পেজটি খোলা হয়েছে আমাদের চাঁপাই নবাবগঞ্জের ইতিহাস আর সংস্কৃতি সম্পর্কে সারা বাংলাদেশকে জানানো । আপনাদের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য
আম, কাঁসা, পিতল, লাক্ষা ও রেশমের জন্য বিখ্যাত এবং গম্ভীরা, আলকাপ, মেয়েলী গীতের মতো অনন্য লোকউপাদানে সমৃদ্ধ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এক সময় এ অঞ্চল ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের এক উল্লেখযোগ্য জনপদ।
নবাবগঞ্জ অঞ্চলের ইতিহাস খুব প্রাচীন হলেও নবাবগঞ্জ থানা শহর ও মহকুমা শ
হরের ইতিহাস খুব বেশী দিনের নয়। নবাবগঞ্জ প্রাক্ ব্রিটিশ যুগ পর্যন্ত নবাবদের বিহারভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল।
বাংলাদেশের মানচিত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থান সর্ব পশ্চিমে। পূর্বদিকে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা, উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলা, পশ্চিমে পদ্মা নদী ও মালদহ জেলা এবং দক্ষিণে পদ্মা নদী ও মুর্শিদাবাদ জেলা (পশ্চিমবঙ্গ)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ২৪‘২২ `হতে ২৪‘৫৭ `উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৭‘৫৫ `হতে ৮৮‘২৩ `পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত।
১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে নবাবগঞ্জ থানায় উন্নীত হয়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই অঞ্চল রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিহারের ভাগলপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতোমধ্যে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ১২ জন ওয়ার্ড কমিশনারের সমন্বয়ে নবাবগঞ্জ মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। ১৯০৫ খ্রি. তৎকালীন পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশসহ এই অঞ্চলটি আবার রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তা মালদহ জেলার অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ভূ-প্রকৃতি
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে দুটো ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা ১. বরেন্দ্র অঞ্চল ও ২. দিয়াড় অঞ্চল।
১.বরেন্দ্র অঞ্চলঃ মহানন্দা নদীর পূর্ব দিকের এলাকা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বরেন্দ্র ভূ-ভাগ বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এলাকা। বঙ্গীয় বদ্বীপ গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূমি গঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর উপজেলার কিছু অংশ এবং নাচোল উপজেলার সমগ্র অঞ্চল বরেন্দ্র এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ধান বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান উৎপাদিত ফসল।
২.দিয়াড় অঞ্চলঃ মহানন্দা নদী থেকে পশ্চিম দিকের এলাকা দিয়াড় নামে পরিচিত। গঙ্গা নদীর ক্রমাগত গতিপথ পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চল গড়ে উঠেছে। নদী গঠিত এই এলাকার ভূমি খুব উর্বর। এককালে এই এলাকা রেশম ও নীল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে জেলার অধিকাংশ আমবাগান দিয়াড় অঞ্চলে অবস্থিত।
নদনদী ও জলাভূমি
১. পদ্মা-গঙ্গা নদী ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে পদ্মা নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হওয়ার পর থেকে পদ্মায় পানি প্রবাহ কমতে থাকে এবং বিশাল চর জেগে উঠতে থাকে। বর্তমানে পদ্মা তার পূর্বেকার রূপটি হারিয়ে ফেললেও প্রতিবছর বর্ষাকালে সে প্রলয়ঙ্কারী রূপ ধারণ করে।
২. মহানন্দাঃ জেলার ভোলাহাট উপজেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মহানন্দা নদী রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরটি মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত।
৩. পাগলাঃ ভারত থেকে আসা পাগলা নদী শিবগঞ্জ উপজেলার তত্তীপুরে মরাগঙ্গার সাথে মিলিত হয়ে কিছুদূর এগিয়ে মহানন্দায় পড়েছে।
৪. পুনর্ভবাঃ দিনাজপুর থেকে নওগাঁ জেলা হয়ে পুনর্ভবা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
৫. বিল ও জলাভূমিঃ নদ-নদীর পাশাপাশি এ জেলায় রয়েছে বিলভাতিয়া, বিল চুড়ইল, বিল সিংড়া, বিল হোগলা, বিল পুটিমারি, বিল আনইল এবং বিল মরিচাদহ ও বিল কুমিরাদহ এর মত অসংখ্য বিল ও জলাভূমি।