Last Page

Last Page Average man

20/11/2025

সে যে কেনো এলো না
আর ভালো লাগে না 🤦‍♂️

হেলো ফ্রেন্ডস৷ মাইন্ড ব্যাড। মাঝে একটু মজা করতে নেশা শুরু করেছিলাম। সকাল আর সন্ধ্যায় কিঞ্চিৎ ক্যাটফুড খেতাম। তারপর ধীরে ...
18/06/2025

হেলো ফ্রেন্ডস৷ মাইন্ড ব্যাড।

মাঝে একটু মজা করতে নেশা শুরু করেছিলাম। সকাল আর সন্ধ্যায় কিঞ্চিৎ ক্যাটফুড খেতাম। তারপর ধীরে ধীরে ভাত খাওয়া ছেড়ে দেই।

ক্যাটফুড না দিলে সবার কানের পর্দা ফাটিয়ে চিল্লানোর পাশাপাশি গৃহবাসীকে আর জীবনেও কোনো বিড়াল না পালার সিদ্ধান্ত নিইয়ে ছাড়তাম। পর্দায় ঝুলে উড়াউড়ি করতাম।

শাস্তিস্বরুপ তিনদিন থেকে ক্যাটফুড খাওয়া বন্ধ।

যাইহোক, এখন ঘুমাবো। মধ্যরাতে উঠে ঘরের ভেতর চরকির মতো ঘুরে তান্ডব চালাবো। তাই কিঞ্চিৎ শক্তি সঞ্চয় করছি।

গতকাল দুইটা এক্সপেন্সিভ ল্যাম্প ভেঙ্গেছি। আজ কী ভাঙ্গা যায়?

কাল সকালে বৃষ্টি না হলে পাশের বিল্ডিং এ সেক্স করতে যাবো৷

ভাবতেই ভালো লাগছে৷

এক জুনিয়র কলিগ মুখ অন্ধকার করে এসে জানালো, বস একটা কিছু করেন। পোলাপান আমাকে হাতির নুনু নামে ডেকে বুলি করতেসে!পরে তদন্ত ক...
17/06/2025

এক জুনিয়র কলিগ মুখ অন্ধকার করে এসে জানালো, বস একটা কিছু করেন। পোলাপান আমাকে হাতির নুনু নামে ডেকে বুলি করতেসে!

পরে তদন্ত করে জানলাম, এক বিটলা শ্লারপুত বলেছে, হাতির নুনুর এভারেজ সাইজ হয় পাঁচ ফিট তিন। যেহেতু তোর হাইট পাঁচ ফিট তিন, তাই আজকে থেকে তোর নাম হাতির নুনু। সংক্ষেপে - হানু।

আসলে বাইট্টাদের জীবন খুব কষ্টের। কষ্ট ভুলতে নেশা করে যে হাই হবে, সেই উপায়ও নাই।

ওদের দৌড় ওই মিডিয়াম হওয়া পর্যন্তই!

১.তখন আমার বয়স চব্বিশ। পত্রিকার অফিসে সামান্য একটা কাজ করি। এর মাঝে আবার সাহস করে বিয়েও করে ফেলেছি। আব্বার কাছে টাকা চাই...
16/06/2025

১.

তখন আমার বয়স চব্বিশ। পত্রিকার অফিসে সামান্য একটা কাজ করি। এর মাঝে আবার সাহস করে বিয়েও করে ফেলেছি। আব্বার কাছে টাকা চাইতে লজ্জা লাগে। তাই ঘুরে ঘুরে নানান জায়গায় ইন্টারভিউ দিই; আর রাতে বাড়ি ফিরে বই লিখি, বই পড়ি। নতুন বৌ একটু পরপর চা বানিয়ে দেয়। আমি টাইপরাইটারের সামনে বসে ভোস ভোস করে সিগারেট টানি। আর কয়েকপাতা লিখে একটু পর পর ওকে পড়তে দিই। ফারজানা বলে, একদিন আপনি অনেক বড় লেখক হবেন। আমি বলি, বাল হবো। ও রাগ করে বলে, আরেকবার এসব বললে থাপ্পড় খাবি শাউয়ার নাতি।

একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই ফোন করে বললেন, সেজেগুজে আমার অফিসে চলে আয়। আর শোন, ফকিন্নির মতো আসবি না। টাই পরবি।

আমি সেলুনে গিয়ে বহু সাধনা করে বড় করা লম্বা চুল-দাড়ি বিসর্জন দিয়ে বেবিটেক্সিতে করে অফিসে যাই। সে এক দীর্ঘ ইন্টারভিউ। প্রথমে স্ক্রিনিং। তারপর লিখিত। তারপর আবার প্রেজেন্টেশন। সব মিলিয়ে মাথা নষ্ট অবস্থা। পনেরোদিন পর বাসায় চিঠি আসে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। একটা ব্রির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে যোগদান করতে বলা হলো আমাকে।

তখন বাজারে আমার বই আছে দু’টা। কেউ বাল দিয়েও গোনেনি। পত্রিকায় কাজ করি, তারপরও কবিতা ছাপাতে পারি না। রাগে ক্ষোভে সব পুড়িয়ে আমি শ্রমিক হিসেবেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। শুরু হয় কর্মজীবন। দশটায় অফিসে ঢুকি। ছয়টায় বের হই। কিছুই ভালো লাগে না। জীবনটাকে মনেহয় এক শাউয়ার বাল। সন্ধ্যার পর জহির মামুর দোকানে গিয়ে আড্ডা মারি। বাড়ি ফিরতে ফিরতে নয়টা। আমি আর ফারজানা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে গল্প করি। ও বলে, ভালো না লাগলে চাকরি করার দরকার নাই।

আমি মনে সাহস পাই। বলি, আচ্ছা।

পরদিন অফিসে গিয়ে ঝিমাই। আশে-পাশে কেউ না থাকলে খুব সাবধানে মিনিট পনেরো ঘুমিয়ে নিই। ভাবি, আর রাত জাগবো না।

কিন্তু লেখালিখি আর বইয়ের নেশায় ঘুমানো হয় না।

একদিন বস ডেকে কঠিন ঝাড়ি দিলেন। মনে মনে খুশি হলাম। ভাবলাম, বের করে দিলে হাপ ছেড়ে বাঁচি আমি।

পরের মাসের দুই তারিখে বেতন হলো।

আমার হাতে বত্রিশ হাজার টাকা। পাঁচশ টাকার কচকচে নোট।

১৯৯৯ সাল। সে সময়ের ম্যালা টাকা।

বেতন পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে হুশ হারালাম। ছুটির পর বের হয়ে ইচ্ছেমতো খরচ করলাম। বাড়ি ফিরলাম একগাদা হাবিজাবি নিয়ে।

সেদিন বাড়ি ফিরে বই পড়া হলো না। ফারজানা আর আমি ঠিক করলাম, মাস ছয়েক টাকা জমিয়ে ভূটান যাবো।

তারপর ধীরে ধীরে রাত জাগা বন্ধ হলো। কবিতারা দূরে গেলো। উড়ে গেলো লেখক হবার স্বপ্ন।

অথচ রাত নিয়ে একবার কবিতা লিখেছিলাম আমি।

---

আজকেও রাত জাগবে? জানতে চাইলো সে।

হ্যাঁ, জেগে থাকবো। রাতের আলগোছে ফেলে দেওয়া চুলের প্রেমে পড়েছি আমি।

আমি রাতের প্রেমিক, রাতের পূজারি। রাত আমাকে গিলে খায়। প্রচন্ডভাবে জড়িয়ে আমার দম বন্ধ করে দেয়। কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলে, ঘুমিয়ে পড়বি?

