14/10/2025
বর্তমানে হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) একটি সাধারণ রোগ। মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ পুরুষদের তুলনায় ৮ গুণ বেশি। থাইরয়েড হরমোন (T3 ও T4) শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিক চক্র এবং হরমোনের ভারসাম্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই হরমোনের ঘাটতির কারণে মহিলারা অনিয়মিত পিরিয়ড ও ইনফার্টলিটি এর মত সমস্যার সম্মুখীন হয়।
যদিও এর মূল চিকিৎসা হলো থাইরয়েড হরমোন রিপ্লেসমেন্ট মেডিকেশন (যেমন লেভোথাইরক্সিন)। জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়ানো এবং উপসর্গগুলি হ্রাস করা সম্ভব। তবে, যেকোনো পরিবর্তনের আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।
হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসে যে ধরনের পরিবর্তন জরুরী:
আয়োডিন (Iodine): থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য আয়োডিন অপরিহার্য।
খাদ্যে রাখুন: আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ (sea fish), ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য (dairy products)।
সতর্কতা: অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ করাও ক্ষতিকারক হতে পারে, বিশেষত অটোইমিউন হাইপোথাইরয়েডিজম (Hashimoto's) রোগীদের ক্ষেত্রে। তাই পরিমাণে ভারসাম্য বজায় রাখুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সেলেনিয়াম (Selenium): এটি থাইরয়েড হরমোন সক্রিয় করতে এবং থাইরয়েডকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
খাদ্যে রাখুন: ব্রাজিল নাটস (Brazil nuts), ডিম, সূর্যমুখী বীজ, টুনা মাছ, মুরগি, ওটমিল।
জিঙ্ক (Zinc): থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন এবং রূপান্তরে সহায়তা করে।
খাদ্যে রাখুন: শিমের বীজ (legumes), কুমড়োর বীজ, ঝিনুক, গরু/খাসির মাংস, মুরগির মাংস।
ভিটামিন ডি (Vitamin D) ও বি১২ (Vitamin B12): হাইপোথাইরয়েডিজমে এই ভিটামিনগুলির অভাব দেখা দিতে পারে।
খাদ্যে রাখুন: ফ্যাটি মাছ (fatty fish), ডিম, মাশরুম, দুগ্ধজাত পণ্য (ভিটামিন ডি), এবং মাছ, মাংস (ভিটামিন বি১২)। সূর্যের আলো থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
গোইট্রোজেনিক খাবার (Goitrogenic Foods): কিছু সবজিতে গোইট্রোজেন থাকে, যা থাইরয়েডের আয়োডিন শোষণ ক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে (যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, সয়াবিন)।
পরামর্শ: এই সবজিগুলি কাঁচা না খেয়ে রান্না করে খান, কারণ রান্না করলে গোইট্রোজেনিক উপাদান অনেকটাই কমে যায়। সয়া পণ্য গ্রহণের সময় সতর্ক থাকুন।
এড়িয়ে চলুন বা সীমিত করুন:
প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Foods): উচ্চ চিনি, ফ্যাট এবং কৃত্রিম উপাদানযুক্ত খাবার।
অতিরিক্ত চিনি (Excess Sugar): এটি প্রদাহ বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত ও ভাজা খাবার: এগুলি হরমোন শোষণকে ব্যাহত করতে পারে।
গ্লুটেন (Gluten): কারো কারো ক্ষেত্রে গ্লুটেন সংবেদনশীলতা থাকলে তা থাইরয়েড সমস্যা বাড়াতে পারে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গ্লুটেন-মুক্ত খাদ্য অনুসরণ করা যেতে পারে।