29/05/2026
#অন্তর_আসক্তি
#পর্বঃ০৯
(১৮+ সতর্কতা,প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তমনষ্কদের জন্য।)
গাড়ির সীটে হেলান দিয়ে লিয়ানা কাঁদছে নিঃশব্দে,গরম জল গড়িয়ে পড়ছে ওর গাল বেয়ে।নাকের আগা লাল হয়ে আছে,চোখ ফুলে গিয়েছে কান্নার কারণে,কিছুক্ষণ পরপরই হিচকি আসছে।এই অবস্থা দেখে তাকবীর রাশভারী স্বরে বলল,'আফিম,কান্না বন্ধ করো!আমার একটুও ভালো লাগছে না।'
লিয়ানা উত্তরও দিলো না,নড়লও না।একইভাবে কাঁদতে থাকলো।মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো তাকবীরের।মেয়েটা এত অবাধ্য কেনো!ও গাড়ির স্পিড সর্বচ্চো করে দিলো।হঠাৎই এত স্পিডে গাড়ি চলতে দেখে ভয়ে,আতঙ্কে লিয়ানার কান্না বন্ধ হয়ে গেলো।ও পাশে বসা তাকবীরের দিকে তাকাতেই দেখলো লোকটা উন্মাদের মত গাড়ি চালাচ্ছে।লিয়ানা কাঁপা স্বরে বলল,'আ,,আস্তে চা,,চালা,,,ন প্লি,,প্লিজ!'
'কান্না বন্ধ করো,চোখ মুছো,এক ফোঁটা পানি যেন আমি চোখে না দেখি।'
লিয়ানা দ্রুত চোখের পানি মুছে ফেললো।তারপর বলল,'দেখুন আমার চোখে পানি নেই।আল্লাহর ওয়াস্তে গাড়িটা আস্তে চালান।'
তাকবীর লিয়ানাকে একবার পরখ করে নিয়ে ধীরে ধীরে স্পিড কমিয়ে আনলো।
হোটেলে ফিরেই তাকবীর রায়নকে আদেশ করলো লিয়ানাকে বউ সাজিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে।আগেই তো সবকিছু কেনা হয়ে গিয়েছিলো,এখন শুধু এক্সপার্ট'রা এসে লিয়ানাকে সাজিয়ে দেবে।
লিয়ানার সাজ শেষ হলো রাত নয়টায়।এত সুন্দর লাগছে ওকে যে চোখ ফেরানো দায় হয়ে পড়েছে।এক্সপার্টদের মধ্যে একজন তো নিজের চোখ থেকে কাজল নিয়ে ওর কানের পেছনে দিয়ে বলল,'আপনি ভয়ংকর সুন্দর ম্যাম!এতটা সুন্দর যে আমি মেয়েও চোখ ফেরাতে পারছি না।'
লিয়ানা মনে মনে বলল এই সৌন্দর্যটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে!এতটা সুন্দর আমি না হলেও পারতাম।
এক্সপার্ট মেয়েগুলো চলে যাওয়ার একঘন্টা পর প্রায় রাত সাড়ে দশটায় রুমে এলো তাকবীর।ঢুকেই ওর নজর পড়লো বিছানার ওপর চুপচাপ ঘোমটা দিয়ে বসে থাকা লিয়ানার ওপর।চেহারা দেখা যাচ্ছে না ঘোমটার আড়ালে,তবে তাকবীর এতটুকু নিশ্চিত আজ তার আফিম নেশার ঘোর বাড়িয়ে দেবে।তাকবীর এগিয়ে এসে লিয়ানার সামনেই বসলো।ঘোমটা তুলতে যাবে এমন সময় লিয়ানা খাট থেকে নেমে চলে যেতে চাইলেই তাকবীর ওর হাত টেনে ধরে ওকে নিজের কোলের ওপর ফেললো।কানে কানে বলল,'মুখ দেখাবে না আফিম?'
লিয়ানা কিচ্ছু বলল না,যেন ও একটা মরা মাছ।তাকবীর পেছন থেকে শাড়ির ফাঁক দিয়ে নিজের বলিষ্ঠ হাত খানা লিয়ানার কোমড়ের ভাঁজে রেখে গাঢ় স্পর্শ দিতে লাগলো।একপর্যায়ে আঁচলটা টেনে ফেলে দিয়ে লিয়ানাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে ওর ওপর ঝুঁকে গেলো।ঘোমটাটা সরিয়ে দেখলো মেয়েটা চোখ বন্ধ করে রেখেছে।তাকবীর দুষ্টু হেসে ওর গলায় মুখ ডোবালো।আগ্রাসী চুমু আর ছোটো ছোটো কামড়ে লিয়ানা না চাইতেও শিউর উঠতে লাগলো।অসভ্য,অশ্লীল লোকটার হাত আর ঠোঁট ওর শরীরের সমস্ত অংশে প্রকট হচ্ছে।
লিয়ানা এখনও ঘুমাচ্ছে।গতরাতে মেয়েটা একফোঁটাও ঘুমাতে পারে নি,এদিকে তাকবীর নিজেও ঘুমায় নি।মেয়েটার মধ্যে এতটাই ডুবে ছিলো যে হুশ জ্ঞান সব হারিয়ে ফেলেছিলো।অতঃপর আজ ঘুম ভাঙতেই অনেক দেরি হলো তবুও লিয়ানার আগেই উঠলো ও।খাটের একপাশে নিজের জামা,কাপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,আর অন্য পাশে লিয়ানার ব্লাউজ,অন্তর্বাস খন্ডিত অবস্থায় পড়ে আছে।
সবকিছু গুছিয়ে গোসল করে তাকবীর চলে গেলো অফিসে।যাওয়ার সময় রিসিপশনে লিয়ানার এক্সট্রা টেক-কেয়ারের কথাও বলে গেলো।
অফিসে পৌঁছেই দেখলো ইয়াহিয়া মির্জা ফোন করেছে।তাকবীর রিসিভ করতেই বলল,'কি অবস্থা,তাকবীর?'
