16/09/2026
আসতে যা পড়ে যাবি, সামনে খাল আছে এত কিসের খুশি তোর আজকে। এটা বলে ছোঁয়া সুনেরিয়ার পিছনে ছুটতে লাগলো। সুনেরিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে একবারে নদীর কিনারায় চলে আসে। নদীর এক পাশ থেকে কিছু কাশফুল তুলে নেয় হাতে তা নিয়ে বসে পড়ে নদীর কিনারায়। পিছন থেকে ছোঁয়া এসে কাঁদে ঝাঁকিয়ে বলে এবার বলতো তোর আজকে কিসের এত আনন্দ। বেবি বেবি বেবি বেবি তুই জানিস না আজকে ভার্সিটিতে কি হয়েছে। আচ্ছা তুই যদি না বলিস তাহলে আমি কি করে জানব টিফিনের পর কোথায় গিয়েছিলে আগে সেটা বল। সুনেরিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে আর মিটিমিটি হাসতে থাকে। তাকে চুপ করে থাকতে দেখে ছোঁয়া আবার বলতে শুরু করে কিরে বলবি তো কোথায় গিয়েছিলি।
• আজকে না আমি প্রপোজাল পাইছি জানিস কার কাছ থেকে। ছোঁয়া অবাক হয়ে বলতে থাকে তোকে আবার কে প্রপোজ করল। এটা শুনে সুনেরিয়া অভিমানী মুখ করে বললো কেন আমি কি দেখতে সুন্দর না আমাকে কেউ প্রপোজ করতে পারবেনা। ছুঁয়া একটি মুচকি হাসি দিয়ে বলল আচ্ছা বাদ দে বল ছেলেটাকে। আচ্ছা বলতো আমাদের ভার্সিটিতে সবচেয়ে হ্যান্ডসাম ছেলেটা কে। এটা বলে থেমে যায় সুনেরিয়া । ছোঁয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলতে শুরু করে বাই এনি চান্স তুই কি অভিক ভাইয়ের কথা বলছিস । সুনেরিয়া উপর নিচ মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বোঝাই।
_____________________________
সুনেরিয়া ম্যাম আপনার জন্য স্যার গাড়িতে ওয়েট করতেছি। এটা শুনে দুজনে অবাক হয়ে যায়, ছুঁয়া সুনেরিয়া কে খোঁচা মেরে বলতে থাকে কিরে এখন থেকেই এতো কেয়ার অভিক ভাইয়া তো খুব কেয়ারিং। সুনেরিয়া লাজুক হাসে । কিরে তুই কি অভিক ভাইয়ার প্রপোজ একসেপ্ট করে নিয়েছিস যে ভাইয়া এখানে এসেছে । আরে না আমি তো সময় নিয়েছি। তাহলে কে এসেছে তোকে নেওয়ার জন্য তাও আবার গাড়ি নিয়ে । আগন্তুক পুনরায় বললো ম্যাম চলুন স্যার অপেক্ষা করছে আপনার জন্য গাড়িতে । এবার দুজনে উঠে দাঁড়িয়ে পেছনদিকে ফিরলো। জানালার ভেতর দিয়ে যে চেহারাটা সুনেরিয়া দেখলো তা দেখে বিশ্বাস করার মত ছিল না। ভাইয়া এখানে অবাক হয়ে সুনেরিয়া কথাটি বললো। ভাইয়া মানে এটা তো আলভি না এটা আবার তোর কোন ভাইয়া। আরে আমার বড় চাচার ছেলে রায়ান ভাইয়া। ওওও যে আমেরিকাতে থাকে সে এখানে আসবে কি করে । আমি জানি না তবে ওনি তো বাড়িতে আসতেই চান না তবে এখানে কিভাবে। ম্যাম চলুন স্যার অপেক্ষা করছে দেরি হলে স্যার রেগে যাবে । এটা বলে আগন্তুক চলে যায় । পিছনে রেখে যায় দুজোড়া বিস্মিত চোখ।
_____________________________
তবে গাড়ির কাছে আসতেই গাড়ির ভেতরে বসে থাকা লোকটির সে ধারালো তীক্ষ্নচোখ দুটো দেখে বয় গুটিয়ে যায় সপ্তদর্শী। লোকটি যে গাড়ি থেকে নেমে দাড়ালো তার দিকে তাকিয়ে যেন সপ্তদর্শী সব ভুলে বেভুলার মত তাকিয়ে রইল। ধ্যান ফিরলো লোকটির কোথায় ।তোর তো এই সময় বাড়িতে থাকার কথা তবে তুই এই সময়ে নদীর পাড়ে কি করছিস। এটা বলে যেই না সপ্তদশী দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিল তখনই চোখে পড়ে যায় ব্যাগ থেকে অর্ধেক বের হওয়া কার্ড গুলো । ব্যাগে এসব কিসের কার্ড বলেই কাঁধ থেকে ব্যাংকটি ছিনিয়ে নেয়। সেই সময় ছোঁয়া কে কার্ডগুলো দেখানোর সময় ব্যাগের চেইন লাগাতে ভুলে যায় । এখন সেই ভুলের মাসুল গুনতে হচ্ছে তাকে। ভাইয়া আসসসলে আমি সুনেরিয়া কিছু বলবে তার আগেই পরপর ৪ কি থাপ্পড় এসে পরে তার দুগালে। এতো বছর পর চাচাতো ভাইয়ের সাথে দেখা হলো তোও আদর এর পরিবর্তে থাপ্পড় কপালে জুটলো । দু গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুনেরিয়া । কার্ডগুলো হাতে নিয়ে রাগে রীতিমতো কাঁপছে রায়ান। ব্রাউন কালার চোখের মনি দুটোর রং ধারণ করেছে রক্ত বর্ণ।
#সূচনা
#আমি_শুধু_তোর_destiny
#মনি
related
#থ্রিলার/সাইকো/টক্সিক লাভ স্টোরি/obsessed .