Switch Jute & Handicrafts

Switch Jute &  Handicrafts Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Switch Jute & Handicrafts, 41/1, Road no 3, Dhaka Uddan, Mohanandapur.

13/12/2018

Organized By: Switch Bangladesh Foundation
Sponsored By: Rotary Club Of Dhaka North West
Courtesy By: ACI

05/12/2018

"সবাই মহামানব হতে পারে কারন যে কেউ সেবা করতে পারে। সেবা করার জন্য আপনার কোন কলেজ ডিগ্রির দরকার হবে না। সাবজেক্ট-ভার্ব এগ্রিমেন্টের মতো জটিল বিষয়ও আপনাকে জানতে হবে না। শুধুমাত্র মায়ায় পূর্ণ হৃদয় আর ভালবাসায় মোড়ানো আত্মা থাকতে হবে।"----
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

“Everybody can be great because anybody can serve. You don't have to have a college degree to serve. You don't have to make your subject and your verb agree to serve. You only need a heart full of grace, a soul generated by love.” -- Martin Luther King Jr.

01/12/2018
 Every year, 8 million metric tons of plastic end up in our oceans. It’s equivalent to five grocery bags filled with pla...
09/08/2018



Every year, 8 million metric tons of plastic end up in our oceans. It’s equivalent to five grocery bags filled with plastic for every foot of coastline in the world. In 2025, the annual input is estimated to be about twice greater, or 10 bags full of plastic per foot of coastline. So the cumulative input for 2025 would be nearly 20 times the 8 million metric tons estimate – 100 bags of plastic per foot of coastline in the world.

Help save the world and join the Now or Never team here: https://goo.gl/forms/Op2GVqvVGQzew0El1 We all know it. Plastic bags are bad. They are leading to pla...

 #পাটের_নতুন_সম্ভাবনায়_বাংলাদেশবাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পাটের বহুবিধ ব্যবহার অনেক বেড়েছে। পাটের কদর এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট...
08/08/2018

#পাটের_নতুন_সম্ভাবনায়_বাংলাদেশ

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পাটের বহুবিধ ব্যবহার অনেক বেড়েছে। পাটের কদর এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ সকল সমৃদ্ধ দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময়ের সোনালী আঁশকে নিয়ে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখছেন পাট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলো।

আগামী দিনগুলোতে পাটের বহুমুখী পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে এবং পাটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, এ খাতে গবেষণা বাড়ানো, পাটনীতি প্রণয়ন, সংস্কারের আওতায় আসছে জুটমিল করপোরেশন এবং পণ্যে ব্যবহৃত পলিথিনের ওপর ইকো ট্যাক্স আরোপ।

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পাটের বহুবিধ ব্যবহার অনেক বেড়েছে। পাটের কদর এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ সকল ...

 #পাট_শিল্প_ও_বাংলাদেশঃ_পাট_শিল্পের_ইতিহাস।উদ্ভিদ বিদ্যামতে পাট করকোরাস (Corchorus) শ্রেণীর গাছ-জাত। এ শ্রেনীর গাছ-গাছড়া...
08/08/2018

#পাট_শিল্প_ও_বাংলাদেশঃ_পাট_শিল্পের_ইতিহাস।

উদ্ভিদ বিদ্যামতে পাট করকোরাস (Corchorus) শ্রেণীর গাছ-জাত। এ শ্রেনীর গাছ-গাছড়া সর্বপ্রথম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জন্মায় ও পরে ভারতবর্ষ ও আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮২০ খ্রীস্টাব্দে অক্সফোর্ডের নিকটবর্তী এবিংডনে পরীক্ষামূলকভাবে সর্বপ্রথম পাটের আঁশ দিয়ে সুতা পাকানোর চেষ্টা চলে। সেই সময় স্কটল্যান্ডের ডান্ডি অঞ্চলে পাটের সুতা পাকানোর কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। নেপোলিয়ানের সময়কার যুদ্ধের পর রাশিয়া হতে লিনেন ও শনের আমদানী বন্ধ হইয়া যাবার পর ১৮২২ খ্রীস্টাব্দে ডান্ডির উৎপাদকগন পাটের আঁশ হতে সুতা পাকাইতে বাধ্য হয়।

প্রায় দশ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাহারা পাট হইতে চমৎকার সুতা পাকাইতে সক্ষম হয়।১৮৫০ খ্রীস্টাব্দের মধ্য এ অঞ্চলের পাট শিল্প সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। পাট শিল্পে বাংলাদেশঃ মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ুর এবং মাটির কারনে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পাট এ অঞ্চলেই জন্মে। সেই সুবাদেই ১৯৫১ খ্রীস্টাব্দে বাংলাদেশের নারায়নগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যার তীরে ২৯৭ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিল্স।

