গল্প ও আড্ডা

গল্প ও আড্ডা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from গল্প ও আড্ডা, Grocers, বাংলাদেশ, Savar.

২,০০০ বছরের পুরনো চীনা মমির অবিশ্বাস্য রূপ! ১৯৭০-এর দশকে চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের মাওয়াংদুই কবরস্থান থেকে প্রত্ন...
06/05/2025

২,০০০ বছরের পুরনো চীনা মমির অবিশ্বাস্য রূপ! ১৯৭০-এর দশকে চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের মাওয়াংদুই কবরস্থান থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করেন এমন এক মমি, যা তাদের হতবাক করে দেয়। এই নারী ছিলেন লেডি দাই বা জিন ঝুই, যিনি চীনের হান রাজবংশের একজন অভিজাত নারী। মৃত্যুর ২,০০০ বছর পরও তার ত্বক ছিল নরম ও নমনীয়, শিরায় ছিল লালচে রঙ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ছিল অক্ষত,।

এমন অবিশ্বাস্য অবস্থা দেখে বিজ্ঞানীরা তার দেহের পরীক্ষা করেন। জানা যায়, লেডি দাই উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছিলেন, ছিল হৃদরাগ ও অপরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস। কিন্তু কীভাবে সম্ভব হলো এই আশ্চর্য সংরক্ষণ? বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি সম্ভব হয়েছে কিছু বিষয়ের সমন্বয়ে: (ক) চারটি স্তরে মোড়ানো কফিন, যা সম্পূর্ণরূপে বাতাস প্রতিরোধ করে; (খ) কবরঘরের নকশা এমনভাবে তৈরি ছিল যে ভেতরে অক্সিজেন প্রবেশই করতে পারেনি; এবং (গ) একটি অজানা সংরক্ষণকারী তরল, যেটির রহস্য এখনো ভেদ হয়নি।

বালাকোট যুদ্ধ ও সাইয়েদ আহমাদ ব্রেলভীআজ বালাকোট দিবস। ১৮৩১ সালের এই দিনে (৬ মে) বালাকোটে শিখদের সাথে সাইয়েদ আহমাদ ব্রেল...
06/05/2025

বালাকোট যুদ্ধ ও সাইয়েদ আহমাদ ব্রেলভী

আজ বালাকোট দিবস। ১৮৩১ সালের এই দিনে (৬ মে) বালাকোটে শিখদের সাথে সাইয়েদ আহমাদ ব্রেলভীর যুদ্ধ হয়। ১০ সহস্রাধিক আগ্রাসী শিখ সৈনিকের সামনে ৭০০ অনুসারী নিয়ে ব্রেলভী টিকে থাকতে পারেননি। যুদ্ধে তিনি ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ অনুসারী শহীদ হয়ে যান। সেই যুদ্ধের কাহিনী জানার পূর্বে সৈয়দ আহমদ এর জীবনী জেনে নিন।

সৈয়দ আহমদ বেরলভি ১৭৮৬ সালের ২৯ নভেম্বর ভারতের অযোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। চার বৎসর বয়সে তাঁকে মক্তবে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তার মধ্যে যুদ্ধবিদ্যার প্রতি অত্যান্ত আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। সূর্যোদয়ের পর অন্তত এক ঘণ্টা পর্যন্ত তিনি ব্যায়াম-কুস্তিতে কাটাতেন। ফলে তিনি অত্যধিক শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করেছিলেন।

তাঁর বাল্যকালে একবার মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গা বেঁধে যায়। তিনি অংশগ্রহণ করতে চাইলে ধাত্রী তাঁকে আটকে রাখলেন। তাঁর মা তখন সালাতরত ছিলেন। মা সালাম ফিরিয়ে তাঁকে বললেন- আহমাদ, আল্লাহ নাম স্মরণ করে এগিয়ে যাও। কিন্তু সাবধান, পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না; অন্যথায় তোমার চেহারা দেখব না। যদি শত্রুরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা ধরে, তাহলে তাদের রাস্তা ছেড়ে দিও। তিনি যখন সংঘর্ষস্থলে গিয়ে পৌঁছলেন তখন শত্রুরা বলতে লাগল, আমাদের রাস্তা ছেড়ে দিন, আমরা চলে যাব। তিনি সাথীদের বললেন, এদের যেতে দাও কোন প্রকার বাধা দিও না।

অল্প বয়সে তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন। জীবিকা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সাথে লক্ষ্মৌ যাত্রা করেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে চাকরি খোঁজা থেকে বিরত থাকেন। তিনি জানতে পারেন- তৎকালীন খ্যাতিমান মুহাদ্দিছ শাহ আব্দুল আযীয দিল্লীতে বসবাস করতেন। তাঁর সাক্ষাৎ লাভের আশায় তিনি দিল্লী অভিমুখে যাত্রা করেন। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে যখন তিনি সেখানে পৌঁছেন তখন তাঁর পরনের কাপড় ব্যতীত কিছু অবশিষ্ট ছিল না।

দিল্লীতে শাহ আব্দুল আযীযের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি নতুনভাবে জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করেন। এ সময় একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। কিছুদিন পড়াশোনার পর একদিন তিনি লক্ষ্য করলেন, তার দৃষ্টি থেকে অক্ষরগুলো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। তিনি চক্ষুরোগ মনে করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন, কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। ঘটনাটি শাহ আব্দুল আযীয জানতে পেরে তাকে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে বলেন। তখন তার লেখাপড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে।

আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনে আরো কিছু সময় দিল্লীতে অবস্থান করে তিনি নিজ জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন এবং একাধারে কয়েক বছর বাড়ীতে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সৈয়দ মুহাম্মাদ রওশন সাহেবের বিদূষী কন্যা বিবি জোহরার সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তিনি দ্বিতীয়বার দিল্লী ভ্রমণ করেন এবং নওয়াব আমীর খান এর সাহচর্য লাভ করেন। সেখানে তিনি তার সৈন্যদলে যোগদান করেন।

নওয়াব আমীর খানের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় উপমহাদেশ হতে ইংরেজদের বিতাড়ন করা। আর এই লক্ষ্যকে স্বাগত জানিয়ে সৈয়দ আহমদ তার সৈন্যদলে যোগদান করেন। কিন্তু যখন নওয়াব আমীর সাহেব লক্ষ্যচ্যুত হয়ে ইংরেজদের সাথে আপোষকামিতার মত কাপুরুষোচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন সৈয়দ আহমদ তার সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং সন্ধির বিরোধিতা করে দিল্লী অভিমুখে যাত্রা করেন।

দিল্লীতে তিনি আকবরাবাদী মসজিদে অবস্থান করতে থাকেন। বৃদ্ধ আব্দুল আযীয তাঁর আন্দোলনের দায়িত্ব সৈয়দ আহমদের উপর অর্পণ করেন। দলে দলে লোকেরা, এমনকি শাহ ইসমাঈল শহীদ, শাহ কারামত আলী জৈনপুরী ও মাওলানা আব্দুল হাই প্রমুখ তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করতে থাকে। বিভিন্ন স্থান হতে দাওয়াতপত্র আসতে থাকে, তিনি সমগ্র ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে করতে থাকেন এবং দ্বীনী দীক্ষা দিতে থাকেন।

হিন্দুরাও সৈয়দ সাহেবকে সম্মান করত এবং তাঁকে দাওয়াত দিত। একদা তহসিলদার ধকল সিং দুইশত কর্মচারীসহ উপস্থিত হয়ে তাঁকে দাওয়াত করেন এবং বাড়িতে নিয়ে দুপুর ও রাতে আপ্যায়ন করেন। ধকল সিং-এর অধিকাংশ কর্মচারী ছিলেন মুসলিম। সেখানে সকল মুসলিম কর্মচারী সৈয়দ সাহেবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু এসময় শিয়া হাঙ্গমা দেখা দেয়। সৈয়দ সাহেব প্রায় ৭৫ জন সঙ্গী নিয়ে নাসিরাবাদে উপস্থিত হন।

নাসিরাবাদে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হন। কিন্ত চেহলাম উপলক্ষে পুনরায় বিবাদ দেখা দিলে তিনি সদলবলে উপস্থিত হন। নবাব মুতাসিমুদ্দৌলা সরকারী ৫০০ অশ্বারোহীসহ পদাতিক বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি-সহ একশজন সৈন্য তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সৈয়দ সাহেবের দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা, দৃঢ়তা ও সামরিক দক্ষতা স্পষ্ট হতে থাকে। নাসিরাবাদে তিনি প্রতিরক্ষাব্যুহ ও সামরিক শৃঙ্খলা কায়েম করেন।