বিশ্বাস করো, ঘুমাতে আমার খারাপ লাগে না। এই পৃথিবীর পথে প্রান্তে উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্তি আমার পা দু'টোকে শেকড়ের মতো জড়িয়ে নিয়েছে। সে আমাকে বলছে, থাম। আমরা গাছ হবো। আমরা ডাল মেলে দেবো অনন্ত নক্ষত্রবীথিতে। ছায়াপথে গড়বো বাসা।

কিন্তু বাসা মানে ঠিকানা। একটা চিঠি লেখার জায়গা। একটা টেলিফোন, অন্তর্জালের তার, ইলেক্ট্রিসিটি আর পানির সম্মিলিত সম্মোহনী লাইন। যে প্রতিনিয়ত বলে, এইতো ঠিকানা। কিন্তু আমি জানি - অক্লান্ত এই ধরিত্রীতে মানুষের বাচ্চার কোনো ঠিকানা থাকতে নেই। জোর করে বানানো এই অপূর্ব কম্ফোর্টজোন ভালো থাকার সুডো-ফিলোসফি'র আড়ালে থকথকে দলা পাকানো কালো মাংস ছাড়া আর কিছুই নেই।

তাই আমাকে জেগে থাকতে হয়, নির্বিকারে, সন্তপর্ণে, খুব সাবধানে শ্বাস ফেলে।

আমি জানি, ঘুমালে ক্ষতি নেই। এই বিস্তৃত আকাশগংগার অরিয়ন বেল্টের এক নিভৃত হন্টন পীর তাতে কিছুটা বিশ্রাম পায়।

কিন্তু আমি রাতের প্রেমিক, রাতের পুজারী।

রাতের রাত্রি'র ভালোবাসায় দম আটকে মরে যাওয়া একজন শহীদ।

তাই আমি জেগে থাকবো অনন্তকাল।

আমি রাতে ঘুমাবো না।

তুমি ঘুমিয়ে পড়ো, বালিশে কাত হয়ে আমি বরং -

আখেরী রাতের কথা ভাবতে থাকি।

---

অথচ আমি এখনও রাত জাগি।

কিন্তু এই জাগা মানে শুধুই না ঘুমানো।

এ জেগে থাকায় স্বপ্নেরা ভীড় করে না।

কারণ যে স্বপ্নের জন্য আমরা জীবনকে যাপন করি,

শেষ নিঃশ্বাসে এসে সে স্বপ্নের আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না।

২.

রাত দেড়টার নিস্তব্ধতা।

আমি নিচে নামলাম। মহল্লার অলি-গলিতে গুমোট বাতাস পালাবার পথ খুঁজছে। এর মাঝে আকাশে ঝুলে আছে ডিপ্রেসড, অলীক, ঘোলাটে এক চাঁদ।

যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে - একদিন সব শেষ হয়।

রাস্তার মোড়টা পার হয়ে আমি কিছুক্ষণ ঘুরলাম। এলোমেলো। মনে মনে কালাম নামের এক বৃদ্ধকে খুঁজছি। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে ফ্লাক্স আর সিগারেট নিয়ে বসে থাকেন। তাকে পাওয়া গেলো বেশ খানিকটা পথ হাঁটার পর। আজ হাসপাতাল না, বসে আছেন শাটার নামানো সুপার শপের সিঁড়ির উপর। তাকে ঘিরে বসে আছে চারটা কুকুর। একটা ঝিমোচ্ছে। বাকিগুলো চঞ্চল। আমি গিয়ে বললাম, সিগারেট দেন।

প্যাকেট বাড়িয়ে দিলেন তিনি। প্রশ্ন করলাম, কতক্ষণ আছেন?

বললেন, আস্তা রাইত।

বড় কাব্যিক কথা!

