Tazkiyah - তাজকিয়াহ

Tazkiyah - তাজকিয়াহ নিরাপদ খাবারের প্রত্যয়ে আপনার আস্থায়

অর্গানিক আইটেম নিয়ে, কাগজপাতি (বিএসটিআই) ছাড়া  আগামীতে কাজ করা টাপ হয়ে যাবে।।তবুও হাল ছাড়ছি না।বিকল্প হিসেবে কিছু পচনশী ...
18/08/2026

অর্গানিক আইটেম নিয়ে, কাগজপাতি (বিএসটিআই) ছাড়া আগামীতে কাজ করা টাপ হয়ে যাবে।।তবুও হাল ছাড়ছি না।
বিকল্প হিসেবে কিছু পচনশী নয় এমন কিছু আইটেম এড করার চেষ্টা করছি।। আল্লাহ সহায়!
আপনাদের দোআ চাই।। Tazkiyah - তাজকিয়াহ

দ্বিতীয় হিজরত:৫৫. কুরাইশ আবার নির্যাতনের পাল্লা ভারী করে তুলল। গরিব সাহাবিদের উপর তুফান বয়ে চলল। নবীজি সা. দ্বিতীয়বারের ...
18/08/2026

দ্বিতীয় হিজরত:
৫৫. কুরাইশ আবার নির্যাতনের পাল্লা ভারী করে তুলল। গরিব সাহাবিদের উপর তুফান বয়ে চলল। নবীজি সা. দ্বিতীয়বারের মতো হাবশায় হিজরতের অনুমতি দিলেন।

৫৬. বিরাশিজন পুরুষ ও আঠারোজন নারীর এক বিশাল কাফেলা এগিয়ে চলল হাবশার দিকে। এবার দলনেতা জাফর ইবনু আবি তালেব। প্রথম হিজরতের তুলনায় দ্বিতীয় হিজরত ছিল অনেক কঠিন। মক্কার পরিস্থিতিও ছিল অবর্ণনীয় সঙ্গিন। এই কাফেলায় ছিলেন খালিদ বিন হিযাম রা.। তিনি পথিমধ্যে সর্পদংশনে ইন্তেকাল করেন।

অবরোধ-বয়কট:
৫৭. কিছুতেই কিছু হচ্ছে না দেখে কুরাইশরা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করল না। তারা ইসলামের দ্রুত প্রসার দেখে ভীষণ ভীত হয়ে পড়ল। যেকোনো মূল্যে ইসলামের হু-হু অগ্রযাত্রা রোধ করতেই হবে। কুরাইশ ও মিত্রগোত্র মিলে, নবীজির বংশ বনু হাশিমকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত
নিল। লিখিত চুক্তিনামায় সই করল মুশরিক নেতৃবৃন্দ। এই চরম অন্যায় ও ন্যক্কারজনক চুক্তিপত্র ঝুলিয়ে রাখা হলো কাবাঘরের অভ্যন্তরে।

৫৮. এখন থেকে বনু হাশিমের সাথে সব ধরনের লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিয়ে-শাদি বন্ধ। কথাবার্তা, ওঠাবসাও বন্ধ।

৫৯. বনু আবদিল মুত্তালিব ও বনু হাশিম একটি উপত্যকায় আশ্রয় নিল। পরবর্তী সময়ে যা 'শে'বে আবি তালেব' নামে পরিচিত হয়েছে। আল্লাহর আরশ কাঁপানো এই জুলুম অব্যাহত ছিল একনাগাড়ে তিন বছর।

৬০. ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর শিশুরা গড়িয়ে গড়িয়ে কাঁদত। খাবার নেই। পানি নেই। গাছের পাতা, গবাদি পশুর চামড়া পুড়িয়ে পর্যন্ত খাওয়া হয়েছে। একসময় তাও ফুরিয়ে গেল। সে এক অবিশ্বাস্য পরীক্ষা।

৬১. এমন দুর্দিনে জন্ম নিলেন হাবরুল উম্মাহ, তরজুমানুল কুরআন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.। হাবর বা হিবর অর্থ মহাজ্ঞানী।

৬২. নবীজি সা. চাচাত ভাই আবদুল্লাহর জন্য দোয়া করলেন:
اللهُمَّ فَقَهْهُ فِي الدِّينُ وَعَلَّمْهُ التَّأْوِيلَ
'ইয়া আল্লাহ! তাকে দীনের গভীর বুঝ দান করুন, তাকে কুরআন ও সুন্নাহর ইলম দান করুন (মুসনাদে আহমাদ)।'

মৃত্যু:
৬৩. মক্কায় বনু হাশিম ও বনু আবদিল মুত্তালিবের বাইরেও মুসলমান ছিলেন। তারা বয়কটের সম্মুখীন হয়নি। এ ছাড়া কাফেরদের মধ্যেও কিছু সহানুভূতিশীল মানুষ ছিল। তারা একদিন একজোট হয়ে, চুক্তিপত্রটি ছিঁড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল। কাবাঘরে প্রবেশ করে দেখল, উইপোকা আগেই চুক্তিপত্রটি খেয়ে নিয়েছে। শুধু উপরের দিকে )بِاسْمِكَ اللهُمَّ
( 'হে আল্লাহ, আপনার নামে' অংশটি নিরাপদ ছিল।

৬৪. অবরোধমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কিছুদিন পর চাচা আবু তালব মারা গেলেন। নবীজি চাচার শিয়রে বসে অনেক চেষ্টা করলেন, প্রিয় চাচা যেন ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারেন। বারবার বোঝালেন। আবু তালেব সম্মত হয়েও লোকলজ্জার ভয়ে আগের মতাদর্শে অটল থাকলেন। আল্লাহর তাওফিক না থাকলে হেদায়াত লাভকরা অসম্ভব।

৬৫. আবু তালেব কাফের অবস্থায় মারা গেলেন। নবীজি ভীষণ দুঃখ পেলেন। শোকসন্তপ্ত চিত্তে বললেন:

لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْ ذَلِكَ

'আল্লাহর পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসা পর্যন্ত আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে যাব (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।'

৬৬. আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে নবীজিকে চাচার জন্য দোয়া করা থেকে বিরত থাকার হুকুম দিলেন:

وَ مَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَ بِيْهِ إِلَّا عَنْ مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ ۚ فَلَمَّاتَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّا مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَآ وَاهُ حَلِيم
'ইবরাহিম তার পিতার জন্য যে ইস্তেগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করেছিলেন, তা কেবল একটি প্রতিশ্রুতির কারণে ছিল, যা তিনি তাকে দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে সে আল্লাহর শত্রু, তখন তিনি তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের, সহনশীল (সূরা তাওবা: ১১৪)।'

মুশরিক একান্ত আপনজন হলেও তার জন্য মাগফেরাতের দোয়া করা যাবে না।

৬৭. আল্লাহ তাআলা নবীজির মনোবেদনার প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন চাচা আবু তালেবের প্রতি দয়ার আচরণ করেছেন। নবীজি বলেছেন:

أَهْوَنُ أَهْلِ النَّارِ عَذابًا أبو طالب، وهو مُنْتَعِلُ بِنَعْلَيْنِ يَغْلي منهما دماغه.

'জাহান্নামে সবচেয়ে হালকা আযাব হবে আবু তালেবের। দুটি জুতো পড়বেন, উত্তাপে মাথার মগজ পর্যন্ত টগবগ করে ফুটবে (মুসলিম)।'

খাদিজার মৃত্যু:

৬৮. আবু তালেবের মৃত্যুর কিছুদিন পর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা রা.-ও পরপারে পাড়ি জমালেন। হাজুন নামক স্থানে দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে কবরস্থানটি জান্নাতুল মা'লা নামে পরিচিত। তখনো জানাযার বিধান নাযিল হয়নি।
৬৯. হযরত খাদিজা রা. আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। একবার জিবরাইল আ. এসে বললেন:

بشر خديجة ببيتٍ في الجنَّةِ مِن قَصَبِ لا صَخَبَ فيه ولا نَصَبَ

'খাদিজাকে সুসংবাদ দিন, তার জান্নাতে আছে বহু অমূল্য রত্নখচিত প্রাসাদ, যাতে কোনো হইচই নেই, ক্লান্তি নেই (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।'

৭০. হযরত খাদিজা রা. আসমানে জমিনে সবার কাছে সমান প্রিয় একজন মানুষ। অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব।

৭১. আরেকবার জিবরাইল আ. এসে বললেন:

هذه خديجة قد أَتَتْكَ فاقرأ عليها السلام من ربها ومني،

'আপনার কাছে খাদিজা আসবেন। তাকে রব্বের পক্ষ থেকে ও আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।'

৭২. পরপর দুজন অতি প্রিয় মানুষের ইন্তেকালে নবীজি সা. ভীষণ শোকাহত হলেন। এটি ছিল শোকের বছর। এই নামকরণ নবীজি করেননি।

বিয়ে:

৭৩. নবীজি বিয়ে করলেন আয়েশা রা.-কে। তাঁর বয়স তখন ছয় বছর ছিল। খাদিজা রা.-এর ইন্তেকালের পর প্রথম আয়েশা রা.-কে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তিনি বাপের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

আবার বিয়ে:

৭৪. তারপর বিয়ে করেন সাওদা বিনতে যামআকে। খাদিজার পর তার সাথেই প্রথম বাসর হয়েছে।

৭৫. সাওদা তিন বছর একাকী নবীজির সংসার সামলেছেন। এতিম বাচ্চাদের দেখাশোনা করেছেন। সাওদা নবীজির আদেশ-নিষেধ অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করতেন।

নির্যাতনের কঠোরতা:

৭৬. প্রিয় চাচা মৃত্যুর পর মুশরিকদের দৌরাত্ম্য বলগাহীনভাবে বেড়ে গেল। নবীজিকে নানাভাবে কষ্ট দিতে লাগল। চাচার জীবদ্দশায় নবীজিকে কিছুটা সমঝে চললেও চাচার অবর্তমানে মুশরিকদের বাঁধ ভেঙে গেল।

৭৭. আবু তালেব ছিলেন মহিরুহের মতো। ভাতিজাকে সব দিক দিয়ে আগলে রাখতেন। নবীজি সা. বলেছেন:

ما نالت مني قريش شيئًا أكرهه حتى مات أبو طالب.