ইতিমধ্যে সৈয়দ সাহেব হজ্জের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ১৮২১ সালে তিনি ৪০০ সঙ্গী নিয়ে থেকে রওয়ানা হন। যাত্রাপথে তিনি বিভিন্ন স্থানে নোঙ্গর করেন, বিভিন্ন বিষয়ে ওয়ায-নছীহত করেন এবং হাজার হাজার মানুষ তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর অভিযানে বেশ কয়েকটি জাহাজ মিলে সর্বমোট যাত্রী ছিল ৬৯৩ জন। পথিমধ্যে হুদায়বিয়ায় যাত্রা বিরতি দিয়ে তিনি দোআ করেন ও সাথীদের নিকট হতে জিহাদের বায়‘আত নেন।

এরপর হজ্জ আদায়ের পর তিনি বিরাট দল নিয়ে মক্কায় দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। অবশেষে ১৮২৩ সালে ফিরতি পথ ধরেন। এক বছরকাল তিনি রায়বেরেলিতে অবস্থান করে বেশ কিছু মসজিদ নির্মাণ ও সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে তিনি আফগানিস্তানকে মনোনীত করেন। তিনি কান্দাহার, কাবুল অতিক্রম করে খেশগীতে উপস্থিত হন। সেখান থেকে ১৮২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নওশেরায় অবস্থান গ্রহণ করেন।

নওশেরায় অত্যাচারী শিখ রাজা বুখ্য সিং-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেন। বুখ্য সিং তাঁকে দমন করার জন্য বাহিনী নিয়ে আকুড়ায় প্রবেশ করে। তিনি দ্রুত সকলকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। বুখ্য শিং এর বিশাল বাহিনী থাকলেও মুসলিম বাহিনীর নৈশকালীন অতর্কিত হামলায় তার সাতশত শিখ সেনা নিহত হয়। বিপরীতে মুসলিমদের পক্ষে ৩৬ জন ভারতীয় ও ৪৫ জন কান্দাহারী যোদ্ধা শহীদ হন। এতে মুসলিমদের উদ্দীপনা শতগুণে বেড়ে যায়।

তৎকালীন পেশোয়ারের সুলতান মুহাম্মাদ খাতেনের ষড়যন্ত্রে ইসলামী হুকুমতের ক্বাযী, তহসিলদারসহ বহু কর্মচারীর গণহত্যার ঘটনায় সাইয়েদ সাহেব অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং কাশ্মীর অভিমুখে যাত্রা করেন। কাশ্মীরের পথে যুদ্ধের উপযোগী বালাকোটে তিনি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেন। ওদিকে তাঁর নওশেরা যুদ্ধে অধিকৃত পাঞ্জতার ঘাঁটি শিখরা দখল করে নেয় এবং জনগণের ওপর প্রবল নির্যাতন শুরু করে করল। এতে তিনি বিচলিত হন।

নওশেরা ছাড়াও অন্যান্য এলাকা থেকে তাঁর নিকট সাহায্যের আবেদন আসতে থাকে। সাইয়েদ সাহেব মৌলবী খায়রুদ্দীন শেরকুটীর নেতৃত্বে একদল যোদ্ধা মুযাফ্ফরবাদে প্রেরণ করেন। এই সুযোগে শিখ সেনাপতি রনজিৎ সিং-এর পুত্র শের সিং বিশাল বাহিনী নিয়ে নখলী নামক স্থানে উপনীত হয়। তিনি শের সিং-এর বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে এড়িয়ে যেতে পারতেন; কিন্তু তা করলে হাযারাবেলার জনগণ শিখদের অত্যাচারের শিকার হতো।

তিনি জানতে পারেন যে, শের সিং ভূগাড়মুঙ্গ আক্রমণ করবে। তিনি নিজে সেদিকে এগিয়ে যান এবং শাহ ইসমাঈলকে বালাকোট পাঠিয়ে দেন। এরপর তিনি জানলেন যে, শের সিং বালাকোট আক্রমণ করতে যাচ্ছে, তিনি দ্রুত বালাকোটে চলে যান। শিখ বাহিনীর বালাকোটে পৌঁছনোর জন্য সোজা কোন পথ ছিল না। তাদের জন্য দু’টি পথ ছিল। কুনহার নদী পার হয়ে অথবা ভুগাড়মুঙ্গের গিরিপথের মধ্য দিয়ে বালাকোটে পৌঁছনো।

সাইয়েদ সাহেব ১৮৩১ সালের ১৭ এপ্রিল বালাকোটে প্রবেশ করেন। তিনি বালাকোটে প্রবেশের প্রতিটি পথে প্রতিরক্ষা মোতায়েন করেন। কয়েকদিন পর শিখ সৈন্যরা নদী পার হয়ে সেদিকে দিকে অগ্রসর হয়। এখানে খাড়েয়্যানের কাছে ও পূর্ব দিকে সাঁকোর কাছে মীর্যা আহমাদ বেগ এর নেতৃত্বে সৈন্য মোতায়েন ছিল। তিনি প্রবল প্রতিরোধ করেন, কিন্তু কিছু বিশ্বাসঘাতক মুসলিম ও উপজাতী শিখ সৈন্যদের বিকল্প গোপন পথ বাৎলে দেয়।

শিখ সৈন্যরা মেটিকোট পাহাড়ে পৌছে গেল, যে পাহাড়ের পাদদেশের সমতল ভূমিই হচ্ছে বালাকোট। অর্থাৎ ৭০০ সৈন্যের বিপরীতে ১০ সহস্রাধিক শিখ সৈন্য একচেটিয়া সুবিধাজনক অবস্থান পেয়ে গেল। এমত পরিস্থিতিতেও যদি সাইয়েদ সাহেব পিছন দিকে চলে যেতেন, তাহলে শিখ সৈন্যরা পশ্চাদ্ধাবন করতে পারত না; অথবা তিনি নদী পার হয়ে পূর্ব তীরে পৌঁছেও হামলা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিলেন।

১৮৩১ সালের ৫ মে শিখ সৈন্যগণ মেটিকোট পাহাড়ের শীর্ষে আরোহণ করতে সক্ষম হয়। ৬ মে জুম‘আর দিন সাইয়েদ সাহেব যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেন। শিখ সৈন্যরা মেটিকোট পাহাড় হতে বালাকোটে অবতরণ করতে শুরু করল। সাইয়েদ সাহেব তাঁর বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন। যুদ্ধ শুরু হলো। অবতরণরত শিখসেনারা ক্রমাগত নিহত হতে থাকল। সাইয়েদ সাহেব বাহিনীর একেবারে সামনে ছিলেন। হঠাৎ তিনি বর্ষার আঘাতে বিদ্ধ হন।

একান্ত সহযোগী শাহ ইসমাঈলের একই পরিণতি হলো। তাঁরা দুজনই মেটিকোটের ঝর্ণার মধ্যে পড়ে যান। ইতিমধ্যে শিখ সৈন্য দিয়ে বালাকোটের কানায় কানায় সয়লাব হয়ে যায়। তথাপি যুদ্ধ চলতে থাকে। অতঃপর গোজার গোষ্ঠির লোকেরা বিভিন্ন স্থান থেকে উচ্চস্বরে প্রচার করতে থাকে যে, সাইয়েদ সাহেবকে পাহাড়ের উপরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেদিকে চলো। ফলে, মুসলিমরা পাহাড়ের দিকে গমন করেন এবং এভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

পাহাড়ে যাওয়ার পথে অনেক মুসলিম শহীদ হয়ে যান। গোজার গোষ্ঠি শিখদের প্ররোচনায় এরূপ করেছিল। কেননা, মুসলিমদের পরাজয় নিশ্চিত হলেও তখনও অকাতরে শিখরা নিহত হচ্ছিল। প্রায় ৩০০ জন শহীদ হন। বিপরীতে ৭০০ শিখ সৈন্য নিহত হয়। নদীর ধারে সাইয়েদ সাহেবের খণ্ডিত দেহ পাওয়া গিয়েছিল এবং তাঁকে কবরস্থ করা হয়েছিল। তাঁর মস্তক কয়েক মাইল ভাটিতে পাওয়া গিয়েছিল এবং সেখানেও কবরস্থ করা হয়েছিল।

শিখ সৈন্যরা বালাকোটের বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে নিজেদের নিহত সৈন্যদের লাশ ভস্ম করে দেয়। আগুনে সাইয়েদ সাহেব ও শাহ ইসমাইল সহ সমসাময়িক অনেক আলিম, সুলতান ও বিশিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তির অনেক রচনা, পত্রাবলী, পাণ্ডুলিপি, পুস্তিকা ও বক্তৃতার অনুলিপি ধ্বংস হয়। সাইয়েদ সাহেবের আত্মজীবনী ‘নূর-ই আহমদী’ সেখানে রক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে হিন্দুস্তানের প্রথম আজাদী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।

পৃথিবীর বুকে এক অবিশ্বাস্য সৃষ্টি! 🏜️🌀এই দৃশ্য যেন কোনো পরকীয় গ্রহের এক রহস্যময় নগরী! কিন্তু না, এটি আমাদেরই পৃথিবীর এক...
04/05/2025

পৃথিবীর বুকে এক অবিশ্বাস্য সৃষ্টি! 🏜️🌀

এই দৃশ্য যেন কোনো পরকীয় গ্রহের এক রহস্যময় নগরী! কিন্তু না, এটি আমাদেরই পৃথিবীর এক বিস্ময়কর ভূ-গঠন, যা প্রকৃতির নিজস্ব শিল্পকর্ম। এই অদ্ভুত স্তম্ভের মতো গঠনটি ক্রাউলি লেক ক্যালিফোর্নিয়ার লোয়ার উপত্যকার "Les Orgues d'Ille-sur-Têt", যা "অর্গান পাইপ রক ফর্মেশন" নামে পরিচিত।

কীভাবে গঠিত হল এই ভয়ংকর সুন্দর প্রাকৃতিক স্থাপনা?

