kiti cat

kiti cat I love Allah I love Hazrat Mohammad(SAW)I love Ma+Abba.

29/05/2026

#অন্তর_আসক্তি
#পর্বঃ০৯

(১৮+ সতর্কতা,প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তমনষ্কদের জন্য।)

গাড়ির সীটে হেলান দিয়ে লিয়ানা কাঁদছে নিঃশব্দে,গরম জল গড়িয়ে পড়ছে ওর গাল বেয়ে।নাকের আগা লাল হয়ে আছে,চোখ ফুলে গিয়েছে কান্নার কারণে,কিছুক্ষণ পরপরই হিচকি আসছে।এই অবস্থা দেখে তাকবীর রাশভারী স্বরে বলল,'আফিম,কান্না বন্ধ করো!আমার একটুও ভালো লাগছে না।'
লিয়ানা উত্তরও দিলো না,নড়লও না।একইভাবে কাঁদতে থাকলো।মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো তাকবীরের।মেয়েটা এত অবাধ্য কেনো!ও গাড়ির স্পিড সর্বচ্চো করে দিলো।হঠাৎই এত স্পিডে গাড়ি চলতে দেখে ভয়ে,আতঙ্কে লিয়ানার কান্না বন্ধ হয়ে গেলো।ও পাশে বসা তাকবীরের দিকে তাকাতেই দেখলো লোকটা উন্মাদের মত গাড়ি চালাচ্ছে।লিয়ানা কাঁপা স্বরে বলল,'আ,,আস্তে চা,,চালা,,,ন প্লি,,প্লিজ!'
'কান্না বন্ধ করো,চোখ মুছো,এক ফোঁটা পানি যেন আমি চোখে না দেখি।'
লিয়ানা দ্রুত চোখের পানি মুছে ফেললো।তারপর বলল,'দেখুন আমার চোখে পানি নেই।আল্লাহর ওয়াস্তে গাড়িটা আস্তে চালান।'
তাকবীর লিয়ানাকে একবার পরখ করে নিয়ে ধীরে ধীরে স্পিড কমিয়ে আনলো।

হোটেলে ফিরেই তাকবীর রায়নকে আদেশ করলো লিয়ানাকে বউ সাজিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে।আগেই তো সবকিছু কেনা হয়ে গিয়েছিলো,এখন শুধু এক্সপার্ট'রা এসে লিয়ানাকে সাজিয়ে দেবে।

লিয়ানার সাজ শেষ হলো রাত নয়টায়।এত সুন্দর লাগছে ওকে যে চোখ ফেরানো দায় হয়ে পড়েছে।এক্সপার্টদের মধ্যে একজন তো নিজের চোখ থেকে কাজল নিয়ে ওর কানের পেছনে দিয়ে বলল,'আপনি ভয়ংকর সুন্দর ম্যাম!এতটা সুন্দর যে আমি মেয়েও চোখ ফেরাতে পারছি না।'
লিয়ানা মনে মনে বলল এই সৌন্দর্যটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে!এতটা সুন্দর আমি না হলেও পারতাম।

এক্সপার্ট মেয়েগুলো চলে যাওয়ার একঘন্টা পর প্রায় রাত সাড়ে দশটায় রুমে এলো তাকবীর।ঢুকেই ওর নজর পড়লো বিছানার ওপর চুপচাপ ঘোমটা দিয়ে বসে থাকা লিয়ানার ওপর।চেহারা দেখা যাচ্ছে না ঘোমটার আড়ালে,তবে তাকবীর এতটুকু নিশ্চিত আজ তার আফিম নেশার ঘোর বাড়িয়ে দেবে।তাকবীর এগিয়ে এসে লিয়ানার সামনেই বসলো।ঘোমটা তুলতে যাবে এমন সময় লিয়ানা খাট থেকে নেমে চলে যেতে চাইলেই তাকবীর ওর হাত টেনে ধরে ওকে নিজের কোলের ওপর ফেললো।কানে কানে বলল,'মুখ দেখাবে না আফিম?'
লিয়ানা কিচ্ছু বলল না,যেন ও একটা মরা মাছ।তাকবীর পেছন থেকে শাড়ির ফাঁক দিয়ে নিজের বলিষ্ঠ হাত খানা লিয়ানার কোমড়ের ভাঁজে রেখে গাঢ় স্পর্শ দিতে লাগলো।একপর্যায়ে আঁচলটা টেনে ফেলে দিয়ে লিয়ানাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে ওর ওপর ঝুঁকে গেলো।ঘোমটাটা সরিয়ে দেখলো মেয়েটা চোখ বন্ধ করে রেখেছে।তাকবীর দুষ্টু হেসে ওর গলায় মুখ ডোবালো।আগ্রাসী চুমু আর ছোটো ছোটো কামড়ে লিয়ানা না চাইতেও শিউর উঠতে লাগলো।অসভ্য,অশ্লীল লোকটার হাত আর ঠোঁট ওর শরীরের সমস্ত অংশে প্রকট হচ্ছে।

লিয়ানা এখনও ঘুমাচ্ছে।গতরাতে মেয়েটা একফোঁটাও ঘুমাতে পারে নি,এদিকে তাকবীর নিজেও ঘুমায় নি।মেয়েটার মধ্যে এতটাই ডুবে ছিলো যে হুশ জ্ঞান সব হারিয়ে ফেলেছিলো।অতঃপর আজ ঘুম ভাঙতেই অনেক দেরি হলো তবুও লিয়ানার আগেই উঠলো ও।খাটের একপাশে নিজের জামা,কাপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,আর অন্য পাশে লিয়ানার ব্লাউজ,অন্তর্বাস খন্ডিত অবস্থায় পড়ে আছে।

সবকিছু গুছিয়ে গোসল করে তাকবীর চলে গেলো অফিসে।যাওয়ার সময় রিসিপশনে লিয়ানার এক্সট্রা টেক-কেয়ারের কথাও বলে গেলো।

