06/10/2026
আজ মহান ২১'শে আশ্বিন, ৬'ই অক্টোবর ২০২৬ইং পরম শ্রদ্ধেয়া আম্মাজান উম্মুল আশেকীন সৈয়দা মা মুনাওয়ারা বেগম মাইজভাণ্ডারী (রাঃ)-এর ওফাত বার্ষিকী.।
*"আমার আম্মা – কিংবদন্তির আম্মাজান"*
*লেখক- সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী(ম.)*
ভূ-স্বামী বাবার ঘর হতে কনিষ্ঠ কন্যাটি যখন মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের অসাধারণ একটি সাংসারিক কাঠামোতে প্রবেশ করলো তখনও তাঁর চমকিত হওয়ার বাকি ছিল। সম্পূর্ণ দুনিয়াবিমুখ আপন ভোলা মগ্নচিত্ত একজন পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে আবিষ্কার করাটা তাঁর জীবন এবং জীবনবোধকে আমূল পাল্টে দিয়েছিল নিঃসন্দেহে। এই অসাধারণ জীবনের বৃত্ত সম্পূর্ণ করা সম্ভব কিনা এ বিষয়ে তাঁর পরিবার দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও আমরা বিস্ময়চিত্তে লক্ষ্য করি যে মোসাম্মত মুনাওয়ারা বেগম ইতোমধ্যে এই মগ্নচিত্ত পুরুষটি এবং এই অসাধারণ পরিবারটির জমিনে তাঁর মনের নোঙরটি শক্ত করে গেঁথে নিয়েছেন নির্দ্বিধায়। “এই নোঙরটি, যতই দিন গিয়েছে, মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার শিক্ষা, আদর্শ, সংস্কৃতির সাথে আরো নিবিড় হয়েছে, যা তিনি আমৃত্যু ধারণ করেছেন।” সন্তানরা যে যার মতো জীবনের পথে চলে গিয়েছে, কিন্তু তিনি একদিনের জন্যও দরবারের জমিন ছেড়ে অন্য কোনখানে যাওয়া বা থাকাকে পছন্দ করেননি। কোথাও যেতে হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তিনি আবার ফিরে এসেছেন ‘হক মনজিলে’।
স্নেহ নিম্নগামী, পড়েছি, শুনেছি, বুঝিনি। সন্তানের অদর্শনে হৃদয়ের খাঁ খাঁ করা হাহাকার, আদর স্নেহ দেয়ার দুর্দমনীয় লোভ কেমন তা বুঝিনি। যখন আমার রক্তধারা প্রবাহিত হলো, ভবিষ্যতের পানে তখন সেই হৃদয়ে মোচড় দেয়া রক্তের ডাক, স্নেহের অনুভূতির দেনা-পাওনার সেই নাগাল পেলাম। এমন সময়ে একদিন হঠাৎ বিদ্যুৎ ঝলকানির মতো ভাবনায় এসে গেল, আমার আম্মাতো এই শূন্যতা মেনে নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন অবলীলায়। নিজের স্নেহের ধন যারা, তাদের সাথে থেকে স্বর্গীয় আনন্দের ধারায় স্নাত করার অপার্থিব মায়াকে ত্যাগ করেছেন। চিরাচরিত এই মানবিক অনুভূতিকে বিসর্জন দিয়ে দরবারের খেদমতের নৈতিক, আধ্যাত্মিক চেতনাকে অগ্রগণ্য করেছেন।
“ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াকে দরবারের প্রয়োজনে তুচ্ছজ্ঞান করে আমার আম্মা হয়ে উঠেছেন ‘আম্মাজান’।” নিজের স্বার্থ,
নিজের সাধ, নিজের প্রয়োজন, নিজের স্বাচ্ছন্দ্যকে বিসর্জন দেয়া, পরিত্যাগ করাটা তাঁর জীবনে সহজাত হয়ে উঠেছিল। ত্যাগের এই শক্তি ছিল তাঁরই স্বামী সর্বস্বত্যাগী খোদাপ্রেমে বিভোর শাহানশাহ্ বাবাজানের রূহানী তাসাররুফাত-এর