26/05/2025
আর মাত্র কয়েকটি দিন পরই দ্বারস্থ হবে পবিত্র যিলহজ্জ্ব মাস—বছরের সবচেয়ে বরকতময় ও মহিমান্বিত দশদিন। এই দশ দিনকে মহান আল্লাহ সুবহানহু ওয়া তা’আলা যে কতটা ভালোবাসেন, তা বোঝা যায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র হাদীস থেকেই। তিনি বলেন:
❝আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যিলহজ্জ্বের প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আর কোনো ইবাদত নেই।❞
(সহিহ বুখারী, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
রমাদান মাসের গুরুত্ব আমরা প্রায় সবাই জানি, কিন্তু যিলহজ্জ্বের এই দশ দিনের মাহাত্ম্য সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবহিত নই। অথচ এই দিনগুলো এমন এক সুবর্ণ সুযোগ, যখন একজন মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে নিজেকে সর্বোচ্চভাবে নিবেদিত করতে পারে।
এই পবিত্র দশ দিনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত, তা নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. যিলহজ্জ্ব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন:
এই মাসের ফযিলত, বিধি-বিধান ও কুরবানীর মাসায়েল সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখা আবশ্যক, বিশেষ করে যারা কুরবানীর নিয়ত করেছেন।
২. দৈনন্দিন কাজের প্রস্তুতি:
যেহেতু এই দশ দিন বিশেষ বরকতের, তাই দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো মাস শুরুর আগেই সেরে রাখার চেষ্টা করুন, যেন ইবাদতের জন্য সময় বের করা সহজ হয়।
৩. ইবাদতের একটি পরিকল্পনা তৈরি:
আলাদা একটি ইবাদত পরিকল্পনা তৈরি করুন—যেখানে ফরজ সালাত, নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দোয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৪. নফল রোযা রাখা:
এই দশকে যতটা সম্ভব রোযা রাখার চেষ্টা করুন, বিশেষ করে ৯ যিলহজ্জ্ব—আরাফার দিন। এ দিনের রোযা এক বছরের গুনাহ মোচনে সহায়ক।
৫. যিকির ও ইস্তিগফার বৃদ্ধি:
বেশি বেশি ইস্তিগফার, দরুদ শরীফ ও তাকবির বলুন। আরাফার দিনে রাসূল ﷺ প্রদত্ত বিশেষ দোয়া পড়ুন:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
৬. তাকবিরে তাশরিক পাঠ:
৯ যিলহজ্জ্ব ফজর থেকে ১৩ যিলহজ্জ্ব আসর পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পর উচ্চস্বরে এই তাকবির পাঠ করা ওয়াজিব:
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
যারা ভুলে যেতে পারেন, তারা নামাযের জায়গায় কাগজে লিখে রাখতে পারেন।
৭. প্রতিদিন সদকা করা:
সাধ্যমতো প্রতিদিন কিছু না কিছু দান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোট হলেও প্রতিদিনকার দান আপনাকে আল্লাহর নৈকট্য এনে দিতে পারে।
৮. অহেতুক কাজ থেকে বিরত থাকা:
এই দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় না করা, টেলিভিশন ও অন্যান্য মনোযোগ বিভ্রান্তকারী জিনিস থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা উচিত।
৯. অন্যদের সচেতন করা:
নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের এই দশকের গুরুত্ব সম্পর্কে জানান এবং তাদের আমলে উৎসাহ দিন।
আসুন, আমরা এই পবিত্র দিনগুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করি। নিজেদের পরিশুদ্ধ করি, আত্মা ও কর্মে যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারি।