26/07/2026
নিউজফীডে হঠাৎ করেই একটা ভিডিও আসে। সারমর্ম হলো এক স্ত্রী তার কষ্টের কথা বলছে অথচ স্বামী সব কিছু জেনেও ইগনোর করে যাচ্ছে এতে করে সে বলে উঠে—
"আল্লাহ, জেনো তোমায় একজন মেয়ে সন্তান দেন,যখন তার চোখের পানি পরবে তখন তুমি আমার কষ্ট বুঝবে"
এই কথাটা শুনেই বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো। কেনোনা সে নিজের অজান্তেই তার অনাগত সন্তানের জন্য কষ্টে আবেগী হয়ে এমন বদদুআ করেছেন যে সে নিজেই হয়তো এর গভীরতা অনুভব করেন নি।
একজন মেয়ে সন্তান সে শুধু মাত্র একটি সন্তান নয়, বরং সে বাবা মায়ের কলিজার টুকরা। তাকে পৃথিবীতে আনার জন্য একজন মা কত নির্ঘুম রাত কাটান,কত শারীরিক-মানসিক কষ্ট সহ্য করেন, কত ত্যাগ স্বীকার করেন! অথচ অভিশাপের গভীরতা না বুঝেই এমন অভিশাপ দিয়ে ফেলেন এতে করে পরবর্তী এটা তারই কষ্টের কারণ হয়ে যাবে। সন্তান যদি কষ্টে থাকে পৃথিবীর কোন বাবা মা সুখী হতে পারে? তাহলে সেই সন্তানকে কেন্দ্র করে অন্য কাউকে বদদোয়া করলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকবে কে?
অথচ মায়েরা জবানের ব্যাপারে কতই না বেখায়াল অথচ মায়ের দুআ কতটা পাওয়ায় ফুল আমরা সকলেই জানি। কথায় কথায় অভিশাপ দেওয়া জেনো ডাল-ভাত হয়ে গেছে।
কথা না শুনলে, একটু জ্বালালে বা মন মতোন কিছু না হলে সাথে সাথেই মায়েরা বলে উঠে—
তোর সন্তানও তোর কথা শুনবে না।
তুই আজ আমাকে যত জ্বালাচ্ছিস, তোর সন্তান তোকে এর চেয়েও বেশি জ্বালাবে।
তুই আমাকে যে কষ্ট দিলি, তোর সন্তানও তোকে সেই কষ্টই দিবে।
তোর কোনোদিন ভালো হবে না। আমি যে কষ্ট পাইছি তুইও সারাজীবন কষ্ট পাবি।
এত মানুষ মরে, তুই মরতে পারিস না!
তুই না হলে আমি শান্তিতে থাকতাম।
তোর জন্যই আমার জীবনে শান্তি নেই। কোনো বারাকাহ নেই।
এখন খেতে চাচ্ছিস না, শ্বশুরবাড়ি গেলে এগুলো চোখেও দেখতে পাবি না।
যে তেজ তোর, জামাই এক ঘর দিয়ে ঢুকাবে, আরেক ঘর দিয়ে বের করে দেবে।
দেখিস, তোর সংসারও টিকবে না। তোর শাশুড়ী আমার হতেও খারাপ পরবে।
তুই কখনো সুখের মুখ দেখবি না।
আমার মরা মুখ জেনো তুই না দেখতে পারিস!
ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি......
হয়তো এসব কথা রাগের মাথায় বা কষ্ট হতে বলা হয় অথচ এগুলো প্রতিটিই একেকটা অভিশাপ। সন্তানের ভুল শুধরে দেওয়ার জন্য কঠোর হওয়া যায় তাই বলে অভিশাপ?
রাগ, কষ্টের মুহুর্ত একটা সময় পরে ঠিকই কেটে যায় কিন্তু উচ্চারিত শব্দ গুলো? হয়তো মায়েরা বলে থাকেন এগুলো মনের কথা নয় অথচ একজন মায়ের মুখ হতে দুআ যেমন সন্তানের জন্য রহমত তেমনি বদদুআ গুলোও সন্তানের জন্য এমনকি নিজের জন্যও ভয়ংকর!
সেজন্য অবশ্যই মায়েদের জবানের ব্যাপারে সর্তক থাকা উচিত। কেনোনা জবান আমানত। সেজন্য কষ্টের মুহুর্তেও এমন কথা বলা উচিত নয় যেটাতে পরে নিজেরই হৃদয় রক্তাক্ত হয়। আল্লাহ আমাদের সকল অবস্থায় সন্তানের জন্য দুআ করার তৌফিক দান করুক।
#মায়ের_জবান .