প্রায় ৪ মিলিয়ন বছর ধরে বাতাস, বৃষ্টি ও ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে এই আশ্চর্য শৈলগঠন তৈরি হয়েছে। নরম বেলেপাথর ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গিয়ে কঠিন স্তম্ভগুলো রেখে গেছে, যা দেখতে ঠিক যেন কোনো প্রাচীন মন্দিরের খিলান বা কোনো হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ!

কিন্তু রহস্য কোথায়? 🤯

অনেকে বিশ্বাস করেন, এই জায়গার গভীরে লুকিয়ে আছে এক অজানা শক্তি! স্থানীয়রা বলেন, এখানে রাতের বেলায় শোনা যায় অদ্ভুত সুর—ঠিক যেন কোনো অদৃশ্য হাত একটি বিশাল প্রাচীন অর্গান বাজিয়ে চলেছে! কেউ কেউ মনে করেন, এই গঠন আসলে এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার নিদর্শন, যা একসময় রহস্যময় কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল!

এটি কি শুধুই প্রকৃতির খেলা, নাকি সত্যিই কিছু লুকিয়ে আছে?

বিজ্ঞান বলবে এটি শুধু প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফল, কিন্তু স্থানীয়দের বিশ্বাস অন্যরকম! তারা মনে করেন, এই স্তম্ভগুলোর নিচে লুকিয়ে আছে অজানা সুড়ঙ্গ, হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের চিহ্ন এবং হয়তো এমন কিছু, যা আজও মানুষের চোখের আড়ালে!

আপনার কী মনে হয়? এটি কি শুধুই ভূতত্ত্বের খেলা, নাকি কোনো অজানা ইতিহাসের চিহ্ন? 🤔✨

ভূগোভূগোল-Geography

🖋কাবা ঘরের ইতিহাস - পবিত্র কাবা আল্লাহর ঘর।তারিখ-আল-ইয়াকুবিয় তথ্যমতে,হজরত আদম (আঃ) এর জন্মের দুই হাজার বছর আগে আল্লাহ পা...
04/05/2025

🖋কাবা ঘরের ইতিহাস - পবিত্র কাবা আল্লাহর ঘর।তারিখ-আল-ইয়াকুবিয় তথ্যমতে,হজরত আদম (আঃ) এর জন্মের দুই হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের ইবাদাতের উদ্দেশ্যে বায়তুল মামুরের অনুকরণে ফেরেশতাগণ এ ঘর নির্মাণ করেন। এর অবস্থান মক্কা নগরীতে যা ভৌগলিক ভাবে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যস্থলে। মূলত কাবার সৃষ্টির ইতিহাস কমবেশি সকলের জানা। তাই এর স্থাপত্যগত ইতিহাসে কিছুটা আলোকপাত করা যাক।

সায়মুতি তার বিখ্যাত গ্রন্থ তারিখ-আল-মক্কাতে উল্লেখ করেছেন,পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ সংঘটিত হয় দশবার।
প্রথমবার, হজরত আদম (আঃ) এর সৃস্টির দুই হাজার বছর
আগে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশ্তাগণ কর্তৃআ নির্মিত।
দ্বিতীয়বার, হজরত আদম (আঃ) হেরা পর্বত, তুরে সিনা, তুরে
জিইতা,জুদি ও লেবানন পাহাড়ের পাথর সংগ্রহ করে
কাবা নির্মাণ করেন
তৃতীয়বার, কাবা নির্মিত হয় আদম (আঃ) এর পুত্র শিষ (আঃ)
কর্তৃক যা নুহ (আঃ) এর সময়ের প্লাবনে ঢাকা পড়ে
যায়।
চতুর্থবার, আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক হজরত ইবরাহিম (আঃ)
ও ইসমাইল (আঃ) ৯ গজ উঁচু,৩০ গজ লম্বা, ২৩ গজ
চওড়া ও ২ দরজা বিশিষ্ট কাবা নির্মাণ করেন।

এরপর পঞ্চমবার আমালিকা গোত্র, ষষ্ঠবার জোরহাম গোত্র, সপ্তমবার নির্মাণ
করেন মহানবি (সাঃ) এর ৫ম পুর্বপুরুষ কোসাই ইবনে কোলাব। অষ্টমবার নতুন করে তা নির্মাণ করে কুরাইশরা, নবি (সাঃ) এর বয়স তখন ৩৫ বছর।তিনি নিজে এ নির্মাণকাজে শরিক হোন।
নবমবার, হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর অনুরুপে কাবা নির্মাণ
করেন আব্দুল্লাহ ইবন জুবাইর রঃ।
দশমবার, খলিফা অলিদ ইবন আব্দুল মালিকের নির্দেশে জুবাইর
নির্মিত কাবা ভেঙ্গে কুরাইশ নির্মিত কাবার অনুরুপে
পুনরায় নির্মাণ করেন হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, যা
আজ পর্যন্ত বর্তমান।

পরবর্তীকালে খলিফা হারুন আর রশিদ চেয়েছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নির্মিত কাবা ভেঙ্গে রাসুল (সাঃ) এর আকাঙ্খা মোতাবেক হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর অনুরুপ করে নির্মাণ করবেন, কিন্তু তা সম্ভব হয় নি। ইমাম মালিক (রাঃ) কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেন যে এতে করে কাবাঘর ভাঙ্গা-গড়া রাজা বাদশাহদের খেল তামাশায় পরিণত হবে। সব ওলামায়ে কেরামও এতে ঐকমত্য পোষণ করেন।

ইতিহাস হতে জানা যায়, ১৬০১ সালে (১০২১ হিঃ) সুলতান আহমদ তুর্কি কাবা মেরামত করেন। ১৯৪৭ সালে (১৩৬৭ হিঃ) মহররম মাসে বাদশাহ আজিজ ইবন সাউদ কাবার দরজা নতুন করে তৈরী করেন।

হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কাবা পুনর্নির্মাণের পুর্বে কাবা ছিল পাথরের নির্মিত চার দেয়ালওয়ালা ছাদবিহীন ও একজন মানুষের উচ্চতার সমান।নবি কারীম (সাঃ) এর নির্মিত কাবা ছিল ১৮ গজ লম্বা যা আবিসিনীয় পদ্ধতিতে এক স্তর পাথর আর এক স্তর কাঠ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ১৬ টি পাথরের স্তর আর ১৫ টি কাঠের স্তরের সমন্ময়ে ৩১ টি স্তরে নির্মাণ করা হয়।ইয়াকুবির তথ্য অনুসারে ৬টি স্তম্ভের উপর কাঠের ছাদ ছিল। আবিসিনীয় বাকুম রাজমিস্ত্রী (খ্রিস্টান কারিগর) কাঠমিস্ত্রীর কাজ করেছিলেন।

কথিত আছে ইয়েমেনের রাজা তুব্বা-আসআদ আবু কারিব আল হিমআরি নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম কাবায় গিলাফ পড়ান বর্তমানে গিলাফ মক্কার দারুল কিসওয়ায় তৈরি হয়।খাঁটি প্রাকৃতিয়া রেশমি কাপড়ের মধ্যে কুর্‌আন শরিফের কিছু আয়াত শোভা পায়। অক্ষরগুলো সোনালি আভায় উদ্ভাসিত।

উল্লেখ্য ১১ জানুয়ারী, ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ ২০ রমজান, ৮ম হিজরিরে হযরত মুহাম্মদ সাঃ মক্কা বিজয়ের আগে কাবা ঘরের ভিতরে মক্কা অঞ্চলের বিভিন্ন গোত্রের মূর্তি পূজারী পৌত্তলিক ধর্মাবলম্বীদের তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিলো। প্রত্যেক গোত্রের আলাদা আলাদা দেবতা ও আলাদা আলাদা মূর্তি ছিল। হযরত মুহাম্মদ সাঃ ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে কোন প্রকার বাধাহীন ও রক্তপাতহীন মক্কা বিজয়ের পরে কাবা ঘরের ভিতরে থাকা সকল মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য মক্কা বিজয়ের মাত্র আড়াই বছর পরেই ৮ জুন ৬৩২ খ্রি. (১১ হিজরি) হযরত মুহাম্মদ সাঃ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্য সুত্র -ইন্টারনেট

