18/05/2026
ঘরে ছোট বাচ্চা থাকলে নিজের যত্ন নেওয়া বা ঘরের কাজ করা কতটা কঠিন, তা শুধু একজন মা ই বোঝেন। তবে কিছু ছোট ছোট শর্টকাট টেকনিক জানা থাকলে জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়
আজকে শেয়ার করছি ঝটপট কাজ সারার আমার কিছু হ্যাকস😬
বাচ্চাকে বুকের সাথে বেঁধে মানে বেবি ক্যারিয়ারে রেখে দুই হাত খালি রেখে ঝটপট কাজ সেরে নিন।
এভাভে আমি তরকারি ছিলার কাজ করি আবার অনেক সময় ধোয়ার কাজ ও করতে পারি
রান্নায় সময় বাঁচাতে প্রেসার কুকারে এক পাত্রে খিচুড়ি বা ওয়ান পট মিল তৈরি করুন।
চোখের সামনে কিছু খেলনা দিয়ে বাচ্চাকে একটি নিরাপদ জায়গায় ব্যস্ত রাখুন। আমি অনেক সময় ওয়াকারে বসিয়ে দেই আবার অনেক সময় স্ট্রলার দিয়ে কিচেনে আমার পাশে রাখি
ফল, সেদ্ধ ডিম বা চটজলদি খাওয়া যায় এমন হেলদি স্ন্যাকস সবসময় হাতের কাছে রাখুন। আমি যেদিন একটু বেশিই ফ্রি থাকি সেদিন বেশি করে রোল বানিয়ে ফ্রোজেন করে রাখি। প্যারাগনের লো ফ্যাট পরোটা, সসেজ, মিটবল, নাগেট এসব বাসায় সব সময় রাখি। রান্না করতে দেরি হলে তখন চট জলদি করে এসব খেয়ে ফেলি। অহ হ্যা, ঘরে বাদাম ও খেজুর রাখবেন মাস্ট। আমার ঘরে সব সময় কাঠবাদাম, কাজু বাদাম, আখরোট আর খেজুর মাস্ট থাকে।কারন আমার ভাত খেতে ইচ্ছা না করলে এগুলো খাই বসে বসে 😬
বাচ্চা ঘুমানোর সাথে সাথে অথবা শান্ত হয়ে খেললে বাথরুমের দরজা হালকা খোলা রেখে দ্রুত গোসল সেরে নিন। ছোট বুঝদার বাচ্চা থাকলে তার ও হেল্প নিতে পারেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার বড় মেয়েটা যার মাত্র ৯ বছর সে খুব বুঝদার 💞
২০ মাস & ২১ দিনের পিচ্চিকে ওর সাথে বসিয়ে দিয়ে আমি অনেক কাজ করে ফেলতে পারি আলহামদুলিল্লাহ
বাচ্চা ঘুমালে ঘরের কাজের চিন্তা বাদ দিয়ে আপনিও সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ুন। শরীর ভালো রাখা আগে জরুরি!
#পারফেকশন বাদ দিন! ঘর একটু অগোছালো থাকলে থাকুক, এই সময়ে আপনার বিশ্রাম বেশি প্রয়োজন।
যাদের সারাদিন একা একাই বাচ্চা আর সংসার সামলাতে হয় কষ্টটা আসলেই তাদের আকাশ সমান💔
আবার দিনশেষে স্বামীও বাইরে থেকে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে বাসায় ফেরেন, তারও বিশ্রামের প্রয়োজন থাকে!
তাই এই কঠিন সময়টাতে দরকার দুজনের টিমওয়ার্ক
স্বামী ফ্রেশ হয়ে একটু জিরিয়ে নেওয়ার পর, রাতে হয়তো মাত্র ১৫-২০ মিনিটের জন্য বাচ্চার দায়িত্বটা নিলেন, আর আপনি এই ফাঁকে রাতের খাওয়া বা একটা ফ্রেশ গোসল সেরে নিলেন।
আসল কথা হলো, দিনশেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ক্লান্ত থাকে। একজন বাইরে খেটে আসে, আরেকজন বাসায় বাচ্চার সাথে যুদ্ধ করে।
তাই এই সময়ে কে বেশি ক্লান্ত তা নিয়ে তর্ক না করে, জাস্ট ১৫-২০ মিনিটের একটা শিফট ডিউটি ভাগ করে নিন। একজন ফ্রেশ হতে বা খেতে বসলে, অন্যজন বাচ্চার দিকে চোখ রাখুন। লম্বা চওড়া কথার চেয়ে এই ছোট্ট প্র্যাক্টিক্যাল শেয়ারিংটুকুই দিনশেষে মাথাটা ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে।
বাচ্চা বড় হওয়ার এই কঠিন সময়টা পারফেক্টলি নয়, বরং এভাবেই অ্যাডজাস্ট করে পার করে দিতে হয়!!
আর সবচেয়ে বড় সত্যি কী জানেন? বাচ্চাদের এই দূরন্ত আর জড়ানো শৈশবটা কিন্তু চিরকাল থাকবে না। দেখতে দেখতেই ওরা বড় হয়ে যাবে, যার যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন হয়তো এই খাটুনি, এই রাত জাগা আর এই মিষ্টি অস্থিরতাগুলোই আমরা সবচেয়ে বেশি মিস করবো। তাই যতোই কষ্ট হোক, দিনশেষে এই স্মৃতিগুলোও কিন্তু বড্ড দামী! ❤️
fans
©️