আমি আরও খানিকটা হেঁটে এসে দাঁড়ালাম জননী লজের সামনে। এলাকার প্রাচীনতম বাড়ির একটা। এককালে বড় জানালাওয়ালা লাল ইটের খানদানি বাড়ি ছিলো। এখন রেনোভেশন করে পরিণত হয়েছে অত্যাধুনিক বস্তিতে। ম্যাচ বাক্সের মত অগনিত ফ্ল্যাট ঠেসে ভরা হয়েছে বিল্ডিংজুড়ে। ভাড়া বেশি আসে। পয়সাই মূলত এ পৃথিবীর ঈশ্বর।

আমি ঠোঁটে সিগারেট ঝুলিয়ে ছাদের দিকে তাকালাম। ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না।

৯৯ সালের ২৬ জুনের বিকেলে এই ছাদের রেলিং-এ দাঁড়িয়েছিলো আমার বন্ধু ফারশেদ। তারপর আলিঙ্গন করেছিলো রাজপথকে। শরীর থেবড়ে গিয়েছিলো। চেহারা চেনা যায় না এমন বাজে অবস্থা। খবর পেয়ে আমরা হতভম্ব হয়ে বসে ছিলাম সপ্তাখানেক। তারপর জীবনকে যাপন করতে একদিন ভুলে গেলাম সব। শালা কেন এমন করলো, আমরা কেউ জানতাম না।

ও মারা যাবার প্রায় চার বছর পর খালাম্মা ওর বইগুলো আমার লাইব্রেরিতে এসে দিয়ে বলেছিলেন, যত্ন করে রাইখো। আমি ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে পেলাম সবুজ মলাটের এক ডায়েরি। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শুধু কবিতা। হারামজাদা যে কবিতা লিখতো, সে কথা জানতামই না। শেষ পৃষ্ঠায় এক লাইনের ছোট একটা লেখা।

জীবন উপভোগ করা শেষ। কাল ফুলস্টপ।

কি দাম্ভিক!

অথচ জীবন উপভোগ করার জন্য আমি আজও নয়টা থেকে সাতটা অফিস করছি। মাঝে মাঝে যখন প্রচন্ড ক্লান্তিতে ঘুমও আসতে চায় না, কিন্তু পরদিন আবার কাজে যেতে হবে বলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় মনেহয় -

এসব কী করছি? কোনো করছি?

আমার তো কবি হওয়ার কথা ছিলো।

বহুবছর আগে আমি ফারশেদকে নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলাম।

ঝিনুকের বুকে জমা থাক সব শোক,
শহর ছড়িয়ে উড়ুক বিজন বাতাস
আসছে কুয়াশা ধোঁয়াটে মাতাল পথে
সর্বনাশের আতসী কাঁচে জমছে দীর্ঘশ্বাস
এই তল্লাট জেনে যাক -
আজ রাতে মরেছে কিশোর
স্বপ্নের খোঁজ করে।
জানো না কী কথা গোপনে বুনেছে সে
অধর ছুঁয়েছে কার প্রিয় ডাক নামে
আমি জানি না, মাদক করবী জানে
এখানে আছে প্রাচীন শবের গান
.. আর তাই প্রচন্ড অপ্রয়োজনীয় এ রাতে, এ শহরে, এ চিরন্তন এবং পরিচিত রাস্তায় বিষন্নতা ফুঁকছে একজন ব্যর্থ কবি।

- মাকস, একজন বিবাগী

মহল্লার মুরব্বী বশির চাচার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে এলাকাবাসীকে সৎ জীবন, ন্যায় উপার্জন এবং ব্যভিচার বিরোধী পরামর্শ ...
16/06/2025

মহল্লার মুরব্বী বশির চাচার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে এলাকাবাসীকে সৎ জীবন, ন্যায় উপার্জন এবং ব্যভিচার বিরোধী পরামর্শ প্রদান। এলাকার কোন বাড়ির উঠতি বয়স্ক তরুণ/তরুণী কার সাথে লদকা-লদকি করে বেড়ায় বশির চাচা অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে সেই তালিকা করে বেড়ান, অত:পর তাদের অভিভাবকদের কাছে নালিশ দেন, আপনার ছেলে/মেয়ের কারণে এলাকার সম্ভ্রম নষ্ট হচ্ছে।

গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় গলির মুখে বশির চাচার সাথে দেখা হলো। বিমর্ষ মুখে আমাকে বললেন:

- বুঝলা ফাক ভাতিজা, মনটা খুবই উদাস।
- ক্যান চাচা, কী হইছে?
- আরে বইলো না, ২৯/বি এর রাইসা আছে না? হে তো পাঁচ-ছয়টা পোলার লগে ফকাস্টিং কইরা বেড়ায়। রাত বিরাতে বাড়ি ফিরে না। ওড়নারও নাই ঠিক।
- আপনি দেখেছেন?
- আমি না দেখলে কে দেখব? জরুরি ভিত্তিতে একটা সালিশ বসানো দরকার। ওয়ার্ড কমিশনার সাবরে ফেসবুকে একটা ম্যাসেজ দিমু, কিন্তু বিকাল থেইকা দেখি ফেসবুক কাম করতেছে না। তুমি একটু সমাধান কইরা দাও তো বাপ।

বেজার মুখে বশির চাচার আইফোন সিক্সটিন প্রো হাতে নিয়ে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ঢুকলাম। ভুলবশত আনইনস্টল করার পর আবার ইনস্টল করে মোবাইল পারমিশন এলাউ না করায় অ্যাপ কাজ করছে না। বশির চাচা টং এ চা অর্ডার দিতে গেছেন, সেই ফাঁকে ম্যাসেঞ্জার ঠিক করে স্ক্রোল করতেই দেখি রাতের পাখি, এঞ্জেল সোহানা, সেক্সি বৌদিসহ হাজার হাজার আইডির সাথে তিনি নিয়মিত চ্যাট করে থাকেন। কৌতূহলবশত একটি চ্যাটবার ওপেন করতেই দেখলাম চাচা ম্যাসেজ প্রদান করেছেন, "Koy teha loiba? Jayga koi? Dud to baloi boro tomar" ফেসবুক স্ক্রল করেও দেখা গেলো, বশির চাচা ছয় হাজারেরও বেশি "চটি সমাহার" জাতীয় পেজ এবং মেদবহুল দৃষ্টিকটু ছবিসমৃদ্ধ ফেক আইডি ফলো করে থাকেন।

ধিপধাপ ত্রিশ-বত্রিশটি স্ক্রিনশট গ্রহণ করে বশির চাচার ম্যাসেঞ্জার থেকে এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার বদরুল আংকেলসহ আরও কতিপয় মুরব্বীকে কিঞ্চিৎ তথ্য সরবরাহ করলাম। বশির চাচা মোবাইল ঠিক করে দেয়া উপলক্ষে ডাবল কনডেন্স মিল্ক দেয়া কড়া লিকারের চা সেবন করালেন। অনেক লালো ভাগল।

প্রথমে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করুন। কোনমতে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করুন। ন্যূনতম প্ল্যানিং ছাড়াই বাচ্চা পয়দা করুন...
15/06/2025

প্রথমে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করুন। কোনমতে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করুন। ন্যূনতম প্ল্যানিং ছাড়াই বাচ্চা পয়দা করুন। এরপর শুরু করুন আসল গেম …

যেহেতু আপনার বেশি টাকা নেই, তাই আপনার সন্তানকে একটি বাল-ছাল স্কুলে ভর্তি করান। সবচেয়ে ভালো হয় সরকারি স্কুল কিংবা হালকা-পাতলা নাম আছে – এমন কোনো স্কুলে ভর্তি করালে। কারণ আপনি যেই সমাজে থাকেন, সেখানে তথাকথিত সরকারি স্কুল কিংবা কিঞ্চিৎ নামী স্কুল একটা স্ট্যাটাসের বিষয় হলেও সেখানে পড়াশোনার নামে হয় না বাল্ডাও। সেখানে শিক্ষকেরা একটা প্রাচীন, ধ্বজভঙ্গ সিলেবাস ধরে পড়ায়; যার মূল উদ্দেশ্য দু’টো। এক, এই শিক্ষকরা যাতে সহজে বেতন নিয়ে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট বাণিজ্য করতে পারে। আর দুই, সরকার যেন ভবিষ্যত প্রজন্ম হিসেবে থটলেস, ব্রেইনলেস, কনফিডেন্সলেস গ্রুপ অব স্লেইভস পায়। যাদের পলিটিক্যালি, রিলিজিয়াসলি, ন্যাশনালি ম্যানিপুলেট করা সুপার ইজি। অবশ্যই এমন স্কুলে ভর্তি করবেন, যেন আপনার সন্তান স্কুলের নাম শুনলেই কাঁদে। স্কুলের যে এমন হওয়া উচিত, যে বাচ্চারা সেখানে আগ্রহ নিয়ে যেতে চাইবে – এসব জানার আপনার প্রয়োজনই নেই। উল্টো শিক্ষকেরা ধরে মারধোর, গালি-গালাজ করলে সন্তানকে বলবেন, ঠিকই তো আছে!

এবার শিশুর যে মানসিক বিকাশ দরকার, সেটা সম্পূর্ণ ভুলে যান। ঢাকায় এমনিতেই খেলার জায়গা নেই, তাই সন্তানকে খেলাধুলা করানোর প্রশ্নই আসে না। এছাড়াও যে সকল অ্যাকটিভিটি এ বয়সে ব্রেইনের ক্যাপাসিটি বাড়ায়, স্মার্ট বানায়, সেসব নিয়েও কোন চিন্তাই করবেন না। বাচ্চাদের মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, আঁকা-আঁকি, বই পড়া, টুক-টাক লেখালিখি তথা যেকোনো প্রকারের ক্রিয়েটিভিটির চর্চা শেখানোকে চোদনামি ভাবুন। তাকে বাসায় একটা ফোন দিয়ে আটকে রাখুন। সোশ্যালাইজিং স্কিল তাতে পুটুম্রা খাক, সেসব মোটেও আপনার মাথা ব্যথা হওয়ার কথা না।

এরপর একটু বড় হলেই তাকে বোঝান যে সে যদি এ+ না পায়, সমাজে আপনাদের মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না। তাকে চরম প্রেশারে রাখুন। সবচেয়ে ভালো হয় আপনার পরিমন্ডলে থাকা বাচ্চাদের সাথে তাকে প্রায়ই কম্পেয়ার করলে। তাকে বলুন, যে অমুকেও ভাত খায়। তুইও খাস। ও পারে, তুই পারিস না ক্যান? তার সামনে কয়েকটা লক্ষ্য বেঁধে দিন। বলুন যে পৃথিবীর একমাত্র পেশা হচ্ছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার আর নাহলে বিসিএস ক্যাডার। এগুলো না হতে পারলে জীবনের কোন অর্থ নেই …

তাকে চরম স্ট্রাগল করে মেট্রিক, ইন্টার পাশ করতে দিন। তারপর শুরু করুন গেমের দ্বিতীয় অধ্যায়। তাকে বোঝান, যে পাবলিকে চান্স না পেলে তোমার জীবন শেষ। আপনার সমস্ত চেষ্টার পরও যে যদি ভুলেও কোন হবি বা স্কিল ডেভলপ করে, সেসবকে অপ্রয়োজনীয় বোঝাতে আপনার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে সেটাকে ধ্বংস করার এটাই প্রকৃত সময়। তাকে ডিপ্রেশন, এনজাইটি, সোশ্যাল অকওয়ার্ডনেস ডেভলপ করতে সাহায্য করুন। তাকে বলুন যে তার পড়াশোনা ও খাওয়ানোর পেছনে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তাকে “এই পর্যায়ে” নিয়ে আসতে আপনার কি পরিমাণ বাল ছিঁড়তে হয়েছে …

