16/08/2023
বাসায় প্রবেশ করে টেবিলে বসতেই ছাত্রি বলে উঠলো স্যার আপনার আন্ডার পেন্টটা কি খুব দামি? ক্লাস টেনে পড়ুয়া মেয়ের মুখে হটাৎ এমন কথা সুনে অবাক না হয়ে পারলাম না। হা করে তাকিয়ে আছি উত্তর খোজার চেস্টায়, কেনো হটাৎ এই প্রশ্ন?
----বলুন না স্যার কোন মার্কেট থেকে কিনলেন?
----দেখো নিলাম্বরি, ফাজলামির সাথে তোমার বেয়াদবিটাও দিন দিন বাড়ছে।
--- কেনো স্যার, আমি শুনছি দামি কিছু কিনলে মানুষ সবাইকে দেখায়। জদি দামি পেন্ট না হতো তাহলে কি আর গেট খোলা রেখে সবাইকে দেখাতেন? হি হি হি....
নিচের দিকে তাকাতেই জিভে কামর দিয়ে অন্যদিকে ঘুরে গেলাম। লজ্জায় আর কিছু বলার থাকলো না আমার। ছাত্রি বলে কথা। মাথাটা নিচু করে ওকে পড়াতে লাগলাম আমি। ওর মুখের দিকে তাকাতেই কেমন লজ্জা বোধ করছি। ও বার বার টেবিলের নিচে পা দিয়ে আমায় খোচাচ্ছে, আর মিঠি মিঠি হাসছে। বিষয়টা কিছুটা বুঝলেও না বুঝার ভান করলাম। কারণ এটা তার বয়সের দোষ।
কিছুক্ষন পড়ানোর পরই বেড়িয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবছি ওর ফাজলামির মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। ওকে আর পড়াতে যাবো না।
খুবই গরিব পরিবারের সন্তান আমি, পড়া লেখা চলছে বলে কোনো চাকরি বাকরি করতে পারছিনা। যার কারনে টিউশনি করেই নিজেকে চলতে হয়, সাথে বাবার ঔষধের খরচ।
বাসায় গিয়ে দেখি বাবার ঔষধ শেষ। পকেটে হাত দিয়ে দেখি মাত্র ৫০০ টাকা আছে। মাসের এখনো ৩-৪ দিন বাকি এই টাকা দিয়েই এই ৩-৪ দিন চলতে হবে। আপাতত বাবার ঔষধগুলো নিয়ে আসি বাকিটা পরে বুঝা যাবে।
,
দুই দিন যেতেই আন্টি ফোন দিলো, কি হলো বাবা তুমি নিলাম্বরিকে পড়াতে আসোনা কেনো?
কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছিনা।
আর কি করার আন্টির জোড়াজুড়িতে আবার পড়াতে শুরু করলাম নিলাম্বরিকে।
একদিন নিলাম্বরি হটাৎ আমার হাতটা ধরে ফেললো, বললো স্যার আপনাকে একটা কথা বলার আছে। আমি তার কথা না শুনলেও কিছুটা অনুমান করতে পারছি। তাই কিছু বলার সুযুগ না দিয়েই তাকে ধমকের সুরে পড়তে বললাম। আর আন্টিকে সোজা বলে দিলাম আমি আর নিলাম্বরিকে পড়াতে পারবোনা।
বিকেলে হটাৎ একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এলো, রিসিভ করতেই বুঝলাম নিলাম্বরি, কেটে দিতে চাইলে সে বললো, স্যার স্যার আমার কথাটাতো একবার শুনুন।
--- ওকি কি বলবে বলো।
--- স্যার আজকের রাতটাকি আমি আপনার বাসায় থাকতে পারি?
--- এই মেয়ে কিসব বেয়াদ্দপের মতো কথা বলছো, তোমার সাহস হয় কি করে এভাবে কথা বলার, আর কক্ষনো এই নাম্বারে ফোন দিবানা।
তার পর থেকে নিলাম্বরি আর ফোন করেনি।