'এইতো,আঙ্কেল।ভালোই।'
'বিয়ে করেছো শুনলাম।'
'হ্যাঁ,করেছি গতকাল।'
'এভাবে হুটহাট?'
'আমার জীবনে সবকিছুই হুটহাট করেই হয় আঙ্কেল।'
'আচ্ছা তাহলে একটা রিসিপশন পার্টি রাখো আমারাও দেখি তোমার বউকে।কার রুপে পাগল হলো হামজা তাকবীর!'
কথাটা তাকবীরের ভালো লাগলো না।ও বলল,'স্যরি আঙ্কেল।আমি ওকে প্রকাশ্যে আনবো না।'
'তাহলে তো রক্ষিতা ই ভালো ছিলো।'
'শাট-আপ ইয়াহিয়া মির্জা!মুখ সামলে কথা বলুন।নয়তো মুখ ভেঙে দেব যেন আর কথাই বলতে না পারেন।'
এই বলেই তাকবীর রেখে দিলো ফোন।রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে ওর।মন চাচ্ছে বুড়োটার গলায় পাড়া দিয়ে মে'রে ফেলতে।
একটা সিগারেট জ্বেলে ফুঁকতে ফুঁকতে নিজেকে ঠান্ডা করতে লাগলো ও।হঠাৎই ওর মস্তিষ্কে এলো কিছুদিনের চেনাজানায় একটা মেয়ের জন্য যার সাথে বহু বছরের পুরনো সম্পর্ক তাকে এভাবে বলতে পারলো?আশ্চর্য ব্যাপার হলো তাকবীরের অনুশোচনা হচ্ছে না বিন্দুমাত্রও।ওর মনে হচ্ছে ও ঠিকই করেছে।
নামিউল তালুকদারের বাড়ির লাইব্রেরিতে বসে আছে ইরহা।একটু পর বাড়ির কাজের লোক ইরহা কে গ্রীন টি দিয়ে গেলো।ইরহা এক চুমুক দিতেই হাজির হলো নামিউল।হাস্যোজ্জ্বল স্বরে বলল,'আরে মন্ত্রী কন্যা যে?হঠাৎ গরিবের বাড়িতে কি প্রয়োজনে আসা হলো?'
'Gyokuro tea,বিশ্বের সবচেয়ে দামি গ্রীনটি জাপানের এই গ্রীনটি তাই না?'
'বাহ,আপনার তো ভালোই নলেজ আছে।'
'থাকাটাই স্বাভাবিক।তারপর বলুন কে যেনো গরিব?'
'ঠিকাছে মিস সারেন্ডার করলাম।'
ইরহা হাসলো।নামিউল ওর সামনে বসতেই ইরহা বলল,'আপনি কি এই প্রবাদটা শুনেছন শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়।'
'তাহলে কি বন্ধুত্ব করতে এলেন?'
'ফিরিয়ে দেবেন?'
'যাওয়ার সময় Gyokuro tea নিয়ে যাবেন মনে করে।বন্ধুত্বের উপহার হিসেবে।'
'ধন্যবাদ,বন্ধু মহাশয়।'
ইরহা হাসলো।
রাতে রুমে ফিরেই তাকবীর দেখলো লিয়ানা উবু হয়ে শুয়ে আছে।ওর স্কার্ট উঠে উরুতে চলে এসেছে,ভারী নিতম্বের খাঁজ স্পষ্ট!তাকবীর সামলাতে পাারল না।মোহগ্রস্তের মত এগিয়ে গেলো সেদিকে।পুরুষালি হাত নিজের অজান্তেই চলে গেলো নিতম্বের একদম ওপর।লিয়ানার চোখ লেগে এসেছিলো,হঠাৎ সংবেদনশীল অংশে এমন একটা থাপ্পড় পড়লো যেন কেঁপে উঠল লিয়ানা।এদিকে তাকবীর এখনও মোহগ্রস্তের মত তাকিয়ে আছে প্রেয়শীর আবেনময়ী শরীরের প্রতিটি ভাঁজে।
ইরহা আর নামিউলের মূল লক্ষ্য এখন এমন কাউকে নিজেদের দলে যুক্ত করা যাকে তাকবীর ভিষণ বিশ্বাস করে।প্রথমই আসে রয়ানের নাম তারপর আসে তাকবীরের স্ত্রী লিয়ানা।সহজ টার্গেট তাকবীরের স্ত্রী কারণ মেয়েটাকে ও জোর করে বিয়ে করেছে।ওকে খুব সহজেই তাকবীরের বিরুদ্ধে নিয়ে নেওয়া যাবে।তাই এখন মেয়েটার সাথে দেখা করা জরুরি।
চলবে..........