অফিসে পৌঁছেই দেখলো ইয়াহিয়া মির্জা ফোন করেছে।তাকবীর রিসিভ করতেই বলল,'কি অবস্থা,তাকবীর?'
'এইতো,আঙ্কেল।ভালোই।'
'বিয়ে করেছো শুনলাম।'
'হ্যাঁ,করেছি গতকাল।'
'এভাবে হুটহাট?'
'আমার জীবনে সবকিছুই হুটহাট করেই হয় আঙ্কেল।'
'আচ্ছা তাহলে একটা রিসিপশন পার্টি রাখো আমারাও দেখি তোমার বউকে।কার রুপে পাগল হলো হামজা তাকবীর!'
কথাটা তাকবীরের ভালো লাগলো না।ও বলল,'স্যরি আঙ্কেল।আমি ওকে প্রকাশ্যে আনবো না।'
'তাহলে তো রক্ষিতা ই ভালো ছিলো।'
'শাট-আপ ইয়াহিয়া মির্জা!মুখ সামলে কথা বলুন।নয়তো মুখ ভেঙে দেব যেন আর কথাই বলতে না পারেন।'
এই বলেই তাকবীর রেখে দিলো ফোন।রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে ওর।মন চাচ্ছে বুড়োটার গলায় পাড়া দিয়ে মে'রে ফেলতে।

একটা সিগারেট জ্বেলে ফুঁকতে ফুঁকতে নিজেকে ঠান্ডা করতে লাগলো ও।হঠাৎই ওর মস্তিষ্কে এলো কিছুদিনের চেনাজানায় একটা মেয়ের জন্য যার সাথে বহু বছরের পুরনো সম্পর্ক তাকে এভাবে বলতে পারলো?আশ্চর্য ব্যাপার হলো তাকবীরের অনুশোচনা হচ্ছে না বিন্দুমাত্রও।ওর মনে হচ্ছে ও ঠিকই করেছে।

নামিউল তালুকদারের বাড়ির লাইব্রেরিতে বসে আছে ইরহা।একটু পর বাড়ির কাজের লোক ইরহা কে গ্রীন টি দিয়ে গেলো।ইরহা এক চুমুক দিতেই হাজির হলো নামিউল।হাস্যোজ্জ্বল স্বরে বলল,'আরে মন্ত্রী কন্যা যে?হঠাৎ গরিবের বাড়িতে কি প্রয়োজনে আসা হলো?'
'Gyokuro tea,বিশ্বের সবচেয়ে দামি গ্রীনটি জাপানের এই গ্রীনটি তাই না?'
'বাহ,আপনার তো ভালোই নলেজ আছে।'
'থাকাটাই স্বাভাবিক।তারপর বলুন কে যেনো গরিব?'
'ঠিকাছে মিস সারেন্ডার করলাম।'
ইরহা হাসলো।নামিউল ওর সামনে বসতেই ইরহা বলল,'আপনি কি এই প্রবাদটা শুনেছন শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়।'
'তাহলে কি বন্ধুত্ব করতে এলেন?'
'ফিরিয়ে দেবেন?'
'যাওয়ার সময় Gyokuro tea নিয়ে যাবেন মনে করে।বন্ধুত্বের উপহার হিসেবে।'
'ধন্যবাদ,বন্ধু মহাশয়।'
ইরহা হাসলো।

রাতে রুমে ফিরেই তাকবীর দেখলো লিয়ানা উবু হয়ে শুয়ে আছে।ওর স্কার্ট উঠে উরুতে চলে এসেছে,ভারী নিতম্বের খাঁজ স্পষ্ট!তাকবীর সামলাতে পাারল না।মোহগ্রস্তের মত এগিয়ে গেলো সেদিকে।পুরুষালি হাত নিজের অজান্তেই চলে গেলো নিতম্বের একদম ওপর।লিয়ানার চোখ লেগে এসেছিলো,হঠাৎ সংবেদনশীল অংশে এমন একটা থাপ্পড় পড়লো যেন কেঁপে উঠল লিয়ানা।এদিকে তাকবীর এখনও মোহগ্রস্তের মত তাকিয়ে আছে প্রেয়শীর আবেনময়ী শরীরের প্রতিটি ভাঁজে।

ইরহা আর নামিউলের মূল লক্ষ্য এখন এমন কাউকে নিজেদের দলে যুক্ত করা যাকে তাকবীর ভিষণ বিশ্বাস করে।প্রথমই আসে রয়ানের নাম তারপর আসে তাকবীরের স্ত্রী লিয়ানা।সহজ টার্গেট তাকবীরের স্ত্রী কারণ মেয়েটাকে ও জোর করে বিয়ে করেছে।ওকে খুব সহজেই তাকবীরের বিরুদ্ধে নিয়ে নেওয়া যাবে।তাই এখন মেয়েটার সাথে দেখা করা জরুরি।

চলবে..........

15/05/2026

#অন্তর_আসক্তি
#পর্বঃ০৮


বাদ যোহর তরুণের জানাজা পড়ে তাকবীর ওর চাচা নামিউল তালুকদারকে জড়িয়ে ধরতেই নামিউল ক্রোধিত স্বরে ফিসফিস করে বলল,'এটার হিসাব তোকে দিতেই হবে।একটা রক্ষিতার জন্য আমার ভাতিজাকে মারলি এর মাশুল তোকে আর তোর রক্ষিতাকে দিতেই হবে।'
তাকবীর নামিউলের পিঠে দু'টো চাপড় দিয়ে হেসে বলল,'লেট'স সি।'
বলেই এগিয়ে গেলো গাড়ির দিকে।পেছনে রায়ন ছিলো।তাকবীর গাড়িতে বসে বলল,'বিয়ের জন্য কি কি লাগে সব লিস্ট ধরে সন্ধ্যার মধ্যে হোটেলে দিয়ে আসবি।আর আগামী শুক্রবার আমি ভিলায় ফিরবো।সব কিছু প্রস্তুত থাকে যেন!'
'জ্বি,বস।'

বিছানায় শুয়ে শুয়ে লিয়ানা ভাবছে ও কোনোভাবেই জানোয়ার'টাকে বিয়ে করবে না কিন্তু এটা আটকানো যায় কিভাবে?ভাবতে ভাবতেই দরজায় নক করার শব্দ হলো।লিয়ানা উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখলো ওর জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে এসেছে হোটেলের সার্ভিস গার্ল।হঠাৎ লিয়ানার মনে মনে একটা দুষ্টু বুদ্ধি আটলো ও খাবারের ট্রে টা নিয়ে বলল,'আচ্ছা, ওয়াশরুমে একটু সমস্যা হয়েছে।একটু দেখে যান আর ঠিক করার ব্যবস্থা করুন।'
'ইয়েস ম্যাম।'
মেয়েটা ঘরে ঢুকে ওয়াশরুমের দিকে যেতেই লিয়ানা পেছন থেকে ভারি একটা ফ্লাওয়ার ভাস নিয়ে মাথা বরাবর বাড়ি দিলো।সাথে সাথেই জ্ঞান হারালো মেয়েটা।লিয়ানা দ্রুত ওকে ওয়াশরুমে টেনে নিয়ে গেলো।জামাকাপড় অদলবদল করে মেয়েটাকে ওইভাবেই ওয়াশরুমে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

