17/08/2026
মীলাদুন্নবী ﷺ এর মাসে সীরাতুন্নবী ﷺ
মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাসে সীরাত পাঠ, সীরাত কম্পিটিশন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সীরাত অলিম্পিয়াড, সীরাতুন্নবী মাহফিল—সবই নিশ্চিত বিদআত! আর সকল বিদআতই গুমরাহী। কারণ? নবীজি ﷺ এরকম অনুষ্ঠান করেন নি, খুলাফায়ে রাশেদা করেন নি, সাহাবীগণ করেন নি, তিন যুগে ছিল না, আবু হানীফা রহ, ইমাম শাফেঈসহ কেউ করেন নি, নবীজির যুগেতো সীরাতের কোনো কিতাবই ছিল না। ইসলামতো পরিপূর্ণ জীবন বিধান। নবীজি তাঁর উপর আরোপিত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তারপর এসব আয়োজন করার অর্থ হলো সে দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা ।
এ সকল প্রশ্নের উত্তর হলো এটা ঠিক যে, এসকল আয়োজন বিদআত কিন্তু এটা উত্তম বিদআত তথা বিদআতে হাসানা। এব্যাপার রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا، وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً، كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا، وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ
“যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতি/সুন্নাহর প্রচলন করে, তার জন্য তার নিজের সেই আমলের সওয়াব রয়েছে এবং তার পরে যারা সেই আমল করবে, তাদের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াবও তার জন্য রয়েছে—তাদের সওয়াব থেকে কোনো কিছু কমানো হবে না।
আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করে, তার ওপর তার সেই মন্দ কাজের গুনাহ রয়েছে এবং তার পরে যারা সেই মন্দ কাজ করবে, তাদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহও তার ওপর বর্তাবে—তাদের গুনাহ থেকে কোনো কিছু কমানো হবে না।” (সহিহ মুসলিম)
এখন প্রশ্ন হলো—
সীরাতুন্নবী ﷺ পড়া কি নিজেই খারাপ কাজ?
না।
নবীজি ﷺ-এর জীবন, চরিত্র, সুন্নাহ ও ভালোবাসার কথা মানুষকে শেখানো কি হারাম?
না।
শিশুদের সীরাত শেখাতে কুইজ বা প্রতিযোগিতা করা কি নিজেই হারাম?
না।
মানুষকে নবীজি ﷺ-এর আদর্শের প্রতি উৎসাহিত করতে সেমিনার করা কি নিজেই হারাম?
না।
তাহলে—
সীরাত পড়া, নবীজি ﷺ-এর জীবন আলোচনা করা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা জাগানো—এসবের উদ্দেশ্য যদি দ্বীনি হয়, তাহলে শুধু “নবীজি ﷺ এভাবে অনুষ্ঠান করেননি” বলেই সেটাকে মন্দ বিদআত বানিয়ে দেওয়া কি এত সহজ?
তাছাড়া শাব্দিক অর্থে যেকোনো নব আবিষ্কৃত বিষয় বিদআত হলেও পারিভাষিকভাবে তা (মন্দ বা বর্জিনীয়) বিদআত হওয়াটা শর্তসাপেক্ষ।
ক. নব আবিষ্কৃত বিষয়টি সত্তাগতভাবে দীন মনে করা
খ. কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী হওয়া অর্থাৎ, অকাট্যভাবে বিষয়টি সত্তাগতভাবে দীনী বিষয় না হওয়া প্রমাণিত ।
গ. বিষয়টি যন্নী (অর্থাৎ যা অকাট্য নয়) না হওয়া। এর মানে হলো, যে বিষয়টি দীনী বিষয় হওয়ার ব্যাপারে যন্নী দলীল বা ইখতিলাফ না থাকা।
অতএব, মীলাদের এই রবিউল আউয়াল মাসে সীরাতুন্নবী ﷺ উপলক্ষে সকল আয়োজনই উত্তম বিদআত। তবে এটাও নিয়তের উপর নির্ভরশীল । কেননা, কারো নিয়ত যদি হয় যে মীলাদুন্নবী ﷺ কে ঠেকিয়ে দেয়া, বা শিশুদের মনে মিলাদ মাহফিলের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো তবে তা গুরুতর অন্যায় ও গুনাহের কাজ । কেননা, উপর্যুক্ত দলীল ছাড়াও মীলাদুন্নবী ﷺ
উদযাপনের পক্ষে ইবনে হাজার আসকালানী, শামসুদ্দীন যাহাবী, ইমাম সুয়ূতী, আল্লামা কাস্তাল্লানী, আল্লামা সাখাভী, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী, আব্দুল হাই লাখনাভী, মুল্লা আলী কারী, ইবন আবিদীন শামী র.সহ শতাধিক সর্রজন গ্রহণযোগ্য আলিমে দীন মন্তব্য করেছেন ।
অধিকাংশ মুসলমান মীলাদুন্নবীর মাহফিলে কুরআন তিলাওয়াত, হামদে বারী তা‘আলা, না‘তে রাসূল পরিবেশন করে থাকেন। তার পর মহান আল্লাহর যিকর, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা, প্রিয় নবীর শানে বিভিন্ন কবিতা আবৃতির পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বা বসে সালাত-সালাম প্রেরণ এবং সর্বশেষে দু‘আ মুনাজাত ও তাবারুক বিতরণীর মাধ্যমে পালন করে থাকেন। পৃথক পৃথক ভাবে এসব ইবাদতের কোনোটিই নাজায়েয, বিদ‘আত বা হারাম বলার কোনোই সুযোগ নেই৷ মীলাদুন্নবীর এ পদ্ধতিটি পৃথক কোনো ইবাদত নয়; বরং কিছু ইবাদতের সমষ্টি। অতএব যদি মীলাদুন্নবীর নামে কোনো হারাম কাজ যেমন, নারী-পুরুষের একত্রে সম্মিলন, নাচ-গানের আয়োজন, ডোল-বাদ্য বাজানো বা চেয়ার সাজিয়ে নবীজির অবশ্যই আগমনের আকীদা পোষণ ইত্যাদি করা হয় তবে তা অবশ্যই বিদ‘আত হারাম হবে। কিন্তু এ কারণে মূল বৈধ মীলাদকে এ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক হবে না।