সুলতান মোহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর  ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব ও খ্রিষ্ট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া।☞সুলতান মোহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহঃ...
03/05/2025

সুলতান মোহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব ও খ্রিষ্ট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া।

☞সুলতান মোহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর ইন্তেকাল–
৮৮৬ হিজরি রবিউল আউয়াল মাস মোতাবেক ১৪৮১ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান রাজধানী ইস্তাম্বুল ত্যাগ করে এশিয়া মাইনরের দিকে রওনা হন। কারণ, সেখানের ইসকিদার নামক জায়গায় আগে থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। নতুন অভিযানে এই বাহিনীর নেতৃত্ব তিনি নিজেই দিবেন। সুলতান ইস্তাম্বুল থেকে বের হওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু জিহাদের প্রবল আগ্রহের কাছে এই অসুস্থতা কোনো পাত্তা পায়নি। তাঁর মধ্যে মানসিক কোনো দুর্বলতা ঠাঁই পায়নি। সুলতানের অভ্যাস ছিল, রুগ্ন অবস্থায়ও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। যুদ্ধের তীব্র কষ্টের মাধ্যমেই রোগমুক্তির সন্ধান করতেন। কিন্তু এবার অসুস্থতা তাঁর পিছু ছাড়েনি। গেবজে নামক স্থানে পৌছানোর পরে সুলতানের অসুস্থতা আরও বেড় গেলো। এরপরেও জিহাদের প্রবল আগ্রহ নিয়ে তিনি ইসকিদার পৌঁছে যান ঠিক, তবে সেখান থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার সামর্থ্য হয়নি। ডাক্তারদের ডাকা হয় কিন্তু ততক্ষণে সুলতানের ভাগ্যের ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল, তাই কোনো ওষুধই ক্রিয়া করেনি। ৪ই রবিউল আউয়াল ৮৮৬ হিজরি মোতাবেক ৩ মে ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দ রোজ বৃহস্পতিবার দিনে সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) ইন্তেকাল করেন। ইনতিকালের সময় সুলতানের বয়স ছিল ৫২ বছর ভিন্ন মতে ৪৯ বা ৫১ বছর। তিনি ২ দফায় ৩২ বছর উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাসক হিসেবে শাসনকাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন।
☞সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর ইন্তেকালে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের প্রতিক্রিয়া–
সুলতানের মৃত্যুসংবাদ যেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে এক ভয়াবহ বোমার বিস্ফোরণ ছিল, যে বিস্ফোরণের ধাক্কায় কেঁপে উঠেছিল পুরো মুসলিমবিশ্ব। আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল খ্রিষ্টানদুনিয়ায়। তাদের ঘরে ঘরে যেন জ্বলছিল ঘিয়ের মশাল। তাদের আনন্দের কোনো সীমা ছিল না। রোডসের খ্রিষ্টানরা এক ভয়ংকর শত্রু থেকে রক্ষা পাওয়ার দরুন কৃতজ্ঞতার প্রার্থনা আদায় করেছিল।
☞সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর ইন্তেকালে মুসলিমবিশ্বের প্রতিক্রিয়া–
সুলতানের ইন্তেকালে মুসলিমবিশ্ব মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর ইন্তেকালে যেন মুসলিমবিশ্বে বেদনা ও শোকের ছায়া ছেয়ে যায়। মুসলিম বিশ্ব স্তব্ধবাক হয়ে পড়ে। অনেকে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে। যে মহান সুলতানের স্বর্ণালি কৃতিত্ব মানুষকে বিস্ময়ের বারিধিতে হাবুডুবু খাওয়াচ্ছিল, যিনি ছিলেন মুসলিম জাতির স্বপ্ন, রাসুল (সাঃ) এর সুসংবাদের বাস্তবায়ক, তিনি আজ দুনিয়াতে নেই। এ ব্যথা সাধারণ কোনো ব্যথা ছিল না। তিনি ছিলেন শেষযুগে সাহাবিদের খিলাফতের নমুনা প্রদর্শনকারী।

প্রতি নামাজের জামাতের পর মসজিদে, মসজিদে হাউমাউ করে কাদছিলো মানুষ। খবর পাওয়ার পর রাজধানীতে কান্নার রোল বয়ে যায়। সেই কান্না একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়েছিল ট্রাবজোন, সার্বিয়া, সমগ্র এশিয়া মাইনর বসনিয়া থেকে সিসিলিয়া, আলবেনিয়া থেকে কারামান, ক্রিমিয়া থেকে আড্রিয়াটিক পর্যন্ত।

উসমানীয় বাহিনী পুরো ইতালি ইসলামি সাম্রাজ্যের অধীনে নিয়ে আসার জন্য দক্ষিণ ইতালি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল কিন্তু হায়! সুলতানের মৃত্যুসংবাদে সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। মুসলিম শিবিরে ব্যথা-বেদনা আর চিন্তার বাদল ছেয়ে যায়। বাধ্য হয়ে মুসলমানদের ইতালির রাজা নাবুলির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হয়, যাতে নিজেদের প্রাণ এবং সম্পদ নিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসা যায়। আলোচনা বাহ্যত সফল ছিল। কিন্তু খ্রিষ্টানরা ওয়াদা লঙ্ঘন করে সেনাবাহিনীর বিশাল একটি অংশকে লৌহ জিঞ্জিরে বেঁধে নিয়েছিল।
☞সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর ইন্তেকালে রোমান পোপ এবং ভেনিসিয়ানদের প্রতিক্রিয়া–
রোমে সুলতানের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছলে পোপ সীমাহীন আনন্দিত হয়ে ওঠে। পোপ চতুর্থ সিক্সটাস (১৪৭১-১৪৮৪) তুর্কিদের হাতে রোমের পতনের আশঙ্কায় দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সুলতানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সে প্রতিটি গির্জায় কৃতজ্ঞতার প্রার্থনা আদায়ের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আনন্দের আতিশয্যে তারা রাস্তাঘাট সাজিয়ে তোলে। শোভাযাত্রা বের করে। গায়ক আর নর্তকীরা আনন্দ-সংগীত গেয়ে বেড়াতে থাকে। পুরো রোমে তিন দিনব্যাপী ঈদের মতো এক পরিবেশ বিরাজ করছিল। তারা যেন এমন এক ভয়াল বিপদ থেকে মুক্তি পেয়ে যায়, যা সর্বদা নাঙ্গা তলোয়ার হয়ে তাদের মাথার উপর ঘুরছিল।

অন্যদিকে ভেনিসে সুলতানের মৃত্যু সংবাদ ঘোষিত হয় এই বার্তায় যে–
"La Grande Aquilla Le Morta"
অর্থ– মহান ঈগল মৃত্যুবরণ করেছেন।

☞সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর ইন্তেকালে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া–
সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর মৃত্যুর খবরে উল্লাসে মেতে উঠেছিল গোটা ইউরোপ। ইউরোপ জুড়ে প্রতিটি ক্যাথলিক চার্চে দুপুর ১২ টায় একযোগে চার্চের ঘন্টা বাজানোর নির্দেশ দিলেন প্রধান পোপ ইশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য। স্পেনের কর্দোভা থেকে হাঙ্গেরির বুদা পর্যন্ত চার্চের ঘন্টাগুলো বেজে উঠলো এক এক করে। আজ তাদের উৎসবের দিন, তাদের শত্রু মেহমেদ মারা গেছে।

"The Great Eagle is Dead"
অর্থ– মহান ঈগল মারা গেছে।
☞সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের অভিমত–
সুলতানের সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর মৃত্যুতে তুর্কি জাতি শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বেও শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে। এমন একজন সুলতান, যিনি পুণ্যবান পূর্বসূরিদের জিহাদের চেতনা ফিরিয়ে এনে মুসলিম জাতির শত শত বছরের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন, তাঁর মৃত্যুকে গোটা মুসলিম বিশ্ব শোকাচ্ছন্ন হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।

সমকালীন ইতিহাসবিদগণ সুলতান মোহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব ও কৃতিত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে কয়েকজন ইতিহাসবিদদের মূল্যায়ন এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

➤ আবদুল হাই ইবনুল আম্মাদ হাম্বলি তাঁর গ্রন্থে ৮৮৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী বিশেষ ব্যক্তিদের স্মরণিকায় লেখেন–