রায়ন বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা করে হোটেলে এলো লিয়ানার পছন্দ মত বিয়ের শাড়ি চুজ করতে কিন্তু এসে অন্য একটা মেয়েকে জ্ঞানহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলো রুমে।কোথাও লিয়ানা নেই।
সাথে সাথে রায়ন তাকবীরকে ফোন করে বলল,'বস,ম্যাম মেবি পালিয়েছেন,রুমে নেই।ধারণ করছি সার্ভিস গার্লের ড্রেস নিয়ে পালিয়েছেন।'
'এক্সিট পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে আমাকে বল কোন দিকে গিয়েছে।'
'জ্বি,বস।'

মেয়েটার প্যান্টের পকেটে কিছু টাকা ছিলো সেটা দিয়েই লিয়ানা নিপুর বোনের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।বুকটা দুরুদুরু করছে!কখন যেন ওই জানোয়ারটা চলে আসো।

রায়ন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকবীরকে বলল লিয়ানা কোন দিকে গেছে।তাকবীর নিজে আর ওর লোকেরাও লিয়ানাকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে খুজতে লাগলো।তাকবীরের সন্দেহ হলো লিয়ানাকে নামিউল তুলে নিয়ে যায় নি তো!

সারাদিন খোঁজার পরও যখন তাকবীর লিয়ানার কোনো খোঁজ পেলো না তখন ওর হঠাৎ মনে হলো লিয়ানা একদিন বলেছিলো ও ওর বান্ধবীর বোনের বাসায় যেতে চায়।ঠিকানাও বলেছিলো।তাকবীর মাথায় কিছুটা প্রেশার দিতেই ওর মনে পড়ে গেলো।আর মনে পড়ে যেতেই চোখ দু'টো জ্বল জ্বল করে উঠলো।লিয়ানা ওইখানেই আছে কারণ চট্টগ্রামে ওর যাওয়ার মত জায়গা একটাই।
তাকবীর রায়নকে ফোন করে বলল,'কাজি নিয়ে এই এড্রেসে ঘন্টা খানেকের মধ্যে আয়।'
'জ্বি,বস।'

নিপুর বাসায় গিয়ে লিয়ানা নিপুকেও পেলো।নিপু বোনের বাসায় এসেছে বেড়াতে।প্রিয় বান্ধবীকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো লিয়ানা।নিপুও কাঁদল ভীষণ।নিজের অবস্থার কথা বান্ধবীকে সবটা জানালো লিয়ানা।সব শুনে নিপু বলল,'তোর ঢাকায় ফিরে যাওয়া উচিত।'
'কোথায় যাব?'
'তোর বাসায়।তোর মামীর ভাই তো ক'দিন ধরে নিখোঁজ।এখন আর সমস্যা হবে না।চলে যা।চট্টগ্রাম থাকলে খুঁজে পেয়ে যাবে দ্রুত।'
লিয়ানার মনে পড়লো ওর মামীর ভাই কেন নিখোঁজ।ওর নিজেরও মনে হলো ঢাকায় ফেরাই ভালো।নিপু আবারও বলল,'কালকে সকালের ট্রেনে চলে যা।আমিও যাব তোর সাথে।'
লিয়ানা সম্মত হলো।

সন্ধ্যার সময় হঠাৎই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।বাসায় লিয়ানা আর নিপু দু'জন ছিলো বাকিরা ঘুরতে বেরিয়েছে।লিয়ানার মন, মেজাজ খারাপ বলে নিপু বান্ধবীর সাথেই থেকে গেলো।
লিয়ানা শুয়ে ছিলো বলে নিপুই দরজা খুললো।দরজার সামনে স্যুট পরা,গম্ভীর ও সৌম্য দর্শনের একজন পুরুষকে দেখতে পেলো নিপু।তাকবীর স্বভাবসুলভ স্বরে বলল,'নিপু নামের কেউ থাকে এখানে?'
'জ্বি,আমিই নিপু।'
'তোমার বান্ধবী কোথায়?'
'কোন বান্ধবী?'
'লিয়ানা।'
'ও এখানে নেই।'
তাকবীর হাতে থেকে রিভালবারটা নিপুর কপাল বরাবর ঠেকিয়ে বলল,'সাইড হও।'
নিপু ভয়ে সাইড হতেই তাকবীর ঘরে ঢুকে গেলো আর সোজা নিপুর ঘরের দিকেই এগিয়ে গেলো।লিয়ানা ঘুমিয়ে পড়েছে ততক্ষণে।তাকবীর ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করবে তার আগেই নিপু বলল,'আমি পুলিশে কল করব।'
'বান্ধবীকে জিন্দা দেখতে চাইলে এই ভুল করবে না।'
এটা বলেই তাকবীর দরজা বন্ধ করে দিলো।ঘরের বাতি নিভিয়ে কোট'টা খুলে লিয়ানার পাশেই ওকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে শুয়ে পড়লো।ঘুমের ঘোরেই লিয়ানার অদ্ভুত অনুভূতি হলো,ওর মনে হলো ও যে-ই মানুষ টা থেকে পালাতে চায় সে ওর কাছেই আছে।ঘুম ভেঙে যায় লিয়ানার।নিজেকে আবিষ্কার করে চেনা স্পর্শের ভিড়ে।নড়াচড়া করার শক্তি পায় না ও।তাকবীর ফিসফিস করে বলল,'এই কয়েকঘন্টা আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো আফিম!মনে হচ্ছিলো মারা যাব।এই যে এখন তোমার গায়ের গন্ধ পেয়েই বেঁচে গেলাম যেন!'
লিয়ানার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।ও অসহায় স্বরে বলল,'আমার এই জীবনটা ভালো লাগছে না।আপনি আমাকে মেরে ফেলুন আর নয়তো মুক্ত করুন।'
'সম্ভব না,আফিম।তুমি অন্য কিছু চাও আমি সব তোমার পায়ের কাছে হাজির করব কিন্তু কখনো মুক্তি বা মৃত্যু চাইবে না।'
এরমধ্যেই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ এলো।বাইরে থেকে রায়ন ডেকে বলল,'বস,চলে এসেছি আমরা।'
'আসছি,কাজিকে বসা।'
'ওকে,বস।'
তাকবীর লিয়ানার দিকে চেয়ে বলল,'ভালো মেয়ের মত বিয়েটা করে নিবে।একটুও সিনক্রিয়েট করবে না,যদি করো তাহলে তোমার বান্ধবী নিপু ওকে হারিয়ে ফেলবে।আর তুমি জানো আমি ফাঁকা বুলি দিই না।'
লিয়ানা কিছু বলল না।তাকবীর দরজাটা খুলে ওকে পাঁজাকোলা করে বাইরে এনে সোফায় বসালো নিজেও ওর কোমড়ে হাত রেখে পাশে বসলো।নিপু ভয়ে এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে।ওর পেছনে একজন গার্ড রিভলবার তাক করে দাঁড়িয়ে আছে।লিয়ানার হাতে আর কোনো রাস্তা ছিলো না।ও বিনাবাক্য ব্যয়ে কবুল করেই ফেললো তাকবীর নামের মানুষটিকে যাকে ও সবথেকে বেশি ঘৃণা করে।