'আবু তালেবের মৃত্যু পর্যন্ত কুরাইশ আমার সাথে উল্লেখযোগ্য অপছন্দনীয় কোনো আচরণ করেনি (বায়হাকী)।'

৭৭. পাপিষ্ঠ উকবা বিন আবি মুআইত এসে সলাতরত নবীজির শরীরে মৃত জন্তুর নাড়িভুঁড়ি ফেলে দিলো। নরাধম উকবা এটুকুতে ক্ষান্ত হলো না। নবীজির গলায় অত্যন্ত আঁটো (টাইট) করে কাপড় প্যাঁচিয়ে ধরল। নবীজির শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো (বুখারী)।

৭৮. নবীজি সেজদায় গেলে পাপিষ্ঠ আবু জাহল নবীজির গলার উপরপা রেখে ঘাড় ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করল। আল্লাহ নবীজিকে হেফাজত করেছেন।

৭৯. নবীজি সা. শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়েই নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বলেছেন:

لقد أوذيتُ في الله وما يُؤذى أحد، وأُخِفْتُ في الله وما يخافُ أحد،
'আমার মতো আর কাউকে কষ্ট দেওয়া হয়নি। আল্লাহর রাস্তায় আমার মতো আর কাউকে ভয় দেখানো হয়নি (মুসনাদে আহমাদ)।'
Tazkiyah - তাজকিয়াহ M***i Nazmus Saadh

হিজরত৪৪. মক্কায় বাস করা দিনদিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে লাগল। চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতে থাকা মানুষগুলোকে হাবশায় হিজরতের ...
18/08/2026

হিজরত
৪৪. মক্কায় বাস করা দিনদিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে লাগল। চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতে থাকা মানুষগুলোকে হাবশায় হিজরতের অনুমতি দিলেন নবীজি সা.।
৪৫. এগারোজন পুরুষ আর চারজন নারী চুপিচুপি হিজরতে বের হলেন। জানমাল, ভিটেমাটির মায়া ত্যাগ করে। ঈমান ও আমল বাঁচাতে।

৪৬. এই দলে ছিলেন উসমান উসমান বিন আফফান, তাঁর স্ত্রী রুকাইয়া বিনতে রাসূলিল্লাহ। দলনেতা উসমান বিন মাযউন রা.।

৪৭. হাকেম বর্ণিত এক জয়িফ হাদীসে আছে:
إِنَّهُما أَوَّلُ مَنْ هَاجَرَ بَعْدَ لُوطٍ وَإِبْرَاهِيم'
উসমান ও রুকাইয়া বিনতে রাসূলিল্লাহ ছিলেন লুত ও ইবরাহিমের পর প্রথম হিজরতকারী।' রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন।

৪৮. সূরা নাজম নাযিল হলো। নবীজি কাবার কাছে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে এ সূরা তেলাওয়াত শুরু করলেন। সূরার শেষ আয়াতে তেলাওয়াতে সেজদা। নবীজি সা. সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। এতক্ষণ যারা তাওয়াফ করছিল, তারা আল্লাহর রাসূলের অপূর্ব সুন্দর অপার্থিব তেলাওয়াত অভিভূত হয়ে শুনছিল। নবীজিকে সেজদা করতে দেখে, মুশরিকরাও অজান্তে সেজদায় পড়ে গেল। আল্লাহর আয়াতের প্রভাব গোটা কাবা চত্বরকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।

৪৯. নবীজির সাথে মুশরিকদের সম্মিলিত সেজদার সংবাদ চারিদিকে চাউর হয়ে গেল। হাবশার মুহাজির সাহাবিরাও শুনলেন। তারা ভাবলেন পুরো কুরাইশ ইসলাম গ্রহণ করেছে। আশ্বস্ত হয়ে কিছু মুহাজির মক্কায় ফিরে এলেন।

হামযার ইসলামগ্রহণ

৫০. প্রথমে নবীজির চাচা ও দুধভাই হামযা তারপর উমর রা. ইসলাম গ্রহণ করলেন। তাদের মাধ্যমে মক্কায় ইসলামের অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা সংহত অবস্থানে এল।

৫১. হযরত উমর রা.-এর ইসলামগ্রহণ সম্পর্কিত সুবিখ্যাত ঘটনা, তিনি বোনকে প্রহার করেছেন, তারপর সূরা ত্বহার প্রভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনা পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ সনদে কোথাও বর্ণিত হয়নি। ইবনে ইসহাক তার সীরাত গ্রন্থে কোনো সনদ ছাড়া আর ইবনে সাদ তার তাবাকাতে অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। লিসানুল মিযানে ইবনে হাজার রহ. বলেন, এই কিসসা অত্যন্ত 'মুনকার'।
প্রলোভন

৫২. ইসলামের বিরুদ্ধে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করার পরও কূলকিনারা করতে না পেরে, কুরাইশ এবার নতুন রাস্তা ধরল। সম্পদ, নারী আর ক্ষমতার প্রলোভন নিয়ে সামনে এল।

৫৩. কুরাইশের প্রতিনিধি উতবা বিন রবিআ ছুটে এল আল্লাহর রাসূলের কাছে। আরবের সবচেয়ে সুন্দর নারীর সাথে বিয়ে, সবচেয়ে ধনী বানিয়ে দেওয়া-সহ এমনকি মক্কার শাসকরূপে মেনে নেওয়ার প্রলোভন নিয়ে। বিনিময়ে? শুধু ইসলামের দাওয়াত থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহর রাসূল শোনামাত্রই এককথায় প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন।