তিনি ছিলেন উসমানীয় পরিবারের এক মহান সুলতান। ছিলেন অতি মর্যাদাবান, উঁচু মাপের একজন বাদশাহ। যুদ্ধ-সংক্রান্ত ব্যাপার, অগ্রাভিযান এবং প্রচন্ড উদ্যমের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন নজিরবিহীন। দৃঢ়তা এবং শক্তিসামর্থ্যে তাঁর কোনো জুড়ি ছিল না। তিনিই উসমানীয় সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সাম্রাজ্যের জন্য উত্তরাধিকার হিসেবে এমনসব নীতিমালা রেখে যান, যা ছিল যুগের গলায় স্বর্ণের লকেটতুল্য। তিনি ছিলেন উত্তম গুণাবলির আধার। ছিলেন অতুলনীয় সদাচার ও মর্যাদার অধিকারী। ইতিহাস কিয়ামত পর্যন্ত তাঁকে স্মরণ রাখবে। কালপরিক্রমা তাঁর অমলিন কীর্তিগাথা মিটিয়ে ফেলতে পারবে না। তিনি এমনসব যুদ্ধ করেছেন, যেগুলো ক্রুসেডারদের শক্তির মেরুদণ্ড দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল।

➤ রোমান পতাকা অবনমিত হয় গৌরবময় সানজাক নিশানের সামনে, পরবর্তী দুইশত বছর মুসলিম শাসকদের সামনে পশ্চিমা শাসকরা সর্বদা কম্পমান ছিল।- (Marshall Von Moltke, ১৫১)

➤ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষণ, খুব সম্ভবত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষণ হলো তুর্কিদের হাতে ইস্তাম্বুলের পতন।- (Franz Bobinger, Mehmed der Eroberer, p. 7)

➤ এ ব্যাপারে কারও মনে সন্দেহ থাকবে না যে, সুলতান মোহাম্মাদই হলেন রোমান সম্রাট। সাম্রাজ্যের সিংহাসন যে শহরে অবস্থিত, সেটি যিনি জয় করেন,তিনিই তো বৈধ সম্রাট। আর রোমান সাম্রাজ্যের সিংহাসনের শহর হলো ইস্তাম্বুল।- (Yorgios Trapezutios, 146)

➤সুলতান মোহাম্মাদ আমাদের যুগের সেই দার্শনিকদের একজন যারা সূক্ষ্ম প্রতিভার অধিকারী।- (Critobulus, 177)

➤ সুলতান মোহাম্মাদের হাসি দেখতে পাওয়া ছিল বিরল ব্যাপার। তিনি এক লহমার জন্যও বিচক্ষণতা বিসর্জন দিতেন না। তিনি ছিলেন অতিশয় উদার, দুর্দান্ত সাহসী, আর প্রজ্বলিত বিচক্ষণতার অধিকারী।

তিনি ছিলেন আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের মতো; সুখ্যাতি আর উচ্চতায় যারা সন্তুষ্ট থাকেন না। তিনি ঠান্ডা-গরম, ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করতে পারতেন। তাঁর কথা ছিল অকাট্য। ভয় করতেন না কাউকে, খেল-তামাশা ও স্থূল বিনোদন থেকে থাকতেন দূরে। তিনি তুর্কি, গ্রিক ও সার্বিয়ান ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন। আরও কয়েকটি ভাষা পড়তে ও বুঝতে পারতেন। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় তিনি অধ্যয়ন করতেন। তাঁর অধীত ইতিহাসের মধ্যে ছিল রোমান ইতিহাস, হিরোডোটাস, Laerce, Tite-Live, Quinte-Qurse পোপদের ইতিহাস, জার্মানি, ফ্রান্স ও ল্যাম্বার্ড রাজাদের ইতিহাস, ইতালির ভূগোল সম্পর্কেও তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান রাখতেন। অনুরূপ জ্ঞান রাখতেন সেই সময়ের সকল ইউরোপীয় রাজ্য সম্পর্কে। প্রবল আগ্রহে তিনি ভূগোল ও যুদ্ধশাস্ত্র অধ্যয়ন করতেন। তাঁর রাজ্যে বসবাসকারী নানা জাতিগোষ্ঠীর আচার-অভ্যাসের সাথে খাপ খাওয়ানোর কাজে তিনি দক্ষ ছিলেন।- (সমকালীন ইতালীয় ইতিহাসবিদ Zorzo Dolfin)

➤ সুলতান মোহাম্মাদ আমাদের কালের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। তিনি কিরুস, আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট ও সিজারের চেয়ে মহান। এককথায় পূর্ববর্তী সকল শাসকের চেয়ে সেরা।- (Babinger, from Yorgios Trapezuntios, 298)

➤ ফাতিহ কেবল প্রথম শ্রেণির ভাষাবিশেষজ্ঞ, ইতিহাসবেত্তা ও দার্শনিকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন সেরা প্রশাসক ও ব্যবস্থাপক এবং অলৌকিক উপায়ে সমরাস্ত্র প্রয়োগে দক্ষ।- (N. M. Panzer, The Harem, লন্ডন, 1936, 237)

{ ১৪৫৩ সালে ফাতিহ এর হাতে কনস্ট্যান্টিনোপল বিজয়ের সাথে, সাথে জ্ঞানের রেনেসাঁসের যুগ শুরু হয়। ফাতিহ আধুনিক রেনেসাঁসের অন্যতম সংরক্ষক। ফাতিহ ও তাঁর দুই উত্তরাধিকারীর নিকট আধুনিক রেনেসাঁ অনেকাংশে ঋণী। ইউরোপে প্রাচীন গ্রিক ভাষার প্রসারের পথ সুগম করে দিয়েছিলেন ফাতিহ। বায়েজিদ ও ইয়াওয়াজ যথাক্রমে ১৫০৬ ও ১৫১৯ সালে মিকেলেঞ্জেলো ও লিওনার্ডো দ্যা ভিঞ্চিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানান, অথচ পোপ তাদের আমন্ত্রণ করেননি।- (P. Faure, La Renaissance)

➤ আমরা যদি উসমানীয় ইতিহাস অনুধাবন করতে চাই, তাহলে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উসমানীয় বংশের শাসকদের অধিকার মেনে নিতে হবে। ফাতিহের সমকালীন বাইজেন্টাইন ইতিহাসবিদ ক্রিটোভুলাস, ডুকাস ও কালকনডাইলাস স্বীকার করেছেন, উসমানীয় সুলতানরাই রোমান সম্রাটদের বৈধ উত্তরসূরি।- (Grenard)

➤ ইস্তাম্বুল বিজয় দ্বিতীয় মোহাম্মাদের ব্যক্তিগত সাফল্য। এটিকে উসমানীয় রাজ্যের স্বাভাবিক বিকাশের পরিণতি বলে মেনে নেওয়া যায় না।- (N. Lorge, Voyageurs Francais dans l'orient, ২১)।

সমকালীন ইতিহাসবিদদের স্বীকৃতি থেকে জানা যায় সুলতান মোহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহঃ) গ্রিক, ইতালীয় ও সার্বিয়ান ভাষায় সুদক্ষ ছিলেন। আরও কিছু ভাষা তিনি বুঝতে পারতেন। তা ছাড়া তিনি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থারে প্রভুত উন্নতি সাধন করেছিলেন। তাঁর ধর্মীয় জ্ঞানও ছিল অগাধ। তদুপরি আরবি-ফারসি ভাষায় তাঁর দক্ষতাও ছিল সুবিদিত। তাই আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, তিনি তাঁর যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ও সর্বশ্রেষ্ঠ সমরবিদ। অধিকাংশ ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি হলেন তুর্কিদের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।

বিছমিল্লাহির রহমানির রহিম।শুরু করছি মহা-প্রজ্ঞাময় মহা-করুনাময় মহা পরাক্রমশালী রবের নামে যিনি আসমান ও জমিনের মালিক যিনি ন...
02/05/2025

বিছমিল্লাহির রহমানির রহিম।

শুরু করছি মহা-প্রজ্ঞাময় মহা-করুনাময় মহা পরাক্রমশালী রবের নামে যিনি আসমান ও জমিনের মালিক যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত যিনি আসমান কে আমাদের জন্য ছাদ ও জমিনকে করেছেন বিছানা সেই মহান সত্তার নামে শুরু করছি যিনি যাবতীয় ক্ষমতার মালিক যিনি সকল কিছুর উপর একক ক্ষমতাবান।

হে আমার প্রিয় মুসলমান ভাই-বোন তোমরা কি জানো আজ আমি কি নিয়ে তোমাদের সামনে হাজির। বলছি আজ আমি আল্লহর এক এমন বান্দার বীরত্ব নিয়ে আলোচনা করব যিনি কখনো হাতিয়ার ঢালেন নি হাত থেকে। তিনি সেই বীর যার হাত ধরে আল-কুদস বিজয় হয়ে ছিল। যার উপস্থিতি কাফেরদেরকে ভয় ভীতির মধ্যে রাখত। যার সৈন্য সংখ্যা মুষ্ঠিমেয় ছিল কিন্তু কাফেরদের বিরাট বাহিনীও ভয়ে কাপত তার অল্প সং্খ্যাক সৈন্যের সামনে । সেই মহান বীর সালাহউদ্দিন আইয়্যুবী।

