10/09/2026
আশেপাশে প্রায়ই গরম গরম জিলাপির গুণগান শুনতে পাই। অথচ সত্যি বলতে, পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষতিকর বা খবিস খাবারের তালিকা করলে জিলাপি থাকবে একদম প্রথম সারিতে।
মসজিদে মিলাদসহ নানা অনুষ্ঠানে আমরা জিলাপি খাচ্ছি। ডায়াবেটিস রোগীরাও এটা বাদ দিচ্ছেন না। পরিবারের ভয়ে অনেকে মসজিদের গেটেই লুকিয়ে জিলাপি খেয়ে হাত ধুয়ে বাড়ি ফেরেন, যেন কেউ টেরই না পায়!
কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন এই জিলাপিতে আসলে কী থাকে? প্রথমত, এতে হাইড্রোস মেশানো হয়। এরপর যে ডুবোতেলে ভাজা হয়, বারবার গরম করার কারণে সেই তেল কয়লা আর আলকাতরার মতো হয়ে বিষাক্ত 'পোড়া মবিলে' রূপ নেয়। আপনারা গুগলে সার্চ করলেই দেখতে পাবেন, বারবার পোড়ানো তেলে মারাত্মক ‘অ্যাক্রিলামাইড’ তৈরি হয়।
যে আটা বা ময়দা দিয়ে জিলাপির খামির তৈরি হয়, সেটা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড গমের তৈরি এবং ক্ষতিকর গ্লুটেনে ভরা। এসব গম উৎপাদনে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার ও কেমিক্যাল পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয়। এমনকি যে জমিতে এই ফসল চাষ হচ্ছে, সেই মাটিতে হেভি মেটাল পাওয়া গিয়েছে এবং গমের ভেতর আর্সেনিক রেসিডিউ ও ক্ষতিকর গ্লাইফোসেট রেসিডিউ থেকে যায়।
এখানেই শেষ নয়, অনেক সময় জিলাপিতে লোভনীয় 'শাহী' লুক দিতে কাপড়ের বিষাক্ত রঙ পর্যন্ত মেশানো হয়। এরপর সেটাকে চুবানো হয় অতিরিক্ত ঘন চিনির সিরায়, যেখানে প্রায় ৭৫% ঘন চিনি থাকে যা আইনত আমদানি নিষিদ্ধ। অথচ এই দেশেই এগুলা তৈরি হচ্ছে।
অনেকে মনগড়া যুক্তি দেন যে গরম জিলাপি খেলে মাইগ্রেন ভালো হয়ে যায়, শরীর মোটা হয় কিংবা তাৎক্ষণিক শক্তি মেলে। অথচ এগুলো নিছক বিভ্রান্তি ছাড়া কিছুই নয়।
ইবলিশ শয়তানের সূক্ষ্ম চাল দেখুন—যে খাবারটা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নোংরা ও বিষাক্ত, সেটাকেই খুব সুকৌশলে মসজিদের মতো পবিত্র জায়গায় তবারক হিসেবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদম (আ.)-কে সে নিষিদ্ধ ফল খাইয়েছিল, আর আমাদের খাওয়াচ্ছে এই জিলাপি। রাসুলুল্লাহ (সা.) কি কখনো এসব জিলাপি খেয়েছেন?
তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ, সুস্থ থাকতে চাইলে এবং সামান্যতম বুদ্ধি-বিবেচনা থাকলে এই মারাত্মক ক্ষতিকর বিষাক্ত খাবার খাওয়া এখনই বন্ধ করুন।
— ডা. জাহাঙ্গীর কবির
#উত্তমআহার