21/04/2026
*সন্তানের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির সহজ উপায়*
বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। *কিন্তু একটি সত্যি বিষয় হলো—এই আসক্তির মূল কারণ অনেকটাই আমরা নিজেরাই, অর্থাৎ বাবা-মা; বিশেষ করে মায়েরা*।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমরা সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিই না। খাওয়ানোর সময় তাকে মোবাইল দিয়ে বসিয়ে দিই, যেন সে চুপচাপ থাকে আর সহজে খেয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, আমরা নিজেরাও মোবাইল দেখি এবং সেই অভ্যাসটাই অজান্তেই সন্তানের মধ্যে গড়ে তুলি।
কিন্তু একটু ভেবে দেখুন—আমাদের ছোটবেলায় কি এমন ছিল? তখন আমাদের বাবা-মায়েরা, বিশেষ করে মায়েরা, কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে প্রকৃতি দেখিয়ে, পাখি দেখিয়ে, মুরগি দেখিয়ে গল্প করতে করতে খাইয়েছেন। সেই আন্তরিকতা, সেই সময় দেওয়ার অভ্যাসই আমাদের সুন্দরভাবে বড় করে তুলেছে।
*আজকের দিনে খাবার আসার আগেই মোবাইল চলে আসে সন্তানের সামনে*। ফলে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই মোবাইলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তাই এটা পরিষ্কার— *শিশুরা জন্মগতভাবে মোবাইল আসক্ত নয়, বরং আমাদের আচরণ থেকেই এই অভ্যাস তৈরি হয়।*
১. সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান
সন্তানকে মোবাইল থেকে দূরে রাখতে হলে প্রথমেই তাকে সময় দিতে হবে। অনেক সময় শিশু একাকীত্ব দূর করতে মোবাইলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আপনি যদি তার সঙ্গে খেলেন, গল্প করেন বা তার কথা মন দিয়ে শোনেন, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই মোবাইলের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেবে।
২. ইতিবাচক কথা বলুন
সন্তানের সামনে সব সময় পজিটিভ কথা বলা অত্যন্ত জরুরি। “তুমি ভালো কাজ করো”, “তুমি অনেক ভালো সন্তান”—এই ধরনের কথাগুলো তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। বিশেষ করে আত্মীয় বা পরিচিতদের সামনে সন্তানের প্রশংসা করলে সে নিজেকে মূল্যবান মনে করে এবং ভালো কাজ করতে আরও উৎসাহী হয়।
৩. অপমান বা তুলনা এড়িয়ে চলুন
অনেক সময় অভিভাবকরা অন্যদের সামনে সন্তানের ভুলগুলো তুলে ধরেন বা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করেন। এটি শিশুর মনে আঘাত সৃষ্টি করে এবং সে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে। ফলে সে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে গিয়ে মোবাইলের জগতে আশ্রয় খোঁজে। তাই কখনোই তাকে অপমান করবেন না।
৪. প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করান
শিশুকে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যান। গাছপালা, পাখি, খোলা আকাশ—এসবের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটান। এতে তার মন ভালো থাকবে এবং সে স্বাভাবিক আনন্দ খুঁজে পাবে।
আপনি চাইলে তাকে ছোট ছোট দায়িত্ব দিতে পারেন, যেমন—গাছে পানি দেওয়া, নতুন গাছ লাগানো ইত্যাদি।
৫. প্রাণী বা পাখির প্রতি আগ্রহ তৈরি করুন
বাড়িতে পাখি, মাছ বা পায়রা রাখলে শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। সে তাদের খাওয়ানো, যত্ন নেওয়া ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকবে। এতে তার সময় কাটবে আনন্দে এবং মোবাইলের প্রতি নির্ভরতা কমে যাবে।
৬. বিকল্প আনন্দের উৎস তৈরি করুন
শুধু “মোবাইল ব্যবহার করো না” বললে হবে না, তার বদলে তাকে আনন্দ পাওয়ার অন্য উপায় দেখাতে হবে। যেমন—ড্রইং, খেলাধুলা, বই পড়া, গল্প বলা বা নতুন কিছু শেখা। এসব কার্যকলাপে যুক্ত করলে সে নিজে থেকেই মোবাইল থেকে দূরে থাকবে।
সন্তানকে মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্ত করতে কঠোরতা নয়, দরকার ভালোবাসা, সময় এবং সচেতনতা। আমরা যদি নিজেদের অভ্যাস একটু পরিবর্তন করি এবং সন্তানকে সময় দিই, তাহলে সে নিজে থেকেই বাস্তব জীবনের আনন্দ খুঁজে পাবে এবং মোবাইলের আসক্তি ধীরে ধীরে কমে যাবে।