30/01/2025
মূল্যবান ইঞ্জিনিয়ারিং ঘাস
দেখতে অনেকটা ধানের পাতার ন্যায় কিন্তু তার শিকড় চলে যায় মাটির অনেক গভীরে। এ যেন এক বিরাট দাড়ির জটলা। একটি ঘাসের চারা মাটির উপরে উচ্চতায় ৩ ফুট কিন্তু মাটির গভীরে বিস্তৃত থাকে ১০ ফুট পর্যন্ত। যা একটি ঘরের উচ্চতার সমান। কিছু প্রজাতি উপরে ১০ ফুট এবং মাটি নীচে প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত গভীরে চলে যায়। এই ঘাসের বহুবিদ বাণিজ্যিক উপকার ও অবদান রয়েছে।
Vetiver Grass নামের এই ঘাসের বাংলা নাম 'বিন্না ঘাস'। ভারতীয় উপমহাদেশেই এই ঘাসের আদি আবাস। পাহাড়ের ভূমি ধ্বস রক্ষা, নদীর বাঁধ রক্ষা, রাস্তার ঢালুতে মাটি ধরে রাখা, বন্যার পানি মোকাবেলা সহ মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখার যত বিদ্যা আছে, সেখানেই বিন্না ঘাস লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে এই ঘাসকে সহজে উপড়ে ফেলা যায় না। মাটিও সরে যায় না। যার কারণে এই ঘাসটি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের তালিকার অন্তর্ভুক্ত একটি উপকরণ হিসেবে বিবেচ্য।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজেক্ট এই ঘাস ব্যবহার হয়ে আসছে বহু আগে থেকেই। ২০০০ সালে নেত্রকোনা জেলার কংস নদীর পাড়ে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাধের মাটি রক্ষায় এই ঘাস সাফল্যের সাথে ব্যবহার হয়েছে। পতিত জমিতে এই ঘাস লাগিয়ে অনেকেই অর্থ উপার্জন করে। সারা দুনিয়াতে এই ঘাসের বহুবিধ ব্যবহার আছে।
এই ঘাসের শিকড়ে দারুণ সুগন্ধযুক্ত তৈল হয়। সেই তৈলে বেনজয়িক এসিডের প্রাবল্যের কারণে এর সুঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এমন গুনের তৈল এমনিতেই পারফিউম শিল্পে কদর বেশী। যার কারণে অন্য ফুলের সুঘ্রাণের স্থিতি রক্ষার্থে বিন্না ঘাসের শিকড়ের এর তেল নানা প্রসাধন সামগ্রীতে বেশী ব্যবহার হয়। বেনজয়িক এসিড চামড়ার নানা দাগ দূর করে। একজিমা, ফোসকায় কাজ দেয়, ফলে এর তৈল চামড়ার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক হয়।
#ঘাস