25/07/2026
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান অনুযায়ী ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের ছুটি গ্রহণের নীতিমালা:
১৮। ছুটি:
ক. কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ছুটি অর্জিত হবে, তবে তা অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ শিক্ষক/কর্মচারীর ছুটির আবেদন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করতে পারবে অথবা মঞ্জুরকৃত ছুটি প্রত্যাহার করতে পারবে।
খ. বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত কারণে গভর্নিং বডির অনুমোদন সাপেক্ষে অধ্যক্ষ একজন শিক্ষককে অনধিক পনেরো দিন ছুটি মঞ্জুর করতে পারবে।
গ. নৈমিত্তিক ছুটি-
সরকারি মাদ্রাসা শিক্ষক/কর্মচারীর ন্যায় একজন বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক/কর্মচারী বছরে বিভিন্ন সময়ে অধ্যক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০ (বিশ) দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারবে।
ঘ. অর্জিত ছুটি-
একজন সরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারী যে শর্তে যতদিন অর্জিত ছুটি পেতে পারে একজন বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীকে ততদিন অর্জিত ছুটি পেতে পারবে।
ঙ. চিকিৎসা ছুটি-
১. একজন শিক্ষক/কর্মচারী প্রতি বছর ১০ (দশ) দিনের চিকিৎসা ছুটি পেতে পারে।
২. একজন নিবন্ধীকৃত চিকিৎসকের প্রত্যয়ন ও সুপারিশপত্র দাখিল সাপেক্ষে শিক্ষক/কর্মচারী একসাথে সর্বোচ্চ ৭ (সাত) দিনের চিকিৎসা ছুটি পেতে পারে।
৩. বিশেষ প্রয়োজনে চিকিৎসকের সুপারিশ সাপেক্ষে গভর্নিং বডি শিক্ষক/কর্মচারীর পূর্ণগড় বেতনে অনধিক ১ (এক) মাস এবং অর্ধগড় বেতনে অনধিক ৩ (তিন) মাস ছুটি মঞ্জুর করতে পারবে।
৪. ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনক্রমে শিক্ষক/কর্মচারীকে পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর করতে পারবে।
চ. মাতৃত্বকালীন ছুটি-
১. মহিলা শিক্ষক/কর্মচারী পূর্ণগড় বেতনে একসাথে ৬ (ছয়) মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতে পারে।
২. পূর্ণ চাকরি জীবনে মহিলা শিক্ষক/কর্মচারী ২ (দুই) বার মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতে পারে।
৩. সন্তানের বয়স ২ বছরের কম হলে মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতে মহিলা শিক্ষক/কর্মচারীকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পরবর্তী ৩ বছর চাকরি করবে মর্মে অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে হবে।
ছ. অসাধারণ ছুটি-
১. একজন শিক্ষকের সর্বমোট চাকরি কালে তিনি অনধিক এক বছরের অসাধারণ ছুটি প্রাপ্য হবে। অসাধারণ ছুটির জন্য তিনি কোনো প্রকার বেতন পাবে না এবং এরূপ অসাধারণ ছুটি ভোগ করলে ছুটি কাল তার চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে গণনা করা হবে না।
২. সরকারি মনোনয়ন অথবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী গভর্নিং বডি ছুটির সময়সীমা শিথিল করতে পারবে।
জ. কর্তব্যরত ছুটি : মাদ্রাসার একজন শিক্ষক নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কর্তব্য ছুটির জন্য আবেদন মঞ্জুর করতে পারবে—
১. কোনো শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা/গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা সরকার কর্তৃক গঠিত কোনো সংস্থা, কমিটি অথবা একাডেমিক ইউনিটের সভায় যোগদান বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত কোনো দায়িত্ব পালন।
২. বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকার কর্তৃক মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য পরিচালিত কোনো প্রশিক্ষণ কোর্স/প্রোগ্রামে যোগদান।
৩. কোনো আদালতে একজন জুরি হিসেবে অথবা সরকারি সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়া।
৪. শিক্ষা বিভাগ অথবা কোনো মাদ্রাসা/কলেজ অথবা কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষা/শিক্ষা বিষয়ক সমিতির আমন্ত্রণে বক্তৃতা প্রদান। তবে এরূপ ক্ষেত্রে অবশ্যই গভর্নিং বডির অনুমোদন থাকতে হবে।
ঝ. শিক্ষা ছুটি-
একজন স্থায়ী শিক্ষকের চাকরি কাল ধারাবাহিকভাবে ৩ (তিন) বছর পূর্ণ হলে পেশাগত মান উন্নয়নের স্বার্থে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে গভর্নিং বডি তার শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর করতে পারবে—
১. চাকরি জীবনে তিনি সর্বোচ্চ ০৩ (তিন) বছর শিক্ষা ছুটি পেতে পারে।
২. প্রথম বছর পূর্ণ বেতনে, দ্বিতীয় বছর অর্ধ বেতনে এবং তৃতীয় বছর বিনা বেতনে ছুটি পেতে পারে। তবে এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রীর ক্ষেত্রে পূর্ণ বেতনে শিক্ষা ছুটি পাবে।
৩. বি.এড/এম.এড ডিগ্রী কোর্স সম্পন্ন করার পর ন্যূনতম ০৩ (তিন) বছর চাকরি করতে হবে।
৪. এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রী কোর্সে কোর্স সম্পন্ন করার পর ন্যূনতম ০৫ (পাঁচ) বছর চাকরি করতে হবে।
৫. শিক্ষা ছুটি ভোগকারী শিক্ষককে ছুটির শেষে কমপক্ষে ০৩ (তিন)/ ০৫ (পাঁচ) বছর ঐ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে মর্মে ৩০০/- (তিন শত) টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার প্রদান করতে হবে।
৬. অন্যথায় উক্ত শিক্ষককে ছুটিকালীন গৃহীত সব অর্থ ফেরত দিতে হবে।
ঞ. সংগ নিরোধ ছুটি-
সরকারি বিধি মোতাবেক প্রাপ্য হবে।
#ছুটি_নীতিমালা_ইসলামি_আরবি_বিশ্ববিদ্যালয়
#ফাজিল_কামিল_মাদ্রাসা_mmh_news