09/11/2022
😔Depression Vs love❤️
Create by -- jarif mahfuz
প্রথমে আমার পরিচয়টা নাই দিলাম। প্রথমত আমি একজন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। সবসময়ই অভাব অনটন লেগেই থাকে। আর বাড়ির বড় ছেলে আমি।
আজ থেকে পাঁচ বছর আগের কথা। প্রথমত তার সঙ্গে আমার দেখা হয় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। প্রথম দেখাতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু সম্পর্কটা ছিল একটু উল্টাপাল্টা এলাকার সম্পর্ক দিক দিয়ে।
বিয়ের কাজ বলতে গেলে ডেকোরেশন প্যান্ডেল সব আমি নিয়ন্ত্রণ করি।
তখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার কি সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।
যেদিন গায়ে হলুদ আমার সেই পাড়াতো বোনের !সেদিন আমি শহর থেকে যাই গ্রামের বাসায়।
সেদিনই তাকে দ্বিতীয় বারের মতো দেখি। কারণ এর আগে আরেকটা বিয়েতে তাকে দেখেছিলাম তখন সে ছোট ছিল।
পরের যখন দেখা হয় সে তখন এসএসসি পরীক্ষা দিবে এমন সময়।
বিয়ে বাড়িতে কাজে ব্যস্ত থাকি মাঝেমধ্যেই তাকে দেখতে পাই।
এরকম ভাবে প্রথম দিন গেল বিয়ের।
দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বিয়ের দিন যারা বিয়ে খেতে এসেছিল অনুষ্ঠানের তখন আমি তাকে আমার পাশে দেখতে পাই।
আমি তখন গিফট কালেক্ট করছিলাম আর খাতায় এন্ট্রি করছিলাম।
ওই সময় সে আমাকে মামা বলে সম্বোধন করে। আমি তখন তাকে বলি কিসের মামা লাগে আমি। সে তখন বলে আপনি তো মামা আমার আমি তখন বলি সব সম্পর্কে কিন্তু সেইরকম সীমাবদ্ধের মধ্যে রাখতে নেই।
আর সে জানতো আমি তাকে পছন্দ করি।
সে যে আমাকে জ
জ্বলানোর জন্য বা রাগানোর জন্য বলেছিল সেটা আমি জানতাম না।
সে যে কিভাবে জেনেছিল আমি তাকে পছন্দ করি সেটা হচ্ছে যে যার বিয়ে তাকে আমি বলেছিলাম তোর ওই আন্টিকে আমার খুব ভালো লাগছে। যে সে কি করে না করে এসব সব তার থেকে জানতে পারি।
সেই সে তখন বলেছিল তাকে যে, আমি তাকে পছন্দ করি সেটা আমি জানতাম না।
যাইহোক এভাবেই বিয়ের দিন গেল বিয়ের পরের দিন গেল সে তিন দিন মত ছিল বিয়ের অনুষ্ঠানে।
তারপর বিয়ের তৃতীয় দিন আমি মাঠে খেলতে যাই মাঠ থেকে খেলা আসার সময় জানতে পারি যে তারা স্টেশনে চলে গেছে তারা ট্রেনে বাসায় চলে যাবে।
আমার শুনে খারাপ লাগলো তখন আমি কোন কিছু চিন্তা ভাবনা করিনি স্টেশনে চলে গেছি দৌড়াতে দৌড়াতে।
স্টেশনে গিয়ে তাদের সাথে দেখা হলো কথা হলো শেষ সময় আমাকে চিপস খেতে দিয়েছিল সে।
আমি সেটা খাইনি। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল যে কি যেন আমার কাছে চলে যাচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে এরকম কিছু একটা।
এর কিছু সময় পর ট্রেনটা ছেড়ে দেয়।
তারপর আমি লক্ষ্য করি যে সে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
তারপর আমি বাসায় চলে আসি।এতদিন খুব খারাপ সময় কাটলো ভালো লাগছিল না খুব বোরিং ফিল হচ্ছিল।
হঠাৎ এর মাঝে বিয়ের পাঁচ দিন কি ছয় দিন পর আমার কাছে এটা অন্য নাম্বার থেকে ফোন আসে।
ফোনটা দিয়েছিল সেই।
ফোন রিসিভ করার পরে বুঝতে পারছি হ্যাঁ তিনি হচ্ছে সেই যাকে আমি পছন্দ করেছি।