৫৪. কুরাইশরা পাগলের মতো দিশেহারা হয়ে গেল। কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। উপায়ান্তর না দেখে নবীজির কাছে মুজিযা দেখানোর দুষ্ট বায়না ধরল। তারা স্বচক্ষে ফেরেশতা দেখতে চায়। মক্কায় প্রবাহিত নদী দেখতে চায় আরো নানা উদ্ভট খাহেশ!
#সিরাত #নবীসাঃ #রাসুলসাঃ #রাসুল #সিরাতুন্নবী
#প্রতিযোগিতা #কুইজ #ইসলামিক

M***i Najmus Saadh Tazkiyah - তাজকিয়াহ

ওহির পূর্বাভাস!২০. চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হলে নবুওয়াতপ্রাপ্তির বিভিন্ন পূর্বাভাস প্রকাশ পেতে শুরু করে।ক. সত্য স্বপ্ন দেখত...
16/08/2026

ওহির পূর্বাভাস!
২০. চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হলে নবুওয়াতপ্রাপ্তির বিভিন্ন পূর্বাভাস প্রকাশ পেতে শুরু করে।
ক. সত্য স্বপ্ন দেখতেন।
খ. লোকালয় থেকে দূরে হেরা গুহায় একাকী নির্জনবাস ভালো লাগত।
গ. চলার পথে পাথর ও গাছ নবীজিকে সালাম দিত।
ঘ. ফেরেশতাদের নূর দেখতে পেতেন।

ওহির সূচনা
২১. চল্লিশ বছর বয়সে ওহি নাযিল হলো। তিনি তখন হেরা গুহায়। জিবরাইল সূরা ক্বলামের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে এলেন:
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَ رَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَم
'পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিণ্ড ('আলাক') থেকে। পড়ো, আর তোমার রব মহা সম্মানিত, যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না (সূরা আলাক: ১-৫)।'
২২. এরপর বেশ কিছুদিন বিরতি দিয়ে নাযিল হলো সূরা মুদ্দাসসির। আল্লাহ তাআলা বললেন:
يَأَيُّهَا الْمُدَّثِرُ ﴾ قُمْ فَأَنْذِرُ ﴿٢﴾ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ ﴿٢﴾ وَلِرَبِّكَ
فَاصْبِر
'হে বস্ত্রাচ্ছাদিত ব্যক্তি! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন। আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। অপবিত্রতা ও মূর্তিপূজা থেকে দূরে থাকুন। অধিক পাওয়ার আশায় অনুগ্রহ করবেন না। আর আপনার রবের সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করুন (সূরা মুদ্দাসসির: ১-৭)।'
এবার মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার আদেশ দেওয়া হলো। শুরু হলো ইসলামের পথযাত্রা। সূচনা হলো সর্বশেষ সর্বশেষ নবীর মিশন।

দাওয়াহ
২৩. নবীজির জীবনে ইসলামের দাওয়াত দুই প্রকার:
ক. মক্কী যুগের দাওয়াহ।
খ. মাদানী জীবনের দাওয়াহ।
মক্কী জীবনের দাওয়াহ দুই প্রকার:
ক. প্রকাশ্য দাওয়াহ।
খ. গোপনে দাওয়াহ।

গোপন দাওয়াত
২৪. আল্লাহর হুকুম পেয়ে নবীজি গোপনে দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। প্রথমে পরিবারে দাওয়াত দিলেন। দাওয়াতে সাড়া দিলেন পরিবারের লোকজন। সহধর্মিণী খাদিজা ও কন্যারা। চাচাত ভাই আলী বিন আবি তালেব, যায়দ বিন হারেসা রা.।
২৫. এবার বাইরে। একান্ত আস্থা ও প্রিয়ভাজনদের দাওয়াত দিলেন। দাওয়াত পেয়ে সাথে সাথেই আবু বকর রা. ইসলামগ্রহণ করলেন। দাওয়াতের কথা আস্তে আস্তে জানাজানি হলো। ফকির-গরিবরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামে দাখিল হতে শুরু করল।
২৬. নবীজির পাশাপাশি নবদীক্ষিত সাহাবিগণও দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। নবীজি তাদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বললেন। প্রকাশ্যে কিছু করতে নিষেধ করলেন। সাহাবায়ে কেরাম গোপনে সলাত আদায় করতেন। কুরাইশ নেতাদের চোখ বাঁচিয়ে পাহাড়ে-গুহায় গিয়ে সলাত আদায় করতেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশ আসা পর্যন্ত এভাবে দাওয়াত কার্য চলতে থাকল।
২৭. মিরাজের রাতে সলাত ফরয হওয়ার আগে, মুস্তাহাব সলাত আদায় করা হতো। সূর্যোদয়ের আগে দুই রাকাত, সূর্যাস্তের পর দুই রাকাত। দুটি আয়াতে এর বিবরণ আছে:
وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَ قَبْلَ الْغُرُوبِ
'আর সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন (তাসবিহ পাঠ করুন) (সূরা ক্বাফ: ৩৯)।'
وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
'আর সকাল-সন্ধ্যায় আপনার রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা
ঘোষণা করুন (সূরা গাফির: ৫৫)।'
২৮. হাফেয ইবনে হাজার রহ. বলেছেন, আল্লাহর রাসূল মিরাজের আগেও নিঃসন্দেহে সলাত আদায় করতেন। সাহাবায়ে কেরামও। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফরয হওয়ার আগেও কোনো ফরয সলাত ছিল কি না, এ বিষয়ে মতভেদ আছে। কারো কারো মতে, তখন সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পরে সলাত ছিল। এই আয়াতই তার প্রমাণ:

