30/10/2023
আমার স্বামী আমাকে ভালোবাসে, কিন্তু কখনো সে আমার কাছে আসেনি। আমাকে ছুয়েও দেখেনি। কারণ সে মানসিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু আমার স্বামীরা অনেক বড়লোক। আমার শাশুড়ি ডক্টর আর শশুর অনেক বড়ো অফিসার। আমাদের দেখানো হয়েছিলো ছোট ছেলেকে কিন্তু বিয়ে দিয়েছে বড়ো ছেলেকে। আমার স্বামীর আরো এক ভাই আছে জমজ। কিন্তু তবে আমার স্বামী একটু বড়ো। কিন্তু আমার দেবর সুস্থ। আমার স্বামী ঠিক মতো চলতে পারে না আর অনেক অগোছালো। তো বিয়ের দিন তাকে এমন ঔষধ দেওয়া হয় যাতে কোনো রকম ঠিক ভাবে থেকে বিয়েটা করতে পারে। বিয়ের দিন আমার দেবর কে তারা বিয়েতে নেয় নি। আর অনেক তাড়াহুড়ো করে বিয়ে সম্পূর্ণ করে তারা। এ নিয়ে আমার বাবা কিছু বলতে গেলেও আমার সৎ মায়ের জন্য পারেনি। মা বলেছিলো, বড়োলোক মানুষ এরা বেশি প্রশ্ন করার দরকার নেই।
আমাদের নিয়ম বিয়ের দিন মেয়ের সাথে মেয়ের কিছু আত্মীয়রা যাবে। যখন আমার ছোট বোন আর চাচাতো বোন রেডী হলো যাওয়ার জন্য তারা সরাসরি না করে দেয়। এবার আমার বাবা রেগে গিয়ে বললো,
-আপনারা বেশ অদ্ভুত তো! আমাদের নিয়ম আছে এটা আপনারা কেনো বুঝতে চাইছেন না।
আমার শাশুড়ি বললো,
-আসলে আমাদের নিয়ম নেই। আমাদের নিয়ম হচ্ছে মেয়ের বাড়ির সবাই একসাথে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসবে।
আমার বাবা আর কিছু বলার আগেই আমার সৎ মা বলে উঠলো,
-তাহলে কারো যাওয়ার দরকার নেই। আমরা বরং একসাথে ওকে নিয়ে আসবো।
বাবা কিছু বলার চেষ্টা করলে মা তার হাতে টিপ দিয়ে তাকে থামিয়ে দেয়। এইভাবেই আমি প্রথম দিন ওই বাড়ি যাই। তারা তিনটা প্রাইভেট কার নিয়ে গিয়েছিলো একটায় আমি আমার স্বামী আমার শশুর শাশুড়ি ছিলাম।আর একটা অদ্ভুত বিষয় হলো জামাই বউর পাশে কাউকে আমি কখনো অন্য কাউকে বসতে দেখিনি। কিন্তু আমার স্বামীকে একজন লোক তার বা পাশে বসে ধরে রেখেছে।বিয়ের মধ্যে একটা কথাও বলেনি আমার স্বামী শুধু কবুল বাদে। আমার বোনেরা অনেক ক্ষন তার সাথে মজা করার চেষ্টা করে কিন্তু সে কোনো রকম রিয়েক্ট করেনা। তো অন্য দুই গাড়িতে তাদের কিছু আত্মীয়রা এসেছে। অর্ধেক রাস্তা যাওয়ার পর দেখলাম ওই দুই টা গাড়ি সম্পূর্ণ ফাকা করে ওরা সবাই একসাথে কোথাও চলে গেলো। আমি চেয়ে চেয়ে সব দেখলাম।
গাড়ি গিয়ে থামলো একটা বড়ো বাড়ির সামনে। বাড়িটা তিন তলা। বেশ বড়ো। ছোট থেকে টিনের ঘরে বড়ো হয়েছি। এতো বড়ো বাড়িতে থাকার ভাগ্য কখনো হয়নি। বাড়িতে তালা দেওয়া। আমার শাশুড়ি তার ব্যাগ থেকে চাবি বের করে বাড়ি খুলে আমাকে নিয়ে ভেতরে গেলো। ঘুটঘুটে অন্ধকার।