12/06/2026
মাঝে মাঝে ভাবি, ইবলিশ শয়তানটা কি আসলে অতিরিক্ত বোকা ছিল, না অতিরিক্ত চালাক?
চালাক তো বটেই। মানুষের মনে এমন সূক্ষ্মভাবে হিংসার বিষ ঢুকিয়ে দেয় যে মানুষ বুঝতেও পারে না যে, সে নিজের ভেতরেই আগুন ধরিয়ে বসে আছে।
কিন্তু আবার বোকাও বোধহয় ছিল। কারণ প্রথম হিংসার আগুনে তো সে নিজেই পুড়েছিল। বোকা না হলে স্বচক্ষে আল্লাহকে দেখার পরেও এভাবে কেউ অহংকারের আগুনে জ্বলতে পারে?
আদম আলাইহিস সালামকে দেখে তার ভেতরে এতোটাই হিংসার আগুন জ্বলে উঠেছিল। সে ভাবল, আদমের সম্মান মানেই যেন তার অপমান। আদমকে আল্লাহ মর্যাদা দিলেন—এটা যেন তার নিজের মর্যাদা কমে যাওয়ার মতো লাগল। কী আশ্চর্য বোকামি! আল্লাহর ভাণ্ডার কি এতোই ছোট? একজনকে দিলে কি আরেকজনের ভাগে কখনো কমে যায়?
রব্বুল আলামীনের ভাণ্ডার তো অফুরন্ত। তার নাম আল-ওয়াহহাব। আপনি বিনতি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও আল্লাহ আপনাকে দিতে দিতে ক্লান্ত হবেন না। তিনি যাকে চান, দেন। যত চান, দেন। বারবার দেন। বান্দা ভুলে যায়, তবু দেন। বান্দা পাপ করে, তবু দেন। বান্দা না চাইতেও দেন।
কিন্তু হিংসুক মন এটা বোঝে না। সে ভাবে, অন্য কেউ সুন্দর হলে যেন আমি ম্লান হয়ে গেলাম। অন্য কেউ সফল হলে আমি ব্যর্থ হয়ে গেলাম। অন্য কেউ প্রিয় হলে আমি অপ্রিয় হয়ে গেলাম। অন্য কেউ আল্লাহর কাছে কিছু পেলে—আমার জন্য বুঝি কিছুই আর রইল না।
অথচ সত্য হলো, আল্লাহর কাছে কারো প্রাপ্তি আমার কোন অপ্রাপ্তি অথবা, ক্ষতি নয়। কারো সৌন্দর্য আমার কদর কমায় না। কারো রিযিক আমার রিযিক আটকায় না। কারো সম্মান বৃদ্ধি আমার সম্মানকে কেড়ে নেয় না। কারো প্রতিভা আমার জন্য কোন দরজা বন্ধ করে না। বরং অন্যের ভালো দেখে যদি বুকের ভেতর ব্যথা লাগে, বুঝতে হবে—শয়তান খুব কৌশলে সেখানেই আগুন ধরিয়েছে। ইবলিশ আদমকে হিংসা করে নিজেকেই শেষ করল। আর এখন সে চায়, আমরাও একে অন্যকে হিংসা করে নিজেদের ঈমান এবং আমলকে শেষ করে ফেলি। কী অদ্ভুত!
আগুনে সে নিজে পুড়েছে। এখন সেই আগুনের ছোট ছোট কয়লাগুলো ছুড়ে মারছে আমাদের দিকে.. আর আমরাও সেই কয়লা হাতে নিই। বুকের মধ্যে পুষে রাখি। তারপর বলি, আহা মনের ভেতর এত জ্বালাপোড়া কেন করছে? আসলে হিংসা মানুষকে শুধু অন্যের ভালো দেখায় কষ্ট দেয় না। হিংসা মানুষকে আল্লাহর দানের সৌন্দর্য দেখতেও অন্ধ করে দেয়। যে অন্তর বিশ্বাস করে—“আমার রবের ভাণ্ডার ফুরায় না”, 'আমার আল্লাহ উনাকে যেমন দিচ্ছেন, আমাকেও দিবেন, সবাইকেই দিবেন, আমাদের নিজ নিজ সময় এবং নিহত অনুযায়ী'—সে অন্যের প্রাপ্তিতে ভেঙে পড়ে না।
আর না দিলেও, তিনি আমাকে বঞ্চিত করেননি—তিনি বরং কোন কিছু না দিয়ে এই যাত্রা আমাকে রক্ষাই করেছেন। হিংসার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা আল্লাহর প্রতি আপনার এই বিশ্বাস। আল্লাহ কারোটা দিয়ে আমারটা কেড়ে নেন না। তিনিই আমার রব। তাঁর ভাণ্ডার কখনোই খালি হয় না।
তাহলে বলুন, আপনি এখন কি করবেন? বোকামি করবেন ইবলিশ শয়তানের ফুসলানিতে এসে? নাকি তাওয়াক্কুল করবেন, ক্ষমা প্রার্থনা করবেন আদম (আ) এর মতন?