31/03/2026
ঘাম ঝরানো পরিশ্রম খামারির, মুনাফা লুটছে সিন্ডিকেট!
আমাদের দেশের বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় একটি অত্যন্ত দুঃখজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। যেখানে একজন খামারি হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া মূল্যের ফিড খাইয়ে একটি ডিম উৎপাদন করছেন, সেখানে ন্যায্য মূল্য পাওয়া তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
বর্তমান অমানবিক বাজার চিত্র:
খামারি পর্যায়ে ডিমের দাম ৭.৪০ টাকা
ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম ১০.০০ টাকা
মাঝপথে গায়েবি ব্যবধান ২.৬০ টাকা (প্রতি ডিমে)
কিছু তিক্ত সত্য:
* অসহায় উৎপাদক: একজন খামারি দিনরাত এক করে মুরগির যত্ন নেন, চড়া দামে খাদ্য ও ওষুধ কেনেন। কিন্তু যখন বিক্রির সময় আসে, তখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট। তাদের বেঁধে দেওয়া কম দামেই ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হন খামারিরা।
* জিম্মি সাধারণ ভোক্তা: অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ যখন বাজারে যাচ্ছেন, তাদের গুনতে হচ্ছে চড়া দাম। প্রতি পিস ডিমে ৩ টাকারও বেশি ব্যবধান থাকা মানে হলো—ভোক্তার পকেট কাটা হচ্ছে আর খামারিকে পথে বসানো হচ্ছে।
* অদৃশ্য সিন্ডিকেট: এই বিশাল মুনাফা না পাচ্ছেন উৎপাদক, না পাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা। লাভের পুরো অংশটিই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এই বৈষম্য দেখার যেন কেউ নেই।
আমাদের চাওয়া:
একটি ডিম উৎপাদনে যে শ্রম ও খরচ হয়, খামারিরা যদি তার কদর না পায় তবে অচিরেই ছোট ছোট খামারগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে একটি সুষ্ঠু তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
"যদি উৎপাদক ন্যায্য মূল্য না পায় এবং ভোক্তা নাভিশ্বাস অনুভব করে, তবে সেই বাজার ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।"