সেই সময়েও চারিদিক থেকে ইসলামের শত্রুরা এক হয়েছিল আজকের মত এবং এদের সহায়তা ও এই আরব মুনাফিক্বরা করত। যারা আজকের ন্যায় তখনও গা'য'যায় আল-কুদসে হওয়া অন্যায় অত্যাচারে বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় নি বরং আজকের ন্যায় নাচ, গান, মদ, নারী এসবেই ব্যস্ত ছিল।

★ক্রুসেড -

খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মরণপণ লড়াই -

পৃথিবীর বুক থেকে ইসলামকে চিরতরে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠলো খ্রিষ্টানরা। একে একে অসং্খ্য লোমহর্ষক সংঘাত ও সংঘর্ষে হেরে যাওয়ার পর বেছে নিল ষড়যন্ত্রের পথ। মুসলিম সাম্রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে দিল গুপ্তচর বাহিনী। ছড়িয়ে দিল মদ ও নেশাদার দ্রব্য। ঝাকে ঝাকে পাঠাল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সুন্দরি যুবতিদের। বড় বড় আমির ওমরাহ ও হেরেম গুলোতে ঢুকিয়ে দিল এদেরকে কৌশলে। ভাসমান পতিতা ছড়িয়ে দিল সর্বত্র। মদ, নেশা, নারী বেহায়াপনার স্রোত ভাসিয়ে দিল শহরগুলোতে।

এক দিকে সশস্ত্র লড়াই- অন্যদিকে কুটিল সাংস্কৃতিক হামলা । এ দু'য়ের মোকাবিলায় রুখে দাড়াল মুসলিম বীর-শ্রেষ্ঠরা।
তারা মোকাবিলা করল এমন সব অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার, যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়।

★★ক্রুসেড ১ম খন্ড - গাজী সালাহউদ্দিন আইয়্যুবীর দুঃসাহসিক অভিযান ★★

জাদুল আসাদির তাবুতে বিশ্রাম নিচ্ছেন সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়্যুবী। শিরস্ত্রাণ খুলেননি। তাবুর বাইরে সশস্ত্র দেহরক্ষীরা পাহারা দিচ্ছে। কয়েক মূহুর্তের জন্য রক্ষী বাহিনীর প্রধান একটু অন্য দিকে যেতেই এক জন দেহ রক্ষী এসে উঁকি দিল তাবুতে। এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করে ইশারা করল। তার ইশারায় তাবুর বাইরে কয়েকজন দেহরক্ষী বাকি দের সাথে গল্প আড্ডা শুরু করল। এই ফাঁকে প্রথম দেহরক্ষী ঢুকে পরল সালাহউদ্দিন আইয়্যুবীর তাবুতে। দেখল সুলতান শিরস্ত্রাণ সঙ্গে নিয়েই চিৎ হউএ শুয়ে আছেন। সে খঞ্জর বের করল। বিড়ালের মত এগিয়ে গেল সুলতানের দিকে।
যেই না আঘাত করবে তখনই সুলতান পাশ ফিরলেন এবং খঞ্জরের আঘাত পরল সুলতানের শিরস্ত্রাণে।
বিদ্যুৎ গতিতে দাঁড়িয়ে গেলেন সুলতান। নিমিষেই ঘটনা আচ করতে পারলেন সুলতান। নিজেরই বাচাই করা দেহরক্ষী তার উপর আঘাত করতে দেখে তিনি সামান্য বিচলিত হলেন না।
রক্ষী শিরস্ত্রাণের পাশ কেটে মাটিতে পরা খঞ্জর তুলতে যাবে অমনি সুলতান পূর্ণ শক্তি দ্বারা রক্ষীর মুখে ঘুসি মারলেন। মট করে হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ হল। বিকট শব্দে চিৎ হয়ে পড়ে গেল রক্ষী।
সালাহউদ্দিন রক্ষীর হাতের খঞ্জর তুললেন। সাথে সাথে বাইরে থেকে আরও দুজন রক্ষী ভেতরে প্রবেশ করল। সুলতান হুকুম দিলেন,
'ওকে বেধে ফেলো ' কিন্তু ওরা সুলতানের হুকুম অমান্য করে উলটো সুলতানের উপরই আঘাত শুরু করল। সুলতান একা খঞ্জর দিয়ে তাদের আক্রমণ প্রতিহত করতে লাগলেন। তাবুর ভেতর এক লোমহর্ষক লড়াই।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তাবুর বাইরে থেকে আরও কয়েকজন রক্ষী ভেতরে প্রবেশ করল। তারা অবাক হয়ে সুলতানের দিকে তাকিয়ে রইল। একজন এগিয়ে এসে ঘাতক রক্ষীদের উপর আঘাত করল তা দেখে ওপর রক্ষীরাও তাই করল। লড়াই আরও তুমুল আকার ধারণ করল। সুলতান এখানে দুইদল রক্ষীর মধ্যে লড়াই দেখে সত্য মিথ্যা বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে রইলেন।

সংঘর্ষ থেমে গেল। লড়াইয়ে দু'জন নিহত হল আহত কয়েকজন ও একজন পালিয়ে গেলো। তদন্ত শেষে জানা যায় দেহরক্ষী দের সাতজন ছিল ঘাতক দলের সদস্য। গুমাস্তগীন নামে খলিফা সালেহের কেল্লাধিপতি এদের নিযুক্ত করেছিল সালাহউদ্দিন আইয়্যুবীকে হত্যার জন্য।

সালাহউদ্দিন কে হত্যার প্রচেষ্টা পর পর ব্যর্থ হল। এ হত্যার পরিকল্পনার হোতা ছিল সাইফুদ্দিন। সাইফুদ্দিন সালাহউদ্দিনের চাচাতো ভাই খলিফা আস-সালেহের একজন আমীর।যে সময়ের কথা বলছি, তখন মুসলিম দুনিয়ার কেন্দ্রীয় শাসন ছিল নামমাত্র।

★★★
বই - ক্রুসেড ১ম খন্ড - দুঃসাহসিক অভিযান ১ম পার্ট

আমরা অনেকেই জানি না, ভারত, ইসরায়েল এবং মিয়ানমার কিভাবে ডিপলি একে অপরের সাথে কানেক্টেড। আসেন জানি:1. ১৯৯২ সালে কংগ্রেস ...
02/05/2025

আমরা অনেকেই জানি না, ভারত, ইসরায়েল এবং মিয়ানমার কিভাবে ডিপলি একে অপরের সাথে কানেক্টেড। আসেন জানি:

1. ১৯৯২ সালে কংগ্রেস সরকারের আমলে ভারত ইসরায়েলের সাথে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। তবে এই সম্পর্ক গভীর, দৃঢ় আর সামরিক জোটে পরিণত হয় মোদির আমলে। (Bonus question for you: বাবরি মসজিদ কবে ভাঙ্গা হয়েছিল?)

2. ১৯৫০-এর দশক থেকে মিয়ানমার আর ইসরায়েল সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যার পর যখন আমেরিকা-ইউরোপ সামরিক জান্তার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তখনও ইসরায়েল অস্ত্র বিক্রি থামায়নি।

3. ভারত ও মিয়ানমার প্রথম বর্ডার সিকিউরিটি চুক্তি সই করে ১৯৯৪ সালে।

4. ১৯৯০ এর দশকে মিয়ানমারে যখন সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে, তখন ইসরায়েল ছিল তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম কয়েকটা দেশের একটি।

5. ভারত–মিয়ানমার–ইসরায়েলের মধ্যে কোনো আদর্শগত বিরোধ নেই। কারণ তিনজনই শাসনের জন্য একই ফর্মুলা ব্যবহার করে:
→ জাতীয়তাবাদ + সামরিক দমননীতি।

6. ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে, ইসরায়েল মিয়ানমার এর কাছে ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে (সূত্র: SIPRI)।

7. এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল: তাভোর অ্যাসল্ট রাইফেল, এলবিট ড্রোন, রাডার সিস্টেম, এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধ সরঞ্জাম।

8. তাভোর রাইফেল সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে। এটা কোনো অনুমান না। এটা প্রমাণিত যুদ্ধ-তথ্য।

9. জাতিসংঘের নিন্দা সত্ত্বেও, ইসরায়েল ২০১৮ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করেনি। এক পর্যায়ে গিয়ে সাময়িক বিরতি দেয় যখন ইসরায়েলের নিজস্ব আদালতে একটি মামলা হয় এবং সেটার রায়ে তারা প্রকাশ্য ডেলিভারি বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