এটি ছিল তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ২য় পাট কল (প্রথমটি হল বাওয়া পাট কল)।এর আগে সমস্ত পাট রপ্তানী হতো বিদেশের বাজারে। আদমজীকে এক সময় বলা হতো প্রাচ্যের ডান্ডি (স্কটল্যান্ডের ডান্ডির নামানুসারে)। পরবর্তীতে মূলত ষাট ও সত্তর এর দশকে দেশে অসংখ্য পাটকল স্থাপিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানের বাংলাদেশ) এর উন্নতমানের পাট ব্যবহার করে আদমজী পাটকলে উৎপাদিত হতো চট, কার্পেটসহ বিভিন্ন প্রকার পাটজাত দ্রব্য। যা দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি হতো চীন, ভারত, কানাডা, আমেরিকা, থাইল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এ সময় আদমজী জুট মিল হয় পৃথিবীর অন্যতম জুট মিল এবং এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ কারখানা ছিল। ঐ সময় এ মিলের উৎপাদন হইতে বছরে ৬০ কোটি টাকা আয় হত।

ক্রান্তিকালঃ ১৯৭০ এর দশকে প্লাস্টিক ও পলিথিন পাটতন্তুর বিকল্প হিসেবে আত্নপ্রকাশ করলে আদমজী পাটকলের স্বর্ণযুগের অবসান হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এটিকে জাতীয়করণ করা হয়। তখন থেকে ১৯৮০ এর দশকের কয়েকটি বছর ব্যতীত অন্য সব বছর এটি বিপুল পরিমাণে লোকসান দেয়। শ্রমিক ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর বাধা সত্ত্বেও ২০০২ খ্রীস্টাব্দের ২২শে জুন এই কলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতায় একের পর এক মিল বন্ধ হতে থাকে।

অনেক বিশেষজ্ঞদেরে মতে শুধুমাত্র আদমজী বন্ধ করার মাশুল এ দেশকে বহুবছর দিয়ে যেতে হবে।

বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক ও এর প্রভাবঃ ২০০১ সালে যুক্তরাষ্টের পরিবেশ সংরক্ষন বিষয়ক দপ্তর (ইপিএ) খুঁজে পেয়েছে বিশ্বব্যাপী প্রতি মিনিটে প্রায় ১ মিলিয়ন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ পুনঃব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে (বিবিসি,সিএনএন)। সঠিক পরিবেশ পেলে একটি প্লাস্টিক ব্যাগ প্রাকৃতিক পরিবেশে মিশে যেতে প্রায় ১০০০ বছর লাগে।এটি মাটির মধ্যে অবস্থান করে অক্সিজেন ও পানির প্রবাহকে ব্যাহত করে। পোড়ানো হলে এর বিষাক্ত ধোঁয়া বায়ু দূষন করে , সমুদ্রে পড়লে আরও অনেক বেশী ক্ষতি সাধন করে। বিশ্বজুড়ে এর ভয়াবহতা বুঝতে পেরেই ২০০৩ থেকে এই পর্যন্ত আফ্রিকা, এশিয়া প্যাসিফিক, দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র সহ আরো অনেক দেশে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হতে থাকে। তখন বিকল্প হিসেবে পুনঃব্যবহারযোগ্য কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের কথা ভাবা হয়। কিন্তু যখন স্বাস্থ্য বিনষ্ট, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষনের কথা মাথায় আসে তখন সবার প্রথম পছন্দ হিসেবে চলে আসে পরিবেশ বান্ধব “পাট”।


সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অগ্রগতিঃ দুঃখজনকভাবে এ শিল্প বহুভাবে অবহেলিত হলেও, পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবেশ বান্ধবের কারনে সরকার এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরে কিছু যুগোপযুগী পদক্ষেপ গ্রহন করেন। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। যেমনঃ-
• পাটখাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে “পাটনীতি” প্রণয়ন করা হয়েছে।
• জাতীয় সংসদে “পণ্যের মোড়কীকরণে পাট পণ্যের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০” পাশ করেছে।
• বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাট উৎপাদক ও রপ্তানীকারক সংস্থা “বিজেএমসি”কে (বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন) আধুনিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে।
• পাটপণ্যের পরিচিতির জন্য দেশীয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
• বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে ও নতুন শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
• সম্প্রতি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক “গোল্ডেন ফাইবার” এর নাম পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে দেশের পাট খাতের জন্য ১ বিলিয়ন টাকা পুনঃঅর্থনৈতিক সংস্থানের তহবিল তৈরির ঘোষণা করে।
• ১৯/০৮/২০১৩ ইং তারিখে বাংলাদেশ পাট গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর বিজ্ঞানী ড. মকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশি পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। অবশ্য এর আগে তারা এর পাটের আরেকটি জাত তোষা পাট ও পাটের জন্য ক্ষতিকারক একধরনের ছত্রাক ম্যাক্রোফোমিনা ফ্যাসিওলিনার জীবন রহস্য আবিষ্কার করেছিল। যার সুফল অচিরেই এ শিল্পের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

