদের দ্বারা সাম্প্রদায়িক হামলায় এত জানমালের ক্ষতির পর আমরা কেউ ভালো নেই। জানি এই ইতিহাস নতুন কিছু নয়। এরপর গতকাল পিসিজেএসএস এর জেলা সভাপতি ডাক্তার গঙ্গামানিক চাকমার বক্তব্যতে পাহাড়ের মানুষের মনে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বেড়ে গেছে। রাঙ্গামাটির ঘটনার ব্যর্থটায় ছাত্র সমাজ কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছে সেটাও পরিলক্ষিত। আমি উপরের বিষয়গুলো নিয়ে কাঁদা ছুড়তে গিয়ে আমাদের মধ্যে বিবাদ বেড়ে যাক সেটা চাইবো না। তবে এইসকল প্রেক্ষাপটে আমার ছোট্ট জীবনের তুচ্ছ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকপাত করছি দু একটি বাস্তব ও সংগ্রহীত গল্প নিয়ে। চিঠির শেষে কিছু প্রশ্ন ও করণীয় উল্লেখ করার চেষ্টা করবো। যদি কোথাও ভুল হয় আমাকে ক্ষমাপূর্বক শুধরে দিবেন এই প্রার্থনা করছি।
গল্প - ১ (সংগ্রহীত)
রাঙ্গামাটিতে পরশুর সাম্প্রদায়িক হামলার পর গতকাল দুটি পাহাড়ি ছেলে ও মেয়ে তবলছড়ি বাজারে গেছে। তাদের লক্ষ্য করে দুজন বাঙালি কিশোর ঢিল মারে। এটা দেখে তবলছড়ি বাজার সমিতির বাঙালিরা ঐ বাঙালি কিশোরদের তাড়া করে নিয়ে যায়। গল্পটা ঐ প্রেক্ষাপটে তৈরি। ২০১২ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর ঠিক ১২ বছর আগে রাঙ্গামাটি কলেজে সেটেলার বাঙালিরা হামলা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া নিয়ে শুরু হয় পুরো রাঙ্গামাটিতে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা। তবলছড়ির বাঙ্গালিরা এই দাঙ্গা চালায় তবলছড়ি বাজারে আগত জুম্মদের উপর। এরপর জুম্ম সাধারণ তবলছড়ি বাজার বর্জন করে। দীর্ঘ সময় ধরে বাজার বর্জনের ফলে তবলছড়ি বাঙ্গালীরা চরম অবস্থায় পড়ে যায়। কারণ তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলে পাহাড়িদের উপর নির্ভর করে। পাহাড়িদের কারণে তারা আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। এরপর শ্রী ঊষাতন তালুকদারকে অনুরোধ করে বাজারে পাহাড়িদের আসতে অনুরোধ করানো হয়। এজন্য তারা আর চায় না পাহাড়িদের সাথে কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হোক।
গল্প ২ (ইতিহাস)
পুরো রাঙ্গামাটিতে অস্থিরতা থাকলেও রিজার্ভ বাজারের বাঙ্গালিরা পাহাড়িদের সাথে সহনশীলতা বজায় রেখে চলে এবং যে কোন সমস্যায় পাহাড়িদের পাশে দাঁড়ায়। কাপ্তাই বাঁধের পর রিজার্ভ বাজার ছিলো রাঙ্গামাটির মূল বাজার। বেশ জাঁকজমকপূর্ণ বাজার ছিলো। তারপর সেখানে এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর রিজার্ভ বাজার তার জৌলুশ হারিয়ে ফেলে। এজন্য তারা সেটা ফেরাতে মরিয়া এখনো। রিজার্ভ বাজারের ব্যবসায়ীরা পাহাড়িদের সাথে এখন সুসম্পর্ক রেখে চলতে চায় এবং রিজার্ভ বাজারে কোন সাম্প্রদায়িক হামলা তারা হতে দিতে চায় না।
গল্প-৩ (সংগ্রহীত)
পরশুদিন রাঙ্গামাটির ফিসারিতে এক পাহাড়ি আটকা পরে গেলো। তার ভাষ্যমতে (ভিডিও এভিডেন্স) আর্মি গাড়ি ছিলো সেখানে। বাঙালি সি এন জি ড্রাইভার এলো কয়েকটি সি এন জি নিয়ে। বললো বনরুপায় পাহাড়ি বাঙালি মারামারি হচ্ছে। কোন পাহাড়িকে কেউ সি এন জি'তে তুলবেন না। যেন পালাতে না পারে। এরপর দা দিয়ে ফিসারি পাড় থেকে মুগর কেটে সি এন জি নিয়ে বনরুপায় হামলায় যোগ দিতে আসে।
তাহলে কি বুঝা গেলো আর কি করণীয়?
পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটেলারদের মূল অর্থনৈতিক শক্তি হলো পাহাড়িরা। রিজার্ভ বাজার থেকে বাজার সরে আসার পর বনরুপা বাজার সৃষ্টি করে পাহাড়িরা। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে উঠে বি এম মার্কেট ও মসজিদ মার্কেট। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা গরে তুলেছে তারা সব পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে থেকে এসে। বারবার বনরুপাতে সাম্প্রদায়িক হামলা চালায় তার মসজিদ ব্যবহার করে। সেখানে তাদের অস্ত্র রাখা হয় এবং সাম্প্রতিক হামলা হলেই সেকান থেকে বের করা হয়। পরশু দিনের হামলায় যে চাপাতি ও ক্রিজ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোর সোর্স একই জায়গা। গতকাল আমাদের উপদেষ্টাগুলো এলো, কোন সমাধান দিয়ে গেলো? স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যে সুরে কথা বলে গেছে সেই সুরটা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন যে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো না।
করণীয় ✊
যদি এতটুকু পর্যন্ত আমার চিঠি পড়ার ধৈর্য আপনার আছে তাহলে আপনি নিশ্চয়ই পাহাড়ি মানুষের শোষণ থেকে মুক্তি চাইবেন। সেই মুক্তি নিয়ে আসতে হলে শোষণের হাতিয়ার বন্ধ করতে হবে। আমরাই তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বচ্ছলতা করে দিচ্ছি, সেটা বন্ধ করতে হবে। যদি চান সেটা বন্ধ হোক তাহলে----
১। বনরুপায় বাঙালিদের দোকানগুলোতে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।
২। প্রয়োজনে অপেক্ষা করবো বা হেঁটে যাবো, তবুও বাঙালির সি এন জি'তে উঠবো না।
আজ আর নয়, মাত্র এই দুটি করণীয় আপনি পালন করতে পারলে তাদের গুলি করার চেয়ে বেশি আঘাত দেয়া যাবে। তারা বারবার যেহেতু তাদের হিংস্রতা দেখাচ্ছে। আমরা আমাদের নীরবতা কি দেখাতে পারবো প্রিয় বন্ধগণ।
ইতি
তোমাদেরই দুঃখী ভাই।
copy post