তারপর সে যদি পাবলিকে চান্স পায়, তো ভালো। আর বাই এনি চান্স না পেলে যদি তাকে ন্যাশনাল কিংবা প্রাইভেটে ভর্তি করাতে হয়, তাহলে তাকে প্রতিনিয়ত সে যে কতোবড় অথর্ব, সেটা মনে করিয়ে দিতে ভুলবেন না। ভার্সিটিতে উঠে সে যখন দেখবে তার আশে-পাশের পোলাপান সোশ্যাল স্কিলে অনেক স্মার্ট, ভালো ইংরেজি বলতে পারে, ট্রেন্ডিং স্কিল আছে, ক্রিয়েটিভ স্কিল আছে, মোদ্দাকথা যে যখন লেফ্ট আউট ফিল করবে, তখন তাকে বলুন, মানুষের পোলাপান কতো কিছু পারে, আর তুই?

তাকে বোঝান যে, যেহেতু আপনি গরিব, আপনি জীবনে একটা বালের চাকরি ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি, তাই তাকে ইনস্যুরেন্স পলিসি হিসেবে পয়দা করেছেন। আপনি, আপনার পরিবার, আপনার খানদান যে অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ যে আপনার সন্তান; এ জিনিসটা তার মাথায় ঢুকিয়ে তাকে প্রেশার দিয়ে পাগল বানিয়ে দিন। ডিপ্রেসড হলে, মাথায় সুইসাইডাল থট আসলে তাকে বলুন যে মোবাইল না টিপলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

এভাবে সে কোনমতে ভার্সিটিটা পাশ করা মাত্র শুরু করুন গেমের তৃতীয় অধ্যায়। চাকরি না পাওয়া অবধি সে যে পরিবারের একটা বোঝা, সেটা প্রতিদিন মনে করিয়ে দিন। মানুষের ছেলে-মেয়ে কত এগিয়ে গিয়েছে, কার বেতন কত, কে কত ভালো পজিশনে আছে – এটাকেই বাসার প্রধান আলোচনায় নিয়ে আসুন। তাকে বলুন এন সংখ্যক মাইল হেঁটে, এক্স সংখ্যক কিলোমিটার নদী সাঁতরে আপনারা পড়াশোনা করে “এই পর্যায়ে” এসেছেন। সে “সবকিছু” পেয়েও কেন পারছে না?

এরপর শুরু করুন গেমের ফাইনাল স্টেজ।

তাকে বোঝান যে আপনাদের বয়স বাড়ছে। আর বেশিদিন পৃথিবীতে থাকবেন না। সন্তানের বৌ/জামাই দেখতে চান। দাদা-দাদী, নানা-নানী ডাক শুনতে চান। এদিকে তাকে সমাজের বোঝা হিসেবে বড় করায় তাকে যে কেউ পাত্তাই দেয় না, সেটা নিয়ে আপনার ভাবার কোন দরকার নেই। তাকে জোরপূর্বক পাত্র-পাত্রী দেখানো শুরু করুন। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বিষয়টা সিস্টেমেটিক। কে কি পাচ্ছে, সেটা অনেকাংশেই মূখ্য। আপনার সন্তানের যে কিছুই দেওয়ার নেই – এই তথ্যটা তখনই তার মাথায় সেট করে দেওয়ার আদর্শ সময়। প্রতিটা চাকরির পরীক্ষা/ইন্টারভিউয়ের আগে তাকে প্রেশারে রাখুন, রেজাল্ট শুনে মুখ কালো করে এমনভাবে “কি সন্তান জন্ম দিয়েছি” বলুন, যেন সে ভাবে বাচ্চা পয়দা করার পরিকল্পনাটা আপনাদের ছিলো না, বরং সে-ই উপর থেকে আপনাদের সিগন্যাল দিয়েছিলো পয়দা হওয়া জন্য।

এভাবে ধীরে ধীরে আপনার সন্তানের জীবনটা তছনছ করে দিন।

দেখবেন, প্রচন্ড লালো ভাগবে।

Address

Bhaluka
Mymensingh

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801818561477

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Last Page posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category