লিয়ানাকে নিয়ে তাকবীর বেরিয়ে গেলো প্রথমে তারপর রায়ন আর বাকিরা বের হলো।গাড়িতে বসে সীট বেল্ট বেঁধে দিতে দিতে তাকবীরের চোখ গেলো লিয়ানার দৃশ্যমান বুকের খাঁজে,নিজেকে সামলানোর প্রয়োজনও মনে করলো না তাকবীর সোজা নিজের ওষ্ঠের ছাপ বসালো সেখানটায়।লিয়ানা একটুও নড়চড় করলো না,যেন ও পাথর।তাকবীর চুমু খেয়ে ওর চোখের দিকে চেয়ে বলল,'আমার জন্য তোমার মনে যদি ঘৃণা থাকে তাও মঞ্জুর কিন্তু অন্যকেউ যেন ভালোবাসাটুকু না পায়।'

তারপর গাড়ি চালাতে চালাতে তাকবীর গান ছাড়লো।এটা ওর সবথেকে পছন্দের গান।গানের সাথে সাথে নিজেও গুণগুণ করে গাইছে।

আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে, আমি ছুঁয়েছি তোমায়...
আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে, আমি ছুঁয়েছি তোমায়...
প্রজাপতি ছুঁয়েছে ফুল, তুমি ছুঁয়েছ আমায়,
সাগরিকা, বেঁচে আছি তোমারই ভালোবাসায়।

পৃথিবী একাই তো একজনই, তুমি যে আমার,
তোমাকে ছাড়া তো আমি চাই না কোনো কিছু আর।

আকাশে বাতাসে এই কথা জানিয়ে দেবো,
তোমাকে না পেলে আমি তখনই মরে যাবো।

সাগরিকা, বেঁচে আছি তোমারই ভালোবাসায়...

চলবে........

08/05/2026

❤️❤️❤️

Send a message to learn more

05/05/2026

#অন্তর_আসক্তি
#পর্বঃ০৭


সর্বোচ্চ স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে তাকবীর।রাগে কপালে শিরাগুলো ফুলে উঠেছে।চোখে অদ্ভুত হিংস্রতা!
পরিচিত একজন পলিটিকাল লিডারের সাথে কথা বলার ফাঁকেই লিয়ানাকে ছদ্মবেশে নিয়ে ওই লোকটা পার্টি ছেড়েছে।তাকবীর একে চেনে,নাম তরুণ তালুকদার।কয়েকবার নামটা কানে এসেছিলো তবে কথা হয় নি কখনো।

লিয়ানা বারবার পেছনে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে তাকবীর ওদের পিছু নিয়েছে কি না!তরুণ অভয় দিয়ে বলল,'মিস আপনি ভয় পাবেন না।আমরা অনেকদূর চলে এসেছি।হামজা তাকবীর আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না।এখন বলুন কোথায় যেতে চান?'
লিয়ানা নিপুর বোনের বাসার ঠিকানা দিলো।বলল,'আমাকে প্লিজ ওইখানে দিয়ে আসুন।'
'ঠিকাছে কিন্তু আপনাকে হামজা তাকবীর পেলো কোথায়?'
লিয়ানা সবটাই তরুণকে বলল।সব শুনে তরুণ বলল,'বাস্টার্ড একটা লোক।আপনি চিন্তা করবেন না আমি আপনাকে বাঁচাবো।'

এদিকে তাকবীর প্রায় ওদের কাছাকাছিই চলে এসেছে।কথার তালে থাকায় ওরা ব্যাপারটা একটুও খেয়াল করে নি আর যখন খেয়াল করেছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।তাকবীর নিজের গাড়িটা ওদের গাড়ির সামনে এনে আঁটকে দিয়েছে।বাধ্য হয়ে তরুণের গাড়ি থামাতে হলো কিন্তু ও ভয় পাচ্ছে না।গাড়ি থেকে নামতে নামতে লিয়ানাকে বলল,'চিন্তা করবেন না,আমি আসছি।'
লিয়ানা মাথা নাড়লো ঠিকই তবে ওর ভীষণ চিন্তা হচ্ছে।
তরুণ তাকবীরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল,'মেয়েটাকে আঁটকে রেখেছেন কেনো?'
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অদূরে দাঁড়ানো গাড়ির ভেতরে বসে থাকা লিয়ানাকে একবার দেখে নিয়ে তাকবীর বলল,'তুই এটা জানার পরও ওকে নিয়ে পালাচ্ছিলি!ভেবেছিলাম জানিস না বলে ভূলে এরকম করে ফেলেছিস কিন্তু জেনেশুনে আমার জিনিসের ওপর নজর দেওয়া তো মোটেও ঠিক হয় নি।'
'লিয়ানা কোনো বস্তু নন।আপনি তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আঁটকে রাখতে পারেন না।'
তাকবীর সোজা তরুণের হাঁটু বরাবর লাথি মারতেই তরুণ বসে পড়লো হাঁটু ভেঙে।ও তরুণের চুলের মুঠি ধরে লিয়ানার দিকে হিংস্র দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বলতে লাগলো,'আমার ইচ্ছার ওপরে কারো ইচ্ছা নেই।আমি যেহেতু বলেছি ও আমার।তাহলে ও আমারই।মাঝে ঢোকার চেষ্টা করলে এমন ভাবে গায়েব হবি যে কখনো জন্মেছিলি কি না ভুলে যাবি।'
তরুণ নিজের চুলগুলো তাকবীরের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল,'তুই একটা কাপুরুষ।তোর পুরুষত্বের ওপর লজ্জা হওয়া উচিত।মেয়েদের সম্মান না দিতে পারলে নিজেকে পুরুষ ভাবা বন্ধ কর।'
তরুণের কথাগুলো শুনে তাকবীর মাথায় রক্ত উঠে গেলো।ও তরুণকে লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে ওর গলার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরলো।এদিকে এসব দেখে লিয়ানা আর গাড়ির ভেতর বসে থাকতে পারলো না।ও নেমে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলল,'ওনাকে ছেড়ে দিন।আমি আপনার সাথে যাব।'
'ও খুব দরদ হচ্ছে ওর জন্য তাই না?
এদিকে তরুণ চিৎকার করে বলল,'লিয়ানা আপনি গাড়িতে গিয়ে বসুন আমি আসছি।'
'যা বস ওর গাড়িতে গিয়ে তারপর ওর কলিজা দিয়ে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করব।'
লিয়ানা গিয়ে তাকবীরর হাত টেনে ধরে বলল,'চলুন,প্লিজ।'
তাকবীর ওর কথা শুনলো,তরুণের গলার ওপর থেকে পা সরিয়ে লিয়ানার হাত চেপে ধরে গাড়িতে নিয়ে বসালো।লিয়ানাকে ভয় আর কান্না একসাথে ধরেছে।ও মুখ চেপে ধরে কাঁদছে।পাশে তাকবীর পাথরের মত বসে গাড়ি চালাচ্ছে।একবারও লিয়ানার দিকে তাকায় নি।