বর্তমান অবস্থাঃ বর্তমানে পাট শিল্প আবার তাঁর হারানো গৌরব ফিরে পেতে গুরু করেছে। সরকারী পাটকল গুলোকে আধুনিকায়ানের লক্ষ্যে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে যুগোপযুগী প্রশিক্ষন ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত আছে। বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করার ফলে ১৯৮২-৮৩ সালের পর প্রথমবারেরমত “বিজেএমসি” ২০১০-১১ অর্থ বছরে ১৯.৫২ কোটি টাকা লাভ করে (সূত্রঃ বিজেএমসি বুলেটিন-এপ্রিল,২০১৩)। বর্তমানে দেশে সরকারী, বেসরকারী মিলে ১০০ এর বেশী পাটকল চালু আছে। দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাট খাতের সঙ্গে জড়িত। পাটকলগুলোর উৎপাদিত পণ্যসমূহ হেসিয়ান, সেকিং, সিবিসি, জিওজুট/সয়েল, সেভার কম্বল, শপিং ব্যাগ,পাট ও প্লাস্টিকের সমন্বয়ে আসবাবপত্র ইত্যাদি। বর্তমানে বিশ্বের ৮৪ টি দেশে বিজেএমসির পাট ও পাটজাত পণ্য গৌরবের সাথে রপ্তাণী হচ্ছে এবং ১০০ এর বেশী দেশে রপ্তানীর সুসম্পর্ক বজায় আছে। বিশ্বে পাট পণ্য ব্যবহারের ৭৫ ভাগই প্যাকেজিং আইটেম। তাই পাটের বহুমুখী ব্যবহার ধরে রাখতে নতুন ও ভিন্নধর্মী পণ্য আবিষ্কারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।নতুন পণ্য তালিকায় আছে জুট প্লাস্টিক,দেয়াল আবরণী,বৃহদাকার ব্যাগ,চা-ব্যাগ,জিও-জুট,কম্বল,জুতো-স্যান্ডেল,স্কুল ব্যাগ, ব্রীফকেস, হ্যাট-টুপি ইত্যাদি।

পরামর্শঃ • সরকারী পাটকল গুলোতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধন করতে হবে। এর ফলে যেমন হালকা ও উন্নতমানের ফেব্রিক তৈরী করা সম্ভব হবে তেমনি উৎপাদন খরচও কমবে। • বিশ্বব্যাপী পাট খাতের এ ব্যাপক চাহিদার সুবিধা গ্রহন করার লক্ষ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেমনঃ- টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও জুট টেকনোলজির মত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে। • দূর্নীতি রোধকল্পে কাঁচামাল ক্রয় পদ্ধতিগতভাবে সহজতর করতে হবে। • পাট কমিশনের সুপারিশমতে পাট খাতকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে ঘোষনা করা প্রয়োজন। • পাটপণ্য নিয়ে গবেষনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আধুনিক করে গবেষনায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। • আন্তর্জাতিক বাজারের পরধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। • যেহেতু এটি একটি উজ্জল সম্ভাবনাময় খাত, সেহেতু এ খাতের জন্যে সরকারী বিষেশ প্রনোদনা থাকতে হবে। • সর্বপরি দেশে কলকারখানা বান্ধব অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সর্বশেষঃ পাট শিল্প হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র ভারী শিল্প যেখানে একশতভাগ দেশীয় কাঁচামাল, জনবল এবং দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। পাটের পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের জন্য পাটজাত পণ্যের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জল। জীবনরহস্য আবিষ্কারের মাধ্যমে পাটের সকল রহস্যও এখন আমাদের বিজ্ঞানীদের হাতে।পাটকলগুলোতে সময় উপযোগী পণ্য উৎপােদনের লক্ষ্যে এবং আরো আধুনিকায়নের জন্য BMRE (Balancing, Modernization, Rehabilitation and Expansion) এর কাজ শুরুর পথ ।
উৎস ঃtextilebangla24

