19/08/2023
কেন খাবেন ড্রাগন ফল?
ক্যাকটাস গোত্রীয় গাছের অত্যন্ত সুস্বাদু একটি ফল হলো ‘ড্রাগন ফল’। বিদেশি ফল হলেও সুমিষ্ট স্বাদ ও পুষ্টিগুণের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এই ফলটির। রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে কিংবা ক্যান্সার প্রতিরোধে ড্রাগন ফলের রয়েছে শক্তিশালী ভূমিকা। প্রচুর ক্যারোটিনসমৃদ্ধ হওয়ার কারণে চোখ, হার্ট থেকে শুরু করে চুল, ত্বক ভালো রাখার পাশাপাশি হজমপ্রক্রিয়াকে উন্নত করায় এর গুরুত্ব অনেক।
আর সে জন্যই নানা রকম পুষ্টিগুণ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই ড্রাগন ফলকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপার ফুড’।
কেন খাবেন ড্রাগন ফল?
♦ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকার কারণে রক্তের ‘শ্বেতকণিকা’ বা ‘হোয়াইট ব্লাড সেল’ ভালো রাখে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
♦ এতে বিদ্যমান ‘ভিটামিন বি-৩’ রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক মসৃণ রাখে।
♦ হার্টের সুস্বাস্থ্যের জন্য ড্রাগন ফলে বিদ্যমান বিটা কেরোটিন ও অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
♦ ড্রাগনে বিদ্যমান লাইকোপেন ক্যান্সার কোষগুলোকে দমন করে। এতে বিদ্যমান বেটালাইন অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।
♦ ড্রাগন ফল প্রি-বায়োটিক হিসেবে কাজ করে অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
ফলে পেটের প্রদাহ ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং অন্ত্র সুরক্ষিত রাখে।
♦ ড্রাগন ফলে পর্যাপ্ত আয়রন বিদ্যমান। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’ থাকায় শরীরে আয়রন শোষণে কোনো বাধাই থাকে না।
♦ ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস হওয়ার কারণে ড্রাগন ফল নিয়মিত খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। হার্টকে রাখে ভালো।
হাড়ের গঠন ও পেশির সংকোচনে ম্যাগনেসিয়ামের ভূমিকা অনেক। আর এক কাপ ড্রাগন ফল নিয়মিত খেলে আপনি দৈনিক চাহিদার ১৮ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবেন, যা আপনার জয়েন্ট পেইন কমাবে, ফ্র্যাকচার কিংবা হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে।
♦ প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকার কারণে ড্রাগন ফল হজমে সহায়ক। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে অন্যতম। পাশাপাশি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আদর্শ।
♦ ড্রাগন ফলে বিদ্যমান ভিটামিন ‘বি’, ফোলেট ও আয়রন গর্ভবতী মায়েদের জন্য আদর্শ ফল। ভিটামিন ‘বি’ ও ফোলেট গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি রোধ করতে সহায়তা করে এবং গর্ভাবস্থায় মাকে শক্তি সরবরাহ করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম ভ্রূণের হাড়ের বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ড্রাগন ফল নারীদের পোস্ট-মেনোপোজাল জটিলতা যেমন—শরীরে হট ফ্লাশ কমায় ও ডিহাইড্রেশন রোধ হয়।
♦ ক্যালরি কম থাকার কারণে শরীরের মেদ কমায়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এই ড্রাগন ফল। তবে অবশ্যই খাওয়ার সময় লবণ মিশিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
পরামর্শ দিয়েছেন
শায়লা শারমীন
সিনিয়র নিউট্রিশনিস্ট,
ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল, ঢাকা।
কালের কণ্ঠ
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২