হোটেলে ফিরে লিয়ানাকে রুমে রেখে তাকবীর আবার বের হলো।লিয়ানার ভীষণ ভয় হতে লাগলো,জানোয়ারটা না আবার ওই ছেলেটার ক্ষতি করে দেয়!নিজের জন্য এখন আরেকজনের জীবন বিপদে।ভীষণ খারাপ লাগছে লিয়ানার।কাঁদতে কাঁদতেই ড্রেস চেঞ্জ করে,ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লো।ঘুম আসলো অনেক রাত পর্যন্ত!ভয়ে ক্রমশ শরীর অবশ হয়ে আসছে।এখন পর্যন্ত তাকবীর আসে নি।লিয়ানা অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো।শেষ রাতের দিকে কারো ছোঁয়ায় ঘুম ভাঙলো ওর।চোখ মেলে তাকাতেই দেখলো তাকবীর ওকে গভীর দৃষ্টিতে দেখছে।লিয়ানা তড়িৎ উঠে বসে বলল,'আপনি আমার সাথে যা মন চায় করুন।আমি বাঁধা দেব না আর পালানোরও চেষ্টা করব না শুধু ওই ছেলেটার ক্ষতি করবেন না।'
'কেনো?ভালো লেগেছে?ভালোবেসে ফেলেছিস নাকি?'বলতে বলতেই হিংস্র হয়ে উঠলো তাকবীর।লিয়ানার থুতনী চেপে ধরে রক্তাক্ত চোখে বলল,'এতদিন থেকেও আমাকে ভালো লাগে নি তোর।তাহলে ওকে কিভাবে ভালো লাগলো,বল?কি জাদু করেছে ও?'
লিয়ানা প্রবল জোরে মাথা নাড়তে লাগলো।তাকবীর এত জোরে চেপে ধরেছে ওর থুতনী যে বেচারি কথাও বলতে পারছে না।ব্যাথায় ওর চোখ বেয়ে জল গড়াতে লাগলো।এর মধ্যেই দরজায় নক হলো।তাকবীর লিয়ানা ছেড়ে দিয়ে দরজা খুলে রায়নের হাত থেকে প্লেট'টদ নিয়ে বলল,'ভালো মত রাঁধতে বলেছিলি তো?'
'জ্বি,বস।'
'গুড।'
এটা বলেই তাকবীর দরজা আঁটকে দিলো।হাতের প্লেট'টা টেবিলের ওপর রেখে প্যান্টের পকেট থেকে চারটা মোম বের করে জ্বালিয়ে প্লেটের চার কোণায় রাখলো চারটা।তারপর রুমের লাইট অফ করে লিয়ানার দিকে এগিয়ে গিয়ে গা হিম করা স্বরে বলল,'চলো,আফিম আমরা এখন ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করব কলিজা ভুনা দিয়ে।আমি অনেক কষ্ট করে তোমার জন্য এনেছি।'
লিয়ানা পিছিয়ে গিয়ে ভীত স্বরে বলল,'কিসের কলিজা ভুনা?'
'তোমার আশিক,যার সাথে পালাচ্ছিলে!ওকে তো তোমার ভালো লেগেছিলো তাই ভাবলাম ওর কলিজাটা ভুনা করে আনি তোমার জন্য।খেয়ে বলো তো আফিম কেমন হয়েছে?'
এটা শুনেই লিয়ানার বমি চলে এলো।ও দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।মনে হচ্ছে যেনো পেটের নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসবে গলা দিয়ে।প্রচন্ড ভয় লাগছে ওর।লোকটা সাইকো,পাগল,মানসিক সমস্যা আছে এইটুকু বুঝতে পেরেছে লিয়ানা।এদিকে বাইরে থেকে তাকবীর বলল,'কই আসো?ঠান্ডা হয়ে যাবে তো।'
লিয়ানার গা হিম হয়ে আসলো।ও জ্ঞান হারালো।

পরেরদিন খবরের পাতায় একটা রহস্যময় মৃত্যুর সংবাদ এলো।নবাগত বিজনেস ম্যান ও অপজিট পার্টির নেতার ভাতিজা তরুণ তালুকদারের হৃদপিণ্ড বিহীন লাশ পাওয়া গেছে শহরের বাইরে একটা কনস্ট্রাকশান সাইটে।অন্যান্য অঙ্গ ঠিক থাকলেও হৃদপিণ্ডটা নেই,মন হচ্ছে যেন কেউ খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করেছে সেটা।

সকালে লিয়ানার ঘুম ভাঙতেই ও নিজেকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় তাকবীর বাহুতে পেলো।ঘৃণায় মুখ কুঁচকে গেলো ওর।সরে যেতে চাইলেও পারলো না।আর শক্তহলো তাকবীরের বাহুবন্ধন।লিয়ানা ক্রোধিত স্বরে বলল,'ছাড় আমাকে।'
'আফিমের আসক্তি কি এত সহজে ছাড়া যায়!'
লিয়ানা এবার অসহায় স্বরে বলল,'কি করলে আপনি আমাকে ছাড়বেন বলুন?'
'এখন আর তোমাকে ছাড়তে পারব না।কোনো কিছুরই বিনিময়ে না।'
'তাহলে আমাকে বিয়ে করুন।'
তাকবীর ভ্রু কুঁচকে লিয়ানার দিকে তাকিয়ে কয়েকবার চোখের পলক ফেলে বলল,'গুড আইডিয়া।আসলে আমি বিয়ের ব্যাপারে ভাবি নি।তবে তুমি যেহেতু ভেবেছো তাহলে তো বিয়ে করতেই হবে।'
লিয়ানা ঘাবড়ে গেলো।ও তো তাকবীরকে চাপে ফেলার জন্য কথাটা বলেছে।ভেবেছে বিয়ের কথা বললে তাকবীর ওকে ছেড়ে দেবে আর যাইহোক তাকবীর ওকে বিয়ে করবে না।কিন্তু এখন?