 #বাংলাদেশে_পাটের_ইতিহাসব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় এবং পাকিস্তানি আমলে পূর্ব বাংলায় (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) পাটজাত দ্র...
08/08/2018

#বাংলাদেশে_পাটের_ইতিহাস

ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় এবং পাকিস্তানি আমলে পূর্ব বাংলায় (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) পাটজাত দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন ছিল একক বৃহত্তম শিল্প। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর জাতীয় জিডিপি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই শিল্পের অবদান হ্রাস পায় ।
১৮৮৫ সালে জর্জ অকল্যান্ড একজন বাঙালি অংশীদার (শ্যামসুন্দর সেন) নিয়ে কলকাতার হুগলি নদী তীরবর্তী রিশড়া নামক স্থানে প্রথম পাটকল স্থাপন করেন। পাটভিত্তিক শিল্প স্থাপনের অনুপ্রেরণা আসে স্কটল্যান্ডের ডান্ডি থেকে। নেপোলিয়ানের যুদ্ধের সময় ঘন ঘন নৌ-অবরোধের ফলে রাশিয়ার শন জাতীয় গাছের কারখানাগুলি বিকল্প হিসেবে পাট ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। ১৮৩২ সালে বেলফোর ও মেলভিলের কারখানাগুলি কলকাতার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচাপাট আমদানি করে এবং এই কাঁচাপাটের সঙ্গে তিমির তেল ও পানি মিশিয়ে পাট নরম করে নেয়। ১৯৩৮ সালে এই নতুন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়। এ সময় ডান্ডির মিলগুলি জাভা থেকে আমদানি করা চিনির জন্য ডাচ সরকারের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যাগ তৈরির কার্যাদেশ পায়। ডাচ সরকার এই তৈরিকৃত পাটের ব্যাগ গ্রহণ করে এবং এই মোটা ক্যানভাস বিশেষ সামগ্রী হিসেবে স্থায়ীরূপ লাভ করে। এই ব্যবস্থা কাপড় ও ব্যাগ উৎপাদনে পাটের ব্যবহার শুরুতে সহায়তা করে। ফলে পাটশিল্পে নতুন প্রেরণার সূচনা হয়। অবশ্য ক্রিমিয়ার যুদ্ধই (১৮৫৪-৫৬) প্রকৃতপক্ষে পাটশিল্পকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে। বিশ্ববাণিজ্য প্রতি বছর শতকরা ৫ ভাগ বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে ঔপনিবেশিক অঞ্চল থেকে বিকল্প অাঁশ সহজলভ্য হলে ডান্ডির কারখানাগুলি আর অলসভাবে বসে থাকে নি। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ (১৮৬১-৬৫) এই বিকল্প প্রক্রিয়ায় আরো উৎসাহ প্রদান করে। এই যুদ্ধের ফলে আমেরিকা থেকে তুলার সরবরাহ অনেকাংশেই সীমিত হয়ে পড়ে। কারণ পরিখা যুদ্ধকালে ইউনিয়ন এবং কনফেডারেসির সৈন্যদের জন্য মোটা বস্তা ও বালির বস্তা, পাটের অাঁশ দিয়ে পাকানো সুতা, দড়ি সরবরাহ বিঘ্নিত হয় এবং মূল্যও বৃদ্ধি পায়। ফলে ডান্ডির টেকসই বিকল্প অাঁশের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। উভয় ক্ষেত্রেই এই শিল্প নতুন ব্যবহারকারীর সন্ধান পায় যারা আর কখনো শন বা তুলার ব্যবহারে ফিরে যায় নি।