10. তবে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হয়নি। বরং ইসরায়েল গোপনে ভারতীয় চ্যানেল ব্যবহার করে মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ চালু রাখে।

11. ২০১৪ সাল থেকে ভারত ইসরায়েলের শীর্ষ অস্ত্র ক্রেতা (over $3 billion in defense trade)। ভারত ড্রোন, মিসাইল, স্পাই টেকনোলজি ইত্যাদি কিনেছে। তারপর মূলত ব্যবহার করেছে (এখনও করছে) কাশ্মীর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সীমান্ত অঞ্চলগুলাতে।

12. ভারত ইসরায়েলের ড্রোন (হেরন, হারপ) ব্যবহার করে কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব অঞ্চল আর মাওবাদী এলাকায় নজরদারির জন্য।

13. ইসরায়েল ভারতীয় স্পেশাল ফোর্সদের“আর্বান ওয়ারফেয়ার”, “কাউন্টার টেররিজম” আর “সাইবার অপারেশন”এ ট্রেনিং দেয়।

14. বিভিন্ন সাইবার যুদ্ধ এবং গোপন অভিযানে RAW আর Mossad-এর যৌথ অপারেশনের ওয়েল ডকুমেন্টেড প্রমাণ আছে।

15. ২০১৭ আর ২০২১ সালে ভারত অংশ নেয় ইসরায়েলের “ব্লু ফ্ল্যাগ” এয়ার এক্সারসাইজে।

16. ইসরায়েল ভারতীয় পাইলটদের মরুভূমি আর শহরভিত্তিক যুদ্ধ কৌশলে ট্রেনিং দেয়।

17. ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয় IMBEX (India–Myanmar Bilateral Army Exercise)।

18. IMBEX-এর অফিসিয়াল লক্ষ্য বলা হয়েছে “পিসকিপিং, জঙ্গল ওয়ারফেয়ার, আর বর্ডার ইনসার্জেন্সি”ইত্যাদি মোকাবেলা। তবে, পিসকিপিং এবং ইনসার্জেন্সি দমন এর নামে কি হয়/হবে... আপনি অনুমান করুন।

19. বঙ্গোপসাগরে নিয়মিতভাবে IMCOR ( India–Myanmar Coordinated Patrol) অনুষ্ঠিত হয়।

20. Operation Sunrise I & II (২০১৯–২০২২): ভারত আর মিয়ানমার মিলে যৌথ অভিযান চালায়। টার্গেট ছিল “বিদ্রোহী ঘাঁটি”।

21. দেরাদুন, চেন্নাই আর পুনেতে অবস্থিত ডিফেন্স অ্যাকাডেমি সমূহে ভারত মিয়ানমারের সামরিক অফিসারদের ট্রেনিং দেয়।

22. ইসরায়েলি প্রশিক্ষকরা সরাসরি না হলেও, ভারতের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে পরোক্ষভাবে ট্রেনিং দেয়।

23. কিছু ভারতীয় উৎপাদিত অস্ত্র মিয়ানমারের পাহাড়ি এলাকায় “মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা” করা হয়েছে, যৌথ তত্ত্বাবধানে।

24. ভারতের ফেসিয়াল রিকগনিশন আর পপুলেশন ম্যাপিং প্রোগ্রামে সরাসরি টেক সাপোর্ট দিচ্ছে ইসরায়েল।

25. ইসরায়েলি কোম্পানি NSO Group (যেটা bertho spyware Pegasus বানিয়েছে) ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সরাসরি কাজ করেছে।

26. সীমান্ত চুক্তির আওতায় ভারত এখন মিয়ানমারকে স্যাটেলাইট এবং ড্রোন ডেটা শেয়ার করে। পাহাড়ি অঞ্চল, জঙ্গলে থাকা গ্রাম, রোহিঙ্গা চলাচল ইত্যাদি সবকিছুর অবস্থান আগেই জানিয়ে দেয় ভারত। ভারতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিয়ানমার চালায় “অপারেশন ক্লিনআপ”।

27. রোহিঙ্গা ক্যাম্প আর উত্তর-পূর্ব বিদ্রোহপ্রবণ এলাকাগুলাতে নজরদারির জন্য এখন ইসরায়েলি সাইবার সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে ।

28. মিয়ানমার রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা দমনের সময় ইসরায়েলি Elbit Systems - modified ড্রোন প্রোটোটাইপ পরীক্ষা করেছে। এই ড্রোন গুলো ছিল টেরেইন ম্যাপিং + মোশন ট্র্যাকিং + রিয়েলটাইম টার্গেট লক প্রযুক্তিসম্পন্ন।

29. রাখাইনের জঙ্গল ছিল এক প্রকার টেস্টিং গ্রাউন্ড, আর রোহিঙ্গারা ছিল প্র্যাকটিক্যাল ডেমো টার্গেট। Elbit Systems এর জন্য এটা ছিল এক্সপোর্ট টেস্ট। পাশাপাশি মিয়ানমারের জন্য ছিল এক্সটারমিনেশন টুল।

30. ভারত এখন Kaladan Multi-Modal Transit Corridor নির্মাণ করছে। রুট: কলকাতা → মিজোরাম → সিত্তে পোর্ট (মিয়ানমার)। সড়ক, নদী, আর সমুদ্রপথ মিলিয়ে এটা হবে এক বিশাল করিডর।এই করিডরের মানে হল: ভারত বাংলাদেশকে বাইপাস করে সরাসরি মিয়ানমারে ঢুকতে পারবে।

এইতো, ৩০ নাম্বার পয়েন্টে হল আসল খেলা।

চলেন আমরা ধাপে ধাপে দেখি কিভাবে প্রথম অংশ ভারতের কালাদান করিডর চট্টগ্রাম–আরাকান এর সাথে কানেক্টেড হয়:

👉 ভারতের লক্ষ্য: পূর্বাঞ্চলে সরাসরি প্রবেশাধিকার। ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে নর্থ-ইস্ট (৭টি রাজ্য) আলাদা, যার একমাত্র সংযোগ “সিলিগুড়ি করিডর” (Chicken's Neck)। এটা অত্যন্ত সেনসিটিভ। এই করিডর যদি ব্লক হয় (যুদ্ধ বা বিদ্রোহে), তাহলে ভারত নর্থ-ইস্টে সেনা পাঠাতে পারবে না।

👉 Kaladan Corridor এই সংকট সমাধান করে, কারণ: কলকাতা → সমুদ্রপথে সিত্তে (মিয়ানমার) → তারপর রাস্তা দিয়ে মিজোরাম। অর্থাৎ ভারত বাংলাদেশকে বাইপাস করে সেনা ও মালামাল ঢুকাতে পারবে।

👉 এর মানে বাংলাদেশ এখন শুধু একটি“মধ্যবর্তী স্ট্র্যাটেজিক শূন্যতা”। ভারত যদি বাংলাদেশকে ছাড়াই মিয়ানমার ঢুকতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের সামরিক-ভূকৌশলিক গুরুত্ব কমে যাবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম–আরাকান বেল্ট। যা আগে “নিয়ন্ত্রণের দরজা” ছিল, এখন “পেছনের ফাঁকা মাঠ” হয়ে যাবে।

👉 এর ফলে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক ফোকাস যাবে রাখাইন-চট্টগ্রাম রুটের দিকে। যেহেতু Kaladan already bypassed the center, control zones shift to the flank (side entry routes) অর্থাৎ ভারত ও তার সহযোগীরা এই রুটকে militarize করতে পারবে future “buffer zone” বা “safe zone” বানানোর জন্য।

👉 এরজন্য দরকার রোহিঙ্গা সরানো, মুসলিম presence কমানো, আর এরপর ideological expansion শুরু করা। exactly as done in Kashmir and Assam।

👉 ইসরায়েলের ভূমিকা আসছে এখানেই। Israel supports both Indian military infra and Myanmar defense। Kaladan route এর exact entry/exit points (Sittwe port + Mizoram hills) আগে থেকেই mapped by Israeli-funded surveillance projects। এই রুট দিয়ে “economic corridor” নামে ideological corridor প্রবেশ করানো সহজ। যেমন: interfaith councils, counter-extremism training, LGBTQ rights inclusion, ইত্যাদি।

এই পর্যায়ে চট্রগাম—আরাকান করিডর নিয়ে আমার পূর্বের স্ট্যাটাসটি পড়ার অনুরোধ করছি। পড়া হলে নীচে কন্টিনিউ করেন:

If Kaladan opens the military backdoor, the so-calles humanitarian corridor (Chattrogram—Arakan Corridor) opens the cultural and spiritual front door. Once both are active, Bangladesh’s control over its own eastern border collapses.