وَ سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ ﴿۴﴾

২৯. আরকাম ইবনু আবিল আরকামের ঘরকে নবীজি গোপন দাওয়াহর কেন্দ্র বানালেন। এখানে বসেই নবীজি সা. দীনের দাওয়াত দিতেন। গোপনে আগত ব্যক্তিদেরকে শিক্ষা দিতেন। এভাবে তিন বছর চলল। বেশ কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলেন।
প্রকাশ্য দাওয়াত
৩০. এবার আর গোপন নয়। সরাসরি প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ এল:
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ
'অতএব আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন (সূরা হিজর: ৯৪)।'
৩১. আল্লাহর রাসূল সা. কালবিলম্ব না করে সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন। সবাইকে জড়ো করে ঘোষণা দিলেন, আমি বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল।
৩২. আল্লাহর রাসূলের ঘোষণা শুনেই চাচা আবু লাহাব তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলল:
تَبَّا لَكَ سَائِرَ اليَوْمِ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا؟
'তোমার ধ্বংস হোক! এজন্যই আমাদের জমায়েত করেছ?'
আবু লাহাবের ঔদ্ধত্যপূর্ণ অভিশাপ বাক্যের প্রত্যুত্তরে আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন:
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
'ধ্বংস হয়েছে আবু লাহাবের দুই হাত। সে নিজেও ধ্বংস
হয়েছে (সূরা লাহাব: ১)

কুরাইশের প্রতিক্রিয়া
৩৩. প্রকাশ্য ঘোষণার পর কুরাইশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল। কুরাইশের এক প্রতিনিধিদল আবু তালেবের সাথে দেখা করল। তিনি যেন ভাতিজাকে তার নতুন ধর্মের দাওয়াত দান থেকে বিরত রাখেন।
৩৪. কুরাইশের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো। নবীজি সা. রিসালাতের দায়িত্ব থেকে একবিন্দুও হটলেন না। চাচাও ভাতিজাকে বাধা দিলেন না। কুরাইশ এবার ভিন্ন পন্থায় অগ্রসর হলো। ওয়ালিদ বিন মুগিরাকে পাঠাল। কিছু প্রস্তাবনা দিয়ে।

ওয়ালিদের প্রস্তাবনা
৩৫. ওয়ালিদ তার কথা শেষ করল। আল্লাহর রাসূল ওয়ালিদকে কুরআন তেলাওয়াত করে শোনালেন। ওয়ালিদ আল্লাহর কালাম শুনে অভিভূত হয়ে পড়ল।
৩৬. আচ্ছন্ন অবস্থায় কুরাইশ নেতৃবৃন্দের কাছে ফিরে গেল। তাদেরকে মুহাম্মাদের অনুসরণ করার পরামর্শ দিলেন। অথবা মুহাম্মাদকে আরবদের মাঝে নিজের মতো কাজ করে যেতে দিতে বললেন। ওয়ালিদের পরামর্শ কুরাইশরা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলো। ওয়ালিদও বিভ্রান্ত হয়ে গা বাছাতে আল্লাহর রাসূলকে 'জাদুকর' আখ্যা দিলো।
৩৭. ওয়ালিদের ধৃষ্টতার মোক্ষম জবাব দিলেন আল্লাহ তাআলা। নাযিল হলো:
ذَرْنِي وَ مَنْ خَلَقْتُ وَحِيْدًا وَ جَعَلْتُ لَهُ مَالًا مَّمْدُودًا ﴿٢﴾ وَ بَنِينَ شُهُودًا ﴿٣﴾ وَ مَهَّدْتُ لَهُ تَنْهِيدًا ﴿ ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ ﴿١٥﴾ كَلَّا
إِنَّهُ كَانَ لِايْتِنَا عَنِيْدًا سَأُرْهِقُهُ صَعُودًا ﴿ا﴾ إِنَّهُ فَكَرَ وَ قَدَّرَ فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ مَ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ﴿٢٠﴾ ثُمَّ نَظَرَ ا ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ﴿۲۲﴾ ثُمَّ أَدْبَرَ وَ اسْتَكْبَرَ ﴿۲۳﴾ فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ ﴿۲۴﴾ إِنْ هُذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ ﴿۵﴾ سَأُصْلِيْهِ سَقَرَ ﴿٢٦﴾
'আমাকে ও সেই ব্যক্তিকে ছেড়ে দিন, যাকে আমি একাকী সৃষ্টি করেছি। আর তাকে দিয়েছি বিপুল সম্পদ, এবং উপস্থিত থাকার মতো সন্তানসন্ততি আর তার জন্য সবকিছু সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। এরপরও সে আশা করে যে আমি তাকে আরো বেশি দিই! কখনো না! নিশ্চয়ই সে আমার আয়াতসমূহের বিরোধী ছিল। অচিরেই আমি তাকে এক কঠিন আরোহণে (কঠোর শাস্তিতে) নিক্ষেপ করব। সে চিন্তা করেছে এবং পরিকল্পনা করেছে। ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করল! আবারও ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করল! তারপর সে তাকাল। তারপর সে ভ্রু কুঁচকালো ও মুখ বিকৃত করল। তারপর সে পেছনে ফিরে গেল এবং অহংকার করল। অতঃপর বলল, 'এ তো কেবল এক জাদু, যা পূর্ব থেকে চলে আসছে। এ তো মানুষেরই কথা ছাড়া কিছু নয়।' অচিরেই আমি তাকে সাকার (জাহান্নাম)-এ নিক্ষেপ করব (সূরা মুদ্দাসসির : ১১-২৬)।'
৩৮. এই সময়কালে ইসলাম গ্রহণ করলেন, অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম। নবীজি সা. পরবর্তী সময়ে তাকে মুয়াযযিন নিয়োগ করেছিলেন।

প্রতিক্রিয়া ও নির্যাতন
৩৯. কুরাইশ ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগল। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ইসলামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণ শুরু করল। তারা সংঘবদ্ধভাবে:
ক. কুরআন সম্পর্কে নানা সন্দেহ উসকে দিতে শুরু করল।
খ. নানাভাবে সরাসরি কুরআনের বিরোধিতা করতে লাগল।
গ. নানা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করল।
ঘ. ইসলাম ও মুসলমান নিয়ে উপহাস, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। ইসলামকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে লাগল।

নির্যাতনের স্টিমরোলার
৪০. শতচেষ্টাতেও নবীজি ও মুসলমানদের নিরস্ত করতে না পেরে, নিরীহ মুসলমানদের উপর অমানুষিক অকথ্য নির্যাতন চালাতে শুরু করল। মুসলমানদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলল।
৪১. আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে চাচা আবু তালেবের মাধ্যমে সুরক্ষা দিলেন। অসহায় মুসলমানরা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই পড়ে পড়ে মার খেতে লাগলেন। সবচেয়ে বেশি নির্মমতার শিকার হলেন খাব্বাব ইবনুল আরাত্ত রা.।

দাসমুক্তি
৪২. এহেন দুর্দিনে আবু বকর রা. নিজে চাপের মুখে থেকেও অসহায় মুসলমানদের সাহায্যার্থে সর্বস্ব নিয়ে এগিয়ে এলেন। নির্যাতিত দাস-দাসীদের অবিশ্বাস্য চড়ামূল্যে কিনে আযাদ করার মহতী উদ্যোগ নিলেন। দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হলেন, বিলাল বিন রাবাহ ও আমের বিন ফুহায়রা রা.।

নবীজিকে বিদ্রুপ
৪৩. কুরাইশরা নিত্যনতুন পন্থায় ইসলামের বিরোধিতা করতে লাগল। এই পর্যায়ে তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হলেন নবীজি সা.। মুশরিকরা 'আদাজল' খেয়ে নবীজির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা শুরু করল। রাস্তাঘাটে, ঘরেবাহিরে যেখানে-সেখানে নবীজিকে সরাসরি ঠাট্টা-বিদ্রুপ বাণে জর্জরিত করতে লাগল। আসওয়াদ বিন আবদে ইয়াগুস ও আসওয়াদ বিন মুত্তালিব ছিল এ ব্যাপারে অগ্রগামী।

Tazkiyah - তাজকিয়াহ Najmus Saadh

আবার বিয়ে!১৫. নবীজি পঁচিশ বছর বয়সে বিয়ে করলেন। কনে খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ। তাঁর বয়স সম্পর্কে পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই।...
15/08/2026

আবার বিয়ে!

১৫. নবীজি পঁচিশ বছর বয়সে বিয়ে করলেন। কনে খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ। তাঁর বয়স সম্পর্কে পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। একে একে জন্ম নিলেন: কাসিম, যয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম, ফাতেমা ও আবদুল্লাহ।

১৬. আবদুল্লাহর উপাধি ছিল 'তাইয়িব' ও তাহির। উত্তম ও পবিত্র। কারণ তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির পর জন্মেছিলেন

কাবা সংস্কার ও সুরক্ষা

১৭. পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে কাবা সংস্কার কাজে অংশ নেন। সবার সম্মতিক্রমে 'হাজরে আসওয়াদ' যথাস্থানে রাখার মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বপালন করেন।

১৮. তৎকালীন আরবসমাজ নানা কুফর-শিরক-পাপাচারে লিপ্ত ছিল। নবীজি সব ধরনের পাপ থেকে মুক্ত ছিলেন।

ক. তিনি কখনো কোনো মূর্তিকে সেজদা করেননি।

খ. তিনি কখনো শরাব পান করেননি।

গ. তিনি কখনো অশ্লীল কাজে জড়াননি।

১৯. নবীজি মক্কায় পরম সত্যবাদী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী ছিলেন। অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
Najmus Saadh
Tazkiyah - তাজকিয়াহ ফ্যামিলি

বিয়ে:১. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিয়ে করলেন আমিনা বিনতে আবদুল ওয়াহাবকে। আমিনা সন্তানসম্ভবা হলেন। আমিনা স্বপ্নে দেখল...
15/08/2026