আমি সবকিছু বোঝার পরেও এমন একটা ভাব নিয়ে কথা বলছিলাম যেন আমি তাকে চিনতে পারছিনা আমি এরকম কিছু।
এভাবে কথা বলা শুরু হয়। তার কোন নিজস্ব ফোন ছিলনা।
এভাবেই এক সপ্তাহ পর ১৫ দিন পর এক মাস পর ফোন দিতো আমার সঙ্গে কথা হতো এভাবে আস্তে আস্তে সম্পর্কটা গাঢ় হয়।
সেও আমাকে ভালোবেসে ফেলে।
এভাবে ভালো সময় কাটছিল এক সপ্তাহ পর হোক কোনদিন পর হোক বা এক মাস পরে বাই হোক না কেন আমাদের কথা হতো।
এভাবে দুই বছর কেটে যায়।
তার বাড়িতে জানাজানি হয় একটু ঝামেলা হয় শত বাধার পরেও আমাদের সম্পর্কটা এভাবে চলতে থাকে।
এক সময় আমার বাড়িতে ঝামেলা হল এটা জানাজানির পর।
তারপর কিছুদিন অফ ছিল।
আমিও এক কলেজ থেকে আরেক কলেজে যাই।
সেখানে বন্ধুবান্ধব নিয়ে বিজি হয়ে যায়।
এক বছর পর তার সঙ্গে আবার আমার যোগাযোগ হয় কেন জানি তার সঙ্গে যদি কথা না বলতাম ভালো লাগতো না সবসময় মিস করতাম।
এভাবে আবার চলতে থাকে দীর্ঘ দুই বছর।
গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট শেষের পথে নানান ধরনের টেনশন ফ্যামিলি জব বেকারত্ব এসব চিন্তা ভাবনা ঢুকে যায় আমার মাথায়।
সব মিলিয়ে আমি ব্যাপক ডিপ্রেশনে পড়ে যাই।
তাকে যে সময় দিতে হবে তাকে তার যে খোঁজখবর নিতে হবে আমার মাথা থেকে সেটা হারিয়ে যায় আস্তে আস্তে।
শেষ দুই বছর আমাদের মাঝে কথা হতো অনেক কথা হতো তার ফ্যামিলি থেকে জানত তার ফ্যামিলি মেম্বারও আমার সঙ্গে কথা বলতো সব মিলিয়ে ভালোই ছিলাম।
যখন থেকে আমি ডিপ্রেশনে ভুগি আমার ক্যারিয়ার নেই আমার ফিউচার নিয়ে ফ্যামিলি সব দিক দিয়ে আমি কেন জানি ভেঙে পরি হতাশ হয়ে যায়।
তাকে আগের মত আর ফোন দেওয়া হয় না।
আমি অনলাইনে থাকলেও তাকে একটা বার এসএমএস করার মত আগ্রহ জন্মাতো না।
জানিনা কেন জানি এটা অনীহা চলে আসে আমার মধ্যে।
মিস করি সব সময় এটা শিওর।
সে আমাকে ভুল বুঝতে থাকে আস্তে আস্তে।
সে ভাবে আমি হয়তো তাকে ইচ্ছা করেই ইগনোর করছি।
অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে হয়তোবা আমার নতুন রিলেশনশিপ হয়েছে।
এটা ভাবার একটা কারণ যে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল শেষে দুই বছর আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে।
সে একটা সময়ের জন্য ভাবতে পারেনি যে আমি এতটা চেঞ্জ হয়ে যাব হঠাৎ করে।
এতটা চেঞ্জের মাঝে মেইন কারণ হচ্ছে আমার ডিপ্রেশন টেনশন ক্যারিয়ার।
একটা জিনিসই ভাবতো যে আমি আগের মতো নাই কেন আমি কেন তাকে ইগনোর করি তার সঙ্গে কথা বলতে আমার ভালো লাগে না কেন তাকে হাজার ব্যস্ততা দেখায় কেন???
আর আমি তাকে কোনভাবেই বোঝাতে পারি না হাজার ব্যস্ততার কারণ তাকে কিভাবে বোঝায়।
কারণ আমি নিজেও জানিনা কি জন্য তাকে আমি সময় দেই না কি জন্য তাকে এসএমএস করি না ইগনোর করি।
সবসময় চাইতো সে আমি যেন এ টু জেড তার সঙ্গে শেয়ার করি।
কিছু কিছু কথা বলতাম আর মাঝে মাঝে ভাবতাম যে সব বলবো সে কি ভাববে এই সেই যেন তেন ব্লা ব্লা।
কিন্তু সে একবারের জন্য ভাবেনি যে হাজার ডিপ্রেশনের পরেও তাকে আমি ভালোবাসি।
আমি তাকে এটা বোঝাতে পারিনি তাকে আমি শত ব্যস্ততার মধ্যে মিস করি।
একটা কথা কি যে ডিপ্রেশনে ভুগে যে বেকারত্বের কি ডিপ্রেশনে থাকাটা কি সেই বুঝে কোন কিছু না পাওয়ার আশঙ্কা কি?
পরিশেষে তাকে আমি আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলি।
কেন জানি মনে হয় সে আমার লাইফে থাকলে ভালো থাকবে না।
সে আমার থেকে দূরে থাকলে ভালো থাকবে।
আমি যে কষ্টে দিন পার করছি সে যদি এ কষ্টগুলো না নিতে পারে এগুলো মনে হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায় এখন আমি এক ধোঁয়াশার মধ্যে সময় পার করছি।
কাউকে কোন কিছু এক্সপ্লেইন করে বোঝাতে পারছি না।
সে তার বান্ধবী তার ফ্যামিলি দিন শেষে আমাকে খারাপ ভাবে। আমাকেই প্রতারকভাবে। আমি নাকি ভালবাসায় বিশ্বাসী না।
আমি নাকি নতুন রিলেশনশিপে গেছি এরকম কিছু।
আমি কখনো ভাবি নি যে আমার জীবনে এরকম একটা সময় আসবে যে সময়ে কাছের মানুষটাই ভুল বুঝবে।
এখানে আমার ব্যর্থতা আছে কারণ আমার মনের ভেতরের অবস্থা তাদেরকে দেখাতে পারছি না।
জীবনের কিছু মুহূর্ত থাকে যেগুলো কারো কাছে সাথে শেয়ার করা যায় না, না কাউকে বোঝানো ও যায় না ।
তাই আমি এটা ভাবি তারাই আমাকে ভুল বুঝুক আমি দোষী হই।
আর এখন ভাবি সে সুখে থাকলে আমি সুখী। অন্তত নিজেকে এটা দিয়ে সান্তনা দেওয়া যাবে সে তো অন্তত ভালো আছে ।
জানিনা আমার এই ধোঁয়াশার মধ্যে এ ধোয়াসাময় সময়ের মধ্যেই তার বিয়ে হয়ে যেতে পারে।
বিয়ের অগ্রিম দাওয়াত পেয়েছি বিয়ে না ঠিক হতেই এর থেকে কষ্টকর সংবাদটা কি হতে পারে।
যাই হোক দিন শেষে একটা জিনিসই চাইবো সে অন্তত ভালো থাকুক আমি চাইনা যে আমার জন্য তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাক আমার জন্য তার জীবনটা কষ্টকর হয়ে উঠুক।
যে আমাকে ভুল বুঝছে এতে আমার কোন আফসোস নাই কারণ আমি জানি সব কিছুর জন্য মূল কারণ কি?
কারণ আমি চাইলে যে সে সময় গুলোর মত আর সময় কাটাতে পারব না ।মাথার উপর অনেক বড় দায়িত্ব বাড়ির বড় ছেলে আমি যদি কিছু করি আমার ফ্যামিলি বাবা-মা বোন ছোট বোন।
তাদের কথা তো ভাবতে হবে।
শুধুমাত্র আমার আমার দিক দিয়ে দেখলে তো হবে না।
ভালো থাকুক ভালোবাসা, সো আমি ডিপ্রেশন নিয়ে ভালো আছি।
আর ভালো না থাকলে তো ভালো থাকার অভিনয়টা ভালোই করতে পারি।
দিনশেষে সবার কাছে আমি একজন ভালো মানুষ কারণ শত কষ্টের মাঝে যে আমি আমার মুখে হাসিটা তাদেরকে দেখাতে পারি। আমি খুব ভালো আছি অনেক হাসিখুশিতে দিন সময় পার করছি।
মানুষ তো উপরেরটাই দেখে ভেতরের খবর কে বা রাখে।😶😶
একটা সময় ছিল কোন কিছু ভাবা লাগতো না।
ওই সময়টা বেশি মিস করি।
তবে ডিপ্রেশনে একটা সঙ্গী পেয়েছি।
যার সঙ্গে কষ্টকর মুহূর্তগুলো ভাবা যায়।
সেটা নাই বলি। বলতে পারেন খারাপ একটা অভ্যাস।
যাই হোক যখন অভিনয়টা ভালোভাবে রপ্ত করতে পেরেছি বাকিটা জীবন যেন এভাবেই অভিনয় করে কাটিয়ে দিতে পারি।
সে যেন ভুলে যায় সবকিছু।
তার ভালো থাকা দেখে যেন আমি ভালো থাকতে পারি।
😁😁😁
গল্পের মাঝে অনেক কিছুই ছিল কিন্তু সব কিছুই তুলে ধরতে পারলাম না।
কারণ সবাই তো গল্প পড়তে ভালোবাসে না।
গল্পটা অনেক দীর্ঘ হয়ে গেলে ভালবাসার মানুষ যেমন বিরক্ত হয়ে গেছে আমার ইগনোর করাতে।
সেরকমভাবে আমার গল্প পড়াতেও আস্থা হারিয়ে ফেলবেন আমার সেই ভালোবাসার মানুষের মত।।
সে চায় বিয়ে করতে এখন।
কিন্তু আমি যদি এখন স্টাবলিস্ট না হতে পারি তাহলে আমার ফ্যামিলি তার ফ্যামিলি কিভাবে আমি মেনটেন করব।।
সবকিছু চিন্তা-ভাবনা করতে গেলে আমার ডিপ্রেশন আরো বেড়ে যায়।
চিন্তাভাবনা করতে যে আমার ডিপ্রেশনের ভালোবাসার মধ্যে অনেক ডিসটেন্স তৈরি করে ফেলেছি আমি নিজেই।
সবাই ভালো থাকবেন আর ভালো থাকার মানুষকে ভালো রাখবেন।
💔💔
আমার মত ভালবাসাকে ডিপ্রেশন মাঝে রাখবেন না নয়তো সবকিছুই হারাবেন🤪🤪