চলবে......

(আচ্ছা,তাকবীরকে কেউ ভালো মনে কইরেন না।ও আসলেই জা'নোয়ার।আমি নায়ক,নায়িকার গল্প লিখছি না।এই গল্পে নায়িকা আর ভিলেন থাকবে আর ভিলেন কখনো ভালো হয় না তা আপনারা জানেন তাই তাই তাকবীরকে ভালো বানানোর রিকুয়েষ্ট করিয়েন না।)

05/05/2026

❤️❤️

04/05/2026

#শূন্যতার_পাতায়_পূর্ণতা
#লেখনিতে_নূর

15+16
পরের দিন। বাসার নিচে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাশে সারিদ আমার এক হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অপেক্ষা রাদিল ভাইয়ার। কিছুক্ষন পর রাদিল ভাইয়ার গাড়িটা এসে থামে আমাদের সামনে। গাড়ির কাঁচ নামিয়ে আমাদের তাকালো তাকালো রাদিল ভাইয়া। চোখে-মুখে চিরচেনা গম্ভীর ভাব।

"দাঁড়িয়ে আছো কেন? ওঠো,,!"

আমি কিছু না বলে দরজা খুলে বসে পড়লাম। আমরা উঠে বসার পর এক মুহূর্ত দেরি না রাদিল ভাইয়া গাড়ি স্টার্ট করলেন। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। অন্যদিকে সারিদ রাদিল ভাইয়াকে এটা-ওটা বলছে। উনি মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সারিদের কথার প্রতিউত্তরে হ্যাঁ! হুম!!করে যাচ্ছে। উনাদের মাঝে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছি আমি।

অনেক্ষন পর বড় একটা শপিংমলের সামনে গাড়িটা থামালেন উনি। শপিংমলের বাহিরে রুহি, রাদিফ ভাইয়া, উনার বোন রিফা আর সাজিদ ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছেন। আমি সারিদকে কোলে তুলে গাড়ি থেকে নেমে উনাদের কাছে চলে গেলাম। আমাকে দেখে রুহি বললো,

"এতো দেরি করলি কেন? কখন থেকে অপেক্ষা করছি।"

"রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিল। তাই দেরি হয়ে গেছে।"

রাদিল ভাইয়া পার্কিংলটে চলে গেলেন গাড়ি পার্ক করতে। গাড়ি পার্ক করে উনি আমাদের কাছে চলে আসেন। সকলে শপিংমলের ভেতরে প্রবেশ করলাম। এতক্ষনে সারিদ আমার কোল থেকে রুহি রিফার কোল বদল করে সাজিদ ভাইয়ার কোলে গিয়ে থেমেছে। সারিদ একটু পর পর ছটফট করছে কোল থেকে নামার জন্য। সে আমাদের মতো হেঁটে হেঁটে সব দেখবে। কিন্তু এতো মানুষের ভীড়ে হঠাৎ যদি হাত ছুটে যায়, তখন? সারিদের জিদের কাছে আমার চোখ রাঙানো কাজে দিলো না। অবশেষে রাদিল ভাইয়া ওকে কোলে নিয়ে কানে কানে কি একটা বললো এতে সে শান্ত হয়ে গেলো। কোল থেকে নামার জন্য আর বায়না করলো না।

রুহি, রিফা আর আমাকে শাড়ী-থ্রিপিস পছন্দ করতে বলে সারিদকে নিয়ে ওনারা কোথায় যেন চলে গেলেন। আমি, রুহি, রিফা শাড়ী দেখতে লাগলাম। ঘন্টা খানিক পর উনারা ফিরে আসলেন। এতক্ষন আমি, রুহি, রিফা বিয়ের জন্য দুটো শাড়ী পছন্দ হয়েছে। কিন্তু এই দুটোর মধ্যে কোনটা নিবে সেটা কেউ ঠিক করতে পারিনি। উনারা আসার পর রুহি রাদিফ ভাইয়াকে বিয়ের জন্য কোন শাড়ীটা পরবে তা বেছে দিতে বললো। অন্যদিকে রিফা সাজিদ ভাইয়াকে নিয়ে গেছে নিজের কিছু দরকারি জিনিসপত্র কিনতে। রুহির দুই হাতে দুটো শাড়ি নিয়ে রাদিফ ভাইয়াকে বলছে একটা বেছে দিতে। রাদিল ভাইয়া সারিদকে ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক দেখাচ্ছে।

আপাতত আমি একাই বসে আছি। হঠাৎ আমার নজরে পড়লো একটু দূরের একটা জলপাই রঙা শাড়ীর উপর। আমি এগিয়ে গেলাম জলপাই রঙা শাড়িটার দিকে। জলপাই রঙা শাড়ির উপর সোনালী সুতোর কাজ। শাড়িটা দূর থেকে যতটা না আকর্ষনীয় কাছ থেকে আরো বেশি আকর্ষণীয়। জলপাই রঙা শাড়িটা দেখে আগেরকার কিছু স্মৃতি চোখে ভেসে উঠলো। সেদিন আমি আমার পরিবারের সাথে শপিংয়ে এসেছিলাম। তখন এরকম রংয়ের একটা থ্রি-পিস আমার পছন্দ হয়েছিল।

"মা, আমি এইটা নিবো।"

"ঠিক আছে।"

মায়ের সম্মতিতে আমার খুশি দেখে কে? থ্রি-পিসটা নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরলাম। পছন্দমতো হওয়ায় সায়মাকে দেখিয়ে ছিলাম। যতটা আনন্দ হয়ে দেখিয়ে ছিলাম সায়মার পরবর্তী কথা শুনে ততটায় চুপসে গেলাম।

"থ্রি-পিসটা সুন্দর। কিন্তু তোকে মানাবে না। নিজের গাঁয়ের রং দেখ আর এইটার রং দেখ। তুই এইটা পড়লে মনে হবে বাঁদরের গলায় মুক্তর মালা। তাই এইটা আমি নিয়ে গেলাম।"

বলে থ্রি-পিসটা নিয়ে চলে গেলো। সেদিন আমার চুপচাপ দেখা ছাড়া কিছু বলার ছিলো না। বললেও কোনো লাভ হবে না উল্টে আমাকে কথা শুনতে হবে।

"ম্যাম, এটা দেখবেন?"

