23/04/2026
শিরোনাম: “একই কলেজ, ভিন্ন অনুভব”
শহরের এক প্রান্তে ছিল একটি সুন্দর কলেজ—“কালিগঞ্জ সরকারি কলেজ”। সেই কলেজেই পড়ত শাখাওয়াত। সে ছিল শান্ত স্বভাবের, খুব বেশি কথা বলত না, কিন্তু পড়াশোনায় ভালো ছিল।
একই কলেজে পড়ত শিমু। সে ছিল হাসিখুশি, প্রাণবন্ত আর সবার সাথে সহজে মিশে যেত। ক্লাসে তার উপস্থিতি মানেই ছিল আলাদা একটা আনন্দ।
প্রথম দিকে শাখাওয়াত শিমুকে খুব একটা খেয়াল করত না। কিন্তু ধীরে ধীরে সে লক্ষ্য করল—শিমু যেখানেই থাকে, সেখানেই হাসি-খুশির একটা পরিবেশ তৈরি হয়।
একদিন কলেজ লাইব্রেরিতে শাখাওয়াত তার বই খুঁজছিল। হঠাৎ দেখে শিমু একই বই খুঁজছে। দু’জনের হাত একই বইয়ে লাগতেই দু’জনেই একটু লজ্জা পেয়ে গেল।
শিমু হেসে বলল,
— “তুমি আগে নাও।”
শাখাওয়াত একটু চুপ থেকে বলল,
— “না, তুমি আগে নাও।”
এই ছোট ঘটনাটা থেকেই তাদের প্রথম কথা শুরু হলো।
এরপর ধীরে ধীরে তারা বন্ধু হয়ে গেল। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলা, একসাথে পড়া, আর কলেজের মাঠে বসে আড্ডা—সবকিছুই যেন নতুন রঙ পেল।
শাখাওয়াত বুঝতে পারল, শিমুর হাসির পেছনে একটা অদ্ভুত টান লুকানো আছে। আর শিমুও খেয়াল করল, শাখাওয়াত যতটা চুপচাপ, তার মনটা ততটাই গভীর।
কিন্তু দু’জনেই কিছু বলতে ভয় পেত—বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
একদিন কলেজে বার্ষিক অনুষ্ঠান হলো। শিমু স্টেজে গান গাইছিল। শাখাওয়াত নিচে দাঁড়িয়ে শুধু তাকিয়ে ছিল। তার মনে হচ্ছিল—“এই মানুষটা শুধু বন্ধু না, এর চেয়ে বেশি কিছু।”
অনুষ্ঠান শেষে শিমু এসে বলল,
— “আজ তোমাকে খুব চুপচাপ লাগছিল কেন?”
শাখাওয়াত একটু হেসে বলল,
— “কারণ, আমি বুঝতে শিখেছি কিছু অনুভব কথা দিয়ে বোঝানো যায় না।”
শিমু চুপ করে গেল। কিন্তু তার চোখে ছিল এক অজানা অনুভব।
সেদিনের পর থেকে তাদের সম্পর্ক আর শুধু বন্ধুত্ব থাকল না—কিন্তু তারা সেটা কখনো স্পষ্ট করে বলত না। শুধু নীরবতাই হয়ে গেল তাদের ভাষা।