বিয়ে:
১. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিয়ে করলেন আমিনা বিনতে আবদুল ওয়াহাবকে। আমিনা সন্তানসম্ভবা হলেন। আমিনা স্বপ্নে দেখলেন:
أَنَّه خَرَجَ مِنْهَا نُوْرُ أَضَاءَتْ مِنْهُ قُصُورُ الشَّامِ
'তার ঘর থেকে একটি উজ্জ্বল আলোক রেখা বের হলো। তার আলোয় শামের রাজপ্রাসাদ আলোকদীপ্ত হয়ে উঠল।'
আবদুল্লাহ শামে ব্যবসায়িক সফরে গেলেন। ফেরার পথে মদিনার কাছাকাছি এসে মারা গেলেন। সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না। মায়ের গর্ভে থাকতেই পেয়ারা নবীজি সা. এতিম হয়ে গেলেন।

উত্তরাধিকার:
২. নবীজি জন্মেছেন ধন-সম্পদহীন অবস্থায়। ইন্তেকালও করেছেন সে অবস্থায়। আবদুল্লাহ অনাগত সন্তানের জন্য রেখে গেলেন, পাঁচটি উট, একপাল মেষ, 'বারাকাহ' নামের এক আবিসিনিয়ান হাবশি দাসী। যিনি উম্মে আইমান নামে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে নবীজি উম্মে আইমানকে মুক্ত করে, তার মুক্ত করা দাস যায়েদ বিন হারেসার কাছে বিয়ে দেন।

জন্ম খতনা দুগ্ধপান:
৩. রবিউল আউয়ালের বারো তারিখ সোমবার, আমিনা একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিলেন। অতীতে তো বটেই, ভবিষ্যতেও কোনো মা এমন সন্তান জন্ম দিতে পারবে না। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। হাতি নিয়ে আবরাহা মক্কা শরিফ আক্রমণ করেছিল এই বছর।

৪. জন্মের সময় আমিনাকে ঘিরে কোনো অলৌকিক ঘটনার বিবরণ পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ কোনো বর্ণনায় নেই।
ক. কিসরার প্রাসাদের প্রকম্পন।
খ. কিসরার প্রাসাদের চৌদ্দটি বেলকনি ভেঙে পড়া।
গ. অগ্নিপূজারি মজুসিদের পূজনীয় হাজার বছরের অগ্নিকুণ্ড নিভে যাওয়া।
ঘ. সাওয়া জলাশয়ের পানি ভূগর্ভে তলিয়ে যাওয়া।
ঙ. সাওয়া জলাশয়ের তীরবর্তী উপাসনালয় ধসে পড়া।
ইমাম যাহাবী রহ. উপরোল্লিখিত ঘটনার বর্ণনা সংবলিত হাদীসকে মুনকার ও গরিব বলেছেন।

৫. জন্মের সপ্তম দিনে দাদা আবদুল মুত্তালিব নাতির খতনা করালেন। অপূর্ব সুন্দর নাতির নাম রাখলেন 'মুহাম্মাদ'। প্রশংসিত।
শিশু মুহাম্মাদ তিন দিন মায়ের দুধ পান করলেন। মাতৃ দুগ্ধের স্বল্পতার কারণে চাচা আবু লাহাব নিজের দাসী 'সুয়াইবা'-কে ঠিক করে দিলেন। দুধমা সুয়াইবা নিজ সন্তান 'মাসরুহ'-এর সাথে মুহাম্মাদকে দুধ পান করালেন।

৬. সুয়াইবা এর আগে হামযা বিন আবদুল মুত্তালিব ও আবু সালামাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আসাদ মাখযুমীকেও দুধ পান করিয়েছিলেন।

৭. তারপর প্রথানুসারে নবীকে দুধ মায়ের কাছে পাঠানো হলো। এখানে আবদুল্লাহ, হুযাফাহ (শাইমা নামে পরিচিত) ও উনাইসাকে দুধ ভাই-বোন হিসেবে পেলেন।

৮. নবীজির সাতজন দুধভাই বোন ছিলেন:
হামযা, আবু সালামা, আবু সুফিয়ান বিন হারিস, মাসরুহ। আবদুল্লাহ, হুযাফাহ শাইমা, উনাইসা। নবীজির আপন কোনো ভাই-বোন ছিল না।

শাক্কে সদর:
৯. বক্ষ বিদারণ। দুধমা হালিমা সাদিয়ার কাছে থাকাবস্থায়ই নবীজির বক্ষ বিদারণ হয়েছে। জিবরাইল আ. এসে তাঁর বুক চিরে হৃৎপিণ্ড বের করলেন, যমযমের পানি দিয়ে হৃৎপিণ্ড ধুয়ে ভেতর থেকে কালোমতো রক্তপিণ্ড বের করে নিলেন।

১০. জিবরাইল আ. নবীজির পিঠে 'মোহরে নবুওয়াত'-এর ছাপ এঁকে দেন। এর প্রভাবে শয়তান নবীজির উপরে কোনো প্রভাব খাটাতে পারবে না। নবীজি সা. কথায় ও কাজে মাসুম (পাপের ঝোঁক মুক্ত) হয়ে গেলেন।

১১. 'খতমে নবুওয়াত' বা মোহরে নবুওয়াত একটি অদ্ভুত ছোট্ট গোশতপিণ্ড। হৃৎপিণ্ড বরাবর পিঠে অঙ্কিত ছিল। কবুতরের ডিম্বাকৃতির। জাবের বিন সামুরা রা. বলেন:
رَأَيْتُ خاتمًا فِي ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ ، كَأَنَّهُ بَيْضَةُ حَمَامٍ.
'আল্লাহর রাসূলের পিঠে একটি মোহর দেখেছি। দেখতে কবুতরের ডিমের মতো (মুসলিম)।'