১৮৯৫ থেকে ১৯১২ সালের মধ্যে বিশ্বে পাটের চাহিদা শতকরা ৩০০ গুণ বৃদ্ধি পায় এবং যুদ্ধের বছরগুলিতে এর পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পায়। ১৯২০-২১ এবং ১৯২৯-৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২১টি পাটকল স্থাপিত হয় এবং ১৯৩০ সালের মধ্যে মোট তাঁতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪০০০-এ উন্নীত হয়। এর পাশাপাশি সপ্তাহে কর্ম-সময় ৫৪ ঘন্টা থেকে ৬০ ঘন্টায় বৃদ্ধি পায়।
১৯৩৫-৩৮ সালের পরিশোধিত মূলধনের প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ ৭% থেকে ১৯৪২ সালের মধ্যে ৫২%-এ উন্নীত হয় এবং ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে প্রকৃত মুনাফা ৪০%-এ অবস্থান করে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারত ও পাকিস্তান একে অন্যের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সব পাটকল ভারতে অবস্থিত হলেও শতকরা ৮০ ভাগ পাট উৎপাদনের এলাকা ছিল পাকিস্তানে। অন্যদিকে, ভারতকে তার মিলগুলি চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচাপাটের অধিকাংশ আমদানি করতে হতো, আর পাকিস্তানের সমস্যা ছিল তার কাঁচাপাট বিক্রয়ের। এ অবস্থায় দুটি দেশ তাদের সীমান্ত দিয়ে পাটজাত দ্রব্য সামগ্রী মুক্তভাবে চলাচলের জন্য ১৯৪৭ সালে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
পূর্ব পাকিস্তানের পাটকলগুলি ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিয়েই মূলত বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু মুদ্রার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে ভারত রপ্তানি বাণিজ্যে নিজের পক্ষে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে।
বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের দিকে পাট উৎপাদন খাতে অ-বাঙালিরাই ছিল বেসরকারি বিনিয়োগকারী, কিন্তু ষাটের দশকের প্রথমদিকে কিছু বাঙালি উদ্যোক্তা এই খাতে বিনিয়োগের উৎসাহ প্রকাশ করে।
স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর অ-বাঙালি এবং দেশ ত্যাগ করে চলে যাওয়া মালিকদের পাটমিলগুলির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সরকার জুট বোর্ডকে নির্দেশ দেয়।
১৯৭২ সালের মার্চ মাসে সরকার দেশের বিভিন্ন খাতের সব শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ করে। আর্থিকভাবে টাকার অবমূল্যায়ন শতকরা ৬৬ ভাগ হওয়ার কারণে ১৯৭৫-৭৬ সাল থেকে ১৯৭৮-৭৯ সাল পর্যন্ত বিজেএমসি-র আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষতির মূল কারণ ছিল কাঁচাপাটের মূল্য বৃদ্ধি, গুদামজাতকরণের বর্ধিত ব্যয়, খুচরা যন্ত্রাংশের উচ্চমূল্য, মজুরি ও বেতন বৃদ্ধি এবং অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতি।
১৯৭৫ সালে সরকার পরিবর্তনের পর পাটশিল্পের সমস্যার পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ বা দক্ষ কমিটি নিয়োগ দেয়া হয়। কমিটি এর পর্যালোচনায় উল্লেখ করে যে, মিলগুলির ক্ষতির কারণ হলো: (ক) কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের নৈতিক অবক্ষয়; (খ) প্রশাসনের সর্বস্তরে অপর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ও তদারকি; (গ) উদ্ধুদ্ধকরণ ও প্রণোদনার পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং একত্ববোধের অভাব; এবং (ঘ) নির্বাহি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার অভাব।
১৯৭৯-৮০ সালে বিশেষজ্ঞ বা দক্ষ কমিটির সুপারিশ অনুসারে শিল্প-কল-কারখানার বিরাষ্ট্রীয়করণ শুরু হয় এবং কমিটির সুপারিশ অনুসারে ৩জন বাংলাদেশি মালিকের পাটকল ফেরত দেয়া হয় এবং এরূপ অন্য ৩টি মিল বাংলাদেশিদের নিকট নিলামে বিক্রয় করা হয়।
কেন্দ্রীয়ভাবে কাঁচাপাট ক্রয়, বিক্রয়, আনুপুঙ্ক্ষিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য পূর্বোল্লেখিত কারণ ছাড়াও এরূপ ক্ষতির কারণগুলি হচ্ছে: (ক) ভারত কর্তৃক পাটজাত দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য হ্রাস; (খ) বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি; এবং (গ) শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি।

যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের পাটশিল্প বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা করে আসছে: (ক) স্থবিরতা বা রপ্তানি মূল্য হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি; (খ) পুরাতন যন্ত্রপাতির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস; (গ) শ্রমিক সমস্যা; (ঘ) বহুবিস্তৃত দুর্নীতি; (ঙ) অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং এর ফলে পুঞ্জীভূত বিশাল পরিচালন লোকসান প্রভৃতি বহুবিধ কারণে এক সময়ের একটি গতিশীল শিল্প বর্তমানে ‘অস্তমিত’ শিল্প হিসেবে অভিহিত হচ্ছে এবং সোনালি অাঁশ তার ঔজ্জ্বল্য অনেকাংশে হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু বর্তমানেও পাটশিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে: পাটশিল্পের ৪০% উৎপাদন ক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও এই শিল্প প্রায় দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
উৎস ঃ বাংলাপিডিয়া

08/08/2018

Address

41/1, Road No 3, Dhaka Uddan
Mohanandapur
1207

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Switch Jute & Handicrafts posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share