31. বিশেষ করে মিয়ানমারের সিত্তে (Sittwe) আর দায়ওই (Dawei) অঞ্চলে ইসরায়েল রাডার প্রযুক্তি এবং পোর্ট সিকিউরিটি সিস্টেম সরবরাহ করছে।

32. এই করিডরগুলো বাংলাদেশের উপর ভারতের নির্ভরতা কমিয়ে দিবে। পাশাপাশি চীনের চোকপয়েন্টগুলো বাইপাস করে, পুরো অঞ্চলে ভারতের প্রবেশাধিকার বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে।

33. কালাদান করিডর ভারতের সাথে মিয়ানমারের মধ্যে একধরনের সরাসরি স্থল-থেকে-সমুদ্র পর্যন্ত সামরিক লজিস্টিক সংযোগ। মানে সেনা চলাচল, অস্ত্র পরিবহন, ড্রোন ও সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম মোতায়েন ইত্যাদি সহজ হবে। চিকেন নেক আর ম্যাটার করবে না।

34. ইসরায়েল নিরবে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের বন্দরে ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি কনট্রাক্টে বিনিয়োগ করেছে। রাডার, স্ক্যানার, এক্সেস কন্ট্রোল, সার্ভেইল্যান্স নেটওয়ার্ক সবকিছুর প্রযুক্তি আসছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে।

35. মিয়ানমারে কিছু সংখ্যালঘু গোষ্ঠী আছে, যেমন: কাচিন (Ka-Chin) সম্প্রদায়ের কিছু অংশ, এরা নিজেদের “ইহুদি বংশধর” দাবি করে। তারা বলে, তারা Lost Tribe of Israel এর অংশ। এরা বসবাস করে রাখাইন ও চিন পাহাড়ি অঞ্চলে। এদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে ইসরায়েলের “আলিয়া” আইনের আওতায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার চেষ্টা করছে।

36. মিয়ানমারের কিছু বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে ইসরায়েলপ্রীতি বা প্রো-ইসরায়েল রেটোরিক এখন খুব সাধারণ একটা বিষয়।

37. ভারতের হিন্দুত্ববাদী দর্শন এবং ইসরায়েলের জায়নিস্ট সম্প্রসারণনীতি একে অপরের প্রতিচ্ছবি কারণ তাদের স্ট্র্যাটেজিক নীতিগুলো অভিন্ন।

38. ভারত, মিয়ানমার, আর ইসরায়েল— তিনটি দেশ স্পষ্ট ইসলামবিরোধী রাজনৈতিক বয়ান চালায়। একদিকে বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদ, একদিকে হিন্দু রাষ্ট্রবাদ, আরেকদিকে জায়নিস্ট ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদ, এই তিনটা মিলে একধরনের civilizational axis তৈরি করছে যার একমাত্র লক্ষ্য: ভবিষ্যত ইসলামী জাগরণকে থামানো। এখানে মিয়ানমার হলো ল্যাবরেটরি। সেখানে মুসলিমদের উপর যুদ্ধ, দমন, টেস্টিং চালানো হয়। ইসরায়েল হলো মস্তিষ্ক। সেখানে থেকে আসে প্রযুক্তি, কৌশল, আর মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসনের ছক। আর ভারত হলো বাস্তবায়নকারী বাহিনী। সে দমনযন্ত্র চালায় মাঠে, পাহাড়ে, ক্যাম্পে, এবং সীমান্তে।

38 point analysis is done.

এই পর্যন্ত পড়েছেন? এবার একটু নাড়াচাড়া দিয়ে বসুন। কারণ এখন শুরু হবে আসল কাহিনি। এই ৩৮টা পয়েন্ট আলাদা আলাদা ঘটনা না, শুধু ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স না।

আমি এখন প্রমাণ করব: এইসব ঘটনা, চুক্তি, করিডর, মিলিটারী মহড়া, স্যাটেলাইট, ড্রোন, “মানবিক সহায়তা” এসব কিছু একে অপরের সাথে সূক্ষ্মভাবে কানেক্টেড। এবং এই জোড়া লাগানোর মূল সুতো হচ্ছে: Ghazwatul Hind।

প্রথমত আসেন আমরা জানি Ghazwatul Hind কি, কেন সবাই এই টার্মটাকে ভয় পায়। প্রথমে এই হাদীস দুইটি পড়েন:

Hadith 1: From Thawban (RA)
Thawban (RA) narrated: The Messenger of Allah ﷺ said, “Two groups from my Ummah Allah has saved from the Fire: One group that will wage war against India (Ghazwatul Hind), and one group that will be with ʿĪsā ibn Maryam (AS).”
Source:
→ Sunan an-Nasa’i (Sunan al-Kubra) – Hadith 3175
→ Classified as Sahih (Authentic) by al-Hakim and adh-Dhahabi

Hadith 2: From Abu Huraira (RA)
Abu Huraira (RA) said:“The Messenger of Allah ﷺ promised us the battle of India. If I am able to participate in it, I will spend my life and wealth in it. If I am killed, I will be among the best of martyrs.
And if I return, I will be Abu Huraira the freed one.”
Source:
→ Ahmad ibn Hanbal (Musnad Ahmad) – Hadith 7713

Ghazwatul Hind মানে শুধুমাত্র যুদ্ধ না। Ghazwatul Hind মানে হচ্ছে উম্মাহর পূর্বদিকের পুনরুত্থান। এটা যেমন অস্ত্রের যুদ্ধ, তেমনি চিন্তার যুদ্ধ। এটা শুধুমাত্র ভারত জয়ের গল্প না, এটা হলো পুরো দাজ্জালিক পূর্ব ফ্রন্টকে থামানোর চূড়ান্ত নববী নির্দেশনা।

তাহলে প্রশ্ন আসেঃ এই “হিন্দ” কী?
হিন্দ মানে কেবল আজকের ভারত না। তখন“হিন্দ” ছিল এক বিস্তৃত অঞ্চল যেটার মধ্যে পড়ে:
✓ ভারত
✓ পাকিস্তান
✓ বাংলাদেশ
✓ নেপাল
✓ কাশ্মীর
✓ আরাকান
✓ পূর্ব দিকের পাহাড়ি অঞ্চল (মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা)

এই অঞ্চলটাই হচ্ছে পূর্ব ফ্রন্ট। এখানে দাজ্জালিক সভ্যতা তাদের “পূর্ব সীল” তৈরি করতে চায়। আর এই Ghazwatul Hind থামাতে কেন সবাই একজোট? কারণ:

→ ইসরায়েল জানে, জেরুজালেম পুনরুদ্ধার শুরু হবে পূর্বদিক থেকে।
→ ভারত জানে, যদি মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে দিল্লি আর কাশ্মীর যাবে মুসলিম নেতৃত্বের হাতে।
→ মিয়ানমার জানে, রাখাইন তার জন্য “নিরাপদ বৌদ্ধ অঞ্চল” থাকবে না।
→ আমেরিকা-ইউরোপ জানে, একবার যদি মুসলমানরা কালচার, অর্থনীতি, এবং ধর্মকে কুরআন সুন্নাহ দিয়ে পুনর্জাগরিত করে , তাহলে লিবারাল সিস্টেম ধসে যাবে।
→ চীন জানে, মুসলিম আদর্শিক পুনরুত্থান মানেই তার সীমান্তে “নিয়ন্ত্রণহীন বিশ্বাসের বিস্ফোরণ”.।

তাদের কাছে Ghazwatul Hind মানে “uncontrollable awakening”।

শেষ টানি..
তাহলে এখন কী করণীয়?

1. Understand the architecture। করিডর, চুক্তি, প্রযুক্তি, জোট সবকিছুর পেছনে একটা মূল টার্গেট: Ghazwatul Hind থামানো।

2. Reject the illusion of Pluralism, Interfaith, Development, Climate Aid, Digital Reform। এসব জয়েন্ট প্রোজেক্ট আসলে ঈমানিক চেতনাকে গিলে ফেলার কৌশল।

3. Prepare the inner front। Ghazwatul Hind শুরু হবে অস্ত্র দিয়ে না। শুরু হবে চিন্তা দিয়ে। আপনি সত্য চিনতে শিখলে, এই যুদ্ধে আপনিও একজন মুজাহিদ।

4. Connect the Ummah। চট্টগ্রাম, আরাকান, কাশ্মীর, গাজা, আফগানিস্তান এগুলো আলাদা সমস্যা না। These are connected battlefields of one war।

5. Return to Qur'an। Ghazwatul Hind কেবল তরবারির যুদ্ধ না। এটা হচ্ছে ওহি’র বিরুদ্ধে বানানো সভ্যতার কাঠামোকে ধ্বংস করার যুদ্ধ।

ধন্যবাদ।
Allah knows best।
May Allah help us all।

Address

বাংলাদেশ
Savar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গল্প ও আড্ডা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category