21/03/2025
ইতিকাফ সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইতিকাফ পালন
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন:
"নবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, যতদিন না তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। তারপর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন।"
(সহিহ বুখারি: ২০২৬, সহিহ মুসলিম: ১১৭২)
২. ইতিকাফের উদ্দেশ্য
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত:
"যে ব্যক্তি ইতিকাফ করে, সে যেন নিজেকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে এবং সে ব্যক্তিকে যেন সাওয়াব প্রদান করা হয়, যে সমস্ত নেক আমলকারীকে দেওয়া হয়।"
(ইবনে মাজাহ: ১৭৮১)
৩. ইতিকাফে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন:
"রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে রমজানের প্রথম দশকে ইতিকাফ করতেন, তারপর মাঝের দশকে। একদিন তিনি বললেন: 'আমি প্রথম দশকে ইতিকাফ করেছিলাম, তারপর মাঝের দশকে, তারপর আমাকে জানানো হয়েছে যে, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে। তাই তোমাদের কেউ যদি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন শেষ দশকে করে।'"
(সহিহ মুসলিম: ১১৬৭)
৪. নারীদের ইতিকাফ
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত:
"উমার (রা.) নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: 'আমি কি মসজিদে ইতিকাফের জন্য মানত করেছিলাম, তা পূরণ করব?' নবী (সা.) বললেন: 'হ্যাঁ, পূরণ করো।'"
(সহিহ বুখারি: ২০৩২, সহিহ মুসলিম: ১৬৫৬)
৫. ইতিকাফকারীর জন্য করণীয়
আয়েশা (রা.) বলেন:
"সুন্নত ইতিকাফকারীকে অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা, জানাজায় অংশগ্রহণ করা বা স্ত্রীকে স্পর্শ করা উচিত নয়। সে ইতিকাফ ছেড়ে বের হবে না, যতক্ষণ না কোনো জরুরি বিষয় ঘটে।"
(আবু দাউদ: ২৪৭৩, ইবনে মাজাহ: ১৭৭১)
উপসংহার
ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা বিশেষত রমজানের শেষ দশকে করা হয়। এটি আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের অন্যতম মাধ্যম।