13/02/2023
✔✔যা কিছু ক্ষতিকর মনে হয় তার অনেক কিছুই কল্যাণকর✅✅
“আমি মানবজাতির জন্য এসব উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত পেশ করি, অথচ জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া অন্যরা এসব বুঝতে পারে না।” ( আনকাবূতঃ ৪৩)
📃উইলিয়াম জেমস বলেছেন- “আমাদের বাধা-বিপত্তি আমাদেরকে এতটাই সাহায্য করে যে, আমরা তা কখনো আশাই করতে পারিনি। যদি ডষ্টয়িভস্কি ও টলষ্টয় দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত জীবন যাপন না করত তবে তারা তাদের কালজয়ী পুস্তকাদি লিখতে সক্ষম হতো না। অতএব, এতীম, অন্ধ ও দরিদ্র হওয়া বা গৃহ ও আরাম-আয়েশ হতে দূরে থাকা হলো এমন সব অবস্থা যা আপনাকে অর্জন, খ্যাতি, অগ্রসর হওয়া ও অবদান রাখার পথে পরিচালিত করতে পারে।”
📕একজন আরব কবি বলেছেন-
" আল্লাহ বালা-মুসিবতের মাধ্যমে (তার বান্দাদেরকে) অনুগ্রহ ধন্য করতে পারেন- আর সে বালা-মুসিবত যতই গুরুতর (মনে) হোক না কেন; এমনকি সন্তান-সন্ততি ও সম্পদও (অর্থাৎ জনবল ও ধন বলও) দুঃখ-দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
(হে মুহাম্মদ!) অতএব তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে; আসলে আল্লাহ্ তো এসব দ্বারা তাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান।” ( তাওবা: ৫৫)
📄ইবনুল আছীর পঙ্গু হওয়ার কারণে তার বিখ্যাত দুটি কিতাব জামেউল উসূল এবং আন-নিহায়াহ সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। সারাখসি তাঁর সর্বমহলে সাদরে গৃহীত। পনেরো খণ্ড কিতাব আল ‘মাবসূত’ কূপের তলদেশে বন্দী থাকাকালে লিখেছেন। ইবনুল কাইয়েম সওয়ারীতে চড়ে ভ্রমণকালে ‘জাদুল মায়াদ’ লিখেছেন। ইমাম কুরতুবী জাহাজে চড়ে ভ্রমণকালে সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা লিখেছেন। ইবনে তাইমিয়া জেলে থাকাকালে তার ‘ফাতাওয়ার’ অধিকাংশ লিখেছেন।
📚যে সকল হাদীস শাস্ত্রবিদগণ লক্ষ লক্ষ হাদীস সংকলন করেছেন তারা দরিদ্র ও পরবাসী ছিলেন।
📷আবুল আল মুয়াররি অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর কিতাবাদি অন্যদেরকে দান করে দিয়েছিলেন। ত্বা-হা হোসাইন তার দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলার পরপরই তার প্রসিদ্ধ পত্রিকাবলি ও পুস্তকসমূহ লেখা শুরু করেছিলেন। অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তিই পদচ্যুত বা চাকরীচ্যুত হওয়ার পর জ্ঞান ও চিন্তার জগতে তাদের (চাকরিচ্যুত হওয়ার) পূর্ববর্তী জীবনের তুলনায় অনেক বেশি অবদান রেখেছেন।
“এবং যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দান করা হয়েছে তাঁরা বলবে, “তোমরাতো আল্লাহর বিধানানুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত অবস্থান করেছিলে।” (রুম:৫৬)
হে আল্লাহ! আমাদেরকে সঠিক বুঝার তৌফিক দান করুন।
আমিন!!