একজন সেলসগার্ল হাসিমুখে এগিয়ে এসে বললো।আমি হালকা মাথা নেড়ে শাড়িটা হাতে নিলাম। আয়নার সামনে গিয়ে নিজের সাথে মিলিয়ে দেখলাম। মেয়েটা আবার বললো,

"আপনার ওপরটা খুব সুন্দর মানাবে, ম্যাম!"

আমি শাড়িটা নিয়ে রুহির কাছে গেলাম। শাড়িটা ওর শরীরের সাথে মিলিয়ে বললাম,

"এই শাড়িটা তোকে অনেক মানাবে।"

রুহি শাড়িটা উল্টে-পাল্টে দেখে বললো,

"শাড়ীটা দারুন তো। দেখ, আমাকে মানাবে অনেক।"

"হুম,,!"

শপিংমলের পাশে একটা রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে এসেছি। আপাতত খাবার অর্ডার দিয়ে বসে আছি। আমি, রুহি, রিফা বিয়েতে কি কি তা নিয়ে কথা বলছি।

"মাম্মা, আমি ওয়াশরুমে যাবো।"

সারিদের কথায় ওর দিকে তাকালাম আমি।

"চলো, আমি নিয়ে যাচ্ছি।"

বলে ওকে নিয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম। ওয়াশরুমের উদ্যেশে যেতে নিলে রাদিল ভাইয়া থামিয়ে বললো,

"সায়রা, দাঁড়াও!"

হঠাৎ উনার ডাকে পেছন ফিরে তাকালাম আমি। ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নসিক্ত কণ্ঠে বললাম,

"জ্বি,, কিছু বলবেন ভাইয়া?"

রাদিল ভাইয়া একটু অপ্রস্তুত গলায় বললেন,

"জেন্টস ওয়াশরুম! তুমি বসো। আমি সারিদকে নিয়ে যাচ্ছি।"

থেমে গেলাম আমি। অমনযোগের জন্য এক্ষুনি সারিদকে নিয়ে জেন্টস ওয়াশরুমে চলে যেতাম। রাদিল ভাইয়ার সামনে আবার লজ্জায় পরে গেলাম। রাদিল ভাইয়া সারিদকে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেলেন। উনি চলে যেতে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমি পুনরায় চেয়ারে বসে পড়লাম।

চলবে,,,(ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন)

03/05/2026

#অন্তর_আসক্তি
#পর্বঃ০৬


তাকবীর রায়নকে ফোন করে বলল রুমে আসার জন্য।রায়ন প্রায় তখনই রুমে এলো।তাকবীর সোফায় আরাম করে বসে সিগারেট ফুঁকছিলো।রায়নকে দেখে বলল,'ম্যানেজারের সাথে কথা বলে রিসিপশন থেকে মাস্টার কি নিয়ে আয়।'
'জ্বি,বস।'
রায়ন দ্রুত গিয়ে 'মাস্টার কি' নিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফিরে এলো।তাকবীর চাবিটা ওর হাত থেকে নিয়ে ইশারায় ওকে চলে যেতে বলল।রায়ন নিজের বসের কথামত সেখান থেকে চলে গেলো।ও চলে যেতেই তাকবীর ওয়াশরুমের সামনে এসে বলল,'তোমাকে আরেকটা সুযোগ দিচ্ছি,আফিম।নিজ ইচ্ছায় বেরিয়ে এসো।'
'কেনো?চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে পারবেন না?জানতাম আমি।লোহার দরজা ভাঙা এত সহজ নয়,তাও আবার এত রাতে।'
'দরজা না ভেঙেই তোমাকে বের করা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না কিন্তু আমি বের করলে তোমার কি হবে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।'
'ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।যা করার করুন।আমি দেখি কত পাওয়ার আমার।'
'ঠিকাছে,দেখো।'
এটা বলেই তাকবীর মাস্টার কি দিয়ে দরজাটা এক চান্সেই খুলে ফেললো।ঘটনায় আকস্মিকতায় লিয়ানা বাকরুদ্ধ।তাকবীর ভেতরে ঢুকেই লিয়ানার হালকা শরীরটা উঠিয়ে নিলো এক ঝটকায়।বাইরে এনে বিছানায় ছুঁড়ে মেরে বলল,'তুমি বড্ড বোকা।'
'আর তুই আস্ত জা'নোয়ার।'লিয়ানা তীব্র রাগে ফেটে পড়লো।
'সেটা আমি জানি।'
'লজ্জা নেই তাই না?'
'লজ্জা!সেটা আবার কি?'
এটা বলেই তাকবীর ঝড়ের গতিতে লিয়ানাকে পেঁচিয়ে নিজের বাহুতে নিয়ে নিলো।লিয়ানা ওর পেশিবহুল হাতে জোরে কামড় বসালো,ব্যাথা পেলেও তাকবীর প্রকাশ করলো না বরং এমন ভাব করলো যেনো ওর লাগছেই না।লিয়ানার দাঁতের ছাপ বসে গেছে গভীরভাবে।তাকবীর এবার ওকে বিছানার সাথে ঠেসে ধরে ওর হাতদুটোতে হ্যান্ডকাফ পরালো।এগুলো আজই এনেছিলো তাই পকেটেই ছিলো।লিয়ানা প্রচুর আজেবাজে গালিগালাজ করতেই থাকলো তাকবীরকে কিন্তু ওর গালিগালাজে তাকবীর দমে যাবার বদলে আরও রুক্ষ,হিংস্র হয়ে উঠলো।এক পর্যায়ে তীব্র যন্ত্রণায় কাঁদতে শুরু করলে, তাকবীর ওকে ছেড়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,'আমাকে রাগানোর ফল কেমন হতে পারে সেটা আশা করি বুঝেছো।'
লিয়ানা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতেই থাকলো।
পুরো রাত আর কারো সাথে কারো কথা হলো না।

