08/02/2023
কোন খাবারগুলো ওজন বৃদ্ধি করে ?
জানতে হলে পড়তে হবেঃ 👇👇
সেক্ষেত্রে চলুন জেনে নেই ১০টি খাবার যা আপনার শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে –
১.বাদাম
👉👉কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম, আখরোট, এপ্রিকটস । এছাড়া বীজের মধ্যে কুমড়ো বিচি, তিল, চিয়া সীডস ইত্যাদিতে প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্ট বিদ্যমান যা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে খুব ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বীজগুলো পাউডার করে বিভিন্ন খাবারের সাথে এড করে দেওয়া যেতে পারে কিংবা দুধের সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন।
২.ডিম
👉👉প্রোটিনের খুব ভালো উৎস ডিম। এছাড়াও ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ভিটামিনস, মিনারেলস বিদ্যমান। ডিমের সাহায্যে অনেক টেস্টি ও বাচ্চাদের পছন্দের আইটেম বানানো যায়। তাই ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশুর প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের জুড়ি নেই!
৩.চিকেন
👉👉চিকেন হচ্ছে শিশুদের সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন। যা শিশুদের মাসল এবং হেলদি ওয়েট গেইন করতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ওজন বৃদ্ধিতে চিকেনের বিভিন্ন আইটেম সালাদ সহকারে দিতে পারেন।
৪.মৌসুমি ফল ও সবজিঃ
👉👉মৌসুমি ফল ও সবজিতে ন্যাচারাল সুগার, ভিটামিনস, মিনারেলস, ফাইবার রয়েছে যা ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই আপনার শিশুর খাদ্য তালিকায় পাকা পেঁপে, আম, আনারস, আপেল ইত্যাদি রাখার চেষ্টা করবেন। এতে করে শিশুর ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি সুষম খাবার চাহিদাও পূরন হবে। এছাড়া শিশুর ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করতে সকল ধরনের নিউট্রিয়েন্ট – প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেলস সমৃদ্ধ ডায়েট তৈরী করুন!
৫.অ্যাভোকোডোঃ
👉👉অ্যাভোকোডোতে ভিটামিন B6, ই, সি,কে, ফোলেট, কপার, ডায়েটরী ফাইবার, এবং প্যান্টাথোনিক অ্যাসিড এবং ফ্যাট বিদ্যুমান যা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৬.ডেইরি
👉👉আপনার শিশুর বয়স ১ বছরে পৌছালে খাদ্যতালিকায় ডেইরী জাতীয় প্রোডাক্ট যেমন দই রাখতে পারেন। দই প্রোবায়োটিকস এর খুব ভালো উৎস, এটি শিশুর ডাইজেশনে সহায়তা করে এবং ওজন বৃদ্ধিতে ও সহায়ক। এছাড়া শিশুর ১২ মাস পেরোলেই তাকে বাটার, চিজ ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন। ডেইরী প্রোডাক্টস শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই পরিমিত পরিমানে খাওয়াতে হবে, অথবা আপনার শিশুর যদি হজমে সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই অভিজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।
৭.ঘি
👉👉ঘি উচ্চ পুষ্টিগুন সম্পন্ন। শিশুর ৮ মাস বয়সে হতে শিশুকে ঘি এর সাথে পরিচয় করান। ফ্রুটস / ভেজিটেবল স্ম্যাশড, পিউরী কিংবা মিক্সড খিচুড়ির সাথে ১/২ ড্রপ ঘি এড করলে এতে পুষ্টিগুন অনেকটাই বেড়ে যায়। বাজারের ঘি নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে সবচেয়ে ভালো হয় বাসার তৈরী ঘি বা মালাই ক্রিম ব্যাবহার করা। আপনার ছোট্ট সোনামনির ওজন বৃদ্ধিতে ঘি হতে পারে চমৎকার অপশন।
৮.ডাল
👉👉ডাল পুষ্টিগুনে ভরপুর। ডাল প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফাইবার এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ। আপনার শিশুকে ডাল স্যুপ অথবা ডাল পানি খাওয়াতে পারেন, অথবা ডাল–চালের সাথে মিক্সড খিচুড়ি / সবজি খিচুড়ি দিতে পারেন। এটি সহজে হজমযোগ্য যা আপনার শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৯. মিষ্টি আলুঃ
👉👉মিষ্টি আলু খুব সহজেই সিদ্ধ এবং স্ম্যাশড করা যায়। তাছাড়া এটি স্বাদে অনন্য, পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ, সহজে হজমযোগ্য! এছাড়া ও মিষ্টি আলুতে ভিটামিন–এ, ভিটামিন–সি, ভিটামিন B6, কপার, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মত গুরুত্বপূর্ণ সব নিউট্রিয়েন্ট, যা ওজন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
১০.কলা
👉👉কলা পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন B6, কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ।এছাড়াও এটি ক্যালোরির খুব ভালো উৎস। ফলে এটি আপনার ছোট্ট সোনামনির ওজন বৃদ্ধিতে খুবই চমৎকার একটি ফুড। সলিড ফুড হিসাবে দিতে চাইলে স্ম্যাশড বা পিউরী করে আপনার শিশুকে প্রতিদিন খাওয়াতে পারেন।
সর্বোপরি শিশুর ওজন বৃদ্ধির চেয়ে সুষম খাবারের প্রতি নজর দিন। দৈনিক তিন বেলা সুষম খাবার নিশ্চিত করতে পারলে শিশুর ওজন বৃদ্ধি নিয়ে মায়েদের খুব একটা চিন্তা করতে হয় না! তাই আপনার শিশুর খাদ্য তালিকা পর্যাপ্ত নিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ কিনা সেদিকে আগে নজর দিন!