10/06/2026
এই খেলনাটা আমার নানার আনা সৌদি আরবের জিনিস।
আমার জন্মের পর থেকেই দেখতাম আমার নানাভাই সৌদি প্রবাসী।
অত্যন্ত সরল সহজ মানুষ তিনি। সৌদি গিয়ে ক্লিনারের কাজ করত। কোনমতে স্বাক্ষর দিতে পারেন। তাছাড়া শিক্ষা জ্ঞান নেই।
কিন্তু আল্লাহপাক নানাকে অসম্ভব বড় একটা হৃদয় দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
এত বেশি খরুচে ছিলেন, দুহাত ভরে কেনাকাটা করতেন।
আমার জন্য মেকাপ বক্স, পুতুল, ভাইয়ের জন্য গাড়ি, খেলনা, আম্মুদের জন্য লাক্স সাবান, ফেয়ার এন্ড লাভলী সুনু, সেন্সোডাইন পেস্ট, আর নানুর জন্য, বোরকা, সিল্কের শাড়ি, টাইগার বাম, মামাদের জন্য ট্রাকস্যুট, কেডস জুতা,
হাজার হাজার রকমের উপহার। গান বাজানোর টেপ রেকর্ডারস, টর্চ লাইট, আমাদের জন্য নীল কালীর কলম, গুড়া দুধ, ট্যাং খেজুর, অগণিত চকোলেট। সোনার চেইন, রুপার নেকলেস সেট সবই আমার নানার দেয়ার লিস্টে ছিল। নানা তার ২৮ বছরের প্রবাসী জীবনে এমন কোন শখ নাই, যা পূরণ করে নাই আমার মামা, মা খালাদের।
নাতিনাতনি হিসাবে আমাদের জন্য ছিল আরো বোনাস।
নানা ভাইয়ের আনা এই ক্যামেরা টা আজ আমার মেয়ে খেলে।
আমরা এটার ভেতরে হজ্বের সিনারী দেখতে পেতাম অথবা পাখিটাখি।
কার্ডগুলা নেই আজ।
নানা ভাই আছে। জীর্ণশীর্ণ নানাভাই বয়সের ভাড়ে আজকাল নিরব। উনার উত্তেজনা বলতে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা।
উনি ৩বেলা ভাত না খেলেও খেলা দেখবে মাস্ট।
নানু মারা যাওয়ার পর গল্প, অভিমান আর আড্ডা দেয়ার কেউ নেই নানার সাথে।
আমরাও থাকি না। পারিও না। হঠাৎ নানার পুরনো কথা মনে পড়ে আবেগী লাগছে।
নানা ভাই চিরতরুণ আমাদের চোখে।
এইতো সেদিন এয়ারপোর্টে আনতে যেতাম ঘটা করে। নানা আসবে খবর আসত।
কিংবা টেপ রেকর্ড করে পুরো ক্যাসেটের এপিঠ ওপিঠ নানা পাঠাত শতকথা বলে বলে। রাতে নিরবে নানু আর আমি বাজিয়ে শুনতাম মনযোগ দিয়ে।
আল্লাহ আমার নানাভাই কে নেক হায়াত দিক।
উনার একাকীত্ব জীবনের পরম শান্তি দিক।
নানুকে জান্নাতবাসী করুক।
আমীন
#আমারনানা #নানুবাড়ি ゚viralシ