14/04/2025
পেয়ারা!
বারুইপুরের অহংকার! বারুইপুরের গর্ব!
বর্তমানে ফলের বাজারের প্রায় অধিকাংশটাই দখল করে থাকে পেয়ারা। আর পেয়ারা উৎপাদনে বারুইপুরের এক অন্যতম নিদর্শন। বারুইপুর এবং তার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলের প্রায় দশ হাজারেরও বেশি পরিবারের অন্নসংস্থান করে এই পেয়ারা।
চাষীদের নিরলস পরিশ্রমের ফল স্বরূপ পেয়ারা উৎপাদনে বারুইপুরের নাম আজ উজ্জ্বল। পেয়ারা সাধারণত দুই প্রকার খাজা ও এলাহাবাদ। বারুইপুরে প্রায় সারা বছরই পেয়ারা হয়। তবে অক্টোবর -জানুয়ারি মাস অবধি ফলন একটু কম হয়, যার ফলে পেয়ারার দাম হয় সারাবছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
পেয়ারাকে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং ভালো চকচকে রঙ হবার জন্য প্লাস্টিক দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেই প্লাস্টিকের নীচের দু দিক কাটা থাকে, যাতে কোনোভাবে তার ভেতর জল না জমতে পারে। তাছাড়া শিশির পড়লে তার জলও যাতে জমতে না পারে, তাই এই পদ্ধতি।
তা ছাড়াও পেয়ারাকে ক্ষুদে বোলতা নামক এক কীটের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয় এক ধরনের বাক্সের। সেটাকে চাষিদের ভাষায় বলা হয় 'আলপোকার বাক্স।' বেশি বড় নয়। সেই বাক্সের ভেতরে, উপরের দিকটায় বাঁধা থাকে কীটনাশক মাখানো সুগন্ধি একটা বিস্কুট। বাক্সে উপরের চারদিকের কিছুটা অংশ ফাঁকা থাকে। ক্ষুদে বোলতা সেই বিস্কুটের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে বিস্কুটে বসলে, তৎক্ষণাত মরে সেই বাক্সে পড়ে। মাঝে মাঝে বাক্সটা পরিষ্কার করে দিলেই হয়। এছাড়া কীটনাশকের ব্যবহার তো আছেই।
সাধারণত ভোরবেলাতেই পেয়ারা বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করেন চাষিরা। তারপর সেগুলো কলকাতা সহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পরে। পেয়ারা পাইকারি দরে বিক্রি করা হয় 'কুড়ি' হিসাবে। অর্থাৎ কুড়িটা পেয়ারার উপর তার দাম নির্ধারণ করা হয়(অবশ্যই রঙ এবং আকৃতি অনুযায়ী)। অফ সিজনে অর্থাৎ দূর্গাপূজার পরে থেকে বেশ দু-তিন মাস পেয়ারার দাম বেশ ভালোই থাকে। এক কুড়ি অর্থাৎ কুড়িটা পেয়ারা ২৫০ টাকাও পাইকারি বিক্রি করেন চাষীরা।
পেয়ারা খুবই ক্ষণস্থায়ী ফল। পেয়ারা তোলার একদিন পরে পেয়ারার স্বাদ আর প্রথম দিনের মতো থাকে না। পেয়ারার বিপণন রেল চলাচলের উপরও বেশ অনেকটাই নির্ভর করে। কোনোদিন যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কারণ বশত রেল চলাচল সাময়িক ব্যাহত হয়, তাহলে পাইকারি চাষিরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
সৌজন্যে : কৌশিক দত্ত ( Kousik Lover-of Footpath)