লিয়ানার যখন ঘুম ভাঙলো তখন বেলা বারোটা।স্বাভাবিক ভাবেই তাকবীর সে সময় থাকবে না।বিছানা ছেড়ে প্রতিদিনের মত গোসল করে ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ একসাথেই করে নিলো।এই ঘরটায় ভীষণ দমবন্ধ লাগে ওর।সারাদিন কিছুই করার থাকে না,কারো সাথে কথাও হয় না।এরকম বন্দি জীবন বিষাক্ত লাগে।

তাকবীর সবে মিটিং থেকে ফ্রী হয়ে বসেছিলো ট্যাব নিয়ে লিয়ানা কি করছে এটা দেখার জন্য কিন্তু হুট করেই রায়ন এসে বলল,'বস,ইরহা ম্যাম এসেছেন।দেখা করতে চাইছেন।'
'আসতে বলো।'
রায়ন ইরহাকে কেবিনে পাঠালো।ইরহা এসেই আবেদনময়ী ভঙ্গিতে সোফায় বসে বলল,'কেমন আছেন?'
'ভালো,আপনি?'
'আপনাকে দেখার পর ভালো আছি।'
তাকবীর মুচকি হাসলো।ইরহা আবারও বলল,'লাঞ্চ করেছেন?'
'না,আপনি?'
'না,আপনার সাথে করব বলে করি নি এখনও।'
'ওয়াও!'
'চলুন তবে কোথাও বসা যাক?'
'ইয়েস,প্লিজ।'
তাকবীর বেরিয়ে গেলো ইরহার সাথে।লাঞ্চ করতে বসে ইরহা বলল,'এই উইকেন্ডে আপনি ফ্রী থাকলে একটা লং ড্রাইভ বা একটা ডেট প্ল্যান করা যায়।'
'ডেট!একচুয়েলি আমার ডেট টাইপের ব্যাপারগুলো ভালো লাগে না।'
'প্রেম করেন নি কখনও?বা কাউকে ভালো লাগে নি?'
'প্রেম,ভালোবাসা আমাকে টানে না তবে ইদানীং একজনের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছি।চাইলেও তাকে মাথা থেকে বের করতে পারছি না।'
'হু,প্রেমে পড়েছেন।'
'বত্রিশ বছর বয়সে প্রেম?'
'প্রেমে পড়তে বয়স লাগে নাকি?'
'কি জানি!'
'আচ্ছা যাকে পছন্দ হয়েছে সে কোথায় থাকে?'
'আমার কাছে।'
ইরহা অবাক হয়ে বলল,'মানে?'
'হ্যাঁ,ওই মেয়েটার সাথে শোয়ার পর আমার আর কারো প্রতিই টান আসছে না।আমি বুঝতে পারছি না এটা কি।'
'মানে একটা স্লাটের প্রেমে পড়েছেন?'
ইরহার কথায় তাকবীরের খাওয়া থেমে গেলো।ও একবার ইরহার দিকে তাকাতেই ইরহার পিলে চমকে উঠলো।ভীষণ ভয় পেলো!এদিকে তাকবীর ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে।ইরহা একটা বসার জন্য রিকুয়েষ্ট বা স্যরি কিছুই বলতে পারলো না।

রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে তাকবীর সোজা হোটেলে চলে গেলো।ভীষণ মেজাজ খারাপ লাগছে ওর।আবার আজ সন্ধ্যায় একটা বিজনেস পার্টি আছে সেখানে যেতে হবে।

রুমে এসে তাকবীর দেখলো লিয়ানা চুপচাপ বসে কি যেনো ভাবছে।ও ওর কোট খুলতে খুলতে বলল,'সন্ধ্যার আগে রেডি হবে।পার্টি আছে।'
'আমি যাব কেনো?'
'আমি বলেছি তাই।'
'আমি যাব না কোনো পার্টিতে।'
'যেতে হবে।স্বেচ্ছায় যাও বা বাধ্য হয়ে।'

লিয়ানা অনেক্ক্ষণ ভেবে রাজি হলো।পার্টিতে গিয়ে কোনোভাবে পালানোর রাস্তা বের করতে হবে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই লিয়ানাকে সাজানোর জন্য মেক-আপ স্পেশালিষ্ট,ডিজাইনার ড্রেস,জুতা ব্যাগ সব চলে এলো।চুপচাপ সাজলো ও।সাজ শেষ হতেই নিজেকে আয়নায় দেখে ভীষণ অবাক হলো।এত সুন্দর লাগতে পারে ওকে ও কখনোই ভাবে নি।এদিকে পেছন থেকে তাকবীর নিজেও দৃষ্টি ফেরাতে পারছে না।আসক্তি যেন বাড়ছেই দিনদিন।

পার্টিতে যাওয়ার পর লিয়ানা আশপাশ ভালো ভাবে দেখছিলো কোনো রাস্তা পাওয়া যায় কি না!তাকবীর অবশ্য ওর আশেপাশে থেকেই নজর রাখছিলো।লিয়ানা ওকে ড্রিংকস দিতে চাওয়া ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করলো,'ওয়াশরুম কোনদিকে?'
'ম্যাম,হাতে ডানদিকে যান।'
'ওকে।'
লিয়ানা ওয়েটারের কথা মত হাতের ডানদিকে গিয়ে ভূলে ওম্যান'স ওয়াশরুমের বদলে পাশের ম্যান'স ওয়াশরুমে চলে গেলো।তখনই সেখানে এলো পাওয়ারফুল আরেক বিজনেস লিডার।সে লিয়ানাকে দেখে বলল,'মিস,আপনি ম্যান'স ওয়াশরুমে এসেছেন।পাশেরটায় যান।'
'ও আচ্ছা।'
লিয়ানার মনে হলো লোকটা ভালো তাই ও না গিয়ে ইতস্তত স্বরে বলল,'আমাকে এখান থেকে বের হতে হেল্প করতে পারবেন,প্লিজ?'
'স্যরি,বুঝলাম না।'
'হামজা তাকবীর আমাকে আঁটকে রেখেছে।যেতে দিচ্ছে না।আমাকে একটু এখান থেকে বের হতে সাহায্য করবেন?'
লোকটা বলল,'ওকে,আপনি একটা কাজ করুন।এখানেই অপেক্ষা করুম।আমি আসছি দু'মিনিটের মধ্যে।'
'ওকে,প্লিজ তাড়াতাড়ি করবেন।'
'ডোন্ট ওরি!'

চলবে........

Address

Rajshahi
Nawabganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when kiti cat posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category