মা হারা শিশু দাদা ও চাচার কোলে:
১২. দুধমার কাছে দুই বছর কাটিয়ে মায়ের কোলে ফিরলেন। সন্তানের ছয় বছর বয়সে, দুঃখিনী মা কলজে ছেঁড়া ধনকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমালেন। নবীজি পুরোপুরি এতিম হয়ে গেলেন।

১৩. এতিম নাতিকে পরমাদরে কোলে তুলে নিলেন দাদা আবদুল মুত্তালিব। দু বছর পর দাদাও চলে গেলেন। নবীজির বয়স তখন আট।

১৪. চাচা আবু তালেব এগিয়ে এলেন। সন্তানের চেয়েও বেশি আদর-যত্নে ভাতিজা মুহাম্মাদের দেখাশোনা করতে শুরু করলেন। পরবর্তী চল্লিশ বছর ভাতিজাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন অসাধারণ মানবীয় গুণের অধিকারী এই চাচাটি। নবীজিও নানান কাজে চাচাকে সাহায্য করতেন। নিজে উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন কাজে অংশ নিতেন।

ক. মেষ চরিয়েছেন।
খ. ফিজার যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
গ. হিলফুল ফুযুল সংগঠনে সেবামূলক কাজে অংশ নিয়েছেন।
ঘ. খাদিজার গোলাম 'মাইসারা'-র সাথে ব্যবসায়িক সফরে বের হয়েছেন।
Najmus Saadh
শায়েখ আতিকুল্লাহ হাফিঃ রচিত আমার নবীজি সিরাত বই অবলম্বনে (চলবে) Tazkiyah - তাজকিয়াহ ফ্যামিলি

সিরাত সাঃ -:ভূমিকা পর্বনবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চেনা ও জানা আমাদের ঈমানের অংশ, ইসলামের অংশ, দীনের অংশ। নবী...
14/08/2026

সিরাত সাঃ -:ভূমিকা পর্ব
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চেনা ও জানা আমাদের ঈমানের অংশ, ইসলামের অংশ, দীনের অংশ। নবীজিকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে না পারলে আমার ঈমান পূর্ণতা পাবে না। নবীজিকে ভালোবাসতে হলে জানতে হবে। অজানা-অচেনা কাউকে ভালোবাসা যায় না। ভালোবাসতে হলে জানতে হয়, চিনতে হয়, বুঝতে হয়, অনুভব করতে হয়।

নবীজি আমার জান্নাতে যাওয়ার উপায়। নবীজির পদাঙ্ক অনুসরণ করলে আল্লাহ তাআলা আমাকে জান্নাত দেবেন। নবীজির দেখানো পথে না চললে আমার জন্য জাহান্নাম নিশ্চিত। আল্লাহ তাআলা দয়া ও ক্ষমা করলে সেটা ভিন্ন কথা।

রাব্বে কারিম আমাদেরকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত দান করুন। সুন্নত তরিকায় জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মাসব্যাপী ৫০ টি পর্ব বা কম বেশি হতে পারে।। পর্বগুলি শেষ হওয়ার পরে প্রতিযোগিতার আয়োজন হবে, ইনশাআল্লাহ..
যারা পড়বেন তারা অংশ নিবেন এবং দুনিয়া আখিরাতে কল্যাণ / লাভবান হবেন, ইনশাআল্লাহ.....!
Tazkiyah - তাজকিয়াহ ফ্যামিলি

খাঁটি গাওয়া ঘি এর ঘ্রাণে আর স্বাদে খাবার হোক আরও মজাদার ও মুখরোচক।।  পরম যত্নে তৈরি বিশুদ্ধ খাটি ঘি- প্রতিটি রান্নায় আ...
11/08/2026

খাঁটি গাওয়া ঘি এর ঘ্রাণে আর স্বাদে খাবার হোক আরও মজাদার ও মুখরোচক।।
পরম যত্নে তৈরি বিশুদ্ধ খাটি ঘি- প্রতিটি রান্নায় আনুক ঘরোয়া স্বাদ ও তৃপ্তির ছোঁয়া।
**আজই অর্ডার করুন, স্বাদে ফিরিয়ে আনুন শৈশবের সেই আপন ঘ্রান।** 01861-294629 01788-658517
Tazkiyah - তাজকিয়াহ ফ্যামিলি

এই শো-পিসটা আপনার ঘরের শোকেস,ওয়ারড্রব,অফিসের ডেস্ক বা টেবিলের  উপরে রাখলে সৌন্দর্যতা আরো বাড়বে, ইনশাআল্লাহ....!  Tazkiya...
10/08/2026

এই শো-পিসটা আপনার ঘরের শোকেস,ওয়ারড্রব,অফিসের ডেস্ক বা টেবিলের উপরে রাখলে সৌন্দর্যতা আরো বাড়বে, ইনশাআল্লাহ....! Tazkiyah - তাজকিয়াহ ফ্যামিলি

Address

Baneswar
Rajshahi
6260

Opening Hours

Monday 08:00 - 22:00
Tuesday 08:00 - 22:00
Wednesday 08:00 - 22:00
Thursday 08:00 - 22:00
Friday 15:00 - 22:00
Saturday 08:00 - 22:00
Sunday 08:00 - 22:00

Telephone

+8801861294629

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tazkiyah - তাজকিয়াহ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Tazkiyah - তাজকিয়াহ:

Shortcuts

Share