11/04/2026
যাদুর ভিত্তি ভেঙে দিন
যাদু একটা বিষয় যা অনেকে শুধু বাইরের দিকে দেখে। কিন্তু এর ভেতরের গঠন অনেক গভীর এবং ভয়ংকর। যারা যাদু নিয়ে কাজ করেন, তারা জানেন যে যাদু হঠাৎ করে তৈরি হয় না। এটা ধীরে ধীরে কিছু নির্দিষ্ট উপাদানের উপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে। আর সেই ভিত্তির একটি প্রধান উপাদান হলো মানুষের বদ নজর এবং হিংসা।
যখন কেউ যাদুকরের কাছে যায়, তখন সে শুধু কাজ করানোর জন্য যায় না। সে নিজের ভেতরের খারাপ প্রবৃত্তি, হিংসা, বদ নজর সবকিছু নিয়ে যায়। যাদুকর সেই ব্যক্তির এই নোংরা মানসিকতা ও হিংসাকে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে। সহজভাবে বললে, এই হিংসা ও বদ নজরেই হয়ে যায় যাদুর খামির, যার উপর পুরো যাদুর কাঠামো দাঁড় করানো হয়।
এজন্যই বলা হয় যে যাদুর মূল ভিত্তিই হলো হিংসা। যার ভেতরে হিংসা বেশি, যার বদ নজর বেশি কুপ্রভাবশালী-তার যাদুও তত বেশি শক্তিশালী হয়।
এরপর শুরু হয় শাইত্বানদের ভূমিকা। তারা মূল যাদুকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ছোট ছোট সহায়ক যাদু তৈরি করে। যেমন-ভুলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি করা, রুকইয়াহ করার সময় ঘুম পেয়ে যাওয়া, রাক্বির প্রতি অকারণে বিরক্তি বা ঘৃণা সৃষ্টি হওয়া-এসবই মূল যাদুকে টিকিয়ে রাখার জন্য করা হয়।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি তারা করে, তা হলো-
মানুষ ও জিনের দৃষ্টি আক্রান্ত ব্যক্তির উপর একত্র করা। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে এমনভাবে ঘিরে ফেলা হয়, যেন সে সবসময় বদ নজর ও হিংসার আঘাতের মধ্যে থাকে।
আপনি যদি খেয়াল করেন, অনেক সময় রুকইয়াহ করার সময় মনে হয়-কিছু একটা আটকে আছে। হাই তুলতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু সেটা পুরোপুরি বের হয় না। শরীর যেন বন্ধ হয়ে আছে। এর একটি কারণ হলো-এই বদ নজরের প্রভাবগুলোকে যেন বেঁধে রাখা হয়, আটকে রাখা হয়।
কারণ, যদি এই বদ নজর ও হিংসার প্রভাবগুলো বের হয়ে যায়, তাহলে শাইত্বানদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আসলে এই “চোখের প্রভাব” এবং হিংসাই তাদের শক্তির মূল উৎস। এগুলো ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারে না।
এজন্যই তারা সবসময় চেষ্টা করে-মানুষের বদ নজর, জিনের বদ নজর-সবকিছু একত্র করে আক্রান্ত ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দিতে।
এমনকি যখন তারা দেখে যে এই বদ নজরের প্রভাব দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, তখন শাইত্বান নিজেরাই আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি হিংসা করতে শুরু করে। তাদের সহযোগীরাও হিংসা করতে থাকে -যাতে যাদুর শক্তি আবার বাড়ে এবং সেটা টিকে থাকে।
এই জায়গাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-আপনি যদি চিকিৎসা শুরু করতে চান, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত “হিংসার চিকিৎসা” শুরু করা। কারণ হিংসা ও বদ নজর যাদুর মূল ভিত্তি।
যখন আপনি হিংসার বা হাসাদের চিকিৎসা শুরু করবেন, তখন আসলে আপনি যাদুর ভিতেই আঘাত করছেন। ফলে যাদু দুর্বল হয়ে যাবে এবং পরবর্তী চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এতে করে আপনার কষ্টও কম হবে।
তাই শুধু যাদু নষ্টের চেষ্টা না করে-প্রথমে তার ভিত্তিটা ধ্বংস করুন। আর সেই ভিত্তি হলো-হিংসা ও বদ নজর।
আর একটি বিষয় মনে রাখবেন-শুধু মানুষের বদ নজর নয়, জিনের বদ নজর প্রভাব থেকেও মুক্ত হওয়া জরুরি।
নিচের দোয়াগুলো পড়তে পারেন-
اللَّهُمَّ يَا عَلَّامَ الْعُيُوبِ، يَا مُطَّلِعًا عَلَى الْخَفَايَا...
হে গোপন বিষয়সমূহের জ্ঞানী আল্লাহ, আপনি আমার সব দুর্বলতা জানেন...
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ عَيْنٍ تَرَانَا وَلَا نَرَاهَا...
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই সেই চোখের অনিষ্ট থেকে-যে আমাকে দেখে কিন্তু আমি তাকে দেখি না...
اللَّهُمَّ أَخْرِجْ يَا رَبِّ مِنْ جَسَدِي كُلَّ عُيُونٍ وَنَظَرَاتِ الْجَانِّ...
হে আল্লাহ, আমার শরীর থেকে জিনদের সব দৃষ্টি ও প্রভাব বের করে দিন...
اللَّهُمَّ أَخْرِجْ مِنْ جَسَدِي كُلَّ عُيُونٍ وَنَظَرَاتِ الشَّيَاطِينِ...
হে আল্লাহ, আমার শরীর থেকে শাইত্বানদের সব কুদৃষ্টি বের করে দিন...
بِسْمِ اللَّهِ تَخْرُجُ أَنْفُسُ السَّحَرَةِ وَالسَّاحِرَاتِ وَنَظَرَاتُهُمْ وَعُيُونُهُمْ، وَتَرْجِعُ عَلَيْهِمْ نَارًا وَعَذَابًا وَأَلَمًا وَمَرَضًا...
আল্লাহর নামে-যাদুকর ও যাদুকারিণীদের দৃষ্টি ও প্রভাব বের হয়ে যাক এবং তাদের উপরই তা ফিরে যাক শাস্তি, কষ্ট ও রোগ হয়ে...
بِسْمِ اللَّهِ تَخْرُجُ عُيُونُ إِبْلِيسَ وَذُرِّيَّتِهِ وَنَظَرَاتُهُمْ وَأَنْفُسُهُمُ الْخَبِيثَةُ...
আল্লাহর নামে -ইবলিস ও তার বংশধরদের কুদৃষ্টি ও নোংরা প্রভাব বের হয়ে যাক...
بِسْمِ اللَّهِ تَخْرُجُ كُلُّ عَيْنٍ وَنَفْسٍ مَارِدَةٍ...
আল্লাহর নামে-প্রত্যেক অবাধ্য ও ক্ষতিকর দৃষ্টি ও কু-প্রবৃত্তি বের হয়ে যাক...
শেফার জন্য যোগাযোগ করুন 01700-553796