06/05/2026
👉হিমসাগর আম: আমের রাজার ইতিহাস, স্বাস্থ্য উপকারিতা ও চেনার উপায়
বাঙালি জীবনে গরমকাল মানেই আমের আগমন। আর সেই আমের রাজ্যে যদি কোনো রাজা থাকে, তবে তার নাম নিঃসন্দেহে হিমসাগর আম। এর কিংবদন্তিতুল্য স্বাদ, মনমাতানো সুগন্ধ এবং তুলতুলে নরম শাঁসের জন্য হিমসাগর কেবল একটি ফল নয়, এটি বাঙালির এক আবেগ। চলুন, আজ এই বিখ্যাত আমের ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
হিমসাগর আমের ইতিহাস
হিমসাগর আমের সঠিক উৎপত্তিস্থল নিয়ে নানা মত প্রচলিত থাকলেও, এর চাষ মূলত অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং মালদা জেলায় শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ—উভয় অঞ্চলেই এর ব্যাপক চাষাবাদ হয়।
বাংলাদেশের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর তার অতুলনীয় স্বাদের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত। এর মিষ্টি স্বাদ আর গন্ধ এতটাই অনন্য যে, এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করা হয়।
জিআই ট্যাগ (GI Tag) ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
হিমসাগর আমের জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে এটি ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই ট্যাগ লাভ করেছে। মজার বিষয় হলো, ভারতে এটি ‘মালদা হিমসাগর’ নামে এবং বাংলাদেশে ‘খিরসাপাত’ নামে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। খিরসাপাত ও হিমসাগর মূলত একই জাতের আম, যা তাদের ভৌগোলিক পরিচয়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছে।
হিমসাগর আমের বর্ণনা ও বৈশিষ্ট্য
একটি ভালো হিমসাগর আম চেনার জন্য এর বৈশিষ্ট্যগুলো জানা জরুরি।
আকার ও আকৃতি: হিমসাগর আম মাঝারি আকারের হয় এবং এর গড় ওজন ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রামের মধ্যে থাকে। এর গড়ন কিছুটা গোলাকার, তবে নিচের অংশের চেয়ে ওপরের দিকটা বেশি প্রশস্ত হয়।
রঙ: কাঁচা অবস্থায় এর রঙ থাকে সবুজ। পাকার পরেও এর গায়ে হালকা সবুজ আভা থেকে যায়, যা এটিকে অন্যান্য আম থেকে আলাদা করে। ভেতরের শাঁসের রঙ হয় হলুদ বা কমলা-হলুদ।
খোসা ও আঁটি: এর খোসা বেশ পাতলা এবং মসৃণ হয়। আঁটি পাতলা হওয়ায় শাঁসের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে (প্রায় ৭৭%)।
স্বাদ ও গন্ধ: হিমসাগর আমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর তীব্র মিষ্টি স্বাদ এবং মনমাতানো সুগন্ধ। এটি সম্পূর্ণ আঁশবিহীন, তাই মুখে দিলেই যেন মিলিয়ে যায়।
খাঁটি হিমসাগর আম চেনার উপায়
বাজারে অনেক সময় অন্য আমকে হিমসাগর বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। খাঁটি হিমসাগর চিনতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
আকৃতি: আমটির বোঁটার দিকটা গোল ও প্রশস্ত এবং নিচের অংশ কিছুটা সরু হবে।
রঙ: সম্পূর্ণ হলুদ না হয়ে হালকা সবুজ আভা থাকবে। কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম অতিরিক্ত হলুদ হয়।
গন্ধ: খাঁটি হিমসাগর আমের বোঁটার কাছে তীব্র মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায়।
ত্বক: আমের ত্বক হবে মসৃণ এবং দাগহীন।
হিমসাগর আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা
স্বাদের পাশাপাশি হিমসাগর আম পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এর কিছু অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা হলো:
ভিটামিনের উৎস: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ এবং ‘বি কমপ্লেক্স’ রয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
হজমে সহায়ক: হিমসাগরে থাকা এনজাইম ও ফাইবার হজমশক্তি বাড়াতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
ত্বকের যত্নে: এই আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’ ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং ব্রণের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
হার্টের জন্য উপকারী: এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘ই’ এবং পটাশিয়াম হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ: এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান স্তন, কোলন এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে