03/04/2026
এপিডেমিক কেরাটোকনজাংটিভাইটিস (Epidemic Keratoconjunctivitis বা EKC) হলো চোখের একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণ ভাষায় একে অনেকে মারাত্মক ধরনের 'চোখ ওঠা' বলে থাকেন। এটি সাধারণ কনজাংটিভাইটিসের চেয়ে কিছুটা জটিল এবং সময়মতো যত্ন না নিলে দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নিচে এই রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. এপিডেমিক কেরাটোকনজাংটিভাইটিস (EKC) কী?
এটি চোখের সামনের স্বচ্ছ পর্দা (কনজাংটিভা) এবং চোখের মণি বা কর্নিয়ার একটি তীব্র প্রদাহ। এটি খুব দ্রুত একজনের থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই একে 'এপিডেমিক' বা মহামারি বলা হয়। সাধারণত এটি এক চোখে শুরু হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে অন্য চোখেও ছড়িয়ে পড়ে।
২. রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু (Pathogen)
EKC-এর প্রধান কারণ হলো অ্যাডেনোভাইরাস (Adenovirus)। বিশেষ করে অ্যাডেনোভাইরাসের টাইপ ৮, ১৯ এবং ৩৭ এই রোগের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। এই ভাইরাসটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সাধারণ পরিবেশেও বেশ কিছু সময় বেঁচে থাকতে পারে।
৩. লক্ষণসমূহ
চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং ফুলে যাওয়া।
চোখে বালি পড়ার মতো অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া।
প্রচুর পরিমাণে পানি পড়া (জলীয় নিঃসরণ)।
আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হওয়া (Photophobia)।
কর্নিয়ার প্রদাহের কারণে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
কানের সামনে লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া এবং ব্যথা হওয়া।
৪. সংক্রমণ রোধ ও প্রতিকারের উপায় (Prevention)
যেহেতু এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর কোনো সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেই (যদি না সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়)। তাই প্রতিরোধই হলো এর মূল চাবিকাঠি।
ব্যক্তিগত সচেতনতা:
হাত ধোয়া: সাবান এবং পানি দিয়ে ঘনঘন হাত ধুতে হবে। বিশেষ করে চোখে হাত দেওয়ার আগে বা পরে অবশ্যই হাত পরিষ্কার করতে হবে।
চোখ স্পর্শ না করা: অসুস্থ অবস্থায় বা সুস্থ থাকলেও বিনা প্রয়োজনে চোখে হাত বা ঘষা দেওয়া যাবে না।
আলাদা ব্যবহার্য সামগ্রী: আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, বালিশের কভার, রুমাল বা চশমা অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না।
সামাজিক দূরত্ব:
আক্রান্ত ব্যক্তিকে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় (যেমন: স্কুল, কলেজ বা অফিস)।
সুইমিং পুল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ পানির মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
চিকিৎসা ও যত্ন:
চোখে ঠান্ডা সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী 'লুব্রিকোটিং আই ড্রপ' ব্যবহার করা যেতে পারে।
সতর্কতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড জাতীয় কোনো ড্রপ ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি আপনার চোখের লালভাব খুব বেশি হয় বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসে, তবে দেরি না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দীর্ঘমেয়াদী কর্নিয়ার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
Book your appointment on +918509140995 this no